শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে দেয়া বক্তব্য ভিডিও ভাইরাল যশোরের সিভিল সার্জন মাহমুদুল হাসান
২১ অক্টোবর ২০২৪, ০৭:৩৭ পিএম | আপডেট: ২১ অক্টোবর ২০২৪, ০৭:৩৭ পিএম

যশোর সিভিল সার্জন ডা. মাহমুদুল হাসান কোটা বিরোধী আন্দোলনের সময়ে শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে একটি বক্তব্য দেওয়ার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। এক মিনিট ১৯ সেকেন্ডের ওই ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ায় নতুন করে সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। এদিকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর বিভিন্ন দপ্তরে সংস্কার হলেও পরিবর্তন হয়নি যশোরের সিভিল সার্জন। আওয়ামী লীগের দোসরের ভ‚মিকায় থেকে জেলার স্বাস্থ্যখাতের এই কর্মকর্তা যোগদানের পর থেকে অনিয়ম দুনীর্তিগ্রস্ত ছিলেন।
জানা যায়, সারাদেশে যখন শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে টালমাটাল। তখন এই আন্দোলনের বিরোধীতা করে যশোর জেনারেল হাসপাতালে জেলার চিকিৎসক নিয়ে বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করেন তিনি। ওই বিক্ষোভ সমাবেশের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে সিভিল সার্জন ডা. মাহমুদুল হাসানকে বলতে শুনা যায়- আন্দোলনকারীদের তিনি ফ্যাসিবাদি, জঙ্গি বলে আখ্যা দেন। তিনি দেশে কোটা বিরোধী আন্দোলনের নামে যে হত্যাযঞ্জ ভাংচুর চালানো হয়েছে এসব ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান। আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা কোটা আন্দোলনের প্রতিটা দাবি মেনে নিয়েছে। এসব শিক্ষার্থীরা কোটা আন্দোলনের নামে এক দফা দাবি উঠিয়েছে। সেটা কখনো আমরা মেনে নিতে পারি না। এসব ঘটনার তীব্র নিন্দা জানায়, এবং এই শক্তিকে আমরা ঘৃণা করি। এই শক্তিকে আমরা প্রতিহত করবো। সব স্তরের চিকিৎসকের এক দফার দাবির বিরুদ্ধে স্বোচ্ছার হওয়ার অনুরোধ জানান সিভিল সার্জন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, মেডিকেল শিক্ষার্থী অবস্থায় ডা. মাহমুদুল হাসান ছাত্রলীগের রাজনীতি করতেন। এমনকি তার পরিবারও আওয়ামী লীগের ঘরোনার। যশোর জেলার সিভিল সার্জন হওয়ার আগে তিনি গোপালগঞ্জের কাশিয়ানি উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ছিলেন। সেখানেও ছিল তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ। এর পর তার ভাই কুড়িগ্রাম ৪ আসনের সাবেক সংসদ বিপ্লব হাসান পলাশ, যশোর-৩ আসনের সাবেক সংসদ কাজী নাবিল আহমেদ ও কেশবপুর আসনের সাবেক সংসদ আজিজুর ইসলামের ডিও লেটার নিয়ে তিনি যশোরের সিভিল সার্জন হন। সিভিল সার্জনের দায়িত্ব নিয়ে তিনি জেলার চিকিৎসক ও স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের আওয়ামী লীগের প্রভাব প্রদর্শন করতেন। তার ভাই সাবেক সংসদ বিপ্লব হাসান পলাশের নাম ভাঙ্গিয়ে তিনি প্রভাব বিস্তার করতেন। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে তিনি জেলা ও উপজেলার ডায়গষ্টিক ও ক্লিনিক থেকে লাইসেন্স নবায়নের নামে মোটা টাকা ঘুস নিতেন। তার হাত ধরেই মোটা টাকার বিনিময়ে বিগত সময়ে নানা অনিয়মের অভিযোগে বন্ধ হওয়া ক্লিনিকগুলো নতুন করে চালু হয়েছে। এছাড়া জেলা উপজেলার স্বাস্থ্যখাতের আউটসোসিং নিয়োগ দেওয়ার নামে নিয়োগ বাণিজ্যে করেছেন।
সিভিল সার্জনের একটি সূত্রে জানা যায়, যশোর সিভিল সার্জন অফিস ও তার নিয়ন্ত্রণাধীন স্বাস্থ্যপ্রতিষ্ঠানসমূহে ১১-২০ তম গ্রেডে (৩য় ও ৪র্থ শ্রেণি) ১৯৯ পদে নিয়োগ প্রক্রিয়াধীন। অভিযোগ আছে, নিয়োগ শেষ না হলেও এসব নিয়োগ সম্পন্ন করার জন্য আট উপজেলার জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে মোটা টাকার মাধ্যমে বাণিজ্য শেষ করেছেন ডা. মাহমুদুল হাসান।
এদিকে আওয়ামী লীগের দোসরের ভ‚মিকায় থাকা এই সিভিল সার্জন ৫ আগস্টের পর নিজের ভোল পাল্টানোর চেষ্টা করছেন বলে সিভিল সার্জন সূত্রে জানা গেছে। আগে অফিসে ও আওয়ামী লীগের শীর্ষনেতাদের কাছে নিজেকে আওয়ামী চেতনার পরিচয় দিলেও; রাজনীতি পটপরিবর্তনের পর তিনি ছাত্রজীবনে শিবির করতেন বলে পরিচয় দিচ্ছেন। স¤প্রতি সিভিল সার্জন মাহমুদুল হাসানের আওয়ামী লীগের ক্ষমতায় থাকাকালীন কার্যক্রম, বর্তমান সময়ে তার ভোল পাল্টানোর নানা তথ্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট করে সমালোচনা করছেন। স¤প্রতি আলোচিত অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট, লেখক ও চিকিৎসক পিনাকী ভট্টাচার্য তার ফেজবুকে ছাত্র আন্দোলনের সময়ে বিরোধীতা করার এমন বক্তব্য শেয়ার করে সমালোচনা করেন। পিনাকী তার ফেজবুকে লিখেছেন, যশোরের বর্তমান সিভিল সার্জন ডা. মাহমুদুল হাসান, হ্যান্ড মাইক হাতে। শান্তি সমাবেশে তার বক্তব্য। শোনেন আপনারা। এখন নাকি উনি বিপ্লবী সাজিছেন। উনি এখন দাবী করতেছেন, উনি নাকি ছাত্রজীবনে শিবির করতেন। ফ্যাসিবাদের দোসর ও গনশত্রæদের ডেটাবেইজ হইতেছে। কাউকে রঙ পাল্টাইয়া বিপ্লবী সাজতে দেয়া হবে না।
রিপন হোসেন নামে আরেক ব্যক্তি ফেজবুকে লিখেছেন, হাসিনার পতনের আগে জামাত বিএনপি ছাত্র জনতাকে সন্ত্রাস-জঙ্গি বলে এখন যশোরের গণঅধিকার আর কতিথ সমন্বয়কদের সাথে অভিযান করতেছেন আওয়ামী ডাক্তার যশোরের সার্জন মাহমুদুল হাসান। কেন আহতরা চিকিৎসা পাচ্ছে না, কেন হাসপাতালগুলোতে এখনো নিয়োগ বাণিজ্য করছে এগুলোর কারণ আপনাদের হাতে ছেড়ে দিলাম।
এব্যাপারে যশোরের সিভিল সার্জন মাহমুদুল হাসান জানান, আমি রাজশাহী মেডিকেল কলেজ থেকে পাশ করেছি। সেখানে শিবিরের রাজনীতির সাথে যুক্ত ছিলাম। গত সরকারের আমলে স্বাচিব নেতারা আমাকে দিয়ে জোর করে কোটা বিরোধী ছাত্রদের বিরুদ্ধে বক্তব্য দিতে বাধ্য করেছে। আর আমি দুর্নীতি করেছি কেউ প্রমান করতে পারবেনা। আমার বিরুদ্ধে চক্রান্ত চলছে।
বিভাগ : বাংলাদেশ
মন্তব্য করুন
এই বিভাগের আরও






আরও পড়ুন

আতলেতিকোকে হারিয়ে ফাইনালে রিয়ালের মুখোমুখি বার্সা

এভারটনকে হারিয়ে লীগ শিরোপা জয়ের আরও কাছে লিভারপুল

লেস্টারকে হারিয়ে জয়ের ধারায় ফিরল সিটি

সামরিক অভিযান আরও বাড়ছে গাজার বিশাল অংশ দখলের পরিকল্পনা ইসরাইলের

ভবিষ্যদ্বাণী বিল গেটসের সপ্তাহে কর্মদিবস হবে ২ দিন!

মাস্কের বিপুল অর্থব্যয় সত্ত্বেও হার সুপ্রিম কোর্টের নিয়ন্ত্রণ হারালেন ট্রাম্প

ঈদের এক সপ্তাহে যমুনা সেতুতে ১৭ কোটি টাকার টোল আদায়

পরাজিত শক্তি নিউইয়র্ক টাইমসে মিথ্যা তথ্য দিয়ে রিপোর্ট করিয়েছে : রিজভী

ফতুল্লায় ঈদের মোনাজাতে খালেদা জিয়ার নাম না বলায় ইমামকে বরখাস্তের হুমকি

লিবিয়ায় মানবপাচারকারীদের দৌরাত্ম্য কমেনি ২৩ অপহৃত বাংলাদেশি উদ্ধার

খালেদা জিয়ার পূর্ণাঙ্গ স্বাস্থ্য পরীক্ষা শুরু হয়েছে : এজেডএম জাহিদ হোসেন

বন্দরে গণমাধ্যম কর্মীকে কুপিয়ে জখম বিএনপি অফিস ভাঙচুর

নাদেলের ছবি-নামে সিলেটে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিল, গ্রেফতার ৪

নাদেল ও আনোয়ারুজ্জামানের বাসায় হামলা ভাংচুর

আ‘লীগের এক উপদেষ্টাকে গ্রেফতার করলো সুনামগঞ্জ পুলিশ

২০০০ বছরের পুরনো মরদেহের ডিএনএ থেকে জানা গেলো যত চমকপ্রদ তথ্য

আড়াইহাজারে দুটি অস্ত্র উদ্ধার

অস্তিত্ব থেকে মুছে ফেলতে হবে আ‘লীগ ফ্যাসিস্টদের- বিএনপি নেতা মাহবুব চৌধুরী

এই মুহূর্তে বিশ্বের শীর্ষ ১০ ধনী ব্যক্তি

একটি রাজনৈতিক দল মানুষের সাথে বারবার ধোঁকা দিয়ে ক্ষমতায় যেতে চায়- ড. শেখ ফরিদ