তালতলীতে সাড়ে ৩শ' শিক্ষার্থীর ভরসা ঝুপড়িঘর, পাশে পড়ে আছে ৭ কোটি টাকার ভবন
১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:০৫ পিএম | আপডেট: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:০৫ পিএম
বরগুনার তালতলী উপজেলার তালুকদারপাড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে সাড়ে তিন শতাধিক শিক্ষার্থীর পাঠদান চলছে জরাজীর্ণ টিনশেড ও ঝুপড়িঘরে। দীর্ঘদিন ধরে নির্মাণাধীন পাঁচতলা ভবনটি পড়ে থাকলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ অসম্পূর্ণ রেখে চলে যাওয়ায় তা এখনো শিক্ষার্থীদের ব্যবহারের উপযোগী হয়নি। ফলে ছোট ও সংকীর্ণ কক্ষে গাদাগাদি করে পাঠ নিতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। প্রচণ্ড গরমে বিদ্যুৎ ও পর্যাপ্ত বাতাসের ব্যবস্থা না থাকায় ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম। শিক্ষক-কর্মচারীদেরও বসতে হচ্ছে একটি সংকীর্ণ লাইব্রেরি কক্ষে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, শিক্ষার্থীদের জন্য আধুনিক ও নিরাপদ শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকারি অর্থে পাঁচতলা ভবন নির্মাণ করা হলেও দীর্ঘদিন ধরে সেটি হস্তান্তর না করায় সরকারের বিপুল অর্থ ব্যয়ের সুফল পাচ্ছে না বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। দ্রুত ভবনটির অসম্পূর্ণ কাজ শেষ করে ব্যবহার উপযোগী করে হস্তান্তরের দাবি জানিয়েছেন শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, তালুকদারপাড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়টি ২০০০ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। বর্তমানে বিদ্যালয়ে সাড়ে তিন শতাধিক শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে। শিক্ষক রয়েছেন ১০ জন এবং কর্মচারী তিনজন। শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়লেও শ্রেণিকক্ষের সংকট দীর্ঘদিনের। এ সংকট নিরসনে ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরে ৭ কোটি টাকা ব্যয়ে পাঁচতলা ভবন নির্মাণের কাজ শুরু হয়। কিন্তু নির্মাণকাজ শেষ না করেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন ধরে ভবনটি ফেলে রেখেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আবু তাহের জানান, সরকারি বরাদ্দে পাঁচতলা ভবন নির্মাণের কাজ শুরু হলেও এখনো সেটি পুরোপুরি ব্যবহার উপযোগী হয়নি। ফলে পুরনো ও অস্থায়ী টিনশেড ঘরেই শিক্ষার্থীদের ক্লাস নিতে হচ্ছে। শ্রেণিকক্ষের সংকটের কারণে একই কক্ষে অতিরিক্ত শিক্ষার্থী বসিয়ে পাঠদান করতে হচ্ছে। এতে শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক লেখাপড়া মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
তিনি বলেন, বিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্যও পর্যাপ্ত জায়গা নেই। বর্তমানে একটি সংকীর্ণ লাইব্রেরি কক্ষে ১০ জন শিক্ষক ও তিনজন কর্মচারীকে কোনোরকমে অবস্থান করতে হচ্ছে। দীর্ঘ সময় সেখানে বসে প্রশাসনিক ও শিক্ষাসংক্রান্ত কার্যক্রম পরিচালনা করা অত্যন্ত কষ্টকর।
সরেজমিনে বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, অস্থায়ী টিনশেড ও ছোট ছোট কক্ষেই শিক্ষার্থীদের পাঠদান চলছে। কক্ষগুলোতে শিক্ষার্থীর তুলনায় জায়গা অপ্রতুল। গরমের মধ্যে শিক্ষার্থীদের অনেকটা গাদাগাদি করে বসতে হচ্ছে। টিনশেড কক্ষে পর্যাপ্ত আলো-বাতাসের ব্যবস্থা না থাকায় তৈরি হচ্ছে অস্বস্তিকর পরিবেশ। বিদ্যালয়ের নতুন পাঁচতলা ভবন থাকলেও অসম্পূর্ণ কাজের কারণে সেটি কাজে লাগানো যাচ্ছে না।
বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সুমাইয়া জানায়, টিনশেড ঘরে বিদ্যুৎ না থাকায় গরমের মধ্যে ক্লাস করতে খুব কষ্ট হয়। আলো-বাতাসের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় লেখাপড়ায় মনোযোগ দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। অস্বস্তির মধ্যেই তাদের প্রতিদিন ক্লাস করতে হচ্ছে।
ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী সজীব জানায়, বিদ্যালয়ে ব্যবহার উপযোগী ও পরিচ্ছন্ন ওয়াশরুমের সংকট রয়েছে। প্রয়োজনের সময় দূরের বাসাবাড়িতে গিয়ে প্রাকৃতিক কাজ সারতে হয়। এতে বিশেষ করে ছাত্রীদের বেশি সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।
শিক্ষার্থীরা জানায়, প্রচণ্ড রোদ ও গরমের মধ্যে ছোট ছোট কক্ষে অতিরিক্ত শিক্ষার্থী নিয়ে ক্লাস করানো হয়। এতে অনেক সময় অসুস্থ বোধ করে শিক্ষার্থীরা। পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ ও বিদ্যুৎ সুবিধা থাকলে তারা স্বাভাবিক পরিবেশে পড়াশোনা করতে পারত।
বিদ্যালয় সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, পাঁচতলা ভবন নির্মাণে বিপুল অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হলেও নির্মাণকাজ শেষ না হওয়ায় সেই অর্থের কাঙ্ক্ষিত সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছে শিক্ষার্থীরা। নতুন ভবনটি দ্রুত হস্তান্তর করা গেলে শ্রেণিকক্ষের সংকট দূর হবে এবং শিক্ষার্থীদের জন্য একটি নিরাপদ ও স্বাস্থ্যকর শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আবু তাহের জানান, ভবন নির্মাণের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান পটুয়াখালীর বিশ্বাস এন্টারপ্রাইজ। প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী জাহাঙ্গীর বিশ্বাস। ভবনটি কেন দীর্ঘদিন ধরে হস্তান্তর করা হচ্ছে না এবং শিক্ষার্থীদের ব্যবহার উপযোগী করতে প্রয়োজনীয় কাজ কেন শেষ করা হচ্ছে না, এ বিষয়ে ঠিকাদারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
এদিকে বিষয়টি নিয়ে তালতলী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. টিপু সুলতান বলেন, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান যথাসময়ে সিডিউল অনুযায়ী ভবনের কাজ সম্পন্ন করে হস্তান্তর না করায় বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। তিনি এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন।
অভিভাবকদের অভিযোগ, একটি বিদ্যালয়ের জন্য পাঁচতলা ভবন নির্মাণ করা হলেও সেটি বছরের পর বছর শিক্ষার্থীদের কাজে না আসা অত্যন্ত দুঃখজনক। সরকারের অর্থে নির্মিত অবকাঠামো দ্রুত শিক্ষার্থীদের ব্যবহারের উপযোগী করা না হলে একদিকে যেমন অর্থের কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত হচ্ছে না, অন্যদিকে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের দাবি, অসম্পূর্ণ কাজ দ্রুত শেষ করে পাঁচতলা ভবনটি বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করতে হবে। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ, বিশুদ্ধ পানি, ব্যবহার উপযোগী ওয়াশরুমসহ প্রয়োজনীয় নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে। এতে দীর্ঘদিনের শ্রেণিকক্ষ সংকটের অবসান ঘটবে এবং সাড়ে তিন শতাধিক শিক্ষার্থী স্বাভাবিক পরিবেশে লেখাপড়ার সুযোগ পাবে।
বিভাগ : বাংলাদেশ
মন্তব্য করুন
এই বিভাগের আরও
আরও পড়ুন
বাকেরগঞ্জে জলাতঙ্ক প্রতিরোধে পথ কুকুরদের টিকা প্রদান কর্মসূচি শুরু
বগুড়ায় অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযানে রেলওয়ে জলাশয় দখলমুক্ত
মক্কায় হামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়: জামায়াত আমির
ঘরোয়া খাবারেই কুষ্টিয়ায় মরুভূমির দুম্বা, লাখ টাকার সাফল্যে তাক লাগালেন খামারি রাকিবুল
আশুগঞ্জে রুমিন ফারহানার দুই সমর্থকের উপর বিএনপির নেতাকর্মীদের হামলা
মহেশখালীতে চেকপোস্টে এলজি উদ্ধার, যুবক গ্রেপ্তার
শেরপুরে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে পাটের বাম্পার ফলন
গোলাবারুদের মারাত্মক সংকেটে যুক্তরাষ্ট্র, ট্রাম্পের দাবি উড়িয়ে রিপোর্ট পেন্টাগনের
একনেকে ১ লাখ ৬৮ হাজার ৭৮০ কোটি টাকার ১২ প্রকল্প অনুমোদন
ভারতসহ ১০ দেশের ওপর ১০০% শুল্ক আরোপের বিল আনছে যুক্তরাষ্ট্র
বার্সায় চুক্তি নবায়নের পর উচ্ছ্বসিত ‘নীলের হালান্ড’ আবদেলকারিম
ইবির ৪ বিভাগে সভাপতি পদে নতুন মুখ
ওমানে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে গোপন বৈঠক: হামলা না করার আশ্বাস হুথিদের
পাইকগাছায় চিংড়িতে অপদ্রব্য পুশ , তিন ব্যবসায়ীকে জরিমানা
স্থানীয় সরকার নির্বাচন, ১১৪ ভেন্যুতে পুলিশ সদস্যদের প্রশিক্ষণ শুরু
ইসরায়েলের বিরুদ্ধে কঠোর নিষেধাজ্ঞার দাবিতে ব্রিটেনের ট্রেড ইউনিয়নগুলোর আলটিমেটাম
প্রবাসীর বাড়ীতে স্বর্নালংকারসহ নগদ টাকা চুরি, আড়াই ভরি স্বর্ণ উদ্ধার
আইএইএতে বাংলাদেশিদের ইন্টার্নশিপ ও নিয়োগের সুযোগ বাড়ানোর আলোচনা
সাতক্ষীরার তালায় নকল সার-কীটনাশক তৈরির সামগ্রী জব্দ
ব্রাহ্মণপাড়ায় ২২ দিন ধরে সহকারী ভূমি কমিশনার পদ শূন্য, সেবাগ্রহীতাদের চরম ভোগান্তি