দীর্ঘ একমাস পর পর্যটক শূন্য পটুয়াখালীর সাগরকন্যা কুয়াকাটা এখন পর্যটকদের পদচারনায় মুখরিত হয়ে উঠেছে। গতকাল সোমবার বিকাল থেকে সৈকতে এসকল পর্যটকের আগমন ঘটে।
আগত পর্যটকরা স্নিগ্ধ সৈকতে আনন্দ উল্লাসে মেতেছেন। অনেকে সমুদ্রের নোনা জলে গাঁ ভাসিয়ে হই হুল্লোরে মেতেছেন। অনেকে প্রিয়জনকে নিয়ে সেলফি তুলে স্মৃতির পাতায় রেখে দিচ্ছেন। অনেকে সৈকতের বিভিন্ন বাহনে চরে একপ্রান্ত থেকে অপর প্রান্ত ঘুরে দেখছেন। কেউবা আবার বেঞ্চিতে বসে সমুদ্রের তীড়ে আছরে পড়া ঢেউ সহ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করছেন। মোটকথা সৈকতে বিরাজ করছে ঈদ উৎসবের আমেজ। এদিকে গঙ্গামতি, লেম্বুর বন, ঝাউবন, ফাতরারবন ও শুটকি পল্লীসহ সকল পর্যটন স্পটে রয়েছে পর্যটকদের উচ্ছাসিত উপস্থিতি। আগতদের ভীড়ে বিক্রি বেড়েছে পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোতে। বুকিং রয়েছে অধিকাংশ হোটেল মোটেল। নিরাপত্তায় তৎপর রয়েছে ট্যুরিষ্ট, থানা পুলিশ ও নৌ-পুলিশের সদস্যরা।
বেঞ্চী ব্যবসায়ী আলামীন বলেন, ঈদের লম্বা ছুটিকে কেন্দ্র করে পর্যটন মৌসুমে কুয়াকাটায় ব্যপক পর্যটক আসছে।সকল ব্যবসায়ীর মুখে হাসি ফুটেছে।
সাউদ-বিস হোটেলের সত্বাধিকারী মো: সোহেল মিয়া জানান, রাজনৈতিক অস্থিরতার কারনে এ বছর পর্যটন মৌসুমে এখানে তেমন পর্যটক আসেনি।পর্যটনের সকল ব্যবসায়ী লচে ছিল। আজকে ভাল পর্যটক আসছে আরো আসবে বলে তিনি মনে করেন। আমার হোটেলের ৮০ শতাংশ রুম বুকিং রয়েছে।
ঢাকা থেকে আসা পর্যটক মোঃ রবিউল ইসলাম বলেন, আমি পরিবারবর্গ সহ আর কুয়াকাটা আসিনি তবে এসে ভালোই লাগল।এখানকার পরিবেশ, লোকজনের আতিথিয়তায় আমরা মুগ্ধ। তবে ভাঙ্গা থেকে কুয়াকাটা পর্যন্ত এই মহাসড়কটি ফোরলেন হলে আরো অনেক পর্যটক বাড়বে।
কুয়াকাটা হোটেল মোটেল অউনার এসোসিয়েশন সভাপতি মো: মোতাবেক শরীফ বলেন, আজকে অনেক পর্যটক বেড়েছে, আরো পর্যটক আসতেছে। আমাদের সকল হোটেল অগ্রীম বুকিং রয়েছে।প্রায় হোটেলের ৮৫% রুম বুকিং রয়েছে। পর্যটকে নিরাপত্বায় উপজেলা প্রশাসন সহ আমরা সার্বক্ষণিক প্রস্তুত। পর্যটকের আগমনে পর্যটনের সকল ব্যবসায়ীদের মুখে হাসি দেখা যাচ্ছে। সরকারি ৯ দিনের ছুটিতে ৯ লক্ষ পর্যটকের আগমন ঘটবে বলে তিনি আসা করেন।
কুয়াকাটা টুরিস্ট পুলিশ জোনের, ইনচার্জ শাখাওয়াত হোসেন তপু জানান, পর্যটকদের নিরাপত্তায় আমরা সার্বিক ব্যবস্থা নিয়েছি। বিভিন্ন পর্যটন স্পট গুলোতে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে ট্যুরিস্ট পুলিশের বেশ কয়েকটি টিম। পাশাপাশি সিসি ক্যামেরা দ্বারা মনিটরিং করা হবে।
কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ রবিউল ইসলাম বলেন, এ বছর লম্বা ছুটির কারনে ব্যাপক পর্যটকের আগমনে আমরা পর্যটকদের নিরাপত্তা জোরদার করেছি। মহিপুর থানা পুলিশ, কুয়াকাটা টুরিস্ট পুলিশ, ও কুয়াকাটা পৌর সভার পক্ষ থেকে পর্যটকদের সেবায় সার্বক্ষনিক প্রস্তুত রয়েছে। আজকে ভাল পর্যটক আসছে, আরো আসবে।সরকারি লম্বা ছুটির কারনে বছর এবছর কুয়াকাটায় পর্যটকের মিলনমেলা হবে বলে মনে করেন তিনি।