রাস্তা প্রশস্ত করণের নামে কোটি কোটি টাকা লুটের অভিযোগ
০২ জানুয়ারি ২০২৫, ০২:১৩ পিএম | আপডেট: ০২ জানুয়ারি ২০২৫, ০২:১৩ পিএম
ফরিদপুর-বরিশাল মহাসড়কের জেলা শহর থেকে ভাঙ্গা পর্যন্ত প্রায় ৩০ কিলোমিটার সড়কটি এখন খানাখন্দের সড়কে পরিণত হয়েছে। ফরিদপুর -থেকে বরিশাল পর্যন্ত প্রায় ১৩০ কিলোমিটার সড়ক কে চার লেনে উন্নতি করার কাজ অগ্রগামী হলেও সেই কাজ এখন নিথর হয়ে পড়ছে।
এই অবস্থায় ফরিদপুর থেকে ভাঙ্গা পর্যন্ত প্রায় ৩০/৪০ কিলোমিটার সড়ক প্রসস্থ করার কাজ শুরু হলেও কাজ নিয়ে উঠছে ভয়াবহ অভিযোগ। এত অনিয়ম-দুর্নীতির মধ্যে ফরিদপুরবাসীর চোখের সামনে পানির দামে বিক্রি হয়েছে শত শত কোটি টাকার গাছ। ঐ গাছগুলো সড়কের দুই পাশে থাকায় সড়ক যানবাহন চললে একটি নিরাপত্তা বেষ্টনি থাকলেও সড়ক হয়েছে সম্পূর্ণ অরক্ষিত।
পদ্মা সেতু চালু হবার পর থেকেই উত্তরবঙ্গের যানবাহনের চাপ বেড়েছে এ সড়কে। তবুও সড়ক বিভাগের টনক নড়ছে না।
গত মার্চ - এপ্রিল জুড়ে টানা বৃষ্টিতে নতুন করে সৃষ্টি হয়েছে কয়েক লাখ ছোট বড় খন্দ। জেলা শহরের মুন্সিবাজার থেকে ভাঙ্গা ইন্টারচেঞ্জ সড়কের সংযোগ পর্যন্ত সড়কটি এখন মরণ ফাঁদ হয়ে দাঁড়িয়েছে চালক ও যাত্রীদের কাছে।
প্রতিনিয়ত ছোটখাটো দুর্ঘটনা ঘটছে। খানাখন্দের কারণে ধীরগতির যান চলাচলের ফলে বড় দুর্ঘটনা না ঘটলেও দূরপাল্লার যাত্রীবাহী যান ও পণ্যবাহী যানের সময় লাগছে দ্বিগুণ।
ঢাকা থেকে ভাঙ্গা গোলচত্বর পর্যন্ত আসতে সময় লাগে ১ ঘণ্টা ২০ মিনিট আর ভাঙ্গা থেকে ফরিদপুর শহরে আসতে সময় লাগে ১ ঘণ্টারও বেশি । অথচ পূর্ব ছিল মাত্র ৫০ মিনিটের পথ।
এদিকে, পদ্মা সেতুর কারণে যান চলাচল দ্বিগুণ হলেও রাস্তার কোনো উন্নয়ন বা প্রশস্তকরন কোনো কিছু করা হয়নি এ পর্যন্ত।
এক প্রকার জোড়াতালি দিয়েই চালছে এ মহাসড়কটি। ফলে ব্যস্ততাপূর্ণ এ মহাসড়ক যান চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। চরম দুর্ভোগে পড়েছে যাত্রী ও যান চালকরা।
বিভিন্ন যানবাহনের চালকরা জানান তাদের অসহায়ত্বের কথা।
সড়কে যত্রতত্র ছোট বড় ক্ষত থাকায় সৃষ্টি হচ্ছে যানজট। দুর্ঘটনার কবলে পড়ছে অনেক যানবাহন। তবে সড়কের এই দৈন্যদশায় দেখা মেলেনি সড়ক বিভাগের কোনো তৎপরতা।
আঞ্চলিক মহাসড়কে যাতায়াতে চরম দুর্ভোগে সাধারণ জনগণ। বৃষ্টি হলেই সন্ধ্যার পরে মনে হয় এক ভুতুড়ে মহাসড়ক। কাদামাটি ও খাল খন্দ দিয়ে যাতায়াতে চরম ভোগান্তিতে পড়ে রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্স। এতে ক্ষুব্ধ স্থানীয় জনগণ ও যান চালকরা। কবির হাওলাদার নামে এক পরিবহন চালক ইনকিলাব কে বলেন, রাস্তায় গাড়ি চালাবার কায়দা নেই। কয়েকদিনের বৃষ্টিতে যে বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে, তাতে দুর্ঘটনার ভয় রয়েছে আবার গভীর রাতে ছিনতাইয়ের ভয়ও বেড়েছে। দ্রুত এ রাস্তা সংস্কার করা হোক।
মহিলা রোড থেকে দাওয়াত খেয়ে মাহিন্দ্রযোগে ফরিদপুর শহরের ফিরছেন আয়শা বেগমম ও মনি আক্তারম। তারা ইনকিলাব কে বলেন, এ মহাসড়কে চড়ে মনে হচ্ছে, ২০ বছর পেছনে ফিরে গেছি।
যখন গ্রামগঞ্জে খানাখন্দ আর কাঁদার রাস্তা দেখতে পেতাম। বাংলাদেশ আজ পিছিয়ে গেছে।
ফরিদপুর সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী খালিদ সাইফুল্লাহ্ সরদার ইনকিলাব কে বলেন, এখানে চার লেনের প্রকল্পের কাজ শুরু হবে।
জমি অধিগ্রহণের কাজ চলছে। টানা কয়েকদিনের বৃষ্টির কারণে সংস্কার কাজ শুরু করতে পারিনি। আপাতত কিছু সংস্কার করে যান চলাচলের উপযোগী করা হচ্ছে।
তবে এই ৩০ কিলোমিটার সড়ক পাশে বসবাসরত বাসিন্দারা ইনকিলাব কে অভিযোগ করে বলেন, এই সড়কে মাত্র ৫/৬ মাস আগে লোক দেখানে কাজ করা হয়েছে। সরকার খরচ হয়েছে কোটি টাকার উপরে অথচ কাজের মান এমন।
জেলা সড়ক বিভাগের পালিত কতিপয় লোক দিয়ে সড়ক বিভাগ তারা যাথাস্হানে কংক্রিটের পাথর এবং সম্পূর্ণ কালো স্টোন পাথর দিয়ে কাজ করার কথা থাকলে সেই স্হানে দেয়া হয়েছে বিভিন্ন স্হানের ব্রীজের পাইল ভাঙ্গা পাথর ও পুরাতন পাথরের ডাস্ট।
এই নিম্নমানের মালমাল দিয়ে লিলেকশন লাল বালুর স্হলে সাদা বালু মিশ্রিত করে রাস্তায় সংস্কার কাজ করার কারনে আজকের এই বেহাল দশা।
তালমার কৃষ্ণপদ পাল,শংঙ্কর পাশার হরিমন বৈরাগী, পুকুরির রিপোন,ইনকিলাব কে বলেন, সবই লুটপাট। যার ফলে আজকের এই ভোগান্তি।
সড়কের এই দৃশ্যে মানুষ হতবাক সবার মুখে একটাই কথা সড়কের এই অবস্থার উন্নতি হবে কবে? এই খানাখন্দের ও বড় বড় গর্তের দৃশ্য সকলের চোখে দৃশ্যমান কিন্ত সড়ক জনপদের মানুষের কষ্টের দিক তাকালে মহাসড়কটির এমন অবস্থা থাকার কথা নয়।
এমনটাই ভুক্তভোগীরা মনে করেন।
একটি বিশেষ মহল নাম প্রকাশ না করে ইনকিলাব কে বলেন, দীর্ঘদিন যাবৎ শুনো আসছি ফরিদপুর থেকে বরিশাল পর্যন্ত প্রায় ১৩০ কিলোমিটার সড়ক ফোর লেন হওয়ার কাজ চলমান আছে। সেই অনুশাারে ফরিদপুর থেকে ভাঙ্গার প্রায় ৩০/৪০ কিলোমিটার সড়কের দুই পাশের কয়েক হাজার বিভিন্ন প্রজাতির মুলযবান শতকোটি টাকার গাছ রাতারাতি নাই হয়ে গেছে ৫ আগষ্টের আগেই।
তদ্রূপ ফরিদপুর থেকে কামারখালি ব্রীজ পর্ঢ়ন্ত ৪০ কিলোমিটার সড়কের কয়েক কোটি টাকার গাছও নাই হয়ে গেছে। ফরিদপুর পুকুরিয়ার রায়হান, শঙ্কর পাশার আকবর,বাখুন্ডার নেয়াত আলী ইনকিলাব কে বলেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকার ফরিদপুর থেকে বরিশাল এবং ফরিদপুর থেকে কামারখালি পর্যন্ত রাস্ত প্রস্হ ও ফোর লেন করার বিপরীতে সরকারি গাছগুলো লুট করা হলেও রাস্তার উন্নয়ন তো হয়নি উপরন্ত সড়ক প্রস্হের নামে হয়েছে আরো কয়েক কোটি টাকার রাজস্ব লুট।
অভিযোগ উঠছে নিম্নমানের সামগ্রিক দিয়ে লোক দেখানো কাজ করা হলেও কাজের নামে হয়েছে ফাঁকিবাজি। এমনকি উল্লেখিত এলাকার সরক প্রস্থ করনের কাজ এখনও শেষ হয়নি।
অপরদিকে, ফরিদপুর,কামারখালি, মধুখালি একাধিক ব্যবসায়ী ইনকিলাব কে জানান, যেখানে সড়কটি ফোর লেন হবে কাজের অগ্রগামি ও হলো সেখানে রাস্তার দুই পাশের প্রস্তুত করনের নামে সরকারের কোটি কোটি টাকা খরচের হেতুবাদ কি?
এই বিষয় ফরিদপুর সড়ক জনপদের সংশ্লিষ্ট সকলের সাথে কথা বললে তারা ইনকিলাব কে বললেন, আসলে জনভোগান্তি দুর হোক আমরাও চাই। গত ৫ আগষ্টের আগে সকল কাজের শুর হয়। কিন্ত সরকারের অবস্থান শেষ হওয়ার পর আমরা নিজেরাই সমস্যায় আছি। কোন কাজেই কোন অনিয়ম হয়নি। ভাল কাজ করতে গেলে তাতে দুই একটা ভুল ভ্রান্তি দৃশ্যমান হয়। এটাই মানুষ সমালোচনা করেন। আসলে আমরা সবসময় জনতার বন্ধু হয়ে নিবেদিত প্রান হয়ে কাজ করছি।
এই বিষয় ফরিদপুর হাজী শরীতুল্লাহ বাজার ব্যবস্হপনা কমিটির সভাপতি হাজী মোঃ নুর ইসলাম ইনকিলাব কে বলেন, উল্লেখিত সড়ক দুটির ফোরলেনের কাজ সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত এই অঞ্চলের সড়কের মৃত্যুর মিছিল কখনোই কমার সম্ভবনা নাই বলে আমার মনে হয়।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন প্রভালশালী বিএনপি নেতস ইনকিলাব কে বললেন,
ফরিদপুর-বরিশাল মহাসড়কে ৩০ কিলোমিটার পথে যানচলাচলে চরম ভোগান্তি, ফোরলেন করার বিপরীতে কোটি কোটি টাকার গাছ লুট! রাস্তা প্রসস্থ করনের নামে রাজস্ব গায়েবের তদারকি করবে কে??
ফরিদপুরবাসী জানতে চান ফরিদপুর থেকে বরিশাল এবং ফরিদপুর থেকে কামারখালি পর্যন্ত ফোরলেনে কাজ শুরু হতে আর কতদিন বাকি?
উল্লেখ্য গত দুই দিননধরে ফরিদপুরের বিভিন্ন জায়গা প্রচন্ড কুয়াশা এবং হালকা ও গুড়ু গুড়ি বৃষ্টি হওয়ায় সামান্য বৃষ্টির পানিতে গ্রতে জমা পড়ছে হালকা পানি।
বিভাগ : বাংলাদেশ
মন্তব্য করুন
আরও পড়ুন
আশুলিয়ায় ছাত্র হত্যা মামলার আসামি গ্রেফতার
আটঘরিয়ায় প্রভাষকের বাড়িতে দুর্ধর্ষ চুরি
আরব বসন্ত থেকে বাংলাদেশ: স্বৈরাচার মুক্ত নতুন ব্যবস্থার সন্ধানে
৫০০ হজ কোটা বহাল রাখতে প্রধান উপদেষ্টার সহায়তা কামনা
ফেব্রুয়ারিতে আয়ারল্যান্ড-জিম্বাবুয়ে পূর্ণাঙ্গ সিরিজ
পাওনা টাকা ফেরত দিতে বিলম্ব যাওয়ায় পাওনাদার টাকা ফেরত নিতে না চাওয়া প্রসঙ্গে।
‘রাষ্ট্র সংস্কার শেষ করে সংখ্যানুপাতিক পদ্ধতির নির্বাচন দিতে হবে’
শীতে পশু-পাখিদের যত্ন
মানব পাচার রোধ করতে হবে
মজলুমের বিজয় ও জালেমের পরাজয় অবধারিত
বিনিয়োগ বাড়ানোর কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে
১১৬ বছর বয়সে বিশ্বের সবচেয়ে বয়স্ক ব্যক্তির মৃত্যু
লাদাখে দুই প্রশাসনিক অঞ্চল তৈরী চীনের
চিনির নিম্নমুখী বাজারে বিশ্বে কমেছে খাদ্যপণ্যের দাম
মার্কিন শপিং সেন্টারে প্রাণ গেল ৫ শতাধিক প্রাণীর
জাতীয় ঐক্য এখন আমাদের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন: মির্জা ফখরুল
গাজায় ইসরাইলি বিমান হামলায় দুইদিনে নিহত ১৫০
কালো টাকায় ভাসছে শীর্ষস্থানীয় মার্কিন ৩৬% থিংক ট্যাংক
পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে অনেক হতাহত, ফের উত্তপ্ত মণিপুর
মাছের লড়াইয়ে শ্রীলঙ্কার সীমায় বন্দি হচ্ছেন ভারতীয় জেলেরা