এসআই জহির ও তার টিম মাদক স্পট থেকে টাকা নেন
০২ আগস্ট ২০২৩, ১১:২১ পিএম | আপডেট: ০৩ আগস্ট ২০২৩, ১২:০১ এএম
রাজধানীর পল্লবী থানার এসআই জহির উদ্দিন আহমেদ ও তার টিমের সদস্যরা মাদকের আস্তানায় হানা দিয়ে টাকা আদায় করেন। গত ২৪ জুলাই পল্লবীর আদর্শনগরে জহির উদ্দিনসহ তার টিমের ৩ সদস্য সোর্স পাঠিয়ে লাভলীর কাছে ৩ লাখ টাকা দাবি করেন। তিনি টাকা দিতে না চাইলে পুলিশ তাকে থানায় নিতে চায়। এ সময় লাভলীর মেয়ে বৈশাখী তার মাকে ছেড়ে না দিলে আত্মহত্যার হুমকি দেয়। রাতে তিনতলার একটি ঘরে বৈশাখীর ঝুলন্ত লাশ পাওয়া যায়। ঘরটি বাইরে থেকে তালাবদ্ধ ছিল। এ ঘটনায় পুলিশের একটি বিশেষ শাখার প্রতিবেদনে এসআই জহির উদ্দিনসহ তার টিমের ৩ সদস্যের বিরুদ্ধে মাদক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ এনে একটি গোপন প্রতিবেদন দিয়েছে পুলিশ।
ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, এসআই জহির ও তার টিমের সদস্যরা মাদক কারবারিদের আটক ও মামলার ভয়ভীতি দেখিয়ে মাদকের আস্তানায় হানা দিয়ে টাকা আদায় করেন। প্রত্যেক আস্তানা থেকে তারা সপ্তাহে ৫-৬ হাজার টাকা নেন। মাদকের আস্তানাগুলো হলো- পল্লবীর ১২ নম্বর কালশী কবরস্থান, সাংবাদিক আবাসিক এলাকার আশপাশ এবং ২২তলা গার্মেন্টসের চিহ্নিত স্থান। এগুলো ফতুর স্পট, জসিমের মায়ের স্পট, লিটনের বাংলা মদের স্পট, আদর্শ নগরের লাভলীর স্পট নামে পরিচিত। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, একই থানায় দীর্ঘদিন চাকরির সুবাদে স্থানীয় মাদক কারবারিদের সঙ্গে জহিরের টিমের সদস্যরা সখ্য হয়। ফলে মাদক নির্মূল করা সম্ভব হচ্ছে না। এতে সাধারণ জনগণ পুলিশের প্রতি বিরূপ ধারনাসহ অনাকাক্সিক্ষত পরিস্থিতির মুখে পড়ছে। ওই প্রতিবেদনে এসআই জহির ছাড়াও তার টিমের দুই সদস্য ও কয়েকজন সোর্সের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তারা হলেন- সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) ফেরদৌস, কনস্টেবল মো. মেসবাহ উদ্দিন। সোর্সরা হলেন- ওয়াহিদ, আমিনুল ইসলাম টিটু, সোলেমান, হিল্লোল ও মোশারফ।
বর্তমানে পল্লবী থানায় এসআই হিসেবে দায়িত্বরত জহিরের বিশেষত্ব- তিনি ‘শ্রেষ্ঠ মাদক উদ্ধারকারী’ পুলিশ সদস্য। ঝুলিতে রয়েছে বেশ কয়েকটি পুরষ্কার। এ ছাড়া তিনি একে একে ‘শ্রেষ্ঠ বিস্ফোরক উদ্ধারকারী’, ‘শ্রেষ্ঠ চোরাই গাড়ি উদ্ধারকারী’ এসআই। তার টেবিলে শ্রেষ্ঠ হিসেবে অসংখ্য ক্রেস্ট ও সার্টিফিকেটও রয়েছে। তবে তিনি অন্যদিকে ‘অর্থ খেকো’। শ্রেষ্ঠত্বের আড়ালে তার অপরাধ কর্মকা- অনেক। এমনটাই দাবি অনেকের।
স্থানীয়রা জানান, কেউ বিপুল পরিমাণ মাদক নিয়ে ধরা পড়লে তাকে অল্প মাদক দিয়ে মামলা দেন এস আই জহির। আর অবশিষ্ট মাদক সোর্সের মাধ্যমে বিক্রি করেন। অল্প পরিমাণ মাদক দিয়ে মামলা দেওয়ার জন্যও আসামির কাছ থেকে টাকা নেয় পুলিশ। এ ক্ষেত্রে জামিনে সুবিধা পেতে আসামিরাও টাকা লেনদেন করেন।
সাইমন নামে পল্লবী থানা পুলিশের এক সোর্স জানান, এসআই জহিরের সোর্সের খাতায় নাম উঠিয়েছেন এমন অনেকেই মাদক মামলার আসামি ও মাদক বেচাকেনায় জড়িত। এর মধ্যে সোর্স আমিনুল, ওয়াহিদ, সোলেমান ও তার স্ত্রী টুম্মা, নজু, রাইটার নাসির, পাতা সোহেল, দাঁত ভাঙা মামুন ও আরজু সরাসরি ইয়াবা বেচাকেনা করে। সোর্সদের সামারির (টাকা খেয়ে ছেড়ে দেওয়া) ভয়ে স্থানীয় মাদক কারবারিরা সব সময় আতঙ্কে থাকেন। কয়েক মাস আগে মিরপুর ১২ নম্বর কুর্মিটোলা বিহারি ক্যাম্পের শীর্ষ মাদক কারবারি শফিক ও সারাফাতকে সাভার থেকে ৬ হাজার ইয়াবাসহ আটক করেন এসআই জহিরের লোকজন। এরপর ৭ লাখ ৯৫ হাজার টাকা আদায় করে ওই আসামিদের অল্প পরিমাণ মাদক দিয়ে চালান দেওয়া হয়। চলতি বছরের মার্চে পল্লবীর ১১ নম্বর বাউনিয়া বাঁধে ইয়াসমিন নামে এক নারীকে ৮ কেজি গাঁজাসহ আটক করেন জহির। ওই নারীর কাছে ৪০ হাজার টাকা আদায় করে ২০০ গ্রাম গাঁজা দিয়ে মামলা দেয় পুলিশ। গত রমজানে সাভারের আকরাইন থেকে মিরপুর ১১ নম্বর এডিসি ক্যাম্পের চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী ল্যাংড়া রুবেলের দুই সহযোগীকে ৯ হাজার পিস ইয়াবাসহ আটক করে জহিরের টিম। এরপর পাঁচ লাখ টাকার বিনিময়ে সামান্য মাদক দিয়ে আসামিদের মামলা দেওয়া হয়।
বাউনিয়াবাঁধের বাসিন্দা ও আগে পুলিশের সোর্স ছিলেন এমন এক ব্যক্তি জানান, ৬-৭ মাস আগে কালশী কবরস্থানের পেছনের গলি জসিমের মার মাদক স্পটে শাহিনুর নামে এক নারীকে ১ কেজি গাঁজাসহ আটক করে এসআই জহিরের লোকজন। ওই সময় তার কাছে ১ লাখ টাকা আদায় করে ৩০০ গ্রাম গাঁজা দিয়ে মামলা দেওয়া হয়। ছয় মাস আগে পল্লবীর শীর্ষ মাদক কারবারি মওলা কবিরের স্ত্রী পিংকি আক্তারকে উত্তরা থেকে ধরে এনে ২ লাখ টাকার বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে পুলিশের এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে।
পল্লবী থানার কয়েকজন পুলিশ সদস্য জানান, থানা এলাকায় এসআই জহির খুব দাপট নিয়ে চলেন। নিজেকে তিনি পুলিশের এক ডিআইজির আপন ভাতিজা বলে পরিচয় দেন। এ জন্য অনেক পুলিশ কর্মকর্তা তাকে সমীহ করে চলেন। থানার অনেকে টিম (হোন্ডা ডিউটি) চালানোর সুযোগ না পেলেও ডিআইজির আত্মীয় পরিচয়ে টিম চালিয়ে দুই হাতে টাকা কামান জহির।
এসআই জহিরের বিরুদ্ধে কয়েকজন ভুক্তভোগী ডিএমপি কমিশনারসহ পুলিশের আইজিপির কাছে ছয়টিরও বেশি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। তবে জহিরের দাবি এগুলো মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন। মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে কাজ করায় একটি সিন্ডিকেট আমার বিরুদ্ধে কাজ করছে। এ ব্যাপারে পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহা.মাহফুজুর রহমান মিয়া বলেন, কারও বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মিরপুর বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো. জসীম উদ্দীন মোল্লা বলেন, অপরাধী যে-ই হোক সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ও তথ্য প্রমাণ পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিভাগ : জাতীয়
মন্তব্য করুন
এই বিভাগের আরও
আরও পড়ুন
প্রভিটা গ্রুপের চেয়ারম্যানসহ স্ত্রী-ছেলের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা
ভারতীয় উৎসবে অংশ নেবে ছয় ইরানি চলচ্চিত্র
বাগেরহাটে বিএনপির দুই গ্রপের সংঘর্ষ, ৮ বাড়ীতে আগ্নিসংযোগ, আহত ২০
হাসিনার পরিবারকে প্লট বরাদ্দে ক্ষমতার অপব্যবহারের প্রমাণ মিলেছে
অভিনেত্রীর নেকলেস চুরি, চোর কি তবে রং মিস্ত্রী?
ভিভো এক্স২০০ এর নজর কাড়া পাঁচ দিক
ভৈরব থানার লুট হওয়া অস্ত্র পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার
বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনকারীদের মামলায় আসামী অন্তর, ষড়যন্ত্র অব্যাহত
সিলেট কোম্পানীগঞ্জে কিশোরীকে তুলে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা, থানায় অভিযোগ
সুনামগঞ্জে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত
মালয়াম অভিনেত্রীকে যৌন হয়রানি, আটক স্বর্ণ ব্যবসায়ী
‘উন্নয়ন চাইলেও গণতন্ত্র দরকার সংস্কার চাইলেও গণতন্ত্র দরকার’বিএনপি শীর্ষ নেতা নজরুল ইসলাম খান
কেরানীগঞ্জের অস্থায়ী আদালতে চলবে বিডিআর বিদ্রোহ মামলা
বিশ্বাসের ঘরে ষড়যন্ত্র চলছে: ফারুক
ট্রাম্পের ছেলে ডনাল্ড জুনিয়রের গ্রিনল্যান্ড ভ্রমণ নিয়ে জল্পনা-কল্পনা
সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে: প্রধান উপদেষ্টা
বিয়ের পূর্বে স্ত্রীর অন্য পুরুষের সাথে অবৈধ সম্পর্ক থাকা প্রসঙ্গে।
লন্ডন ক্লিনিকে ভর্তি হলেন খালেদা জিয়া
টিম কম্বিনেশনের জন্য দলের বাইরে ছিলাম: রিশাদ
ফুলপুরে তারুণ্যের উৎসব উদযাপনে ফুটবল প্রতিযোগিতায় রুপসী বিজয়ী