দুই আন্দোলনের মধ্যে সরকারের উপদেষ্টারা বিভাজনরেখা তৈরি করছে : রিজভী

Daily Inqilab স্টাফ রিপোর্টার

১৭ মার্চ ২০২৫, ০৩:১১ পিএম | আপডেট: ১৭ মার্চ ২০২৫, ০৩:১১ পিএম


ফ্যাসিবাদ বিরোধী এবং জুলাই-আগস্ট এই দুই আন্দোলনের মধ্যে সরকারের উপদেষ্টারা বিভাজনরেখা তৈরি করছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।

সোমবার(১৭ মার্চ) দুপুরে নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে এক সমাবেশে এই অভিযোগ করেন তিনি।

 

 

তিনি বলেন, ‘‘ জুলাই-আগস্টের যে চূড়ান্ত আন্দোলন… এটা তো ১৫ বছরের যে গণতন্ত্রকামী রাজনৈতিক দল বিএনপির নেতৃত্বে যে আন্দোলন করেছেন তার চূড়ান্ত বর্হিপ্রকাশ। এই ১৫ বছরের মধ্যে ইলিয়াস নেই, চৌধুরী আলম নেই, সুমন নেই, … অদৃশ্য করা হয়েছে… এদেরকে কেনো করা হয়েছে। কারণ এরা সোচ্চার ছিলো অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচন এবং ফ্যাসিবাদ থেকে বাংলাদেশকে মুক্তি ঘটানো। এই কারণে ওরা জীবন দিয়েছে, সেই জীবনের একটা চূড়ান্ত বর্হিপ্রকাশ দেখলাম শিশু-তরুণ-কিশোররা জুলাই-আগস্টে তারা জীবন দিয়ে শেখ হাসিনাকে বিদায় করেছে।”

‘‘ আমি উপদেষ্টা সাহেবদেরকে বলব যে, আপনারা এই ১৫ বছর ১৬ বছরের আন্দোলন আর জুলাই-আগস্ট আন্দোলনের মধ্যে বিভাজন রেখা তৈরি করছেন কেনো? এটা তো সব রক্তস্রোত একই সমুদ্রের মোহনায় গিয়ে মিলিত হয়েছে এবং মোহনার এই মিলিত স্রোতেই শেখ হাসিনা আজকে পালিয়ে গেছে।”

রিজভী বলেন, ‘‘ আপনাদেরকে (উপদেষ্টাগণ) বলব যে, আপনারা যে ক‘দিন আছেন মানুষের কল্যাণের জন্য কাজ করুন। এখন তো মিনিকেট চালের কেজি ৮৫ টাকা… এদিকে আপনারা নজর দিন, পাইজাম আর ঝর্ণা চাল… একেবারে মোটা চাল সেটার দাম ৫৬/৫৭ টাকা… বিআর-২৮ সেটার দাম ৬২/৬৫ টাকা… এগুলোর দিকে নজর দিন।”

 

 

বিএনপির এই মুখপাত্র বলেন, ‘‘ ড. মুহাম্মদ ইউনুস আপনি প্রধান উপদেষ্টা… মানুষের বিশ্বাস আপনার ওপর। আমরা চাই, আপনার হাত দিয়ে একটা অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত হবে। আপনি যে ক‘দিন ক্ষমতায় থাকবেন, আপনি অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে জনগনের নির্বাচিত প্রতিনিধির কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করবে এই ধরনের গভীর বিশ্বাস জনগনের।”

‘‘ কিন্তু যদি গড়িমশি হয় তাহলো তো ভিন্ন মাত্রা নেবে।”

‘ছাত্রদের কি সবক দিচ্ছেন’

রিজভী বলেন, ‘‘ আপনারা এক উপদেষ্টা ছাত্রদের বলছে তোমরা যেভাবে তোমরা চালাচ্ছো আমাদেরকে… এভাবে পাঁচ বছর চললে পরে দেশ আরও সুন্দর হবে। তার মানে নির্বাচনের দরকার নাই। গণতন্ত্রের আরও যে নিশ্চয়তাগুলো আছে… আইনের শাসন, ন্যায় বিচার এবং সংবাদপত্রের স্বাধীনতা… এটা তো গণতন্ত্রের উপাদান। গণতন্ত্রের এসব উপাদানগুলো কি শেষ হয়ে যাবে? আমি সেই উপদেষ্টাকে বলতে চাই, এটার জন্যই তো লড়াই।”

‘‘কি সবক দিচ্ছেন? তাদেরকে তো ফ্যাসিবাদ অথবা ডিটটেটরশীপের দিকে আপনারা প্রলোভন দেখাচ্ছেন। এটা তো ঠিক নয়।”

তিনি বলেন, ‘‘ আজকে যে জনপদের পর জনপদে যে অসন্তোষ পরিস্থিতি তৈরি হয়ে আছে সেটা শেখ হাসিনার দুঃশাসনের ফসল। এই দুঃশাসনের বিকৃত ফসলের মূল উৎপাটন করে আমাদের সমাজকে পবিত্র সমাজে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে।”

‘‘ সেই ক্ষেত্রে জাতীয়তাবাদী মহিলা দল একটি অগ্রগণ্য রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে কাজ করবে এই প্রত্যাশা আমি করছি।”

বাজারে চালের দাম অনেক বেশি উল্লেখ করে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারকে এবার চালের বাজারের দিকে নজর দিতে বলবো।

শিশু আছিয়ার ধর্ষণসহ সকল অপরাধের বিচার দাবি করে বিএনপির এই সিনিয়র নেতা বলেন, সরকারকে আইনের শাসন নিশ্চিত করতে হবে, মানুষের অধিকার আর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সব ধরনের অপরাধের বিচার হতে হবে।

নয়া পল্টনে বিএনপির মহিলা সংগঠন জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের উদ্যোগে সারাদেশে ধর্ষণকারীদের বিচারের দাবিতে এই বিক্ষোভ সমাবেশ হয়। সমাবেশ শেষে বিক্ষোভ মিছিল নয়া পল্টন সড়ক প্রদক্ষিন করে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান বলেন, ‘‘ আপনারা দেখেছেন, নুসরাত পারুল থেকে শুরু করে গত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে একের পর এক নারীরা ধর্ষিতা হয়েছে.. যারা ধর্ষণকারী তাদের কোনো বিচার হয়নি, এমনকি হত্যাকারী যারা তাদের কোনো বিচার হয়নি।”

‘‘ কারণ যারা গুম-খুন-হত্যা করেছিলো তারাই কিন্তু সেই সময়ে রক্ষক হিসেবে অন্যদেরকে দিয়ে কাজগুলো করাতো।আজকে আমরা এমন একজনের কাছে দায়িত্ব তুলে দিয়েছি যাকে আমরা মনে করি শান্তির প্রতীক। আমরা জানি ড. ইউনুস তার কাছে আশা করছি আমাদের দেশ নিরাপদে থাকবে, আমাদের মা-বোনেরা নিরাপদে থাকবে, সবাই মুক্ত স্বাধীন কথা বলতে পারবে।”

গত ৪ বছরে ৭ হাজার শিশুসহ ৪৩ হাজার নারী ধর্ষণে সংবাদপত্রে প্রকাশিত খবর তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘‘ এগুলোর কোনো বিচার হয় নাই। আমরা দেখেছি মাগুরার শিশু আছিয়া হত্যার পরে এক সপ্তাহের মধ্যে যেন মনে হয় মহাসব লেগেছে এক সপ্তাহের মধ্যে ১১ জন মহিলা-শিশু ধর্ষিতা হয়েছে। এই ধর্ষিতা হওয়ার কারণটা কি?”

মহিলা দলের সভানেত্রী আফরোজা আব্বাসের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদের সঞ্চালনায় সমাবেশে মহিলা দলের হেলেন জেরিন খান, জেবা খানসহ মহিলা দলের নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।


বিভাগ : রাজনীতি


মন্তব্য করুন

HTML Comment Box is loading comments...

এই বিভাগের আরও

নির্বাচন আমাদের তাৎক্ষণিক অগ্রাধিকার নয়: নাহিদ ইসলাম
অনৈক‍্য কারণে ফ‍্যাসিবাদের পুনরুত্থান ঘটলে, তা হবে দূ:খজনক: এবি পার্টি
আমরা চাই না আওয়ামী লীগ নির্বাচনে আসুক, ডিপ্লোম্যাটকে নাহিদ ইসলাম
‘বিএনপি আবু তালেব, আর আ.লীগ আবু জাহেলের ভূমিকায়’: মাও. মামুনুল হক
আছিয়ার শোকে ভারসাম্যহীন বাবার পাশে তারেক রহমান
আরও
X

আরও পড়ুন

ফের বিস্ফোরণ, কেঁপে উঠল সীমান্তবর্তী এলাকা

ফের বিস্ফোরণ, কেঁপে উঠল সীমান্তবর্তী এলাকা

বেলুচিস্তানে নিরাপত্তা শঙ্কায় বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ

বেলুচিস্তানে নিরাপত্তা শঙ্কায় বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ

গোদাগাড়ীতে পদ্মার বুকে সবুজের সমাহার

গোদাগাড়ীতে পদ্মার বুকে সবুজের সমাহার

মিয়ানমারের বন্দি শিবির থেকে মুক্ত ১৯ বাংলাদেশি

মিয়ানমারের বন্দি শিবির থেকে মুক্ত ১৯ বাংলাদেশি

২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা: তারেক রহমানসহ সব আসামির খালাসের বিরুদ্ধে আপিল

২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা: তারেক রহমানসহ সব আসামির খালাসের বিরুদ্ধে আপিল

চাঁদপুরে নাশকতার মামলায় ৫ ইউপি চেয়ারম্যান কারাগারে

চাঁদপুরে নাশকতার মামলায় ৫ ইউপি চেয়ারম্যান কারাগারে

সাভারে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে বন্ধুকে ছুরিকাঘাতে হত্যা

সাভারে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে বন্ধুকে ছুরিকাঘাতে হত্যা

‘বহিষ্কৃত ১২৮ জনের তালিকা পূর্ণাঙ্গ নয়’  জানালেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ

‘বহিষ্কৃত ১২৮ জনের তালিকা পূর্ণাঙ্গ নয়’ জানালেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ

মহাকাশে ২৮৬ দিন কাটিয়ে পৃথিবীতে ফিরলেন সুনীতা উইলিয়ামস ও তার সঙ্গীরা

মহাকাশে ২৮৬ দিন কাটিয়ে পৃথিবীতে ফিরলেন সুনীতা উইলিয়ামস ও তার সঙ্গীরা

দিনাজপুরে ৫৫০ বছরের পুরনো মসজিদে নামাজে আসেন দূরদূরান্তের মুসল্লিরা

দিনাজপুরে ৫৫০ বছরের পুরনো মসজিদে নামাজে আসেন দূরদূরান্তের মুসল্লিরা

ইসরাইলের সিরিয়ার বিমান হামলা আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন: সউদী আরব

ইসরাইলের সিরিয়ার বিমান হামলা আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন: সউদী আরব

ট্রাম্পের ফোনেও ইউক্রেনে পূর্ণ যুদ্ধবিরতিতে রাজি নন পুতিন

ট্রাম্পের ফোনেও ইউক্রেনে পূর্ণ যুদ্ধবিরতিতে রাজি নন পুতিন

যশোরে অ্যাম্বুলেন্সের সঙ্গে ভ্যানের ধাক্কা, নিহত ৩

যশোরে অ্যাম্বুলেন্সের সঙ্গে ভ্যানের ধাক্কা, নিহত ৩

মতলবে আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে ধর্ষণের শিকার গৃহবধূ, আটক ১ জন

মতলবে আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে ধর্ষণের শিকার গৃহবধূ, আটক ১ জন

বরগুনায় চুরির অভিযোগে বৃদ্ধকে মারধর, সেই ভিডিও ভাইরাল

বরগুনায় চুরির অভিযোগে বৃদ্ধকে মারধর, সেই ভিডিও ভাইরাল

হামাসের বক্তব্য: ইসরাইল এখনও ভুলের মধ্যে

হামাসের বক্তব্য: ইসরাইল এখনও ভুলের মধ্যে

নির্বাচন আমাদের তাৎক্ষণিক অগ্রাধিকার নয়: নাহিদ ইসলাম

নির্বাচন আমাদের তাৎক্ষণিক অগ্রাধিকার নয়: নাহিদ ইসলাম

তুলসীকে দিয়ে ভারতের অযাচিত ষড়যন্ত্রে উদ্বিগ্ন-ক্ষিপ্ত নেটিজেনরা

তুলসীকে দিয়ে ভারতের অযাচিত ষড়যন্ত্রে উদ্বিগ্ন-ক্ষিপ্ত নেটিজেনরা

ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতির আহ্বান চার্চিলের নাতির

ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতির আহ্বান চার্চিলের নাতির

শেরপুর গারো পাহাড়ে হাতি-মানুষ দ্বন্দ্ব, ক্ষতিপূরণই কি সমাধান?

শেরপুর গারো পাহাড়ে হাতি-মানুষ দ্বন্দ্ব, ক্ষতিপূরণই কি সমাধান?