বরগুনায় ঝুঁকিপূর্ণ ৩৫৭ সেতু
১৮ মার্চ ২০২৫, ১২:০১ এএম | আপডেট: ১৮ মার্চ ২০২৫, ১২:০১ এএম

বরগুনায় ৩৫৭টি লোহার সেতু। ১৪টি ধসে ৯ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু ঘটলেও টনক নড়েনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের। সবগুলো সেতুর দু’প্রান্তে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণার সাইনবোর্ড সাঁটিয়ে দায়মুক্ত হয়েছেন। এলজিইডি বলছে, ৩৫৭টি ঝুঁকিপূর্ণ সেতু শনাক্ত করে তালিকা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।
বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে নির্মিত সেতুগুলোর ব্যাপারে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে ঠিকাদার ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের বিরুদ্ধে। সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের ঘাটতি থাকায় শতভাগ ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে জেলার সবকটি লোহার সেতু। গত এক বছরে ১৪টি সেতু ধসে প্রাণ হারিয়েছেন ৯ জন। বিকল্প পথ না থাকায় ঝুঁকি নিয়েই এসব সেতু পার হচ্ছে স্থানীয়রা। একের পর এক সেতু ধসে ঘটছে দুর্ঘটনা তবুও টনক নড়ছে না কর্তৃপক্ষের।
বরগুনা এলজিইডি কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ইতোমধ্যেই জেলার ৬টি উপজেলায় ৩৫৭টি লোহার সেতুর সবগুলোই ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করা হয়েছে। এর মধ্যে আমতলীতে ৯৮টি, তালতলীতে ৩১টি, বরগুনা সদরে ৮১টি, বামনায় ৪৪টি, বেতাগীতে ৬৪টি ও পাথরঘাটায় ৩৯টি ঝুঁকিপূর্ণ সেতু রয়েছে। এগুলো নতুন করে নির্মাণে আনুমানিক ব্যয় ধরা হয়েছে ১৪শ’ কোটি টাকা। এছাড়াও জরুরি ভিত্তিতে নির্মাণের জন্যে ১৪২টি সেতু চিহ্নিত করা হয়েছে যার সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে সাড়ে ৬শ’ কোটি টাকা।
সেতু নির্মাণে অনিয়ম ও সংশ্লিষ্টদের গাফিলতির কারণেই ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে এলাকাবাসীর। ধসে পড়া সেতুর খোঁজই নেন না কর্তৃপক্ষ। গত এক বছরে জেলায় ১৪টি সেতু ধসে মারা গেছেন ৯ জন। তারপরও সেতু সংস্কার কিংবা পুনর্নির্মাণের জন্য টনক নড়ছে না কর্তৃপক্ষের। শুধু ঝুঁকিপূর্ণ সেতু দিয়ে যাতায়াতে নিষেধাজ্ঞার নোটিশ টাঙ্গিয়ে দায়সারা দায়িত্ব শেষ কর্তৃপক্ষের।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, আমতলী উপজেলা প্রকৌশলী অধিদপ্তর ২০০৭-০৮ অর্থ বছরে উপজেলার হলদিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন খালে ২১টি লোহার সেতু নির্মাণে দরপত্র আহ্বান করে। প্রত্যেক সেতু ২ কোটি টাকা করে বরাদ্দ হয়। ওই সেতুগুলোর কাজ পান তৎকালীন হলদিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি শহীদুল ইসলাম মৃধা।
অভিযোগ রয়েছে, সেতু নির্মাণকালে ঠিকাদার শহীদুল ইসলাম মৃধা প্রভাব খাটিয়ে নামেমাত্র কাজ করেছেন। লোহার রেলপাতির ভিম ও অ্যাঙ্গেল দেওয়ায় কথা থাকলেও লোহার ভিম ও অ্যাঙ্গেল দিয়ে সেতু নির্মাণ করেছেন। ফলে সেতু নির্মাণের ১৩ বছরের মাথায় সেতুগুলো ভেঙে যাওয়া শুরু হয়। ২০২৪ সালের ২২ জুন বরযাত্রীবাহী মাইক্রোবাস নিয়ে হলদিয়া হাট সেতু ভেঙে ৯ জন নিহত হয়। এতে দেশব্যাপী আলোড়ন সৃষ্টি হয়। এ সেতু ভেঙে যাওয়ার ৫ দিনের মাথায় একই ইউনিয়নের টেপুড়া খালের সেতু ভেঙে পরে। এরপর এক এক করে বাঁশবুনিয়া, সোনাউডা, হলদিয়া বড় মোল্লাবাড়ি, দক্ষিণ তক্তাবুনিয়া নজরুল সিকদার বাড়ি, কাঁঠালিয়া বাজে সিন্ধুক, কাঁঠালিয়া মাদ্রাসা সংলগ্ন, চন্দ্রা আউয়াল নগর ও সর্বশেষ চর রাওঘা সেতু ভেঙে পড়ে। গত এক বছরে শুধু আমতলী উপজেলায় এক ঠিকাদারের ১০টি সেতু ভাঙে। এছাড়া তালতলীতে দুটি বরগুনা সদর উপজেলায় দুই সেতু ভেঙে পড়ার খবর পাওয়া গেছে। এভাবে একের পর এক সেতু ভেঙে পড়লেও সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা বা ভেঙে পড়া সেতুগুলো খাল থেকে অপসারণের কোনো উদ্যোগ নিচ্ছে না সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। আমতলীতে ভেঙে পড়া ১০ সেতুর ঠিকাদার হলদিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি শহীদুল ইসলাম মৃধার সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি। ৫ আগস্টের পর থেকে তিনি আত্মগোপনে আছেন বলে জানা গেছে। সরেজমিনে আমতলী ও বরগুনার বিভিন্ন সেতু ঘুরে দেখা যায়, ফুট ওভারব্রিজ প্রকল্পের আওতায় এলজিইডি ২০০৮ সালে বরগুনার আমতলী উপজেলায় আউয়াল নগর সেতুটি নির্মাণ করে। এরপর গত ১৭ বছরে একবারের জন্যও সংস্কার করা হয়নি সেতুটি। যে কারণে গত ১৭ ফেব্রুয়ারি ঝুঁকিপূর্ণ সেতুটি ভেঙে নদীতে পড়ে যায়। কোনো হতাহতের ঘটনা না ঘটলেও দুর্ভোগে পড়েছে দুই তীরের কয়েক হাজার মানুষ। স্থানীয়রা খালের মধ্যে বিকল্প বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করে পারাপার হচ্ছেন। একইভাবে বরগুনা সদর উপজেলার ৭নং ঢলুয়া ইউনিয়নের পোটকাখালী গ্রামে ২০০২ সালে নায়েববাড়ি সেতু নির্মাণ করে। এই দুই ওয়ার্ডের একমাত্র সংযোগ সেতুটি বিগত ৭ বছর ধরে ভেঙে পড়ে আছে। ভাঙা অংশে কোনো রকম সুপারি গাছ দিয়ে সাঁকো বানিয়ে পার হচ্ছেন এলাকাবাসী। বিগত ২২ বছরে কোনো রকমের সংস্কার বা বিকল্প পথের ব্যবস্থা করেনি কোনো কর্তৃপক্ষ। বরগুনায় তিন শতাধিক লোহার সেতুর অবস্থা এমনই নাজুক মরিচা ধরে নষ্ট হয়ে গেছে লোহার অ্যাঙ্গেল ও বিভিন্ন স্থানে ভেঙে গেছে লোহার খুঁটিও। যানবাহন তো দূরের কথা, সাধারণ মানুষের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হয় সেতু দিয়ে।
এ বিষয়ে বরগুনা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মেহেদী হাসান বলেন, বরগুনায় ৩৫৭টি লোহার সেতু সবগুলোই ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করা হয়েছে। এগুলোর মধ্যে ১৪২ জরুরি ভিত্তিতে নির্মাণের জন্য তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। নতুন কোনো প্রকল্প না আসলে এসব সেতু নির্মাণ বা মেরামত করা সম্ভব নয়।
এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে এবং নতুন একটি প্রকল্পের মাধ্যমে সবকটি লোহার সেতুর পুনর্নির্মাণের বিষয়ে প্রস্তাবনা দেয়া হয়েছে। নতুন প্রকল্পের মাধ্যমে সেতু নির্মাণের বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া হলে বরগুনাবাসীর দীর্ঘদিনের কষ্ট ও দুর্ভোগ কেটে যাবে।
বিভাগ : অভ্যন্তরীণ
মন্তব্য করুন
আরও পড়ুন

অবসরের ঘোষণা দিলেন জার্মানির বিশ্বকাপজয়ী তারকা

রোনালদোর জোড়া গোলে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আল হিলালকে হারাল নাসের

প্রয়োজনীয় সংস্কার করে যথাসম্ভব দ্রুত নির্বাচন দিতে হবে: মিয়া গোলাম পরওয়ার

মুসল্লিদের বাধায় নাটক মঞ্চায়ন বাতিলের সংবাদ বিভ্রান্তিকর

মানুষ ফ্যাসিবাদ মুক্ত বাংলাদেশে স্বাচ্ছন্দ্যে ঈদ উদযাপন করেছে: আবদুল হালিম

থাইল্যান্ড থেকে দেশের উদ্দেশে রওনা হলেন প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস

নারীবান্ধব পাবলিক টয়লেট

মেডিক্যাল ট্যুরিজম

প্রেসার গ্রুপের ভালো-মন্দ

রাজধানীতে ট্রাফিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে হবে

ইশার নামাজের সাথে সাথে বিতির নামাজ না পড়া প্রসঙ্গে?

প্রশ্ন : মরণোত্তর চক্ষুদান বা অন্যান্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দান কি শরীয়ত সমর্থন করে?

মানুষের শ্রেষ্ঠত্ব হচ্ছে উত্তম চরিত্রে

খালেস নিয়তে আমল করলে প্রতিদান সুনিশ্চিত

ঈদ আসে-ঈদ যায়, স্মৃতিটুকু রয়ে যায়

ইসলামের দৃষ্টিতে পরোপকারের গুরুত্ব ও ফজিলত

ভাড়া বৃদ্ধির প্রতিবাদ করায় যাত্রীকে মারধর

কৃষক জজ মিয়ার মৃত্যু নিয়ে রহস্য

সরিষাবাড়ীতে বিএনপি’র দু’গ্রুপে দফায় দফায় সংঘর্ষ

কনস্টেবলকে মারধরের অভিযোগ