নাব্যতা সঙ্কটে ৪২১ কিলোমিটার নৌপথ
২০ মার্চ ২০২৫, ১২:২৫ এএম | আপডেট: ২০ মার্চ ২০২৫, ১২:২৫ এএম

মৎস্য, বালিপাথর, ধান আর গান সুনামগঞ্জের প্রাণ। এই কথাটি গোটা সুনামগঞ্জ জেলার হলেও এর আসল বাস্তবতা হলো সুনামগঞ্জের তাহিরপুর, জামালগঞ্জ, ধর্মপাশা উপজেলায়। এই এলাকায় মৎস্য, পাথর, ধানই শুধু নয়, এখানে রয়েছে বড় বড় জলমহাল, চুনাপাথর ও কয়লার শুল্ক স্টেশন। এসব জলমহাল, বালিপাথর কোয়ারি ও শুল্ক স্টেশনকে ঘিরে রয়েছে কোটি কোটি টাকার বাণিজ্য। কিন্তু কোটি কোটি টাকার পণ্য পরিবহনের একমাত্র মাধ্যম হচ্ছে নৌপথ, যেখান থেকে সরকার বছরে কোটি কোটি টাকা রাজস্ব পেয়ে থেকে। নদীমাতৃক বাংলাদেশের এক সময় যে খরস্রোতা নদীগুলো ছিল এখন সেগুলো আর দেখা যায় না। পলিমাটি ও বালি পড়ে অনেক নদীর তলদেশ উঁচু হয়ে নদীপথের নাব্যতা সঙ্কট সৃষ্টি হয়েছে। কতিপয় প্রভাবশালী ভূমিখেকো ও নদী দখলবাজের কারণে নদীপথে নাব্যতা সঙ্কট সৃষ্টি হয়ে আসছে। এক সময় সুনামগঞ্জ জেলার খরস্রোতা নদীগুলোতে কার্গো জাহাজ চলাচল করলেও এখন কার্গো জাহাজতো দূরের কথা, ডিঙ্গি নৌকা চলাচল করা দায়।
সুনামগঞ্জে ১২১ কিলোমিটার সীমান্তজুড়ে ভারতের মেঘালয় পাহাড় থেকে উৎপক্তি হয়ে জেলার তাহিরপুর, বিশ্বম্ভরপুর, জামালগঞ্জ উপজেলা দিয়ে প্রবাহিত সীমান্ত নদী জাদুকাটা, রক্তি, বৌলাই ও পাটলাই এই চার নদীতে পাহাড়ি ছড়া দিয়ে পানির সাথে নেমে আসা বালিমাটি ও পলি জমে নদীর উৎস মুখ ভরাট হয়ে যাওয়ায় এবং গত পৌষ মাসের প্রথম থেকেই নদীর পানি শুকিয়ে যাওয়ার ফলে সুনামগঞ্জ জেলার ৪২১ কিলোমিটার নৌপথজুড়ে দেখা দিয়েছে চরম নাব্যতা সংকট। বৈশাখ মাসে নদীগুলো দিয়ে নেমে আসা আকস্মিক পাহাড়ি ঢল ও অকাল বন্যার পানিতে এ জেলার লাখ লাখ মানুষের একমাত্র ভরসা হাজার হাজার একর বোরো ফসল পানিতে তলিয়ে যায়। কিন্তু শুষ্ক মৌসুমে নদীগুলোতে দেখা দেয় চরম পানি সংকট। ২০১০ সালের ১০ নভেম্বর তাহিরপুরে এক কৃষক সমাবেশে শেখ হাসিনা নদীগুলো দ্রুত ড্রেজিংয়ের আশ্বাস দিলেও কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি। ২৩ কিলোমিটার দীর্ঘ জাদুকাঁটা নদীর বুকে বর্ষা মৌসুমে প্রায় ৩০ হাজার বারকি শ্রমিক বালি-পাথর উত্তোলন করে জীবিকা নির্বাহ করলেও এখন নদীর বুকে অসংখ্য চর জেগে উঠায় দেখা দিয়েছে নাব্যতা সংকট। বালি-পাথর উত্তোলন করতে পারছে না শ্রমিকরা। এতে করে এখানকার বালি-পাথর ব্যবসার সঙ্গে জড়িত হাজারের অধিক ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। কষ্টে দিন কাটাচ্ছে নদীতে কাজ করা হাজারের অধিক পরিবার। তাহিরপুর ও জামালগঞ্জ উপজেলাকে সংযোগকারী ৫৩ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে বৌলাই নদীতে পলি জমে তলদেশ উঁচু হয়ে নদীর বুক পানিশূন্য হয়ে পড়ায় ফুটবল খেলার মাঠে পরিণত হয়েছে। টেকেরঘাট বড়চড়া শুল্ক স্টেশন থেকে কয়লা পরিবহনের জন্য ৫০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে পাটলাই নদীর উৎস মুখে পানি না থাকায় কয়লা পরিবহনে দেখা দিয়েছে সমস্যা।
তাহিরপুর কয়লা আমদানিকারক গ্রুপের মো. সেলিম জানান, বড়ছড়া শুল্ক স্টেশনকে ঘিরে চার শতাধিক আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান রয়েছে। পাটলাই নদী দিয়ে যেখানে ইঞ্জিনচালিত ট্রলার ও কার্গোতে করে প্রতিদিন হাজার হাজার টন কয়লা ও চুনাপাথর সারাদেশে সরবরাহ করে থাকে সেই নদীর উৎসমুখই পানিশূন্য। যেখানে বর্ষা মৌসুমে প্রতি টন কয়লা ক্যারি করতে খরচ তো ১২০ থেকে ১৫০ টাকা, নদী শুকিয়ে যাওয়ায় সেখানে পানি আটকানোর জন্য বাঁধ দেয়ার পর অগ্রহায়ণ থেকে বৈশাখ মাস পর্যন্ত ডিপো থেকে চার ধাপে টেলাগাড়ি, লরি, হ্যান্ডট্রলি ও বারকি নৌকা দিয়ে পাটলাই নদীতে থাকা ট্রলার ও কার্গোতে প্রতি টন কয়লা ও চুনাপাথর লোড করতে খরচ হয় ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা।
এ অবস্থায় নদী খনন করা না হলে ব্যবসায়ীদের বিড়ম্বনা আরও বাড়বে। পাটলাই নদীতে প্রায় ২০ হাজার শ্রমিক জীবিকা চালাত। এখন নদীর উৎস মুখে পানি না থাকায় এবং নদীতে নৌকা চলাচল করতে না পারায় গত এক মাস ধরে বেকার বসে আছে তারা।
সাবেক তাহিরপুর উপজেলা চেয়ারম্যান করুনাসিন্ধু চৌধুরী বাবুল বলেন, নাব্যতা সংকটে ভুগতে থাকা হাওর ও নদ-নদী দ্রুত খনন করতে হবে। নতুনভাবে যেসব গ্রাম হয়েছে, সেসব গ্রামে আরও কয়েক হাত উঁচু করে বসতি নির্মাণ করা উচিত ছিল। আবহাওয়া বিশেষজ্ঞ ও পরিবেশবিদরা বলেছেন, আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় এখন বেশি বৃষ্টি হচ্ছে। বিপরীতে প্রাকৃতিক জলাধারগুলোর পানি ধারণক্ষমতা কমেছে। এছাড়া দেশের বৃহত্তম হাওর হাকালুকি, টাঙ্গুয়াসহ অনেক হাওরে এখন নিয়মিত পর্যটক যাচ্ছেন। অনেক পর্যটক পলিথিন, প্লাস্টিকের বোতলসহ অপচনশীল দ্রব্য হাওরে ফেলছেন। সেসব গিয়ে জমা হচ্ছে তলদেশে। তাহিরপুর উপজেলা সদর ইউপি চেয়ারম্যান জুনাব আলী বলেন, দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ৪১ বছরেও এই নদীগুলোর সংস্কার ও খনন না করায় নাব্যতা সংকটের মুখে পড়েছে। ভাটি অঞ্চল হিসেবে পরিচিত এই উপজেলাগুলোর সুনামগঞ্জ জেলা সদরের সঙ্গে অভ্যন্তরীণ সড়ক যোগাযোগ নেই বললেই চলে। হাওর থেকে নদীর তলদেশ উঁচু হওয়ার ফলে হাওরের পানি নিষ্কাশিত হচ্ছে না। ফলে অতীতের তুলনায় এখন হাজার হাজার একর বোরো জমি অনাবাদি থাকে।
এ প্রসঙ্গে সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মামুন হাওলাদার দৈনিক ইনকিলাবকে জানান, জেলার ১৮টি নদী খননের প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন হওয়ার পরপরই সোমেশ্বরীসহ এর শাখা নদীগুলোর খননকাজ শুরু করা হবে।
বিভাগ : অভ্যন্তরীণ
মন্তব্য করুন
আরও পড়ুন

ওয়ার্ন-কুম্বলেদের ছাড়িয়ে ইতিহাসে হার্দিক

অবসরের ঘোষণা দিলেন জার্মানির বিশ্বকাপজয়ী তারকা

রোনালদোর জোড়া গোলে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আল হিলালকে হারাল নাসের

প্রয়োজনীয় সংস্কার করে যথাসম্ভব দ্রুত নির্বাচন দিতে হবে: মিয়া গোলাম পরওয়ার

মুসল্লিদের বাধায় নাটক মঞ্চায়ন বাতিলের সংবাদ বিভ্রান্তিকর

মানুষ ফ্যাসিবাদ মুক্ত বাংলাদেশে স্বাচ্ছন্দ্যে ঈদ উদযাপন করেছে: আবদুল হালিম

থাইল্যান্ড থেকে দেশের উদ্দেশে রওনা হলেন প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস

নারীবান্ধব পাবলিক টয়লেট

মেডিক্যাল ট্যুরিজম

প্রেসার গ্রুপের ভালো-মন্দ

রাজধানীতে ট্রাফিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে হবে

ইশার নামাজের সাথে সাথে বিতির নামাজ না পড়া প্রসঙ্গে?

প্রশ্ন : মরণোত্তর চক্ষুদান বা অন্যান্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দান কি শরীয়ত সমর্থন করে?

মানুষের শ্রেষ্ঠত্ব হচ্ছে উত্তম চরিত্রে

খালেস নিয়তে আমল করলে প্রতিদান সুনিশ্চিত

ঈদ আসে-ঈদ যায়, স্মৃতিটুকু রয়ে যায়

ইসলামের দৃষ্টিতে পরোপকারের গুরুত্ব ও ফজিলত

ভাড়া বৃদ্ধির প্রতিবাদ করায় যাত্রীকে মারধর

কৃষক জজ মিয়ার মৃত্যু নিয়ে রহস্য

সরিষাবাড়ীতে বিএনপি’র দু’গ্রুপে দফায় দফায় সংঘর্ষ