৪১ বছর ধরে বিনা পারিশ্রমিকে কুরআন শিক্ষা
২৩ মার্চ ২০২৫, ১২:৪৭ এএম | আপডেট: ২৩ মার্চ ২০২৫, ১২:৪৭ এএম

মুসলমানদের পবিত্র ধর্মগ্রন্থ আল কুরআন হলো একটি চিরন্তন, শাশ্বত এবং পূর্ণাঙ্গ জীবন ব্যবস্থা। মানুষের সঠিক পথ প্রদর্শনের জন্য আল্লাহ তায়ালা বিভিন্ন যুগে অসংখ্য নবী-রাসূল প্রেরণ করেছেন, যাদের ওপর আসমানি কিতাব নাজিল করা হয়েছে। এই সমস্ত কিতাবের মধ্যে আল কুরআনই সর্বশ্রেষ্ঠ এবং সর্বশেষ কিতাব হিসেবে গণ্য। কুরআনের নির্দেশনা অনুসরণ করা প্রতিটি মুসলমানের জন্য ফরজ।
এই মহাগ্রন্থের শিক্ষা ছড়িয়ে দেয়ার জন্য ৪১ বছর ধরে নিরবভাবে পরিশ্রম করছেন কুষ্টিয়ার মিরপুরের বাসিন্দা হাফেজ আব্দুল হান্নান। তিনি দীর্ঘদিন ধরে মিরপুর পৌরসভার সুলতানপুর গ্রামে মানুষকে কুরআন শিক্ষা দিচ্ছেন। প্রতিদিন বিরামহীনভাবে এই মহান কাজটি আনন্দের সঙ্গে করে যাচ্ছেন আব্দুল হান্নান। অথচ তিনি শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো পারিশ্রমিক গ্রহণ করেন না, শুধুমাত্র আল্লাহর রাস্তায় এই পবিত্র দায়িত্ব পালন করছেন।
হাফেজ আব্দুল হান্নান জানান, প্রথম দিকে তিনি মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে কুরআন পড়া শেখাতেন। পরে ১৯৮৪ সালে বাড়ির উঠানে গ্রাম্য ছেলেমেয়েদের কুরআন শেখানো শুরু করেন। শিক্ষার্থীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেলে ১৯৮৬ সালে তিনি বাড়ির পাশে রাস্তার ধারে একটি মাটির ছাপরা ঘর তৈরি করেন এবং সেখানে শিক্ষাদান অব্যাহত রাখেন। এরপর ১৯৯৫ সালে তার বাবা আব্দুল আজিজ শেখ মক্তব ঘর গড়ার জন্য এক কাঠা জমি দেন এবং সেখানে একটি মক্তব স্থাপন করেন। এই মক্তবের মাধ্যমে তিনি নিজের গ্রাম ছাড়াও আশপাশের কয়েক হাজার মানুষকে বিনা পারিশ্রমিকে কুরআন শিখিয়েছেন।
এই কুরআনে হাফেজ বলেন, বাড়ির সেই মক্তব ঘরটি এখন না থাকলেও বর্তমানে আমি তিনটি স্থানে কুরআন শিক্ষা দিচ্ছি। এর মধ্যে সুলতানপুর পূর্বপাড়া কবরস্থান, মিরপুর টুইন কোয়ার্টার ও বাজারপাড়া ওয়াক্তেয়া মসজিদ। এই তিনটি স্থানে প্রতিদিন নিয়ম করে কুরআন শিক্ষা দেওয়া হয়।
হাফেজ আব্দুল হান্নান বলেন, নিজ গ্রাম ছাড়াও আশপাশের এলাকার অনেক মানুষকে বিনা সম্মানিতে কুরআন শিখিয়েছি। যারা কুরআন শরীফ কেনার সামর্থ্য রাখেন না, তাদের আমি বিনামূল্যে পবিত্র কুরআন উপহার দিয়েছি। তিনি আরও বলেন, ‘যতদিন বেঁচে থাকবো, ততদিন এই কাজটি করে যেতে চাই।’
সরেজমিনে সুলতানপুর পূর্বপাড়া কবরস্থানের মক্তবে গিয়ে দেখা যায়, কবরস্থানের প্রবেশপথে ঢুকতেই গাছের ছায়ায় বসে কিছু কোমলমতি শিক্ষার্থী কুরআনপড়া শিখছেন। এখানে শিশু শিক্ষার্থী ছাড়াও কয়েকজন বৃদ্ধা নারীকে দেখা যায়, যারা নিয়মিতভাবে এখানে কুরআন পড়া শিখতে আসেন। এটি সবার জন্য এক আদর্শস্থানীয় শিক্ষা কেন্দ্র হয়ে উঠেছে।
স্থানীয় জালাল উদ্দিন নামে এক ব্যক্তি জানান, হাফেজ আব্দুল হান্নান দীর্ঘদিন ধরে সুলতানপুর গ্রামে কুরআন শিক্ষা দিয়ে আসছেন। এই গ্রাম ছাড়াও আশপাশের অনেক গ্রাম থেকে তার কাছে কুরআন শরীফ শিখতে আসেন। এমনকি আমার সন্তানও তার কাছ থেকে কুরআন শিক্ষা গ্রহণ করেছেন।
হাফেজ আব্দুল হান্নান জানান, নিজের গ্রাম সুলতানপুর ছাড়াও আশপাশের এলাকায় কোনো পুরুষ মারা গেলে তার দাফন-কাফন, গোসল ও জানাজাসহ সব কাজে স্বেচ্ছায় অংশগ্রহণ করেন। তিনি স্থানীয় একটি মসজিদে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের ইমামতি করেন। মসজিদের সামান্য হাদিয়া ও নিজের দুই বিঘা জমিতে চাষাবাদ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। এছাড়া তিনটি মক্তব চালানোর জন্য স্থানীয় কিছু মানুষ আর্থিকভাবে সহযোগিতা করেন।
বিভাগ : অভ্যন্তরীণ
মন্তব্য করুন
আরও পড়ুন

ওয়ার্ন-কুম্বলেদের ছাড়িয়ে ইতিহাসে হার্দিক

অবসরের ঘোষণা দিলেন জার্মানির বিশ্বকাপজয়ী তারকা

রোনালদোর জোড়া গোলে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আল হিলালকে হারাল নাসের

প্রয়োজনীয় সংস্কার করে যথাসম্ভব দ্রুত নির্বাচন দিতে হবে: মিয়া গোলাম পরওয়ার

মুসল্লিদের বাধায় নাটক মঞ্চায়ন বাতিলের সংবাদ বিভ্রান্তিকর

মানুষ ফ্যাসিবাদ মুক্ত বাংলাদেশে স্বাচ্ছন্দ্যে ঈদ উদযাপন করেছে: আবদুল হালিম

থাইল্যান্ড থেকে দেশের উদ্দেশে রওনা হলেন প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস

নারীবান্ধব পাবলিক টয়লেট

মেডিক্যাল ট্যুরিজম

প্রেসার গ্রুপের ভালো-মন্দ

রাজধানীতে ট্রাফিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে হবে

ইশার নামাজের সাথে সাথে বিতির নামাজ না পড়া প্রসঙ্গে?

প্রশ্ন : মরণোত্তর চক্ষুদান বা অন্যান্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দান কি শরীয়ত সমর্থন করে?

মানুষের শ্রেষ্ঠত্ব হচ্ছে উত্তম চরিত্রে

খালেস নিয়তে আমল করলে প্রতিদান সুনিশ্চিত

ঈদ আসে-ঈদ যায়, স্মৃতিটুকু রয়ে যায়

ইসলামের দৃষ্টিতে পরোপকারের গুরুত্ব ও ফজিলত

ভাড়া বৃদ্ধির প্রতিবাদ করায় যাত্রীকে মারধর

কৃষক জজ মিয়ার মৃত্যু নিয়ে রহস্য

সরিষাবাড়ীতে বিএনপি’র দু’গ্রুপে দফায় দফায় সংঘর্ষ