খড়া-ঝড়-তুষারপাতে বিপর্যস্ত ক্যালিফোর্নিয়া, ভয়াবহ বন্যার আশঙ্কা

Daily Inqilab ইনকিলাব ডেস্ক

১৫ মার্চ ২০২৩, ০৭:৪২ পিএম | আপডেট: ২৫ মার্চ ২০২৩, ০৩:০৩ এএম

এই সপ্তাহান্তে বাঁধ ভেঙে যুক্তরাষ্ট্রের পুরো ক্যালিফোর্নিয়া শহর পানির নিচে তলিয়ে যাওয়া দেখায় যে, কীভাবে সময়, খরা, জলবায়ু পরিবর্তন, ইঁদুর এবং অবহেলার কারণে রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ বন্যা নিয়ন্ত্রণ অবকাঠামো দুর্বল হয়ে পড়ছে এবং অসংখ্যা মানুষের জীবন ঝুঁকিতে ফেলেছে।

গত কয়েকদিন ধরে তলিয়ে আছে ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের বিস্তীর্ণ এলাকা। যতদূর চোখ যায় শুধু পানি আর পানি। ঘরবন্দি হয়ে পড়েছেন হাজার হাজার মানুষ। রাস্তাঘাট ডুবে যাওয়ায় ব্যাহত হচ্ছে যোগাযোগ ব্যবস্থা। অঞ্চলটির পাজেরো নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় আরও নতুন নতুন এলাকা তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। চলমান বন্যায় বাড়িঘর ডুবে যাওয়ায় এরই মধ্যে সাড়ে আট হাজারের বেশি মানুষকে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। এখনও অনেকে পানিবন্দি থাকায় তাদের উদ্ধারে চলছে অভিযান। বাড়িঘরের ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি ডুবে গেছে বহু ফসলি জমি।

এমন পরিস্থিতির মধ্যেই ক্যালিফোর্নিয়া উপকূলে ধয়ে আসছে নতুন আরও একটি শক্তিশালী ঝড়। এতে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। আগামী দুদিনের মধ্যেই ঝড়টি উপকূলে আছড়ে পড়তে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে স্থানীয় আবহাওয়া বিভাগ। এদিকে দুর্যোগ মোকাবিলার পাশাপাশি ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে ৪০ কোটি মার্কিন ডলার জরুরি তহবিল গঠনের ঘোষণা দেয়া হয়েছে।

গত শুক্রবার রাতে, ফুলে ওঠা পাজারো নদীর পানি জীর্ণ বাঁধ ভেঙে ঢুকে যায় এবং পুরো শহরকে প্লাবিত করে। এর ফলে শহরের ৩ হাজার বাসিন্দা সেখান থেকে নিরাপদ অবস্থানে সরে যেতে বাধ্য হয়। সোমবারও দ্বিতীয়বারের মত শহরটি প্লাবিত হয় বলে রিপোর্ট করা হয়েছে। কয়েক দশক ধরে, বারবার আবেদন, পানি ঢুকে যাওয়া, বন্যা এবং এমনকি দু’টি মৃত্যুর ঘটনার পরও কেন্দ্রীয় সরকার কর্তৃক বাঁধটি সংস্কার করা হয়নি।

তবে এমন পরিস্থিতি শুধু সেখানেই হচ্ছে না, বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একই রকম দুর্বলতা ক্যালিফোর্নিয়া এবং দেশ জুড়ে অন্যান্য বাঁধেও দেখা গিয়েছে। যেহেতু জলবায়ু পরিবর্তন চরম প্রাকৃতিক বিপর্যয়কে তীব্র ও বাড়িয়ে দেয়ার হুমকি দিচ্ছে — যেমন বন্যা এবং এমনকি খরা — এ ভেঙে পড়া সিস্টেমগুলির কাছাকাছি এলাকার বাসিন্দাদের এবং জরুরি প্রতিক্রিয়াকারীদের মধ্যে অস্বস্তি এবং হতাশা বাড়ছে৷

‘আমরা সবাই জানি যে প্রাকৃতিক দুর্যোগ-প্রবণ এলাকায় অনেক অর্থনৈতিকভাবে সুবিধাবঞ্চিত সম্প্রদায় গড়ে উঠেছে,’ পাজারো আঞ্চলিক বন্যা ব্যবস্থাপনা সংস্থার নির্বাহী পরিচালক মার্ক স্ট্রুডলি বলেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রে গত ১০০ বছরের বেশি সময় ধরে পরিকল্পনা ও উন্নয়নের প্রক্রিয়াটি যেভাবে কাজ করেছে, তা খুবই দুর্ভাগ্যজনক।’

উত্তর ক্যালিফোর্নিয়া, সেন্ট্রাল ভ্যালি এবং স্যাক্রামেন্টো-সান জোয়াকুইন নদীর উপকূল জুড়ে, বন্যা থেকে শুষ্ক জমি রক্ষা, বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ এবং বন্যার হাত থেকে বাড়ি, ব্যবসা এবং কৃষিকে রক্ষা করার জন্য ১৩ হাজার মাইলেরও বেশি বাঁধ ডিজাইন করা হয়েছে। মিসিসিপি ইউনিভার্সিটির সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং-এর একজন অধ্যাপক ফরহিদ ভাহেদিফার্ডের মতে - ১৯ শতকের মাঝামাঝি থেকে শেষের দিকে বসতি স্থাপনকারীরা বন্যার হাত থেকে কৃষি জমি রক্ষা করার জন্য বেশিরভাগ বাঁধ নির্মাণ করেছিলেন। ‘এবং সেগুলো অন্য সবকিছুর মতোই জীর্ণ হয়ে গেছে,’ স্ট্রডলি বলেছিলেন, ‘তাদের একটি সীমিত আয়ু আছে।’

২০১১ সালে, ক্যালিফোর্নিয়া ডিপার্টমেন্ট অফ ওয়াটার রিসোর্স উত্তর ক্যালিফোর্নিয়ার বাঁধ সিস্টেম পরীক্ষা করে। মূল্যায়নটি স্যাক্রামেন্টো এবং সান জোয়াকিন নদীর অববাহিকা জুড়ে প্রায় ১,৮০০ মাইল ভূমিকাজ বিবেচনা করে এবং দেখা গেছে যে, অর্ধেকেরও বেশি বাঁধকে তারা ‘উচ্চ বিপদাপন্ন’ বলে মনে অভিহিত করেছেন। তারা ইঙ্গিত দেন যে, এগুলো ভূমিকম্প বা বন্যার সময় ভেঙে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। সূত্র: লস এঞ্জেলস টাইমস।

 


বিভাগ : আন্তর্জাতিক


আরও পড়ুন