স্মৃতিতে চির অম্লান হাসান আবদুল কাইয়ূম
০৫ অক্টোবর ২০২৪, ১২:০৪ এএম | আপডেট: ০৫ অক্টোবর ২০২৪, ১২:০৪ এএম

কুল কায়েনাতের নবী আল্লাহ জাল্লাশানহুর প্রিয় হাবীব রসূল করীম সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘আল উলামা ওয়ারাসাতুল আম্বিয়া’ অর্থাৎ হক্কানী আলেম উলামারা হচ্ছেন প্রিয় নবী-রসূলদের ওয়ারিশ বা উত্তরাধিকারী। নবী-রসূলদের আগমন সাড়ে চৌদ্দশ বছর আগে শেষ হয়ে গেছে কিন্তু তাঁদের উত্তরাধিকারীরা কিয়ামত পর্যন্ত পৃথিবীকে আলোকিত করে রাখবেন দ্বীন ইসলামকে জিন্দা রাখবেন আল্লাহ তায়ালার বাণী ও রসূল (সা.)-এর আদর্শকে মানুষের মাঝে প্রচারের মাধ্যমে। আজ আপনাদের এমন একজন আদর্শ মহামানবের কথা বলছি যিনি তাঁর কীর্তির মাধ্যমে অনুরাগী, ভক্ত ও আলেমকে সঠিক পথের দিক নির্দেশনা দিয়েছেন, আল্লাহ ও রসূল (সা.) প্রেমে উদ্ধুদ্ধ করেছেন। এই মহান ব্যক্তিত্ব হচ্ছেন একবিংশ শতব্দীর আলেম সমাজের অহংকার, বাংলাদেশের গর্ব আল্লামা শাহ সূফী আলহাজ আবুল হাসান মুহম্মদ আবদুল কাইয়ূম (প্রচলিত নাম অধ্যাপক হাসান আবদুল কাইয়ূম)।
আগামী ৬ অক্টোবর অধ্যাপক হাসান আবদুল কাইয়ূম (রহ.)-এর ৪র্থ ওফাত বার্ষিকী। মহামারী করোনায় আক্রান্ত হয়ে তিনি ২০২০ সালের ৬ অক্টোবর রাজধানী ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় চিরবিদায় নেন। তাঁর মৃত্যুতে এদেশের আলেম সমাজ হারিয়েছেন একজন সুযোগ্য রাহবারকে, তাসাওউফ চর্চাকারীরা হারিছেন একজন রসূল প্রেমিক শিক্ষককে আর অগণিত দর্শক, শ্রোতা ও পাঠকরা হারিয়েছে তাদের প্রিয় মানুষকে, বিদগ্ধ বক্তা ও লেখককে। আজকের বিশেষ দিনে আমরা শ্রদ্ধার সাথে তাঁর কীর্তির চুম্বক অংশ অনুরাগী পাঠকদের কিঞ্চিত স্মরণ করিয়ে দিতে চাই।
বিগত শতাব্দীর আশির দশকের গোড়ার দিকে দৈনিক ইত্তেফাক, পরবর্তীতে দৈনিক ইনকিলাব, জনকণ্ঠ, নয়া দিগন্ত, দৈনিক দিনকাল, বাংলাদেশ প্রতিদিন ও ডেইলি সান পত্রিকায় বিশেষ দিনগুলোতে যার লেখার জন্য উৎসুক পাঠকরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করতো। তিনি হলেন মাগুয়ার দ্বারিয়াপুর শরীফের প্রয়াত গদ্দীনশীন পীর অধ্যাপক হাসান আবদুল কাইয়ূম। তিনি পিতৃকূল ও শ্বশুর কুল উভয় দিক থেকেই ইসলামিক জ্ঞানে সমৃদ্ধ ছিলেন। তাঁর পিতা ছিলেন ভারতের প্রখ্যাত পীরে কামেল মুজাদ্দীদে যামান হযরত মওলানা শাহ সূফী আলহাজ আবু বকর সিদ্দিকী (রহ.)-এর অন্যতম প্রধান ও সর্বকনিষ্ঠ খলিফা নায়েবে মুজাদ্দীদে যামান মওলানা শাহ সূফী আলহাজ তোয়াজউদ্দীন আহমদ (রহ.) এবং তাঁর শ্বশুর ছিলেন যশোরের প্রায় দুইশ বছরের পীর পরিবারের পীর প্রয়াত আলহাজ শাহ আবদুল মতীন (রহ.)।
অধ্যাপক হাসান আবদুল কাইয়ূম ১৯৪৪ সালের ৩০ এপ্রিল মাগুরা জেলার শ্রীপুর উপজেলার দ্বারিয়াপুর শরীফের সম্ভ্রান্ত পীর পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। বিদূষী মাতা মোছাম্মাৎ জোহরা খাতুনের কাছে তাঁর শিক্ষার হাতেখড়ি। গ্রামের সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ বিভিন্ন নামিদামি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাঠশেষে দেশের শীর্ষস্থানীয় বিদ্যাপীঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চতর ডিগ্রির মাধ্যমে। শিক্ষা জীবন শেষে তিনি শিক্ষকতার মাধ্যমে কর্মজীবন শুরু করে অচীরেই ১৯৮০ সালে ইসলামিক ফাউন্ডেশনে সহকারী পরিচালক পদে যোগদান করেন এবং পরিচালক হিসেবে ঐ প্রতিষ্ঠানে ২০০২ সালে চাকুরী জীবনের সমাপ্তি টানেন।
তিনি ছিলেন মাগুরার দ্বারিয়াপুর শরীফের গদ্দীনশীন পীর। ১৯৯২ সালের ১৬ জুন তাঁর পিতা সূফী তোয়াজউদ্দীন আহমদ (রহ.)-এর ইন্তেকালের পর পিতার স্থলভিত্তিক হন এবং আমৃত্যু দ্বারিয়াপুর শরীফের গদ্দীনশীন পীরের দায়িত্ব অত্যন্ত দক্ষতা, বি”ক্ষণতা ও প্রজ্জার সাথে পালন করেন। তাঁর পিতার নামে গ্রামে আঞ্জুমানে তোয়াজিয়া নামে একটি সমাজ কল্যাণমূলক সংগঠন ও ইয়াতীমখানা প্রতিষ্ঠা করেন। পিতার সুযোগ্য সন্তান হিসেবে তিনি জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে সফলতার স্বাক্ষর রেখে দেশে বিদেশে অনেক সুনাম অর্জন করেছেন।
এই মহান মনীর্ষী ইসলামিক ফাউন্ডেশনে অনেক গুরুত্বপূর্ণ ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করেছেন। তিনি বহু মৌলিক ও অনুবাদ গ্রন্থ রচনা করেন এবং কয়েকটি পত্রিকা সম্পাদনা করেছেন, যেমন বুখারী শরীফ ও তফসিরে তাবারী-এর অনুবাদ, অনুপম আদর্শ ও ফুরফুরার চাঁদসহ অনেক গ্রন্থ এবং অগ্র পথিক, সপ্তাডিঙ্গা, ঐতিহ্য সহ করেয়কটি পত্রিকা। তিনি প্রায় ৩২টি দেশ ভ্রমন করেছেন এবং যেখানেই গেছেন ইসলাম ও প্রিয় নবী রসূল (সা.)-এর শান, মান ও মর্যাদাকে বুলন্দ করেছেন তাঁর বক্তবা ও আলোচনার মাধ্যমে। দেশের আলেম উলামাদের তিনি তাঁর কাজের মাধ্যমে উদ্ধুদ্ধ করতেন সত্যিকার আল্লাহ তায়ালা ও রসূল (সা.) প্রেমিক হওয়ার জন্য। তার প্রিয়জনদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিলেন ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ, মাওলানা আমিনুল ইসলাম, অধ্যক্ষ দেওয়ান মুহম্মদ আজরফ, সদ্যপ্রয়াত অধ্যাপক আব্দুল গফুর, ড. এম এ জলিল প্রমুখ।
বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী এই মহান ব্যক্তিত্ব ছিলেন একাধারে ইসলামী চিন্তাবিদ, লেখক, সাংবাদিক, সাহিত্যিক, গীতিকার, ছড়াকার ও কবি। তাঁর কুরআনের তফসির, আলোচনা, লেখনী ও নসিহত সহজেই আকৃষ্ট করতো, হৃদয়ে দাগ কাটতো সব বয়সী মানুষকে। তাইতো ওফাত বার্ষিকীর এই দিনে তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা রেখে বলতে চাই- তুমি মহান হে আলেমেদ্বীন, তুমি রবে আমাদের অন্তরের অন্ত:স্থলে, জান্নাতুল ফেরদৌসের উচ্চ মাকামে। আমরা তোমাকে খুুঁজি তোমার বর্তমান গদ্দীনশীন পীর আলহাজ শাহ আরিফ বিল্লাহ মিঠুর মাঝে। আমীন। (লেখক সাংবাদিক ও জাতীয় প্রেস ক্লাবের স্থায়ী সদস্য)
বিভাগ : ইসলামী জীবন
মন্তব্য করুন
আরও পড়ুন

অবসরের ঘোষণা দিলেন জার্মানির বিশ্বকাপজয়ী তারকা

রোনালদোর জোড়া গোলে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আল হিলালকে হারাল নাসের

প্রয়োজনীয় সংস্কার করে যথাসম্ভব দ্রুত নির্বাচন দিতে হবে: মিয়া গোলাম পরওয়ার

মুসল্লিদের বাধায় নাটক মঞ্চায়ন বাতিলের সংবাদ বিভ্রান্তিকর

মানুষ ফ্যাসিবাদ মুক্ত বাংলাদেশে স্বাচ্ছন্দ্যে ঈদ উদযাপন করেছে: আবদুল হালিম

থাইল্যান্ড থেকে দেশের উদ্দেশে রওনা হলেন প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস

নারীবান্ধব পাবলিক টয়লেট

মেডিক্যাল ট্যুরিজম

প্রেসার গ্রুপের ভালো-মন্দ

রাজধানীতে ট্রাফিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে হবে

ইশার নামাজের সাথে সাথে বিতির নামাজ না পড়া প্রসঙ্গে?

প্রশ্ন : মরণোত্তর চক্ষুদান বা অন্যান্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দান কি শরীয়ত সমর্থন করে?

মানুষের শ্রেষ্ঠত্ব হচ্ছে উত্তম চরিত্রে

খালেস নিয়তে আমল করলে প্রতিদান সুনিশ্চিত

ঈদ আসে-ঈদ যায়, স্মৃতিটুকু রয়ে যায়

ইসলামের দৃষ্টিতে পরোপকারের গুরুত্ব ও ফজিলত

ভাড়া বৃদ্ধির প্রতিবাদ করায় যাত্রীকে মারধর

কৃষক জজ মিয়ার মৃত্যু নিয়ে রহস্য

সরিষাবাড়ীতে বিএনপি’র দু’গ্রুপে দফায় দফায় সংঘর্ষ

কনস্টেবলকে মারধরের অভিযোগ