সাহাবিরা ছিলেন নবীপ্রেমে দেওয়ানা
০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ১২:০০ এএম | আপডেট: ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ১২:০০ এএম

ইমানের মূল হল নবী প্রেম। যে যত বেশী নবী প্রেমে নিজেকে বিলীন করে দিয়েছে, নবী প্রেমে নিজেকে ডুবিয়ে দিয়েছে, সে তত বেশী আল্লাহকে পেয়েছে। সাহাবিদের জীবনী পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, সব সাহাবির মনেই নবিজির প্রতি সীমাহীন ভালোবাসা ছিল। ছিল নবিজিকে দেখার ব্যকুলতা। তাফসিরে মাজহারিতে মুসলিম, আবু দাউদ ও নাসায়ির সূত্রে বর্ণিত হয়েছে, রবিয়া বিন কাব আসলামীকে (রা.) একদিন রাসুল (সা.) জিজ্ঞেস করলেন, ‘হে রবিয়া! তোমার কোনো ইচ্ছে থাকলে আমাকে বলো। আমি দোয়া করব। তুমি যা চাইবে তাই পাবো।’
রবিয়া বলল, ‘ওগো নবি আমার! আমি আপনার পাগল। আপনাকে এক মুহুর্ত না দেখে থাকতে পারি না। আপনি দোয়া করেন আমি যেন জান্নাতেও আপনার কদমে নিজেকে উৎসর্গ করতে পারি।’ নবিজি বলেলেন, ‘হে রবিয়া ভেবে বলো এটাই কি তোমার চাওয়া?’ রবিয়া বলল, ‘জি হুজুর! এরচেয়ে শ্রেষ্ঠ কোনো চাওয়া হতে পারে না।’ নবিজি মুচকি হেসে বললেন, ‘তাহলে বেশি বেশি সেজদা করো যেন তোমার জন্য আমি সুপারিশ করতে পারি।’ (তাফসিরে মাজহারি, ৩য় খন্ড, ১৬৬ পৃষ্ঠা)।
প্রখ্যাত তাবেয়ি মাসরুক (রহ.) বলেন, ‘একদিন সাহাবিরা রাসুলকে বললেন, ও গো আল্লাহর রাসুল! দুনিয়াতে যখন খুশি আপনাকে দেখে প্রাণ জুড়াতে পারি কিন্তু আখেরাতে কি আপনাকে দেখবে পারব? কোনো কোনো বর্ণরায় এসেছে সাহাবিরা বলেন, ‘নবিজি আখেরাতে ইচ্ছে হলেই আপনাকে দেখতে পাবো না এ কথা ভাবতেই কষ্টে হৃদয় ভেঙে চৌচির হয়ে যায়।’ সাহাবিদের এমন আবেগঘন দৃশ্যের প্রেক্ষাপটে সূরা নিসার ৬৯ নম্বর আয়াত নাজিল করে আল্লাহ জানিয়ে দেন দুনিয়ার মত আখেরাতেও নবিজির গোলামির পূর্ণ সুযোগ থাকবে।’ সুবহানাল্লাহ! (মুসান্নিফ ইবনে আবি শায়বা, হাদিস নম্বর ১১৮২৩)।
নবুয়াতি নূর পেতে হলে নবিজিকে (সা.) ভালোবাসতে হয়। রাসুল (সা.) একাধিক হাদিসে ঘোষণা করেছেন, ‘কেউ যদি তার জীবন, সম্পদ, স্ত্রী-পুত্র ও বাবা মায়ের চেয়ে আমি নবিকে বেশী ভালো না বাসে তাহলে সে ব্যক্তি ইমানদার হতে পারবে না।’ এক বর্ণনায় এসেছে, নবিজি (সা.) ওমরকে (রা.) বললেন, ‘হে ওমর! তুমি কি আমাকে তোমার জীবনের চেয়ে বেশী ভালোবাসো?’ জবাবে ওমর বললেন, ‘হে নবি! আমি আমার সম্পদ, সন্তান, বাবা মা সবার চেয়ে আপনাকে বেশী ভালোবাসি। তবে আমার জীবনের চেয়ে বেশী এখনো আপনাকে ভালোবাসতে পারেনি।’ রাসুল (সা.) বললেন, ‘তাহলে মুমিন হতে তোমার এখনো অনেক দেরি আছে।’ একথা শুনে ওমর (রা.) বললেন, ‘হুজুর! এ মুহুর্ত থেকে জীবনের চেয়েও আপনাকে বেশী ভালোবাসি। রাসুল (সা.) বললেন, এবার তুমি মুমিন হতে পেরেছো।’
শুধু ওমরই (রা.) নয় বরং সব সাহাবিই রাসুলকে তার জীবনের চেয়ে বেশী ভালোবেসেছেন। হজরত আনাস (রা.) বর্ণনা করেন, ‘রাসুল (সা.) দুপুরে আমাদের ঘরে বিশ্রাম নিতে আসলে আমার মা উম্মে সুলাইম হুজুরের জন্য বিছানা করে দিতেন। দয়াল নবিজি যখন ঘুমিয়ে পড়তেন তখন উম্মে সুলাইম নবিজির ঘাম ও চুল মোবারক আলাদা করে সংগ্রহ করতেন।’ অনেক বছর পর যখন আনাস (রা.) মৃত্যুর দুয়ারে, তিনি অসিয়ত করে বললেন, ‘আমার ইন্তেকালের পর রাসুলের ঘাম আমার কাফনে মেখে দিও। তার অসিয়ত অনুযায়ী মৃত্যুর পর রাসুলের ঘাম তার কাফনে মেখে দেওয়া হল।’ (বুখারি, হাদিস নম্বর ৫৯২৫।) অন্য বর্ণনায় এসেছে, আনাস (রা.) বলেন, ‘নবিজি (সা.) দুপুরে আমাদের ঘরে বিশ্রাম নিতে আসলেন। ঘুমের ঘোরে হুজুরের শরীর দরদর করে ঘামছিল। আমার মা উম্মে সুলাইম একটি শিশিতে রাসুলের ঘাম মোবারক সংগ্রহ করতে থাকলেন। হঠাৎ হুজুরের (সা.) ঘুম ভেঙে গেলে তিনি দেখেন উম্মে সুলাইম ঘাম সংগ্রহ করছেন। নবিজি (সা.) বললেন, হে উম্মে সুলাইম! আপনি এসব কী করছেন? উম্মে সুলাইম বললেন, দয়াল নবিজি! আপনার ঘাম আমাদের আতরের শিশিতে সংগ্রহ করছি। আল্লাহর কসম! আতরের চেয়েও আপনার ঘাম বেশী সুগন্ধিময়।’ (মুসলিম, হাদিস নম্বর ২৩৩১)।
সাহাবায়ে কেরামগন রাসুলকে (সা.) কেমন ভালোবাসতেন তার একটি উদাহরণ পাওয়া যায় আবু জুহাইফের (রা.) বর্ণনায়। তিনি বলেন, ‘আমি তাবুক অভিযান থেকে ফেরার পথে রাসুলকে (সা.) একটি লাল তাবুতে দেখেছি। বেলালকে (রা.) দেখলাম একটি পাত্রে রাসুলের অজুর অবশিষ্ট পানি নিয়ে আসলেন। সে পানি নেওয়ার জন্য সাহাবিদের মধ্যে প্রতিযোগিতা শুরু হয়ে গেল। কে কার আগে নবিজির অজুর পানি নেবে! কেউ সে পানি খাচ্ছে। কেউ গায়ে মাখছে। আশ্চর্যের বিষয় হল, যারা রাসুলের অজুর পানি পায়নি তারা এমন মানুষের হাতের সঙ্গে হাত, বুকের সঙ্গে বুক মিলাচ্ছে যারা পানি পেয়েছ।’ (বুখারি, হাদিস নম্বর ৫৫২১)।
উরউয়া বিন মাসুদ বলেছেন, আমি অনেক রাজা-বাদশার দরবারে প্রতিনিধিত্ব করেছি। কায়সার, কিসরা ও নাজাশির দরবারে গিয়েছি। আল্লাহর কসম! মুহাম্মদের সাহাবিরা তাকে যেভাবে ভালোবাসে অন্য কোনো রাজা-বাদশার অনুসারীরা তাদের মনিবকে সেভাবে ভালোবাসতে দেখিনি। মুহাম্মাদ (সা.) থুতু ফেললে সে থুতু কে নেবে এ নিয়ে প্রতিযোগিতা লেগে যায়। কারো হাতে যদি থুতু পড়ে সে সঙ্গে সঙ্গে তা গায়ে মাখবে, চেহারায় মাখবে, খেয়ে ফেলবে। তিনি কোনো আদেশ করলে তা সঙ্গে সঙ্গে পালনের জন্য সবাই ছুটোছুটি শুরু করে দেয়। তিনি অজু করলে সে পানি পাওয়ার জন্য সাহাবিদের মধ্যে কাড়াকাড়ি পড়ে যায়। তিনি যখন কথা বলেন সাহাবিরা নিশ্চুপ হয়ে শুনতে থাকেন। সাহাবিরা তার সঙ্গে বেয়াদবি হবে এই ভয়ে বাঁকা চোখে তাকাতেও সাহস করে না।’ (বুখারি, ২৫৮২।)
বিভাগ : ইসলামী জীবন
মন্তব্য করুন
আরও পড়ুন

অবসরের ঘোষণা দিলেন জার্মানির বিশ্বকাপজয়ী তারকা

রোনালদোর জোড়া গোলে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আল হিলালকে হারাল নাসের

প্রয়োজনীয় সংস্কার করে যথাসম্ভব দ্রুত নির্বাচন দিতে হবে: মিয়া গোলাম পরওয়ার

মুসল্লিদের বাধায় নাটক মঞ্চায়ন বাতিলের সংবাদ বিভ্রান্তিকর

মানুষ ফ্যাসিবাদ মুক্ত বাংলাদেশে স্বাচ্ছন্দ্যে ঈদ উদযাপন করেছে: আবদুল হালিম

থাইল্যান্ড থেকে দেশের উদ্দেশে রওনা হলেন প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস

নারীবান্ধব পাবলিক টয়লেট

মেডিক্যাল ট্যুরিজম

প্রেসার গ্রুপের ভালো-মন্দ

রাজধানীতে ট্রাফিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে হবে

ইশার নামাজের সাথে সাথে বিতির নামাজ না পড়া প্রসঙ্গে?

প্রশ্ন : মরণোত্তর চক্ষুদান বা অন্যান্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দান কি শরীয়ত সমর্থন করে?

মানুষের শ্রেষ্ঠত্ব হচ্ছে উত্তম চরিত্রে

খালেস নিয়তে আমল করলে প্রতিদান সুনিশ্চিত

ঈদ আসে-ঈদ যায়, স্মৃতিটুকু রয়ে যায়

ইসলামের দৃষ্টিতে পরোপকারের গুরুত্ব ও ফজিলত

ভাড়া বৃদ্ধির প্রতিবাদ করায় যাত্রীকে মারধর

কৃষক জজ মিয়ার মৃত্যু নিয়ে রহস্য

সরিষাবাড়ীতে বিএনপি’র দু’গ্রুপে দফায় দফায় সংঘর্ষ

কনস্টেবলকে মারধরের অভিযোগ