ইসলামই একমাত্র মুক্তির পথ
২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ১২:০৬ এএম | আপডেট: ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ১২:০৬ এএম

ইসলামের শাব্দিক অর্থ আনুগত্য করা। পরিভাষায় একটি বিশেষ ধর্মের আনুগত্য করার নাম ইসলাম, যা আল্লাহ তাআলা পয়গম্বরগণের মাধ্যমে মানবজাতির হেদায়েতের জন্যে প্রেরণ করেছেন। কেননা, সব পয়গম্বরের শরীয়তে ধর্মের মূলনীতি এক ও অভিন্ন। অতঃপর ইসলাম শব্দটি কখনও উপরোক্ত অর্থে ব্যবহৃত হয়, যা শেষ নবী হজরত মুহাম্মাদ (সা.)-এর প্রতি অবতীর্ণ হয়েছে। কুরআনুল কারীমে উভয় প্রকার ব্যবহারই বিদ্যমান। পূর্ববর্তী পয়গম্বরগণ নিজেকে ‘মুসলিম’ এবং নিজ নিজ উম্মতকে ‘উম্মতে মুসলিমাহ’ বলেছেন একথাও কুরআন থেকেই প্রমাণিত। শেষ নবী মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ (সা.) -এর উম্মতকে বিশেষভাবে ‘মুসলিম’ বলাও কুরআনে উল্লেখিত করা হয়েছে।
ইরশাদ হয়েছে, ‘তোমরা আল্লাহর জন্যে শ্রম স্বীকার কর যেভাবে শ্রম স্বীকার করা উচিত। তিনি তোমাদেরকে পছন্দ করেছেন এবং ধর্মের ব্যাপারে তোমাদের উপর কোন সংকীর্ণতা রাখেননি। তোমরা তোমাদের পিতা ইবরাহীমের ধর্মে কায়েম থাক। তিনিই তোমাদের নাম মুসলমান রেখেছেন পূর্বেও এবং এই কুরআনেও, যাতে রাসুল তোমাদের জন্যে সাক্ষ্যদাতা এবং তোমরা সাক্ষদাতা হও মানবমন্ডলির জন্যে। সুতরাং তোমরা নামাজ কায়েম কর, যাকাত প্রদান কর এবং আল্লাহকে শক্তভাবে ধারণ কর। তিনিই তোমাদের মালিক। অতএব তিনি কত উত্তম মালিক এবং কত উত্তম সাহায্যকারী। (সূরা হজ্ব, আয়াত-৭৮)।
মোটকথা, যে কোন পয়গম্বর যে কোন খোদায়ী ধর্ম নিয়ে জগতে আগমন করেছেন, তাকেই ইসলাম বলা হয় এবং হজরত মুহাম্মাদ (সা.) -এর উম্মতের বিশেষ উপাধি হিসেবেও এ শব্দটি ব্যবহৃত হয়। এখন প্রশ্ন হয় যে, আলোচ্য আয়াতে ইসলাম শব্দ দ্বারা কোন অর্থ বোঝানো হয়েছে। বিশুদ্ধ অভিমত এই যে, যে কোন অর্থই বোঝানো হোক, পরিণামের দিক দিয়ে তাতে কোন পার্থক্য হয় না। কেননা, পূর্ববর্তী পয়গম্বরগণের ইসলাম একটি সীমিত শ্রেণীর জন্য এবং বিশেষ যমানার জন্যে ছিল। ঐ শ্রেণীর উম্মত ছাড়া অন্যদের জন্যে তখনও সেই ইসলাম গ্রহণযোগ্য ছিল না। সেই নবীর পর যখন অন্য নবী প্রেরিত হন, তখন সে ইসলামও বিদায় নেয়। নতুন নবী যা নিয়ে আগমন করতেন, তাই হতো তখনকার ইসলাম। এতে অবশ্য মৌলিক কোন পরিবর্তন হতো না, শুধু শাখাগত বিধি-বিধান ভিন্ন হতো। শেষ নবী হজরত মুহাম্মাদ (সা.)-কে যে ইসলাম দেয়া হয়েছে, তা অপরিবর্তনীয় এবং কিয়ামত পর্যন্ত স্হায়ী থাকবে।
উল্লেখিত নীতি অনুযায়ী তাঁর আবির্ভাবের পর পূর্ববর্তী সব ধর্ম রহিত হয়ে গেছে। এখন পূর্বেকার ইসলাম আর ইসলাম নয়। বরং হজরত মুহাম্মাদ (সা.)-এর মাধ্যমে যা পৃথিবীতে পৌঁছেছে, তাই হলো ইসলাম। এ কারণেই বিভিন্ন সহীহ হাদীসে মহানবী (সা.) বলেছেন, আজ যদি হজরত মুসা (আ.) জীবিত থাকতেন,তবে তাঁর পক্ষেও আমার অনুসরণ ছাড়া গত্যন্তর ছিল না। অন্য এক হাদীসে বলেন, কেয়ামতের নিকটবর্তী সময়ে হজরত ঈসা (আ.) যখন অবতরণ করবেন, তখন নবুওয়তের পদে সমাসীন থাকা সত্ত্বেও তিনি আমার শরীয়তেরই অনুসরণ করবেন। অতএব এ আলোচ্য আয়াতে ইসলামের যে কোন অর্থই নেয়া হোক, পরিণাম উভয়েরই এক। অর্থাৎ, শেষ নবীর আবির্ভাবের পর একমাত্র তাঁর আনীত ধর্মকেই ইসলাম বলা হবে। এ ধর্মই বিশ্ববাসীর মুক্তির উপায়। আলোচ্য আয়াতে এ ধর্ম সম্পর্কেই বলা হয়েছে যে, কোন ব্যক্তি যদি ইসলাম ছাড়া অন্য ধর্ম অবলম্বন করে, তবে আল্লাহর কাছে তা গ্রহণীয় নয়।
ইসলাম আল্লাহর মনোনীত ধর্ম : এপ্রসঙ্গে পবিত্র কুরআনুল কারীম থেকে কয়েকটি প্রসিদ্ধ আয়াত তুলে ধরেছি। পবিত্র কুরআনুল কারীমে আল্লাহ তাআলার ইরশাদ হয়েছে, নিঃসন্দেহে আল্লাহর নিকট গ্রহণযোগ্য দ্বীন একমাত্র ইসলাম। এবং যাদের প্রতি কিতাব দেয়া হয়েছে তাদের নিকট প্রকৃত জ্ঞান আসার পরও ওরা মতবিরোধে লিপ্ত হয়েছে, শুধুমাত্র পরস্পর বিদ্বেষবশতঃ যারা আল্লাহর নিদর্শনসমূহের প্রতি কুফরী করে তাদের জানা উচিত যে, নিশ্চিতরুপে আল্লাহ হিসাব গ্রহণে অত্যন্ত দ্রুত। (সূরা: আল-ইমরান, আয়াত-১৯)। কুরআনুল কারীমে আল্লাহর ইরশাদ হয়েছে, তবে কি এরা আল্লাহ তাআলার ধর্ম ব্যতীত অন্য কোন ধর্ম চায়? যখন আসমান ও জমিনের সমস্ত কিছু ইচ্ছায়ও অনিচ্ছায় তারই নিকট আত্মসমর্পণ করেছে এবং তাঁরই নিকট ফিরে যাবে। (সূরা: আল-ইমরান, আয়াত-৮৩)।
আজকাল ইসলামের উদারতার নামে কুফর ও ইসলামকে এক করার চেষ্টা করা হয়। এবং বলা হয় যে, সৎকর্ম সম্পাদন করলে ও উত্তম চরিত্রের অধিকারী হলে যে কোন ধর্মাবলম্বীই মুক্তি পাবে। সে ইহুদী, খৃষ্টান, অথবা মূর্তিপূজারী যাই হোক। আলোচ্য আয়াত এ উদ্ভট মতবাদের মূলোৎপাটন করে দিয়েছে। প্রকৃত প্রস্তাবে এভাবে ইসলামের মূলনীতি বিধ্বস্ত করা হয়। কারণ, এর সারমর্ম দাঁড়ায় এই যে, ইসলামের বাস্তব কোন ভিত্তি নেই। এটা একটা কাল্পনিক বিষয়, যা কুফরের পোশাকেও সুন্দর মানায়। কুরআনুল কারীমের অসংখ্য আয়াত পরিষ্কার বলে দিয়েছে যে, আলো ও অন্ধকার যেরুপ এক হতে পারে না, তদ্রূপ অবাধ্যতা ও আনুগত্য উভয়টি আল্লাহর কাছে পছন্দনীয় হতে পারে না। যে ব্যক্তি ইসলামের কোন একটি মূলনীতি অস্বীকার করে, সে নিঃসন্দেহে আল্লাহ তাআলার প্রতি বিদ্রোহী ও পয়গম্বরগণের শত্রু, প্রচলিত অর্থে সৎকর্ম বা নেক আমল ও প্রথাগত চরিত্রে সে যতই সুন্দর হোক না কেন, তাতে কিছু আসে যায় না। সর্বপ্রথম আল্লাহ তাআলা ও তার রাসূলের আনুগত্যের উপরই পরকালের মুক্তি নির্ভরশীল। যে ব্যক্তি এ থেকে বঞ্চিত, তার কোন কর্ম ধর্তব্য নয়। কুরআনে এমন লোকদের সম্পর্কে বলা হয়েছে।
অর্থাৎ, ‘কিয়ামতের দিন আমি তাদের কোন আমল উজন করব না।’ পরিশেষে বলা হয়েছে : অর্থাৎ, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহ তাআলার নিদর্শনাবলী অস্বীকার করে, আল্লাহ দ্রুত তার হিসাব গ্রহণ করবেন। মৃত্যুর পর প্রথমতঃ কবর তথা বরযখ জগতে পরকালের পথে প্রথম পরিক্ষা নেয়া হবে। এরপর বিস্তারিত হিসাব-নিকাশ হবে কিয়ামতে। এ হিসাব নিকাশের সময়ই সব বিরোধের স্বরুপ ফুটে উঠবে। মিথ্যাপন্থীরা তাদের স্বরুপ জানতে পারবে এবং শাস্তিও আরম্ভ হয়ে যাবে।
বিভাগ : ইসলামী জীবন
মন্তব্য করুন
আরও পড়ুন

অবসরের ঘোষণা দিলেন জার্মানির বিশ্বকাপজয়ী তারকা

রোনালদোর জোড়া গোলে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আল হিলালকে হারাল নাসের

প্রয়োজনীয় সংস্কার করে যথাসম্ভব দ্রুত নির্বাচন দিতে হবে: মিয়া গোলাম পরওয়ার

মুসল্লিদের বাধায় নাটক মঞ্চায়ন বাতিলের সংবাদ বিভ্রান্তিকর

মানুষ ফ্যাসিবাদ মুক্ত বাংলাদেশে স্বাচ্ছন্দ্যে ঈদ উদযাপন করেছে: আবদুল হালিম

থাইল্যান্ড থেকে দেশের উদ্দেশে রওনা হলেন প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস

নারীবান্ধব পাবলিক টয়লেট

মেডিক্যাল ট্যুরিজম

প্রেসার গ্রুপের ভালো-মন্দ

রাজধানীতে ট্রাফিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে হবে

ইশার নামাজের সাথে সাথে বিতির নামাজ না পড়া প্রসঙ্গে?

প্রশ্ন : মরণোত্তর চক্ষুদান বা অন্যান্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দান কি শরীয়ত সমর্থন করে?

মানুষের শ্রেষ্ঠত্ব হচ্ছে উত্তম চরিত্রে

খালেস নিয়তে আমল করলে প্রতিদান সুনিশ্চিত

ঈদ আসে-ঈদ যায়, স্মৃতিটুকু রয়ে যায়

ইসলামের দৃষ্টিতে পরোপকারের গুরুত্ব ও ফজিলত

ভাড়া বৃদ্ধির প্রতিবাদ করায় যাত্রীকে মারধর

কৃষক জজ মিয়ার মৃত্যু নিয়ে রহস্য

সরিষাবাড়ীতে বিএনপি’র দু’গ্রুপে দফায় দফায় সংঘর্ষ

কনস্টেবলকে মারধরের অভিযোগ