ঢাকা   বুধবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ | ১৫ ফাল্গুন ১৪৩০

মানুষের সাথে প্রতারণা করে এই সরকার ক্ষমতায় টিকে আছে : মির্জা ফখরুল

Daily Inqilab স্টাফ রিপোর্টার

০১ এপ্রিল ২০২৩, ০৫:১০ পিএম | আপডেট: ৩০ এপ্রিল ২০২৩, ১১:০৪ পিএম

বাংলাদেশ মানুষকে বোকা বানিয়ে, প্রতারণা করে এই সরকার ক্ষমতায় টিকে আছে মন্তব্য করে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, এই সরকারকে অবশ্যই ক্ষমতা থেকে বিদায় নিতে হবে। জনগণের অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে তারা পরাজিত হবে এবং জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠিত হবে।

শনিবার (১ এপ্রিল) বিকেলে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনের সামনে অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপি’র উদ্যোগে এই অবস্থান কর্মসূচি আয়োজন করা হয়।

জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে ফখরুল বলেন, এখনো সতর্ক হোন, সজাগ হোন, যারা আজকে ক্ষমতাকে বেআইনিভাবে জোর করে ধরে রাখার জন্য সমস্ত ভিন্নমতকে দমন করছে, হত্যা করছে, গুম করছে, নির্যাতন করছে, কারাগারে নিচ্ছে, তাদের হাত থেকে আপনারাও পার পাবেন না। তাই আজকে সকলের দায়িত্ব ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলা।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, সম্প্রতি মিটিং হয়েছে সেখানে প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেছেন- নির্বাচনের সকল ব্যবস্থা গ্রহণ করুন। প্রয়োজনে আগাম নির্বাচনের ব্যবস্থা গ্রহণ করুন। অর্থাৎ তারা ভিন্ন কৌশল নিতে চায়। আগেভাগে নির্বাচন করে গোটা জাতিকে বোকা বানিয়ে আগের মত ক্ষমতায় যেতে চায়। এবার জনগণ আপনাদের কোন কৌশলকেই সফল হতে দেবে না। আপনাদের কোন ফাঁদে জনগণ পা দেবে না, এবার তারা প্রতিরোধ গড়ে তুলবে। আপনাদের সমস্ত চক্রান্তকে ব্যর্থ করে দেবে।

তিনি বলেন, সব সময় বলে এসেছি এ সরকার গণতন্ত্র মানে না। এ সরকার মানুষের মতামতকে কোন গুরুত্ব দেয় না; তাদের একমাত্র লক্ষ্য হচ্ছে ক্ষমতায় টিকে থাকা। তাদের অধীনে দুটো নির্বাচন করে বন্দুকের নলের মুখে জোর করে ক্ষমতায় টিকে রয়েছে।

এদেশের মানুষ কখনোই অন্যায়কে মেনে নেয়নি। সব সময় অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছে। গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করেছে বলেন মির্জা ফখরুল।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, আজ যারা গায়ের জোরে ক্ষমতায় আছেন, তারা দেশের অর্থনীতিকে ধ্বংস করে দিয়েছে। যদি কেউ সমালোচনা করেন তাহলে তাদের গায়ে লাগে। কারণ তারা গণতান্ত্রিক নন। স্বাধীনতার পরে যখন ক্ষমতায় ছিলেন তখনও গণতন্ত্র হত্যা করে বাকশাল কায়েম করেছিল। রক্ষীবাহিনী দিয়ে এদেশের বিরোধীমত দমন করেছে। চারটি সংবাদপত্র রেখে বাকি সবগুলা বন্ধ করেছে। এই আওয়ামী লীগের চরিত্র দেশের মানুষ এখন হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছে।

মোশাররফ হোসেন বলেন, জনগণ এই সরকারকে আর দেখতে চায় না। দেশের যে সংকট সেটা এই সরকার নিরসন করতে পারবে না। তাই জনগণ এই সরকারকে চায় না। জনগণের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মাধ্যমে এই সরকারকে বিদায় করতে হবে।

অবস্থান কর্মসূচির সভাপতিত্ব করেন বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপি’র আহবায়ক আবদুস সালাম।

সঞ্চালনায় ছিলেন- ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপি’র সদস্য সচিব আমিনুল হক এবং ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপি’র সদস্য সচিব রফিকুল আলম মজনু।

এ সময় আরও বক্তব্য রাখেন- বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপি’র আহবায়ক আমান উল্লাহ আমান, চেয়ারপারসনের বিশেষ সহকারী শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, যুবদলের সভাপতি সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি এসএম জিলানী, মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাস, সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক হেলেন জেরিন খান, বিএনপি নেতা নবী উল্লাহ নবী, ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন প্রমুখ।


বিভাগ : মহানগর


মন্তব্য করুন

HTML Comment Box is loading comments...

এই বিভাগের আরও

কুখ্যাত আকরামুজ্জামানকে ২৪ ঘন্টার মধ্যে গ্রেফতারের দাবি
ব্র্যাক ইউনিভার্সিটিতে কোয়ালিটি জার্নাল পাবলিকেশন্স অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠিত
কর্মক্ষেত্রে বৈচিত্র্য ও অন্তর্ভুক্তি বৃদ্ধিতে গ্রামীণফোনের প্যানেল আলোচনা
ইউজিসি অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ওমর ফারুখ, সম্পাদক মহিব্বুল আহসান
দগ্ধ চিকিৎসকের চিকিৎসার খোঁজ নিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী
আরও

আরও পড়ুন

বলসুন্দরি কুল চাষে লাভবান কৃষক

বলসুন্দরি কুল চাষে লাভবান কৃষক

শেরপুরে আগুনে মহিলা মেম্বারসহ নিহত ২

শেরপুরে আগুনে মহিলা মেম্বারসহ নিহত ২

পঞ্চগড়ে বরেন্দ্র অফিসের নির্মাণ কাজে অনিয়মের অভিযোগ

পঞ্চগড়ে বরেন্দ্র অফিসের নির্মাণ কাজে অনিয়মের অভিযোগ

টেকনাফে পুকুরে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু।

টেকনাফে পুকুরে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু।

টেকনাফে ছুরিকাঘাতে এক রোহিঙ্গাকে হত্যা।

টেকনাফে ছুরিকাঘাতে এক রোহিঙ্গাকে হত্যা।

বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি কতটা যৌক্তিক

বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি কতটা যৌক্তিক

হিব্রু বাইবেলের গণহত্যার নির্দেশ এবং জাতিসংঘের জেনোসাইড কনভেনশন : পশ্চিমা প্রশাসনের সমর্থন কোন দিকে?

হিব্রু বাইবেলের গণহত্যার নির্দেশ এবং জাতিসংঘের জেনোসাইড কনভেনশন : পশ্চিমা প্রশাসনের সমর্থন কোন দিকে?

যুক্তরাষ্ট্রকে দ্বৈত নীতি পরিহার করতে হবে

যুক্তরাষ্ট্রকে দ্বৈত নীতি পরিহার করতে হবে

লাভের লোভে ‘বিষবৃক্ষ’ চাষ

লাভের লোভে ‘বিষবৃক্ষ’ চাষ

প্রতিদিনই ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা

প্রতিদিনই ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা

মহিপুরে ইউপি সদস্যকে পিটিয়ে জখম

মহিপুরে ইউপি সদস্যকে পিটিয়ে জখম

জাতীয় শিশু পুরস্কার প্রতিযোগিতায় দেশসেরা চাটমোহরের তমজিত

জাতীয় শিশু পুরস্কার প্রতিযোগিতায় দেশসেরা চাটমোহরের তমজিত

উদ্ধারের দাবিতে শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীর বিক্ষোভ

উদ্ধারের দাবিতে শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীর বিক্ষোভ

বেলকুচিতে স্যালাইন খেয়ে শিশুর মৃত্যু

বেলকুচিতে স্যালাইন খেয়ে শিশুর মৃত্যু

চিনিকল অবসরপ্রাপ্তকর্মীদের বকেয়া পাওনার দাবি

চিনিকল অবসরপ্রাপ্তকর্মীদের বকেয়া পাওনার দাবি

ঘাটাইলে পাহাড়ের লাল মাটি কাটায় ২ জনের কারাদন্ড

ঘাটাইলে পাহাড়ের লাল মাটি কাটায় ২ জনের কারাদন্ড

বিনা অনুমতিতে সরকারি গাছ কর্তন

বিনা অনুমতিতে সরকারি গাছ কর্তন

ফটিকছড়িতে শিশুদের মাঝে কুরআন বিতরণ

ফটিকছড়িতে শিশুদের মাঝে কুরআন বিতরণ

ভুট্টাখেতের আড়ালে আফিম চাষ

ভুট্টাখেতের আড়ালে আফিম চাষ

অবশেষে সুন্দরবনে হারিয়ে যাওয়া ৩১ পর্যটককে উদ্ধার

অবশেষে সুন্দরবনে হারিয়ে যাওয়া ৩১ পর্যটককে উদ্ধার