আ.লীগ আদালত-প্রশাসনকে নিয়ন্ত্রণ করে আবার ক্ষমতায় যেতে চায় : মির্জা ফখরুল
০৫ আগস্ট ২০২৩, ১১:১৯ পিএম | আপডেট: ০৬ আগস্ট ২০২৩, ১২:০০ এএম
ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ আইন-আদালত-প্রশাসনকে নিয়ন্ত্রণ করে, প্রভাবিত করে আবারো ক্ষমতায় যেতে চায় বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, এখনই গুলি করতে শুরু করেছে। এখনই রাতে বাড়িতে থাকতে দেয় না। মিথ্যা মামলার ওয়ারেন্ট নিয়ে হাজির হয়। গায়েবি মামলায় জামিন দেওয়া হচ্ছে না। কারাগারে পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে। কারাগারেও নির্যাতন করা হচ্ছে, সরকারের পদত্যাগের দাবিতে মানুষ যখন জেগে উঠেছে, সেই সময়ে এ রায় দিয়ে সরকার জনগণের দৃষ্টিকে, এক দফার আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে চায়।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও তাঁর স্ত্রী জুবাইদা রহমানকে সাজা দেওয়ার প্রতিবাদে এবং ন্যায়বিচার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার দাবিতে গতকাল শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বাংলাদেশ সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদ (বিএসপিপি) আয়োজিত সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।
নেতাকর্মীদের হয়রানি ও কারাগারে নির্যাতন করা হচ্ছে অভিযোগ করে মির্জা ফখরুল বলেন, রাতে নেতাকর্মীরা বাড়িতে থাকতে পারে না, জামিনে থাকলেও গ্রেফতার করছে। কারাগারে এখন ২৪ ঘন্টা লক-আপে রাখা হচ্ছে।
তিনি বলেন, এক ছাত্র নেতার শরীরে দেখলাম ৪৮টি গুলির চিহ্ন, তার হাতে-পায়ে হাতুড়ি দিয়ে পিটানো হয়েছে- এর নাম গণতন্ত্র? মনে হচ্ছে, মধ্যযুগীয় বর্বর যুগে বাস করছি। সভ্য গণতান্ত্রিক দেশে এসব চলতে পারে না। গত কয়েক বছরে অনেক সাংবাদিককে হত্যা করা হয়েছে, ডিজিটাল সিকিউরিটি আইনে সাংবাদিকদের হয়রানি করা হচ্ছে, সাংবাদিকরা ঠিকমতো ভয়ে লিখতে পারে না।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ধ্বংস করে দিয়ে পরপর দুটো নির্বাচনকে হাস্যকর করে দিয়ে এ সরকার জোর করে ক্ষমতা দখল করে আছে। আবারও ক্ষমতায় যেতে পাঁয়তারা শুরু করেছে। তিনি আরও বলেন, ‘ডিসির (জেলা প্রশাসক) পরিবর্তন, এসপির (পুলিশ সুপার) পরিবর্তন, পোস্টিং (পদায়ন), প্রশাসনে হাজার হাজার লোককে পদোন্নতি। একটাই উদ্দেশ্য, তারা ভাবছে আগের মতোই আবার প্রশাসনকে নিয়ন্ত্রণ করেই তারা আবার বৈতরণি পার হবে।
নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে করা মামলা ও গ্রেফতারের বিষয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, হাইকোর্টে জামিনের জন্য এসেছিলেন সালাউদ্দিন সাহেব। কিন্তু বাসায় যেতে পারেননি। রাস্তার মধ্য থেকেই তাঁকে তুলে নিয়ে গেছে। এসব করে আটকানো (আন্দোলন) যাবে না। বন্যার পানি যেমন আসতে থাকে, এখন বন্যার পানির মতো মানুষ বিএনপির এক দফার আন্দোলনে আসতে শুরু করেছে। মিথ্যা মামলা করে, গায়েবি মামলা দিয়ে বন্ধুক-পিস্তল দিয়ে গুলি করে, জখম করে, নিহত করে, গুম করে দেশের মানুষের আকাক্সক্ষাকে স্তব্ধ করা যাবে না।
তারেক রহমান ও জুবাইদা রাহমানের বিরুদ্ধে দেয়া রায়ের সমালোচনা করে তিনি বলেন, এই সময়ে এ রায়টা কেনো? মূলত দেশের মানুষ যখন পরিষ্কার করে ঘোষণা দিয়েছে; এখন আর অন্য কোনো দাবি নয়, দাবি আপনার পদত্যাগ- ঠিক তখনই একদফা দাবিকে ভিন্নখাতে প্রভাবিত করার জন্যেই তারেক রহমানের বিরুদ্ধে এ রায়।
মির্জা ফখরুল বলেন, দেশের মানুষ ভোটের অধিকার, বেঁচে থাকার অধিকারের জন্য আজ সংগ্রাম করছে। তারেক রহমান আজ শুধু একজন নেতাই না, তিনি আজ দেশের ১৮ কোটি মানুষের মুক্তির সংগ্রামের নেতা। বাংলাদেশের মানুষ সার্বভৌমত্বে যারা বিশ্বাস করে, তারা মনে করে জিয়াউর রহমান সার্বভৌমের পতাকা টিকিয়ে রেখেছে, সেই লক্ষ্যে এখন দায়িত্ব পালন করছে তারেক রহমান। আজকের শেখ হাসিনা সরকার বাংলাদেশের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে না, তারা পরপর দুইটি নির্বাচন করে দেশের নির্বাচন ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দিয়েছে মন্তব্য করে মির্জা ফখরুল বলেন, এবার আর সেই সুযোগ দেয়া হবে না,এবার অবশ্যই জনগণের ভোটে নির্বাচন দিতে হবে। আজকে সব দল এক হয়েছে, সিপিবিও একই দাবি করেছে।
সুষ্ঠু নির্বাচন দেওয়ার বিষয়ে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতারা যেসব বক্তব্য দিচ্ছেন, তা ‘শেয়ালের কাছে মুরগি জমা দেওয়া’ বলে মন্তব্য করেন মির্জা ফখরুল।
প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও বিচার বিভাগের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে বিএনপির মহাসচিব বলেন, যে দায়িত্ব আপনাদের সংবিধান অনুযায়ী দেওয়া হয়েছে, সেই কাজ করবেন। অন্যায় আদেশের কাছে মাথা নত করবেন না। জনগণের পক্ষে দাঁড়ান, জনগণ এখন জেগে উঠেছে। এবার জনগণ তার সংগ্রামে, আন্দোলনে জয়ী হবে।
বাংলাদেশ সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের আহ্বায়ক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেনের সভাপতিত্বে ও সদস্যসচিব সাংবাদিক নেতা কাদের গণি চৌধুরীর সঞ্চালনায় সমাবেশে আর বক্তব্য দেন- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রো-ভিসি প্রফেসর ড. আ ফ ম ইউসুফ হায়দার, ইউনিভার্সিটি টিচার্স এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ইউট্যাব) সভাপতি প্রফেসর ড. এবিএম ওবায়দুল ইসলাম, ইউট্যাব মহাসচিব প্রফেসর ড. মোর্শেদ হাসান খান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাদা দলের প্রফেসর লুৎফর রহমান, প্রফেসর ড. মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান খান, প্রফেসর আল মোজাদ্দেদী আলফে ছানী, বিএনপির স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলাম, ডক্টরস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) প্রফেসর ডা. হারুন আল রশিদ, ডা. মো. মেহেদী হাসান, সাংবাদিক কামাল উদ্দিন সবুজ, সৈয়দ আবদাল আহমদ, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের শহীদুল ইসলাম, বাংলাদেশ শিক্ষক কর্মচারী ঐক্যজোটের অধ্যক্ষ সেলিম ভুঁইয়া, কৃষিবিদ শামীমুর রহমান শামীম, এসোসিয়েশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স-এ্যাবের প্রকৌশলী রিয়াজুল ইসলাম রিজু প্রমুখ।
বিভাগ : জাতীয়
মন্তব্য করুন
আরও পড়ুন
ঘণকুয়াশায় আরিচা-কাজিরহাট, পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌরুটে ফেরি চলাচল বন্ধ
আওয়ামী লীগ যা করেছে, বিএনপি তার বিপরীত কাজ করে সুন্দর সমাজ গড়বে- কেন্দ্রীয় শ্রমিক দলের নেতা ইয়াকুব চৌধুরী
রোমাঞ্চকর ম্যাচে বার্সাকে হারিয়ে শীর্ষে আতলেটিকো
জেসুসের জোড়া গোলের রাতে আর্সেনালের বড় জয়
বিলুপ্তির পথে মাটির ঘর
চোর সন্দেহে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ
প্রতিবন্ধী স্কুল শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগ
কেরু চিনিকলে আখ মাড়াই মৌসুমের উদ্বোধন
বিহারিরা কেমন আছে
লক্ষ্মীপুরে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি
আসাদ সরকারের পতন : নতুন সিরিয়ায় ইসরাইলি আগ্রাসন
মেটলাইফ বাংলাদেশের গ্রাহকরা ডিসকাউন্ট পাবেন ওশান প্যারাডাইস হোটেলস ও রিসোর্টে
১৫ নারী ও শিশুকে হস্তান্তর
আবাসন ও গার্মেন্ট খাতের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে
মেহেরপুরে বেড়েছে গরম কাপড় বিক্রি
কাশিয়ানীর হাট-বাজার নিষিদ্ধ পলিথিনে সয়লাব
অ্যানুয়াল বিজনেস কন্টিনিউয়িটি প্ল্যান ড্রিল ২০২৪ আয়োজন করলো ব্র্যাক ব্যাংক
সমস্যায় জর্জরিত আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স
সবুজ গালিচায় হলুদের সমারোহ
আখাউড়ায় ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের মেধা বৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত