প্রস্তুত হচ্ছে এক্সপ্রেসওয়ে : সুফল নিয়ে সংশয়
০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৩, ১২:০৩ এএম | আপডেট: ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৩, ১২:০৩ এএম
চট্টগ্রামে র্যাম্প ছাড়াই খুলে দেওয়া হবে ১৬ কি.মি. দীর্ঘ প্রথম এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে
চট্টগ্রামের প্রথম এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণ কাজ দ্রæত এগিয়ে চলছে। শেষ মুহূর্তে এসে বেড়েছে কাজের গতি। আগামী নভেম্বরের মধ্যে যানবাহন চলাচলের জন্য খুলে দিতে রাতে-দিনে চলছে কাজ। তবে বন্দরনগরীর লালখান বাজার থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত ১৬ কিলোমিটার দীর্ঘ এক্সপ্রেসওয়েটি র্যাম্প ছাড়াই চালু হচ্ছে। এ মেগা প্রকল্পের বাস্তবায়নকারী সংস্থা চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ-সিডিএর কর্মকর্তারা বলছেন, কর্ণফুলী নদীর তলদেশে নির্মিত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেল ও এই এক্সপ্রেসওয়ে একে অন্যের পরিপূরক। অক্টোবরে টানেল চালুর সাথে সাথেই অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ সামাল দিতে এক্সপ্রেসওয়েটি যানবাহন চলাচলের জন্য খুলে দিতে হবে। এরপরে ধীরে ধীরে র্যাম্প নির্মাণের কাজ করা হবে।
নগর বিশেষজ্ঞরা বলছেন, র্যাম্প ছাড়াই এক্সপ্রেসওয়েটি চালু হলে তার সুফল মিলবে না। টানেল চালুর পর অতিরিক্ত যানবাহনের চাপে নগরীর পতেঙ্গা অংশে যে যানজট হবে তাও সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে যাবে। দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম এ এক্সপ্রেসওয়েতে ১৪টি র্যাম্প থাকার কথা রয়েছে। র্যাম্প ছাড়া এক্সপ্রেসওয়েটি খুলে দেওয়া হলে মূলত বিমানবন্দরের যাত্রীরাই এটি ব্যবহার করতে পারবেন। বন্দর নগরীর ক্রমবর্ধমান যানজট কমাতে এবং সেই সাথে দেশের প্রথম বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেল ও সিটি আউডার রিং রোড হয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সাথে যোগাযোগ ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনের জন্য এ এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পটি গ্রহণ করা হয়। চট্টগ্রাম বন্দরের পাশাপাশি পতেঙ্গা এলাকায় গড়ে ওঠা বেসরকারি কন্টেইনার ডিপো, চট্টগ্রাম ইপিজেড, কর্ণফুলী ইপিজেডসহ ওই এলাকার শিল্প কারখানার আমদানি-রফতানি পণ্যবাহী ভারী যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রাখতে এ এক্সপ্রেসওয়েটি গুরুত্বপূর্ণ ভ‚মিকা রাখবে। বিশেষ করে টানেলমুখী অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ কমিয়ে মহানগরীকে যানজট মুক্ত রাখাই এ মেগা প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য।
বিগত ২০১৮ সালের মাঝামাঝি সময়ে এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। তবে পরের বছর অর্থাৎ ২০১৯ সালের ২৪ ফেব্রæয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্মাণ কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। তার আগে ২০১৭ সালে একনেকে প্রকল্পটি অনুমোদন দেওয়া হয়। তখন ব্যয় ধরা হয়েছিল তিন হাজার ২৫০ কোটি টাকা। প্রকল্পের মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়েছিল তিন বছর। তিন দফা ব্যয় বাড়িয়ে সর্বশেষ প্রকল্পের ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে চার হাজার ২৯৮ কোটি টাকা। প্রকল্পের মেয়াদ বাড়িয়ে আগামী বছরের জুন পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে।
তড়িঘড়ি করে প্রকল্প গ্রহণসহ সংশ্লিষ্ট সেবা সংস্থাগুলোর সাথে সমন্বয়হীনতার কারণে শুরুতেই প্রকল্প কাজে হোঁচট খায় সিডিএ। চট্টগ্রাম বন্দরের আপত্তি, জমি অধিগ্রহণের জন্য অপেক্ষা, ট্রাফিক বিভাগের অনুমতি না পাওয়া, টাইগারপাস ও লালখান বাজার অংশের নকশা নিয়ে আপত্তিসহ নানা কারণে কাজে গতি আসেনি। এছাড়া দফায় দফায় প্রকল্পের নকশা পরিবর্তন করতে হয়। সর্বশেষ ২০২২ সালের সংশোধিত প্রস্তাবে চট্টগ্রাম বন্দরের চলাচলকারী যানবাহনের জন্য রাস্তা উন্মুক্ত রেখে প্রকল্পের অ্যালাইনমেন্টে পরিবর্তন করা হয়।
এক্সপ্রেসওয়েটি বিমানবন্দর এলাকা থেকে শুরু হয়ে কাটগড়, কর্ণফুলী ইপিজেড, সিমেন্ট ক্রসিং, চট্টগ্রাম ইপিজেড, সল্টগোলা ক্রসিং হয়ে বারিক বিল্ডিং, আগ্রাবাদ, দেওয়ানহাট হয়ে টাইগারপাসের পাহাড় ঘেঁষে লালখান বাজার মোড় পেরিয়ে ওয়াসা এলাকায় গিয়ে মুরাদপুর ফ্লাইওভারের সাথে মিলবে। সরেজমিন দেখা যায়, বিমানবন্দর থেকে আগ্রাবাদ পর্যন্ত গার্ডার বসানো শেষ হয়েছে। পুরো এক্সপ্রেসওয়ের পিলার নির্মাণও এখন শেষ। চৌমুহনী থেকে দেওয়ানহাট পর্যন্ত চলছে গার্ডার বসানোর কাজ। দেওয়ানহাট থেকে লালখান বাজার পর্যন্ত অংশে এখনও গার্ডার বসানো হয়নি।
দ্রæত কাজ শেষ করতে রাতে-দিনে কাজ করা হচ্ছে। দিনের বেলায় ঝুঁকিপূর্ণভাবে তোলা হচ্ছে গার্ডার। সড়ক বন্ধ করে দিয়ে কাজ করায় যানজটে দুর্ভোগ হচ্ছে। ১৬ কিলোমিটার দীর্ঘ এক্সপ্রেসওয়ের প্রায় ১৪ কিলোমিটার এখন দৃশ্যমান। বাকি দুই কিলোমিটার অক্টোবরের আগেই দৃশ্যমান হয়ে উঠবে বলে জানান প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা। এক্সপ্রেসওয়ের মূল কাজ এগিয়ে গেলেও ১৪টি র্যাম্পের মধ্যে একটিরও কাজ শুরু হয়নি। জিইসি মোড় হয়ে একটি, টাইগারপাসে দুইটি, আগ্রাবাদে চারটি, ফকিরহাটে একটি, নিমতলা বিশ^রোডে দুইটি, চট্টগ্রাম ইপিজেডে দুইটি এবং কর্ণফুলী ইপিজেড এলাকায় দুইটি র্যাম্প রয়েছে মূল নকশায়। আর আগ্রাবাদ এলাকায় চারটি র্যাম্পের মধ্যে পুরনো চেম্বার ভবন সড়কে একটি, নতুন চেম্বার ভবন তথা ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে একটি এবং আগ্রাবাদ এক্সেস রোডে দুটি র্যাম্প নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ কাজের জন্য এমনিতেই সড়ক সংকুচিত হয়ে গেছে। এ অবস্থায় র্যাম্প নির্মাণ করতে গেলে সড়কে অচলাবস্থা নেমে আসবে। এজন্য মূল এক্সপ্রেসওয়েটি যানবাহন চলাচলের জন্য খুলে দিয়ে পর্যায়ক্রমে র্যাম্প নির্মাণ করা হবে। তাতে যানজট কম হবে এবং জনদুর্ভোগও কমবে। আগামী বছর জুনের মধ্যে র্যাম্প নির্মাণের কাজ শেষ করা হবে বলে জানান প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা।
প্রকল্প পরিচালক সিডিএর প্রকৌশলী মাহফুজুর রহমান বলেন, মূল এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ কাজ ৮০ ভাগেরও বেশি শেষ হয়েছে। অক্টোবরের মধ্যে বাকি কাজ শেষ করা হবে। এরপর নভেম্বর অথবা ডিসেম্বরের শুরুতে এক্সপ্রেসওয়ে যানবাহন চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে। প্রকল্পের কাজ শেষ করতে রাতে-দিনে কাজ চলছে জানিয়ে তিনি বলেন, এক্সপ্রেসওয়ে খুলে দেওয়ার পর দ্রæত সময়ের মধ্যে ১৪টি র্যাম্পের নির্মাণ কাজ শেষ করা হবে।
তবে নগর বিশেষজ্ঞরা বলছেন, র্যাম্প ছাড়াই এক্সপ্রেসওয়ে চালু হলে তার সুফল পাওয়া যাবে না। পরিকল্পিত চট্টগ্রাম ফোরাম, চট্টগ্রামের সহ-সভাপতি স্থপতি সুভাস বড়–য়া বলেন, প্রকল্পটি গ্রহণ করার সময় তৎকালীন সিডিএ চেয়ারম্যান বলেছিলেন, এ এক্সপ্রেসওয়ে ভিআইপিদের জন্য নির্মাণ করা হচ্ছে। তার কথাই এখন সত্য হচ্ছে। কারণ র্যাম্প ছাড়া এক্সপ্রেসওয়ে চালু হলে বিমানবন্দরে যাতায়াতকারী ভিআইপিরাই শুধু এটি ব্যবহার করতে পারবেন। জনগণের অর্থে একটি মেগা প্রকল্প বিশেষ কোনো গোষ্ঠীর জন্য হতে পারে না। তাছাড়া প্রকল্পের নকশাতেই র্যাম্প রয়েছে এবং র্যাম্পসহ এটি চালু হওয়ার কথা। সমন্বয়হীনতা প্রকল্প বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সংস্থার সক্ষমতার ঘাটতি সর্বোপরি জবাবদিহিতা না থাকায় এমন অবস্থা হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
নগর ট্রাফিক পুলিশের একজন কর্মকর্তা জানান, কর্ণফুলী টানেল চালু হলে নগরীর ওই অংশে যানবাহনের চাপ আরও বাড়বে। কিন্তু র্যাম্প ছাড়া এক্সপ্রেসওয়ে চালু হলে গাড়ি শুধু এক জায়গা থেকে উঠে অন্য জায়গায় নামতে পারবে। এতে এক্সপ্রেসওয়ে ব্যবহার যতটা হওয়ার কথা তার চেয়ে অনেক কম হবে। তাতে অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়বে।
বিভাগ : জাতীয়
মন্তব্য করুন
আরও পড়ুন
গাজায় ইসরায়েলি হামলায় নিহত আরও ১৪ ফিলিস্তিনি
ঘণকুয়াশায় আরিচা-কাজিরহাট, পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌরুটে ফেরি চলাচল বন্ধ
আওয়ামী লীগ যা করেছে, বিএনপি তার বিপরীত কাজ করে সুন্দর সমাজ গড়বে- কেন্দ্রীয় শ্রমিক দলের নেতা ইয়াকুব চৌধুরী
রোমাঞ্চকর ম্যাচে বার্সাকে হারিয়ে শীর্ষে আতলেটিকো
জেসুসের জোড়া গোলের রাতে আর্সেনালের বড় জয়
বিলুপ্তির পথে মাটির ঘর
চোর সন্দেহে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ
প্রতিবন্ধী স্কুল শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগ
কেরু চিনিকলে আখ মাড়াই মৌসুমের উদ্বোধন
বিহারিরা কেমন আছে
লক্ষ্মীপুরে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি
আসাদ সরকারের পতন : নতুন সিরিয়ায় ইসরাইলি আগ্রাসন
মেটলাইফ বাংলাদেশের গ্রাহকরা ডিসকাউন্ট পাবেন ওশান প্যারাডাইস হোটেলস ও রিসোর্টে
১৫ নারী ও শিশুকে হস্তান্তর
আবাসন ও গার্মেন্ট খাতের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে
মেহেরপুরে বেড়েছে গরম কাপড় বিক্রি
কাশিয়ানীর হাট-বাজার নিষিদ্ধ পলিথিনে সয়লাব
অ্যানুয়াল বিজনেস কন্টিনিউয়িটি প্ল্যান ড্রিল ২০২৪ আয়োজন করলো ব্র্যাক ব্যাংক
সমস্যায় জর্জরিত আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স
সবুজ গালিচায় হলুদের সমারোহ