একগুচ্ছ দাবি আদায়ে সরব সামাজিক সংগঠনগুলো

প্রধানমন্ত্রীর আগমনে উৎসবের নগরী এখন ময়মনসিংহ

Daily Inqilab মো: শামসুল আলম খান

১০ মার্চ ২০২৩, ০২:৪৯ পিএম | আপডেট: ২৫ মার্চ ২০২৩, ০৯:৩০ পিএম

২০১৮ সালের পর প্রায় সাড়ে চার বছর পর আগামী ১১ শে মার্চ ময়মনসিংহে আসছেন বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের সভানেত্রী ও বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এদিন বিকেল ২টায় নগরীর ঐতিহাসিক সার্কিট হাউজ মাঠে আওয়ামীলীগের বিভাগীয় জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখবেন তিনি।

তাঁর এই আগমন উপলক্ষ্যে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহন করেছে জেলা ও মহানগর আওয়ামীলীগ ও অঙ্গ সংগঠনসহ স্থানীয় প্রশাসন। আর এ কারণেই ময়মনসিংহের পথে পথে উৎসবের রং লেগেছে ব্যানার, পোষ্টার, বিলবোর্ড ও শত শত তোরণে। এতে উৎসবের নগরীতে পরিণত হয়েছে ময়মনসিংহ। সেই সঙ্গে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে বিরাজ করছে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা। প্রিয়নেত্রীকে বরণ করতে দিনরাত নানা কর্মযজ্ঞে ব্যস্ত সময় পার করছেন তারাও।

বৃহস্পতিবার (৯ মার্চ) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ময়মনসিংহ নগরীর বিভিন্ন সড়ক ঘুরে দেখে গেছে উৎসবমূখর এই চিত্র।
এদিকে আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আয়োজিত এই জনসমাবেশের চূড়ান্ত প্রস্তুতি শেষ পর্যায়ে বলে জানিয়েছেন জেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক অ্যাডভোকেট মোয়াজ্জেম হোসেন বাবুল। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীকে বরণ করতে ময়মনসিংহবাসি প্রস্তুত। এদিন চট্টগ্রাম ও রাজশাহী থেকেও বড় জনসমাবেশ হবে ময়মনসিংহে। এতে প্রায় দশ লাখ লোক উপস্থিত থাকবে। ইতোমধ্যে জনসভার মঞ্চ নির্মাণের কাজও শেষ হয়েছে। এখন শুধু প্রধানমন্ত্রীর আগমনের অপেক্ষা।

তিনি আরও জানান, প্রধানমন্ত্রীর মহাসমাবেশ সফল করতে বিভাগের মহানগরসহ প্রতিটি জেলায় আওয়ামীলীগ ও অঙ্গ সংগঠনের বর্ধিত সভা করা হয়েছে। সেই সঙ্গে প্রতিদিন দলীয় নেতাকর্মীরা প্রচার-প্রচারণায় জনসমাবেশ সফল করতে কাজ করে যাচ্ছে। আশা করছি এটি হবে বিভাগীয় পর্যায়ের দেশের সবচেয়ে বড় মহাসমাবেশ।

একগুচ্ছ দাবি আদায়ে সরব সামাজিক সংগঠনগুলো :
প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে সামনে রেখে একগুচ্ছ দাবি নিয়ে সরব ভূমিকা পালন করছেন জেলা নাগরিক আন্দোলন, জনউদ্যোগ, পাগলা থানা উপজেলা বাস্তায়ন কমিটিসহ নানা সামাজিক সংগঠনের নেতারা।

এর মধ্যে নগরীর ভয়াবহ যানজট নিরসনে ফ্লাইওভার রেললাইন স্থাপন, উত্তরবঙ্গের সাথে যাতায়াতের জন্য ডুয়েলগেজ ডাবল রেললাইন স্থাপন, ময়মনসিংহ থেকে ঢাকা রেলপথে দুইটি আন্তঃনগর ট্রেন চালু, কেওয়াটখারী রেল ব্রীজ থেকে ঘুন্টি পর্যন্ত ব্রহ্মপুত্র নদের তীরে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে সমুদ্র সৈকতের আদলে ব্রহ্মপুত্র সৈকত নির্মাণ, সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয়, টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজকে ইঞ্জিনিয়ারিং বিশ্ববিদ্যালয়, বিমানবন্দর স্থাপন ও অবিলম্বে বিভাগীয় শহর প্রকল্পের বাস্তবায়নসহ ১৮ দফা দাবি জানিয়েছে জনউদ্যোগ নামক একটি সংগঠন। গত ৪ মার্চ জনউদ্যোগের আহবায়ক অ্যাডভোকেট নজরুল ইসলাম চুন্নু ময়মনসিংহ প্রেসক্লাব মিলনায়তনে এক সাংবাদিক সম্মেলন করে এসব দাবি তুলে ধরেন।
এছাড়াও জেলা নাগরিক আন্দোলনের পক্ষ থেকে ২৩ দফা দাবি জানিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন সংগঠনের সাধারন সম্পাদক প্রকৌশলী নূরুল আমিন কালাম। এই দাবিগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল- তিন হাজার শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল স্থাপন, মেডিকেল বিশ^বিদ্যালয় স্থাপন, ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজকে বিশ^বিদ্যালয়ে রূপান্তর ও অপরিকল্পিত ব্রহ্মপুত্র নদ খনন বন্ধ করে সঠিক ভাবে নদ খনন।
সেই সঙ্গে কৃষি সংশ্লিষ্ট একাধিক সংগঠনের নেতারা ময়মনসিংহে উৎপাদিত কৃষি পন্য সংরক্ষনের জন্য উন্নত প্রযুক্তি সম্পুন্ন হিমাগর স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন। এছাড়াও গফরগাঁও উপজেলার পাগলা থানাকে উপজেলা ঘোষনার দাবিতে গত ৮ মার্চ প্রধানমন্ত্রী বরাবরে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে স্মারকলিপি দিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও উপজেলা বাস্তাবয়ন কমিটির নেতারা।
নিরাপত্তার চাদরে ময়মনসিংহ :

প্রধানমন্ত্রীর জনসমাবেশকে ঘিরে ময়মনসিংহ নগরী নিরাপত্তার চাদরে ডেকে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ময়মনসিংহের পুলিশ সুপার (এসপি) মো: মাছুম আহম্মেদ ভূঞা। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর আগমনে বিভাগজুড়ে উৎসব বিরাজ করছে। ওইদিন প্রধানমন্ত্রীর মহাসমাবেশে প্রায় দশ লক্ষ লোকের সমাগম ঘটবে বলে আমরা আশা করছি। তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ৩২০০ পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এর মধ্যে পোষাকাদারি ছাড়াও সাদা পোষাকে দ্বায়িত্ব পালন করবে কয়েক শত পুলিশ সদস্য। সেই সঙ্গে নগরীর যানযট নিরসন ও নগরবাসির ভোগান্তি লাগবে জেলা ট্রাফিক বিভাগের সাথে সমন্বয় করে পৃথক ভাবে নানা উদ্যোগ গ্রহন করা হয়েছে। মোটকথা প্রধানমন্ত্রীর সমাবেশের শতভাগ নিরাপত্তায় জেলা পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের পদক্ষেপ গ্রহন করা হয়েছে। এতে কোন ধরনের শঙ্কা বা আশঙ্কা নেই বলেও জানান এসপি।

এবিষয়ে ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো: মোস্তাফিজার রহমান বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আগমনে উচ্ছ্বসিত ময়মনসিংহবাসি। তাঁকে বরণ করতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহন করা হয়েছে। এদিন প্রধানমন্ত্রী ময়মনসিংহের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প উদ্বোধন করবেন। আর এ কারণেই ময়মনসিংহের উন্নয়নে একগুচ্ছ উন্নয়ন প্রকল্পের প্রস্তাবনা সংশ্লিষ্ট দফতরে ইতোমধ্যে প্রেরণ করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রধানমন্ত্রী দফতরের নির্দেশিত প্রকল্পগুলো ওইদিন উদ্বোধন করা হবে। সে লক্ষ্যে আমাদের সকল প্রস্তুতি নেওয়া আছে। তবে কি পরিমাণ বা কতগুলি প্রকল্প উদ্বোধন হবে, তা সুনির্দ্দিষ্ট করে এখনই বলা যাবে না।

নগরীতে বন্ধ থাকবে ইজিবাইক ও রিকসা চলাচল :
প্রধানমন্ত্রীর ময়মনসিংহ সফর উপলক্ষে যানজট নিরসন ও নাগরিকদের স্বাচ্ছন্দ্যে চলাচলের লক্ষ্যে নগরীতে ইজিবাইক ও রিকসা চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশন (মসিক)। ফলে বৃহস্পতিবার (আজ) সকাল ৬টা থেকে ১১ মার্চ শনিবার রাত ৮টা পর্যন্ত নগরীতে ব্যাটারি চালিত সব ইজিবাইক চলাচল বন্ধ রয়েছে। সেই সঙ্গে শুক্রবার দুপুর ২টা থেকে শনিবার রাত ৮টা পর্যন্ত নগরীতে সকল মোটর রিকশা (মোটা চাকার রিকশা) চলাচলও বন্ধ থাকবে।

বুধবার (৮ মার্চ) রাতে মসিকের জনসংযোগ কর্মকর্তা শেখ মাহাবুল হোসেন রাজীব এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। বিজ্ঞপ্তিতে তিনি আরনও বলেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশে এই নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। সবাইকে এই নিষেধাজ্ঞা প্রতিপালন করতে হবে।
জনসভায় নেতাকর্মীদের আনতে ৮টি বিশেষ ট্রেন বরাদ্ধ :

প্রধানমন্ত্রীর জনসভায় নেতাকর্মীদের আনতে আটটি বিশেষ ট্রেন বরাদ্ধ দিয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। ওইদিন সকাল সাড়ে ৮টা থেকে ১০টার মধ্যে ময়মনসিংহ থেকে আটটি রেলপথে বিশেষ এসব ট্রেন চলবে বলে জানিয়েছেন ময়মনসিংহ রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। বৃহস্পতিবার (৯ মার্চ) বিকেল সাড়ে ৫টায় ময়মনসিংহ রেলওয়ে জংশন স্টেশনের স্টেশন সুপারিন্টেডেন্ট এস.এম নাজমুল হক খান বাংলানিউজকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে গত ৩মার্চ রেলওয়ের সহকারী চীফ অপারেটিং সুপারিন্টেনডেন্ট (পূর্ব) কামাল আখতার হোসেন স্বাক্ষরিত অফিসিয়ালি এক বিজ্ঞপ্তিতে এই আদেশ জারি করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

ওই বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, আগামী ১১ মার্চ ময়মনসিংহ জেলায় যাতায়াতের জন্য গফরগাঁও-ময়মনসিংহ, নান্দাইল-ময়মনসিংহ, দেওয়ানগঞ্জ বাজার-জামালপুর ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা-ময়মনসিংহ, অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান-ময়মনসিংহ, গৌরীপুর-ময়মনসিংহ, ঈশ্বরগঞ্জ-ময়মনসিংহ, জারিয়া-ঝাঞ্জাইল-ময়মনসিংহ রেলপথে আটটি স্পেশাল ট্রেন চালানোর সিদ্ধান্ত গ্রহীত হয়েছে। ফলে এদিন ২৭১-২৭৮ জারিয়া লোকাল, ২৬১-২৬৪ মোহনগঞ্জ লোকাল, ২৫৫-২৫৬ দেওয়ানগঞ্জ লোকাল, ৭৫-৭৬ ধলেশ্বরী এক্সপ্রেস, তুরাগ ১, ২, ৩, ৪ এবং টাঙ্গাইল কমিউটার ১ ও ২ ট্রেনগুলোর চলাচল বন্ধ থাকবে।

ময়মনসিংহ রেলওয়ে জংশন স্টেশনের স্টেশন সুপারিন্টেডেন্ট এসএম নাজমুল হক খান আরও জানান, প্রধানমন্ত্রীর জনসভাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন রুটে যাত্রী চলচাল নির্বিঘœ রাখতে বিশেষ এই আটটি ট্রেন চলাচল করবে। সে লক্ষ্যে সকল প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
এবিষয়ে ময়মনসিংহ জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি এহতেশঅমুল আলম বলেন, ময়মনসিংহের জনসভা হবে দেশের সবচেয়ে বড় সমাবেশ। আশা করছি প্রায় দশ লাখ লোকের সমাগম হবে এই জনসভায়। আর কারণে নেতাকর্মীদের আগমনের সুবিধার্থে বিশেষ ট্রেনের জন্য আমাদের পক্ষ থেকে আবেদন করা হয়েছিল। তবে এখন পর্যন্ত তা দেওয়া হয়েছে কিনা, তা আমার জানা নেই।


বিভাগ : বাংলাদেশ


আরও পড়ুন