দ্বিমুখী ‘মরণফাঁদ ড্যাপ’ পরিমার্জন ও ইমারত বিধি ২০০৮ বাস্তবায়ন দাবি
১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ০৭:৫১ পিএম | আপডেট: ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ০৭:৫১ পিএম

রাজউক চেয়ারম্যান ও ভূমি উপদেষ্টার পরস্পরবিরোধী বক্তব্যের প্রতিবাদ, ‘মরণফাঁদ ড্যাপ’ অবিলম্বে পরিমার্জন সাপেক্ষে মহানগর ইমারত নির্মাণ বিধিমালা-২০০৮ বাস্তবায়নের জোর দাবি এবং প্রয়োজনে আইনি সহায়তা নেওয়ার হুমকি দিয়েছেন রাজধানীর ক্ষতিগ্রস্ত ভূমি মালিক সমিতি। রাজউক চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) সিদ্দিকুর রহমান সরকার সম্প্রতি বলেছেন, পর্যাপ্ত জায়গা থাকলে ১০০ তলা ভবনের অনুমতি দেওয়া হবে। অন্যদিকে, ২০০৮ এর ইমারত নির্মাণ বিধির ১০ তলার জায়গায় ৫০ শতাংশ কমিয়ে ড্যাপ ২০২২-৩৫ বিধিতে ৫ তলায় নামানো হয়েছে। এদিকে ভূমি উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার সম্প্রতি বলেছেন, ভূমির ওপর মানুষের অধিকার সার্বজনীন। মানুষের জীবন ভূমি ব্যবস্থাপনার সঙ্গে নিবিড়ভাবে সম্পৃক্ত। সমিতির পুরানা পল্টনস্থ অফিসে বুধবার (১২ ফেব্রুয়ারি) এক জরুরি সভায় এসব সিদ্ধান্ত হয়।
সমিতির প্রধান সমন্বয়ক প্রফেসর ড. দেওয়ান এম এ সাজ্জাদ এতে সভাপতিত্ব করেন। সভায় উপস্থিত ইঞ্জিনিয়ার হুমায়ূন কবীর শিমুল, সাংবাদিক বাবলু রহমান, অ্যাডভোকেট কাজী রেজাউল হোসেন, আমিনুর রহমান, প্রফেসর শামসুন্নাহার, আফসারুন নাহার, মোহাম্মদ আলী, তানভিরুল ইসলাম, আমির হোসেন, মো. জাকির হোসেন, কে.এম.এজাজ খান প্রমুখের মতামত অনুযায়ী এসব সিদ্ধান্ত ও দাবিনামা গৃহীত হয়।
সভায় বলা হয়, ড্যাপকে ‘মরণফাঁদ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে জাতীয় গণমাধ্যমে। অথচ রাজউকের সেদিকে কোনো হুঁশ নেই-চোখ থাকতেও অন্ধ রাজউক মূক ও বধির। সূত্রে প্রকাশ, গত সোমবার ড্যাপ রিভিউ কমিটির ৭ উপদেষ্টার শেষ সভায় সর্বশেষ সংশোধনী চূড়ান্ত হওয়ার কথা। বিতর্কিত ড্যাপে ভবনের জন্য ক্ষেত্রফল পাওয়া যেত ভূমির অর্ধেক ৫০ শতাংশ। সে জায়গায় সংশোধনীতে নাকি ৬০ শতাংশ পাওয়া যাবে। সমিতির নেতৃবৃন্দ তাই আশঙ্কা প্রকাশ করছেন, এতেও সেই আগের মতো ভূমি মালিকসহ অন্যান্যরা একই ক্ষতির মুখে পড়বেন।
সভায় উল্লেখ করা হয়, রাজউক অনড় দৃষ্টিভঙ্গী, ইগো এবং কষ্টকল্পিত জটিলতায় একাধিকবার সংশোধনীর ঘোষণা দিয়েও নেতিবাচক অবস্থান পাল্টাচ্ছে না। নানা ছুতায় ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে বৈষম্যপূর্ণ ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের একই বিধিতে ২০ শতাংশকে সুউচ্চ ভবনের সুবিধা দিয়ে ৮০ শতাংশ ভবনের জায়গা ৫০ শতাংশ কমিয়ে আড়াই লাখ ভূমি মালিককে চরম বঞ্চিত করতে মরিয়া হয়ে উঠেপড়ে লেগেছে রাজউক। ওয়াকেবহাল মহলের প্রশ্ন- রাজউক এই অনড় ও রক্ষণশীল মনোভাব দিয়ে কীভাবে ঘোষিত ‘সহজ ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় নাগরিক সেবা প্রদান’ করবে?
সভার সিদ্ধান্ত ও দাবিসমূহ-
সংশোধনীর নামে জনগণকে শুভংকরের ফাঁকির মধ্যে ঘুরপাক খাওয়ানো বন্ধ করতে হবে। সাধারণ জনগণ তথা বাড়ি করার জন্য উন্মুখ ভূমি মালিকদের প্রত্যাশা রাজউককে আমলে নিতে হবে।
ভবনের উচ্চতা ও দৈর্ঘ্য বৃদ্ধি, ফ্লোর-ফ্ল্যাট-কক্ষের আকৃতি নকশা মালিকবান্ধব, ইউনিট ফার বাতিল, সকল অঞ্চলকে সমান গুরুত্ব দিয়ে বৈষম্যমুক্তভাবে ফার সংশোধন, সেটব্যাক সহনীয় রাখা, ৮০ শতাংশ ভূমি মালিকের ন্যায়সঙ্গত প্রত্যাশাকে মূল ফোকাসে নিয়ে ড্যাপ পরিমার্জন করতে হবে।
রাজউক-এর ১৮/১১/২০২৪ তারিখের প্রজ্ঞাপনে ড্যাপ সংশোধনীর সংজ্ঞা (৮) উপ-ধারা অনুযায়ী ভূমি মালিককে মূল স্টেকহোল্ডার হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে তৃতীয় অধ্যায় (৩০) ধারার ‘নগর উন্নয়ন কমিটি’তে অবশ্যই ভূমি মালিকদের প্রতিনিধিত্ব রাখতে হবে।
ভবনের ক্ষেত্রফল ও উচ্চতার প্রসঙ্গে রাজউকের ১০ টেবিলে ১০ রকম কথা বলে। আবেদনকারীরা হতাশ হন, ভাঙা মন নিয়ে ঘরে ফিরে আসেন। এমন অনেকে প্রত্যাশা অনুযায়ী নকশা অনুমোদন না করতে পেরে ভগ্ন হৃদয়ে মারা গেছেন। এসব কারণে গত দুই বছরে ভবন নকশা আবেদনের সংখ্যা ও নতুন বাড়ি নির্মাণ একেবারেই কম। ফলে আবাসন খাতে ধস আর জনবৃদ্ধির তুলনায় নতুন বাড়ি হচ্ছে না, ভাড়া যাচ্ছে বেড়ে।
তাই, এলাকাভেদে ভবনের ক্ষেত্রফল ও উচ্চতা ইমারত নির্মাণ বিধিমালা-২০০৮’এর আলোকে সমন্বয় করতে হবে। ভবনের উচ্চতা অনুযায়ী সেটব্যাক বিধি গ্রহণযোগ্য নয়। এই সেটব্যাকে ৩-৪-৫ কাঠার ভূমি মালিকরা চরম ক্ষতির শিকার হবে। ম্যাক্সিমাম গ্রাউন্ড কাভারেজের বিষয়টি অবশ্যই বাদ দিতে হবে।
জনঘনত্বের অযুহাতে ইউনিট সংখ্যা নিয়ন্ত্রণের বিধি বাদ দিতে হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী ও এলাকা ভিত্তিতে ইউনিট সংখ্যা ও ইউনিট সাইজ নির্ধারণ করতে হবে। ইনসেনটিভে বৈষম্য গ্রহণযোগ্য নয়। নগরীর ৮০% স্থাপনায় অনিয়মে রাজউকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জড়িত থাকা এবং তদারকি ও পরিদর্শনের কাজে সৃষ্ট ভোগান্তি, দুর্নীতি বন্ধ করতে হবে। রাজউক চেয়ারম্যানের বক্তব্যে (৩০ জানুয়ারি) স্বীকার করেন যে, নগরীতে ৯৬% ভবন নিয়ম বহির্ভূতভাবে নির্মাণ হয়েছে।
সাধারণ মানুষ অনেক কষ্টে টাকা জমিয়ে এক খণ্ড জমি কিনে বাড়ি তৈরির স্বপ্ন দেখেশেষ বয়েসে ভাড়ার টাকায় সংসারসহ সন্তানদের শিক্ষা চালাবে। রাজউককে সদয় হয়ে মানুষের সে আশায় বাতি জ্বালাতে এগিয়ে আসতে হবে- নিভাতে নয়। রাজউকের কার্যক্রম ও দৃষ্টিভঙ্গী জনমুখী, জনবান্ধব এবং জনস্বার্থের অনুকূলে আনতে হবে।
উল্লেখ্য, ড্যাপের কারণে ঢাকা শহরের ক্ষতিগ্রস্ত ভূমি মালিক সমিতি রাজউক চেয়ারম্যানকে ১২/১২/২০২৪ এবং গৃহায়ণ ও গণপূর্ত উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খানের কাছে ৩/২/২০২৫ তারিখে স্মারকলিপি পেশ করে। এছাড়া সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডার রিহ্যাব ও স্থপতি ইন্সটিটিউটসহ বিভিন্ন পেশাজীবী সংস্থার সাথে যোগাযোগ, সংবাদ সম্মেলন, লিফলেট বিতরণ ও মানববন্ধন কর্মসূচি অব্যাহত রেখেছে।
বিভাগ : অর্থনীতি
মন্তব্য করুন
এই বিভাগের আরও






আরও পড়ুন

আনোয়ারায় পুকুরে ডুবে একমাত্র সন্তানের মৃত্যু

হাছান মাহমুদ ও তার স্ত্রীর ৬৫ ব্যাংক হিসাবে লেনদেন ৭২২ কোটি

কিছু মানুষ রাজনৈতিক দল টাকার লোভে আওয়ামী লীগকে দেশে ফিরিয়ে আনতে চাইছেঃ নজরুল ইসলাম খান

যারা লোভ সামলাতে পারবে না তারা বিএনপি করতে পারবে না: মজনু

নতজানু ও দলকানা সাংবাদিকতা ফ্যাসিবাদের উত্থান ঘটায়: কাদের গণি

মায়ের শাসনে অভিমান করে সিলেটে মোবাইল আসক্ত কিশোরী কন্যার আত্নহত্যা

সংস্কার ও নির্বাচন-ই বিএনপির প্রধান লক্ষ্য: মাহবুব চৌধুরী

বিধি লংঘন করে সিনিয়র সচিব হলেন হামিদুর রহমান খান

থাইল্যান্ডে ব্রোঞ্জের পর এবার রুপা জিতলেন সামিউল

পিলখানা হত্যাকান্ডে সম্পৃক্ত জওয়ানরা এখনও বেপরোয়া

গোপালগঞ্জে সড়ক দূর্ঘটনায় স্বামী স্ত্রী সহ একই পরিবারের তিন জন হতাহত

মানব পাচার রোধে বাংলাদেশ তার প্রতিশ্রুতিতে অটল রয়েছে : স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

মতলব উত্তর উপজেলা বিএনপির সভাপতির মৃত্যুতে বিএনপির মহাসচিবের শোক

আদালতের আদেশ না মানলে পলাতক ঘোষণা করা হবে টিউলিপকে

শৈলকুপায় সেচখালের মাটি কেটে বিক্রি করছেন কৃষকদল নেতা

কুষ্টিয়ায় শিশু ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে এক ব্যক্তিকে গণপিটুনি

নাঈমের ব্যাটে গুলশানের নাটকীয় জয়

ব্র্যাক ব্যাংক গ্রাহকদের জন্য ইউনিমার্টে প্রায়োরিটি চেকআউট

কুষ্টিয়ায় পেঁয়াজের বাম্পার ফলন চাহিদার তুলনায় ১ লাখ ৭৩ হাজার টন উদ্বৃত্ত

সারা দেশে বিক্ষোভ কাল, ‘নো ওয়ার্ক নো স্কুল’ কর্মসূচি সফলের আহ্বান