মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে
০৭ জুলাই ২০২৩, ০৮:৪৩ পিএম | আপডেট: ০৮ জুলাই ২০২৩, ১২:০১ এএম
আতঙ্কের নগরীতে পরিণত হয়েছে রাজধানী। প্রায় প্রতিদিনই কোনো না কোনো স্থানে মানুষ ছিনতাইকারী, মলম পার্টিসহ বিভিন্ন শ্রেণীর অপরাধীর শিকার হচ্ছে। বাসাবাড়িতেও চুরি বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে ছিনতাইকারীরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। পত্র-পত্রিকার প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাজধানীতে প্রায় ৬ হাজার ছিনতাইকারী সক্রিয় রয়েছে। গত দেড় বছরে ছিনতাইকারির হামলায় ৩০ জনের মৃত্যু হয়েছে। ছিনতাইয়ের কবল থেকে পুলিশ সদস্যও বাদ যাচ্ছে না। গত সপ্তাহে ফার্মগেটে ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে এক পুলিশ সদস্য নিহত হয়েছে। কি দিন, কি রাত, সবসময় ছিনতাইকারীদের উৎপাতে মানুষ আতঙ্কের মধ্যে থাকে। বিশেষ করে মহিলারা বেশি ছিনতাইয়ের শিকার হচ্ছে। তাদের মোবাইল, স্বর্ণালঙ্কার থেকে শুরু করে মূল্যবান জিনিসপত্র ছিনিয়ে নেয়া হয়। নগরবাসী মনে করে, ছিনতাইসহ নানা অপরাধ বেড়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর শৈথিল্য ও উদাসীনতা রয়েছে।
অপরাধ বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সমাজে অপরাধ প্রবণতা বেড়ে যাওয়ার অন্যতম কারণ বেকারত্ব। অর্থনৈতিক সংকট, কর্মসংস্থানের অভাব এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির কারণে দিন দিন বেকারের সংখ্যা বাড়ছে। এর প্রতিক্রিয়া হিসেবে অনেকে মাদকাসক্ত এবং ছিনতাই কিংবা অন্যান্য অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। বলার অপেক্ষা রাখে না, মাদক সকল ধরনের অপরাধের উৎস। ছিনতাইকারীদের বেশিরভাগই মাদকাসক্তিতে ভুগছে। মাদকের অর্থ যোগাড় করতে গিয়ে তারা ছিনতাই কাজে জড়িয়ে পড়ছে। শুধু রাতে নয়, দিনের বেলাও তাদের তৎপরতা বেড়ে গেছে। মেট্রোরেল ও ফ্লাইওভারের নিচে কিংবা সড়কের অন্ধকার জায়গায় তারা ঘাপটি মেরে থাকে। সেখান থেকে সুযোগ বুঝে বের হয়ে ছিনতাই করে। ছিনতাইয়ে বাধা দিলে তারা ছুরিকাঘাত কিংবা গুলি করতে দ্বিধা করে না। এতে অনেকের প্রাণ যাচ্ছে। গতকাল দৈনিক ইনকিলাবের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, রাজধানীর অনেক এলাকার মূল সড়ক ও অলিগলিতে সড়ক বাতি জ্বলে না। ছিনতাইকারীরা এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে ছিনতাই করছে। ঐসব এলাকা দিয়ে যাতায়াতকারিরাও আতঙ্ক নিয়ে চলাফেরা করে। সড়কবাতি না জ্বলার দায় সিটি করপোরেশনের। কোন এলাকার কোথায় সড়কবাতি জ্বলে না, তা সিটি করপোরেশনকেই দেখতে হয়। এক্ষেত্রে সিটি করপোরেশন ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে। সুযোগ নিচ্ছে ছিনতাইকারী, চোর ও বিভিন্ন অপরাধী। দায় রয়েছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর। তা নাহলে, ছিনতাইসহ নানা অপরাধ বৃদ্ধি পেত না, মানুষও আতঙ্কে থাকত না। বহুবার বলা হয়েছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের চেয়ে বিরোধী রাজনৈতিক নেতা-কর্মী গ্রেফতারে এবং দমন-পীড়নে বেশি ব্যবহারের কারণে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটছে। সম্প্রতি পুলিশের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাগরিকদের নিরাপত্তায় নিজেদের ব্যবস্থা করতে হবে বলে বলেছেন। এটা কোনো দায়িত্বশীল কথা নয়। এ নিয়ে পর্যবেক্ষকদের মধ্যে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। তারা বলছেন, পুলিশ যদি এ কথা বলে, তাহলে ছিনতাইকারীসহ অপরাধীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠবে, সেটাই স্বাভাবিক।
অভাব, অনটন এবং বেকারত্ব মানুষের অপরাধপ্রবণ করে তোলা অস্বাভাবিক কিছু নয়। এটা সমাজের শান্তি ও শৃঙ্খলার জন্য হুমকি স্বরূপ। এখন দেখা যায়, অনেকে হতাশা থেকে অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। পেশাদার অপরাধীর সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে। এটা শঙ্কার বিষয়। এ ব্যাপারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সতর্ক ও সচেতন হওয়া জরুরি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ভাল করেই জানে, কোন কোন এলকায় কারা ছিনতাই ও অপরাধের সাথে জড়িত। তার কাছে নিশ্চয়ই এর ডাটা রয়েছে। পুলিশের উচিত, রাজধানীতে এখন যে আতঙ্ক বিরাজ করছে, তা দূর করতে বিশেষ উদ্যোগ নেয়া। অপরাধপ্রবণতার মূল কারণ মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করা। তালিকাভুক্ত যেসব ছিনতাইকারী ও অন্যান্য অপরাধী রয়েছে, তাদের গ্রেফতারে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা। ছিনতাইপ্রবণ এলাকায় টহল বৃদ্ধি করা। যেসব এলাকায় সড়কবাতি নেই, সেসব এলাকায় সিটি করপোরেশনের তরফে সড়কবাতি লাগিয়ে আলোকিত করা। মেট্রোরেল, ফ্লাইওভারের নিচে যেসব খালি জায়গা অবৈধ দখলে রয়েছে, সেগুলো উচ্ছেদ করে পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন ও আলোকিত করা। বলা বাহুল্য, নগরবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত ও আতঙ্ক দূর করতে কঠোর পদক্ষেপ নেয়ার বিকল্প নেই।
বিভাগ : সম্পাদকীয়
মন্তব্য করুন
আরও পড়ুন
এনার্জিপ্যাকের বার্ষিক সাধারণ সভায় ব্যবসায়িক প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনার ওপর গুরুত্বারোপ
আমার খাবার কি ফর্টিফায়েড?
হাসিনা পরিবারের নামে ১৩ বিশ্ববিদ্যালয়, ইউজিসি তাকিয়ে আছে সরকারের দিকে
ব্র্যাক ব্যাংকের রেমিটেন্স অ্যাওয়ার্ড অর্জন
দিনাজপুর জেলা শিক্ষা অফিসারের বিদায়ী সংবর্ধনা
নরসিংদীর শিবপুরে প্লাস্টিক কারখানা আগুনে পুড়ে ছাই
ডিসেম্বরে রেমিট্যান্স শূন্য যে ১০ ব্যাংকে
বিএনপি নির্বাচন ছাড়া ক্ষমতায় আসতে চায় না: আব্দুস সালাম
সরকারের আশ্বাসে শাহবাগ থেকে সরে গেলেন বিএসএমএমইউ ট্রেইনি চিকিৎসকরা
সাকাকে হারিয়ে চিন্তিত আর্সেনাল কোচ
৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কারের প্রস্তাব জমা হবে : বদিউল আলম মজুমদার
সিনিয়র সচিব ড. নাসিমুল গনিকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বদলী
মানিকগঞ্জের ঘিওরে ছাত্রদল নেতা লাভলু হত্যাকারীদের ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন
বঙ্গবাজার পুড়ে যাওয়া মামলায় একজন গ্রেফতার
জনগণের প্রত্যাশা পূরণে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ধীর গতিতে চলছে: আমিনুল হক
জমকালো আয়োজনে পালিত হলো বান্দরবান সেনাবাহিনীর ৬৯ ব্রিগেডের ৪৮ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী
সাবেক মন্ত্রী কায়কোবাদের সঙ্গে তুর্কী এমপির সাক্ষাৎ
বিহারীরা কেমন আছে
ব্রাহ্মণপাড়ায় ধর্ষণের শিকার হতদরিদ্র প্রতিবন্ধী যুবতীর সন্তান প্রসব! আতংকে ভুক্তভোগী পরিবার
মোরেলগঞ্জে উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতির ১৩ তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত