জোর করে রোগীদের বের করে দিচ্ছে ইসরাইলি সেনারা

ইসরাইলি অজুহাত প্রত্যাখ্যান, নিন্দা

Daily Inqilab ইনকিলাব ডেস্ক :

১৪ নভেম্বর ২০২৩, ১২:১৩ এএম | আপডেট: ১৪ নভেম্বর ২০২৩, ১২:১৩ এএম

সউদী আরবের রাজধানী রিয়াদে অনুষ্ঠিত আরব-ইসলামী শীর্ষ সম্মেলনে মুসলিম দেশের নেতারা ইসরাইলের আত্মরক্ষার অজুহাত প্রত্যাখ্যান করেছেন। পাশাপাশি গাজায় ইসরাইলি বাহিনীর বর্বর কর্মকাণ্ডের নিন্দা করেছেন। শনিবার আরব লিগ এবং অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কো-অপারেশনের (ওআইসি) যৌথ শীর্ষ সম্মেলনের ফলাফল যুদ্ধের প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে আঞ্চলিক বিভক্তিগুলো তুলে ধরেছে। হামাস পরিচালিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে এবং গাজায় ইসরাইলের আকাশ ও স্থল আক্রমণের জন্য ব্যাপক ক্ষোভের পটভূমিতে এই শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। আল-জাজিরার খবরে বলা হয়, সম্মেলনে নেতারা ইসরাইলের আগ্রাসন বন্ধ করতে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদকে একটি সিদ্ধান্তমূলক এবং বাধ্যতামূলক প্রস্তাব গ্রহণ করার দাবি জানিয়েছেন। সৌদি ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান যুদ্ধের আগে ইসরাইলের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের কথা ভেবেছিলেন। তবে শীর্ষ সম্মেলনের উদ্বোধনী বক্তব্যে বলেছেন, তিনি ফিলিস্তিনি জনগণের বিরুদ্ধে সংঘটিত অপরাধের জন্য ইসরাইলি কর্তৃপক্ষকে দায়ী করেন। গাজায় সামরিক অভিযান অবিলম্বে বন্ধ করার এবং সব বন্দির মুক্তির আহ্বানও জানিয়েছেন। সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ বলেছেন, ‘দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধবিরতি না হওয়া পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্যের কোনো দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক উন্নয়নের জন্য ইসরাইলের সঙ্গে কোনো রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় জড়ানো উচিত নয়।’ তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েপ এরদোগান বলেছেন, ‘এটা লজ্জাজনক যে পশ্চিমা দেশগুলো, যারা সবসময় মানবাধিকার ও স্বাধীনতার কথা বলে, তারা ফিলিস্তিনের চলমান গণহত্যার সময় নীরব রয়েছে।’ নাম প্রকাশ না করার শর্তে কথা বলা কূটনীতিকদের মতে, আলজেরিয়া এবং লেবাননসহ কিছু দেশ ইসরাইল এবং তার মিত্রদের তেল সরবরাহ ব্যাহত করার পাশাপাশি ইসরাইলের সঙ্গে আরব লিগের দেশগুলোর অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করার হুমকি দিয়েছে। ইসরাইল এবং এর প্রধান সমর্থক যুক্তরাষ্ট্র এখন পর্যন্ত যুদ্ধবিরতির দাবি প্রত্যাখ্যান করছে। অপর এক খবরে বলা হয়, ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্যমন্ত্রী মাই আল-কাইলা বলেছেন, দখলদার ইসরাইলি সেনারা গাজার হাসপাতাল থেকে কোনো রোগীকে অন্যত্র সরাচ্ছে না; তারা রোগীদের অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে জোর করে রাস্তায় বের করে দিচ্ছে। এর মাধ্যমে তাদের মূলত মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিচ্ছে তারা। এ ব্যাপারে রোববার এক বিবৃতিতে ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেছেন, এটি কোনো উদ্ধার নয়; তাদের অস্ত্রের মুখে জোরপূর্বক হাসপাতাল থেকে বের করে দেওয়া হচ্ছে। হাসপাতালে বিপর্যয়কর পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে। রোগীরা তাদের চিকিৎসা না পেয়ে মারা যাচ্ছে। প্রাপ্ত বয়স্ক ও শিশু কিডনি রোগীরা অতিপ্রয়োজনীয় ডায়ালাইসিস করতে না পেরে বাড়িতে মরছেন। তিনি জানিয়েছেন, আল-রানতিসি এবং তার্কিস হাসপাতালে যে ৩ হাজার ক্যান্সার রোগী ছিলেন তাদের জোর করে বের করে দিয়েছে ইসরাইলি সেনারা। এখন এসব রোগী নিশ্চিত মৃত্যুর মুখে রয়েছেন। জ্বালানির অভাবে গাজা উপত্যকার দ্বিতীয় বৃহৎ হাসপাতাল আল-কুদস ইতোমধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে। ছোট্ট এ অঞ্চলটির বৃহৎ হাসপাতাল আল-শিফাও বন্ধ হওয়ার দ্বারপ্রান্তে রয়েছে। বর্তমানে গাজার বড় হাসপাতালগুলো ঘিরে রেখেছে ইসরাইলি সেনারা। শনিবার তারা আল-শিফার ভেতর হামলা চালায়। এছাড়া জ্বালানির অভাবে সেখানকার শিশু ওয়ার্ডটিও বন্ধ হয়ে গেছে। এতে হাসপাতালটিতে থাকা ৪৫ শিশু মৃত্যুর ঝুঁকিতে পড়েছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের চাপের মুখে শনিবার ইসরাইলি সেনাবাহিনী প্রস্তাব দেয় আল-শিফা হাসপাতাল থেকে শিশুদের অন্য কোনো নিরাপদ হাসপাতালে সরিয়ে নিতে সহায়তা করবে তারা। তবে ওই শিশুদের কিভাবে সরানো হবে সে বিষয়টি নিশ্চিত নয়। আল-জাজিরা, রয়টার্স।

 


বিভাগ : আন্তর্জাতিক


মন্তব্য করুন

HTML Comment Box is loading comments...

এই বিভাগের আরও

বলিভিয়ায় স্বর্ণ খনিতে শিশুসহ নিহত ৫
গাজা যুদ্ধে ইহুদিরা ২৩২ জন সাংবাদিককে হত্যা করেছে
মনিপুরে সহিংসতার তদন্ত চায় কংগ্রেস
মুসলিম দেশগুলো ঐক্যবদ্ধ থাকলে শত্রুরা অত্যাচার চালাতে পারবে না
ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্ক একটি ‘জাতীয় সংকট’ : জাপানি প্রধানমন্ত্রী
আরও
X

আরও পড়ুন

ওয়ার্ন-কুম্বলেদের ছাড়িয়ে ইতিহাসে হার্দিক

ওয়ার্ন-কুম্বলেদের ছাড়িয়ে ইতিহাসে হার্দিক

অবসরের ঘোষণা দিলেন জার্মানির বিশ্বকাপজয়ী তারকা

অবসরের ঘোষণা দিলেন জার্মানির বিশ্বকাপজয়ী তারকা

রোনালদোর জোড়া গোলে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আল হিলালকে হারাল নাসের

রোনালদোর জোড়া গোলে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আল হিলালকে হারাল নাসের

প্রয়োজনীয় সংস্কার করে যথাসম্ভব দ্রুত নির্বাচন দিতে হবে: মিয়া গোলাম পরওয়ার

প্রয়োজনীয় সংস্কার করে যথাসম্ভব দ্রুত নির্বাচন দিতে হবে: মিয়া গোলাম পরওয়ার

মুসল্লিদের বাধায় নাটক মঞ্চায়ন বাতিলের সংবাদ বিভ্রান্তিকর

মুসল্লিদের বাধায় নাটক মঞ্চায়ন বাতিলের সংবাদ বিভ্রান্তিকর

মানুষ ফ্যাসিবাদ মুক্ত বাংলাদেশে স্বাচ্ছন্দ্যে ঈদ উদযাপন করেছে: আবদুল হালিম

মানুষ ফ্যাসিবাদ মুক্ত বাংলাদেশে স্বাচ্ছন্দ্যে ঈদ উদযাপন করেছে: আবদুল হালিম

থাইল্যান্ড থেকে দেশের উদ্দেশে রওনা হলেন প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস

থাইল্যান্ড থেকে দেশের উদ্দেশে রওনা হলেন প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস

নারীবান্ধব পাবলিক টয়লেট

নারীবান্ধব পাবলিক টয়লেট

মেডিক্যাল ট্যুরিজম

মেডিক্যাল ট্যুরিজম

প্রেসার গ্রুপের ভালো-মন্দ

প্রেসার গ্রুপের ভালো-মন্দ

রাজধানীতে ট্রাফিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে হবে

রাজধানীতে ট্রাফিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে হবে

ইশার নামাজের সাথে সাথে বিতির নামাজ না পড়া প্রসঙ্গে?

ইশার নামাজের সাথে সাথে বিতির নামাজ না পড়া প্রসঙ্গে?

প্রশ্ন : মরণোত্তর চক্ষুদান বা অন্যান্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দান কি শরীয়ত সমর্থন করে?

প্রশ্ন : মরণোত্তর চক্ষুদান বা অন্যান্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দান কি শরীয়ত সমর্থন করে?

মানুষের শ্রেষ্ঠত্ব হচ্ছে উত্তম চরিত্রে

মানুষের শ্রেষ্ঠত্ব হচ্ছে উত্তম চরিত্রে

খালেস নিয়তে আমল করলে প্রতিদান সুনিশ্চিত

খালেস নিয়তে আমল করলে প্রতিদান সুনিশ্চিত

ঈদ আসে-ঈদ যায়, স্মৃতিটুকু রয়ে যায়

ঈদ আসে-ঈদ যায়, স্মৃতিটুকু রয়ে যায়

ইসলামের দৃষ্টিতে পরোপকারের গুরুত্ব ও ফজিলত

ইসলামের দৃষ্টিতে পরোপকারের গুরুত্ব ও ফজিলত

ভাড়া বৃদ্ধির প্রতিবাদ করায় যাত্রীকে মারধর

ভাড়া বৃদ্ধির প্রতিবাদ করায় যাত্রীকে মারধর

কৃষক জজ মিয়ার মৃত্যু নিয়ে রহস্য

কৃষক জজ মিয়ার মৃত্যু নিয়ে রহস্য

সরিষাবাড়ীতে বিএনপি’র দু’গ্রুপে দফায় দফায় সংঘর্ষ

সরিষাবাড়ীতে বিএনপি’র দু’গ্রুপে দফায় দফায় সংঘর্ষ