ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত মিয়ানমার, নিহত ১৫৩
২৯ মার্চ ২০২৫, ০৮:৪৫ এএম | আপডেট: ২৯ মার্চ ২০২৫, ০৮:৫০ এএম

মিয়ানমারে শক্তিশালী ভূমিকম্পে ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞ হয়েছে। দুই দশকের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী এই ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত অন্তত ১৫৩ জন নিহত ও ৭৩২ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। প্রতিবেশী দেশ থাইল্যান্ডেও এই ভূমিকম্পের প্রভাব পড়ে, সেখানে ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে অনেক মানুষ আটকা পড়েছেন, ফলে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
গতকাল স্থানীয় সময় দুপুর ১২টা ২১ মিনিটে ৭.৭ মাত্রার ভূমিকম্পটি মিয়ানমারের মান্দালয় অঞ্চলের সাগাইং শহরের কাছে আঘাত হানে। এটি ভূ-পৃষ্ঠ থেকে মাত্র ১০ কিলোমিটার গভীরে উৎপন্ন হওয়ায় কম্পন প্রবল হয়। রাজধানী নেপিদো থেকে ১০০ কিলোমিটার উত্তরের এই ভূকম্পন এতটাই শক্তিশালী ছিল যে, প্রায় এক হাজার কিলোমিটার দূরের থাইল্যান্ডের ব্যাংককেও স্পষ্ট কম্পন অনুভূত হয়। বাংলাদেশ, ভারত, চীন, ও কম্বোডিয়াতেও ভূমিকম্পের ঝাঁকুনি টের পাওয়া গেছে। কয়েক মিনিট পর ৬.৪ মাত্রার একটি পরাঘাতও (আফটারশক) অনুভূত হয়।
ভূমিকম্পের কারণে মিয়ানমারে শতাধিক ভবন ধসে পড়েছে এবং বহু সেতু ভেঙে গেছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে রাজধানী নেপিদোতে, যেখানে অন্তত ৯৬ জন নিহত হয়েছেন। মান্দালয়ে ৩০ জন এবং সাগাইং অঞ্চলে ১৮ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। ভূমিকম্পের সময় জুমার নামাজ চলছিল, সে সময় দুটি মসজিদ ধসে পড়লে অন্তত ৩৪ জন মুসল্লি মারা যান। থাইল্যান্ডের ব্যাংককে ৩০ তলা একটি নির্মাণাধীন ভবন ধসে পড়ে, এতে ৯০ জন শ্রমিক ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়েন।
ভূমিকম্পের পর মিয়ানমারের সামরিক সরকার ছয়টি অঞ্চলে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে উদ্ধার কাজ চলছে, তবে অবকাঠামোগত ধ্বংসযজ্ঞ ও যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় তা ব্যাহত হচ্ছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ভূমিকম্পের সময় তারা আতঙ্কে ঘর ছেড়ে বাইরে বেরিয়ে আসেন। ইয়াঙ্গুন শহরের একজন বলেন, "আমার চোখের সামনে পাঁচতলা ভবনটি ধসে পড়ল। সবাই রাস্তায় নেমে এসেছে, কেউ ভবনে ফিরে যেতে সাহস পাচ্ছে না।"
আন্তর্জাতিক মহল মিয়ানমারের এই দুর্যোগে সহায়তা দিতে এগিয়ে এসেছে। জাতিসংঘ, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, ভারত ও ফ্রান্স সহায়তা পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থাও মানবিক সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনার পরিকল্পনা করছে। তবে ধ্বংসপ্রাপ্ত সড়ক ও সেতুর কারণে উদ্ধার কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
ভূমিকম্পের পর বিরল এক ঘোষণায় মিয়ানমারের সামরিক সরকার আন্তর্জাতিক সহায়তার আবেদন করেছে। জান্তা সরকার সাধারণত বাইরের বিশ্বের সঙ্গে যোগাযোগ সীমিত রাখে, তবে এবার তারা মানবিক সহায়তা চেয়ে বলেছে, "যে কোনো দেশ বা সংস্থা আমাদের সহায়তা পাঠাতে চাইলে আমরা তা গ্রহণ করতে প্রস্তুত।" সেনা মুখপাত্র জাও মিন তুন বলেন, "আমরা চাই, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় যত দ্রুত সম্ভব সাহায্য করুক।"
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মিয়ানমার ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চলে অবস্থিত এবং ‘রেড জোন’-এর মধ্যে রয়েছে। দেশটির ভূতাত্ত্বিক গঠন সাগাইং ফল্ট লাইনের ওপর হওয়ায় এখানে প্রায়ই শক্তিশালী ভূমিকম্প হয়। ১৯৩০ ও ১৯৫৬ সালে একই ফল্ট লাইনে ৭ মাত্রার ভূমিকম্প হয়েছিল, ২০১৬ সালে ৬.৮ মাত্রার ভূমিকম্পে তিনজন নিহত হয়েছিলেন।
ভয়াবহ এই ভূমিকম্প মিয়ানমারের জনগণের জন্য বড় দুর্যোগ হয়ে এসেছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনো অনেকে আটকা আছেন, তাই উদ্ধারকার্য আরও জোরদার করা জরুরি। আন্তর্জাতিক সহযোগিতা দ্রুত পৌঁছানো গেলে প্রাণহানি কিছুটা হলেও কমানো সম্ভব হবে। এই দুর্যোগ মোকাবিলায় স্থানীয় ও বৈশ্বিক সমন্বয় এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
বিভাগ : আন্তর্জাতিক
মন্তব্য করুন
আরও পড়ুন

প্রয়োজনীয় সংস্কার করে যথাসম্ভব দ্রুত নির্বাচন দিতে হবে: মিয়া গোলাম পরওয়ার

মুসল্লিদের বাধায় নাটক মঞ্চায়ন বাতিলের সংবাদ বিভ্রান্তিকর

মানুষ ফ্যাসিবাদ মুক্ত বাংলাদেশে স্বাচ্ছন্দ্যে ঈদ উদযাপন করেছে: আবদুল হালিম

থাইল্যান্ড থেকে দেশের উদ্দেশে রওনা হলেন প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস

নারীবান্ধব পাবলিক টয়লেট

মেডিক্যাল ট্যুরিজম

প্রেসার গ্রুপের ভালো-মন্দ

রাজধানীতে ট্রাফিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে হবে

ইশার নামাজের সাথে সাথে বিতির নামাজ না পড়া প্রসঙ্গে?

প্রশ্ন : মরণোত্তর চক্ষুদান বা অন্যান্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দান কি শরীয়ত সমর্থন করে?

মানুষের শ্রেষ্ঠত্ব হচ্ছে উত্তম চরিত্রে

খালেস নিয়তে আমল করলে প্রতিদান সুনিশ্চিত

ঈদ আসে-ঈদ যায়, স্মৃতিটুকু রয়ে যায়

ইসলামের দৃষ্টিতে পরোপকারের গুরুত্ব ও ফজিলত

ভাড়া বৃদ্ধির প্রতিবাদ করায় যাত্রীকে মারধর

কৃষক জজ মিয়ার মৃত্যু নিয়ে রহস্য

সরিষাবাড়ীতে বিএনপি’র দু’গ্রুপে দফায় দফায় সংঘর্ষ

কনস্টেবলকে মারধরের অভিযোগ

ছাত্রদল নেতার অফিসে হামলা-ভাংচুর স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার গাড়িতে আগুন

মাদারীপুরে কৃষকের হাত কেটে নিল সন্ত্রাসীরা