মিয়ানমারে ভয়াবহ ভূমিকম্পে মৃত্যু ছাড়াতে পারে ১০ হাজার: ইউএসজিএস
২৯ মার্চ ২০২৫, ০৯:০০ এএম | আপডেট: ২৯ মার্চ ২০২৫, ০৯:০৬ এএম

মিয়ানমারে ভয়াবহ ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা ও ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা দ্রুত বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) সতর্ক করেছে যে, এই দুর্যোগে মৃত্যুর সংখ্যা ১০ হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে। পাশাপাশি, আর্থিক ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ১ হাজার কোটি ডলার অতিক্রম করতে পারে। আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো জানিয়েছে, বিধ্বস্ত এলাকায় উদ্ধার কার্যক্রম চলছে, তবে ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও বহু মানুষ আটকা পড়ে আছেন।
শুক্রবার (২৮ মার্চ) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে মিয়ানমারের সাগাইং অঞ্চলে শক্তিশালী ৭.৭ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানে। ভূমিকম্পটির কেন্দ্র ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে ১৬ কিলোমিটার গভীরে। ইউএসজিএস জানিয়েছে, এর কিছুক্ষণ পরেই ৬.৪ মাত্রার আরেকটি ভূমিকম্প অনুভূত হয়। কম্পন এতটাই তীব্র ছিল যে, মিয়ানমার ছাড়াও চীন, ভারত, ভিয়েতনাম, লাওস, কম্বোডিয়া ও বাংলাদেশে এটি অনুভূত হয়। সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে থাইল্যান্ডে। সেখানে রাজধানী ব্যাংককের বেশ কয়েকটি বহুতল ভবন ধসে পড়েছে। এখন পর্যন্ত ১০ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে এবং শতাধিক মানুষ নিখোঁজ।
মিয়ানমারের সামরিক সরকারের হিসাবে, ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত ১৪৪ জন নিহত এবং ৭৩২ জনের বেশি আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে রাজধানী নেইপিদোতে ৯৬ জন, সাগাইংয়ে ১৮ জন এবং মান্দালয়ে ৩০ জন রয়েছেন। তবে সরকারি কর্মকর্তারা আশঙ্কা করছেন, নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। ধ্বংসস্তূপে আটকে থাকা মানুষদের উদ্ধারে ব্যাপক অভিযান চলছে।
ভূমিকম্পের পর নেইপিদো, সাগাইং, মান্দালয়, ম্যাগওয়ে, বাগো ও পূর্ব শান—এই ছয়টি অঞ্চলে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে সামরিক সরকার। রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, নেইপিদো, সাগাইং ও মান্দালয়ে বহু ভবন ধসে পড়েছে। এ ছাড়া, একটি সেতু ও একটি রেলসেতু মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবিতে দেখা গেছে, ইরাবতি নদীর ওপর আভা সেতু ধসে পড়েছে এবং পানির মধ্যে হেলে গেছে।
এমন পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক সহায়তা চেয়েছে মিয়ানমার। সামরিক সরকারের প্রধান মিন অং হ্লাইং রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক ভাষণে ‘সব দেশ’কে সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস গভীর শোক প্রকাশ করে মিয়ানমারের জনগণের পাশে দাঁড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। জাতিসংঘ ইতোমধ্যে ত্রাণ কার্যক্রম শুরু করেছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
এছাড়া, ভূমিকম্প পরবর্তী মানবিক সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে বিভিন্ন সংস্থা। খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি ও চিকিৎসা সহায়তার অভাবে বিপর্যস্ত দুর্গত এলাকাগুলো। জরুরি ভিত্তিতে উদ্ধার কার্যক্রম আরও জোরদার করা না হলে মানবিক বিপর্যয় আরও তীব্র হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
গত দুই দশকের মধ্যে মিয়ানমারে এত বড় ভূমিকম্প আর দেখা যায়নি। ভূতাত্ত্বিক বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশটি একটি উচ্চ ভূকম্পন ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলে অবস্থিত। অতীতে ১৯৩০, ১৯৫৬ ও ২০১৬ সালে শক্তিশালী ভূমিকম্পে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল। এবারও পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। এখন দেখার বিষয়, আন্তর্জাতিক সহায়তার মাধ্যমে কত দ্রুত এই বিপর্যয় কাটিয়ে উঠতে পারে মিয়ানমার। তথ্যসূত্র : সিএনএন
বিভাগ : আন্তর্জাতিক
মন্তব্য করুন
আরও পড়ুন

প্রয়োজনীয় সংস্কার করে যথাসম্ভব দ্রুত নির্বাচন দিতে হবে: মিয়া গোলাম পরওয়ার

মুসল্লিদের বাধায় নাটক মঞ্চায়ন বাতিলের সংবাদ বিভ্রান্তিকর

মানুষ ফ্যাসিবাদ মুক্ত বাংলাদেশে স্বাচ্ছন্দ্যে ঈদ উদযাপন করেছে: আবদুল হালিম

থাইল্যান্ড থেকে দেশের উদ্দেশে রওনা হলেন প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস

নারীবান্ধব পাবলিক টয়লেট

মেডিক্যাল ট্যুরিজম

প্রেসার গ্রুপের ভালো-মন্দ

রাজধানীতে ট্রাফিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে হবে

ইশার নামাজের সাথে সাথে বিতির নামাজ না পড়া প্রসঙ্গে?

প্রশ্ন : মরণোত্তর চক্ষুদান বা অন্যান্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দান কি শরীয়ত সমর্থন করে?

মানুষের শ্রেষ্ঠত্ব হচ্ছে উত্তম চরিত্রে

খালেস নিয়তে আমল করলে প্রতিদান সুনিশ্চিত

ঈদ আসে-ঈদ যায়, স্মৃতিটুকু রয়ে যায়

ইসলামের দৃষ্টিতে পরোপকারের গুরুত্ব ও ফজিলত

ভাড়া বৃদ্ধির প্রতিবাদ করায় যাত্রীকে মারধর

কৃষক জজ মিয়ার মৃত্যু নিয়ে রহস্য

সরিষাবাড়ীতে বিএনপি’র দু’গ্রুপে দফায় দফায় সংঘর্ষ

কনস্টেবলকে মারধরের অভিযোগ

ছাত্রদল নেতার অফিসে হামলা-ভাংচুর স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার গাড়িতে আগুন

মাদারীপুরে কৃষকের হাত কেটে নিল সন্ত্রাসীরা