নবিজি (সা.) কে ভালোবাসবো যে কারণে
০৪ আগস্ট ২০২৩, ০৮:৫৩ পিএম | আপডেট: ০৫ আগস্ট ২০২৩, ১২:০২ এএম
এই পৃথিবীতে কেউ কাউকে অকারণে ভালোবাসে না। যদি কোন লোকের মধ্যে ভালোবাসার মতো গুণ, বৈশিষ্ট্য, বিশেষত্ব ও অসাধারণত্ব বিদ্যমান থাকে, তাহলেই কেবল তাকে ভালোবাসে। যদি কোন ব্যক্তির মধ্যে ভালোবাসার মতো গুণ ও বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান না থাকে, তাহলে তাকে কেউ ভালোবাসে না। সম্মান করে না ও মর্যাদা দেয় না। বিশ্বনবি হজরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মধ্যে ভালোবাসার মতো সমুদয় স্বভাব, প্রকৃতি, নৈপুণ্য, দক্ষতা, পূর্ণতা ও যোগ্যতা পূর্ণমাত্রায় বিদ্যমান ছিল। পৃথিবীতে যত সুন্দর গুণ রয়েছে সকল গুণের আকর ছিলেন মহানবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। তাই বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে আমরা মনেপ্রাণে ভালোবাসবো।
মহানবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার উম্মতকে হৃদয় দিয়ে ভালবাসতেন। তিনি সব সময় নিজের উম্মতের কল্যাণ কামনা করতেন। তার কাছে উম্মতের কষ্ট-ক্লেশ, আপদ-বিপদ ও বালা-মুসিবত অত্যন্ত অসহ্যকর ছিল। ঈমানদার লোকদের প্রতি কল্যাণকামনায় তার হৃদয় ভরপুর ছিল। আর যে মহান সত্তার মধ্যে কল্যাণকামনার এই গুণ বিদ্যমান থাকে লোকে তাকে ভালবাসে। মহানবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মধ্যে উম্মাহর প্রতি কল্যাণ কামনা বিদ্যমান থাকার কারণে তিনি উম্মতের প্রতিটি সদস্যের ভালোবাসা পাওয়ার হকদার। বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মধ্যে কল্যাণ কামনার গুণ বিদ্যমান থাকার সাক্ষ্য দিয়ে মহান আল্লাহ বলেন, তোমাদের কাছে এসেছে তোমাদের মধ্য থেকেই একজন রাসুল। তোমাদের দুঃখ-কষ্ট তার পক্ষে দুঃসহ। তিনি তোমাদের মঙ্গলকামী, মুমিনদের প্রতি স্নেহশীল, দয়াময়। (সুরা তওবা, আয়াত : ১২৮)
চরিত্রহীন মানুষ পশুর সমান। চরিত্রহীন মানুষ ও পশুর কর্মকা-ের মধ্যে কোন পার্থক্য থাকে না। মন্দ চরিত্রের অধিকারী মানুষ যা ইচ্ছা তাই করে বেড়ায়। তাই এমন লোককে কেউ ভালবাসে না। কেবল চরিত্রবান লোকই মানুষের ভালোবাসা পায়। কোন ব্যক্তি নিজের কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠানে লোক নিয়োগ দেওয়ার পূর্বে চরিত্রবান লোকের সন্ধান চালায়। বিবাহ দেওয়া ও করানোর পূর্বে লোকেরা বর বা কন্যা চরিত্রবান কিনা তা অনুসন্ধান করে। যদি লোকে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ব্যাপারে চরিত্রবান হওয়ার সাক্ষ্য দেয়, তাহলে এমন লোক কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ পাওয়ার কিংবা বিবাহ শাদি নিষ্পন্ন করা ও করানোর পছন্দের তালিকায় থাকে। মহানবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উত্তম চরিত্রের অধিকারী ছিলেন। শুধু তাই নয়, তিনি চরিত্রের ষোলকলাপূর্ণ করার জন্যই পৃথিবীর বুকে আগমন করেছিলেন। তাই আমরা তাকে ভালোবাসবো। বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উত্তম চরিত্রের অধিকারী হওয়ার সাক্ষ্য দিয়ে মহান আল্লাহ বলেন, আপনি অবশ্যই মহান চরিত্রের অধিকারী। (সুরা কলম, আয়াত : ৪)।
বাংলায় একটি প্রবাদ আছে, মানুষ দয়ার দাস। যদি কোন ব্যক্তি কারো উপর দয়া করে, তাহলে সেই ব্যক্তি দয়াশীল ব্যক্তিকে ভালোবাসে। মহানবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোমল হৃদয়ের অধিকারী ও দয়ার আধার ছিলেন। তিনি সাহাবায়ে কেরামের সুবিধা ও অসুবিধার প্রতি তীক্ষè দৃষ্টি রাখতেন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতেন। একবার কতিপয় যুবক সাহাবি মহানবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে বিশ রাত অবস্থান করলে তিনি বুঝতে পারলেন তারা তাদের স্ত্রী-সন্তানদের প্রতি অতিশয় আগ্রহী হয়ে উঠেছে। তখন তিনি তাদেরকে বাড়িতে যাওয়ার নির্দেশ দিলেন। হজরত মালিক ইবনু হুওয়াইরিস রা. বলেন, আমরা প্রায় একই বয়সের কিছু যুবক রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এসে বিশদিন অবস্থান করলাম। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছিলেন অত্যন্ত দয়ালু ও নম্র হৃদয়। তিনি বুঝতে পারলেন, আমরা আমাদেরপরিবারের লোকজনের প্রতি আগ্রহী হয়ে পড়েছি। তাই নিজ পরিবারে আমরা কাকে কাকে রেখে গিয়েছি এ বিষয়ে তিনি আমাদের জিজ্ঞেস করলে আমরা তাকে সে বিষয়ে অবহিত করলাম। তখন তিনি বললেন, ঠিক আছে, তোমরা নিজ পরিবার-পরিজনের কাছে ফিরে যাও এবং তাদের মধ্যে অবস্থান করে তাদেরকে ইসলাম সম্পর্কে শিক্ষাদান করো। (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ১৪২১)।
সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী মহাপরাক্রমশালী আল্লাহ রাব্বুল আলামিন। তিনি আসমান, জমিন, চন্দ্র, সূর্য ও গ্রহ নক্ষত্রের সবকিছুই সৃষ্টি করেছেন। তার ক্ষমতার বাইরে কোন কিছুই নেই। তিনি যা ইচ্ছা তাই করতে পারেন। অতএব, যদি তার সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তোলা যায় এবং তার অন্তরঙ্গ বন্ধুকে আন্তরিকভাবে ভালোবাসা যায়, তাহলে নিজের মনস্কাম পূর্ণ করা সহজ হবে। আর আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহ তাআলার অন্তরঙ্গ বন্ধু। বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মহান আল্লাহর ঘনিষ্ঠ বন্ধু হওয়ার ঘোষণা নিজেই প্রদান করেছেন। হজরত আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ রা. বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, জেনে রাখো! কারো সাথে আমার ঘনিষ্ঠ বন্ধুত্ব নেই, যদি কাউকে বন্ধু বানাতাম তবে আবু বকরকেই বানাতাম। তোমাদের সঙ্গী আল্লাহর ঘনিষ্ঠ বন্ধু। (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ৬০৭০)।
মানব সৃষ্টির সূচনা লগ্ন থেকে নিয়ে কেয়ামত পর্যন্ত যত মানুষ এই পৃথিবীতে আগমন করেছে, করছে ও করবে তাদের সকলের মধ্যে মহানবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহ তাআলার সবচেয়ে বেশি প্রিয়। তাই বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জান্নাতে মর্যাদার সর্বোচ্চ স্থানে অধিষ্ঠিত থাকবেন। বেহেশতে আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে থাকার অন্যতম উপায় হলো তাকে ভালোবাসা। কেননা যে ব্যক্তি যাকে ভালোবাসে তার সঙ্গেই তার হাশর হবে। হজরত আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ রা. বলেন, জনৈক ব্যক্তি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট আসলো। অতঃপর সে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বললো, হে আল্লাহর রাসুল! সে লোকটি সম্পর্কে আপনি কী মনে করেন, যে একটি সম্প্রদায়কে ভালোবাসে অথচ সে তাদের সাথে মিলিত হয়নি। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, যে যাকে ভালোবাসে পরকালে সে তার সঙ্গেই থাকবে। (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ৬৬১১)
বিভাগ : ইসলামী জীবন
মন্তব্য করুন
আরও পড়ুন
আমরা একটি কল্যাণকর রাষ্ট্র গঠনের দিকে এগিয়ে যেতে চাই: হাসনাত আবদুল্লাহ
যুবদল কর্মী হত্যার ঘটনায় ছাত্রশিবিরকে জড়িয়ে মিথ্যাচার ও শিবির সভাপতির উপর বর্বরোচিত হামলার প্রতিবাদ
এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ
টাঙ্গাইলে ইসলামি ছাত্র আন্দোলনের বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত
শিক্ষা ও গবেষণায় তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহার
মানুষের দুর্দশা মোচনে সরকারকে মনোযোগ দিতে হবে
সেনাবাহিনী ক্ষমতার বিকল্প সত্তা নয়
লিভ টুগেদার ইস্যুতে এবার স্বাগতাকে উকিল নোটিশ
ফিলিস্তিনের সমর্থনে ইস্তাম্বুলে লাখ লাখ মানুষের সমাবেশ
ব্যাপক গোলাগুলিতে নিউইয়র্কে আহত ১০
গাজায় জনসংখ্যা কমেছে ৬ শতাংশ
আইএসের পতাকা উড়িয়ে হামলা, নিহত বেড়ে ১৫
নোয়াখালীতে কৃষি জমির মাটি কাটায় ৫০ হাজার টাকা জরিমানা
ইসরাইলি পার্লামেন্ট থেকে পদত্যাগ করলেন ইয়োভ গ্যালান্ট
ঝিনাইদহে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় তিনজন নিহত
আশা জাগানিয়া প্রত্যাশা করা বড়ই কঠিন : গুতেরেস
মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে নববর্ষ উদযাপন অনুষ্ঠানে উন
শেনজেন অঞ্চলের পূর্ণ সদস্য হলো রোমানিয়া ও বুলগেরিয়া
প্লাস্টিক দূষণের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নির্দেশিকা প্রণয়ন করা হচ্ছে : পরিবেশ উপদেষ্টা
১৫% ভ্যাট বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত অবিলম্বে বাতিল করুন: মাওলানা মোসাদ্দেক বিল্লাহ