স্বীকারোক্তি দিলো জাতিসংঘ এবং ইইউ

তারমুসায়া গ্রামে ইহুদিবাদী সন্ত্রাসীদের ভয়াবহ তাণ্ডব

Daily Inqilab ইনকিলাব ডেস্ক :

২৪ জুন ২০২৩, ০৮:৩১ পিএম | আপডেট: ২৫ জুন ২০২৩, ১২:০১ এএম

ফিলিস্তিনে নিযুক্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধি সেভেন কোহান বুর্গদুরাফ স্বীকার করেছেন, ২০০৫ সাল থেকে ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে হত্যাকা- নজিরবিহীন ভাবে বেড়েছে। তিনি অধিকৃত পশ্চিম তীরের ‘তারমুসায়া’ গ্রামে ইহুদি বসতি স্থাপনকারীদের তা-বকে সন্ত্রাসী হামলা হিসেবে অভিহিত করেছেন। এদিকে, জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক প্রধান ভল্কার তুর্ক বলেছেন, ইহুদিবাদী ইসরাইলের অতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগ এবং সহিংসতার কারণে অধিকৃত ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। ফিলিস্তিনিদের ওপর হত্যা-নির্যাতন নতুন কিছু নয়। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এর তীব্রতা আগের চেয়ে বেড়েছে। চলতি ২০২৩ সালের শুরু থেকে যে লক্ষণ দেখা যাচ্ছে তাতে মনে হচ্ছে হত্যা-নির্যাতনের মাত্রা অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যাবে। বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বে কট্টর বর্ণবাদী ও উগ্রপন্থীদের নিয়ে সরকার গঠিত হওয়ার পর থেকেই ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে সব ধরণের অপরাধের মাত্রা বেড়ে গেছে। শিশুদেরকেও রেহাই দেওয়া হচ্ছে। চলতি বছরের শুরু থেকে এ পর্যন্ত ২৭ শিশু শহীদ হয়েছে। এদের মধ্যে দুই বছরের শিশু রয়েছে। দখলদার ইসরাইলের অপরাধের তালিকায় নতুনকরে যুক্ত হয়েছে ‘তারমুসায়া তা-ব। কয়েক দিন আগে এই গ্রামে হানা দেয় একদল উগ্র ইহুদি। গণহত্যার পরিকল্পনা নিয়ে সেখানে যায় তারা। এরপর গোটা গ্রামে তা-ব চালায়। ৪০টি বাড়ি, ৬০টি গাড়ি এবং বিশাল আয়তনের কৃষি ক্ষেতে আগুন ধরিয়ে দেয় এসব পাষ-। এর ফলে ফিলিস্তিনিদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধি সেভেন কোহান বুর্গদুরাফ পশ্চিম তীরের তারমুসায়া গ্রামে চালানো তা-বের সমালোচনা করে অবৈধ উপশহর নির্মাণ বন্ধের আহ্বান জানালেও বাস্তবতা হচ্ছে খালি বক্তব্য-বিবৃতি দিয়ে এটা বন্ধ করা সম্ভব নয়। ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও জাতিসংঘ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রভাবশালী হওয়ার পরও ইসরাইলকে থামাতে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না। এর ফলে ইসরাইলের অপরাধ ক্রমেই বেড়ে চলেছে। ফিলিস্তিনি ভূখ- দখল করে ইসরাইল নামক অবৈধ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় পাশ্চাত্যের মূল ভূমিকা কারো অজানা নয়। এ কারণে ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধির এ ধরণের বক্তৃতা-বিবৃতিকে গাছের গোড়া কেটে আগায় পানি ঢালার মতোই মনে হয়। এরপরও এ ধরণের বক্তব্য-বিবৃতির একটা ইতিবাচক প্রভাব রয়েছে আর তাহলো বাস্তব পরিস্থিতি আড়ালের প্রক্রিয়াটি কিছুটা হলেও বাধাগ্রস্ত হয়। ইরনা।


বিভাগ : ইসলামী বিশ্ব


মন্তব্য করুন

HTML Comment Box is loading comments...

এই বিভাগের আরও

বিশাল ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র শহর উন্মোচন করলো ইরানের আইআরজিসি
প্যাসিফিকা ইনস্টিটিউটের বার্ষিক ইফতারে শরিক অন্য ধর্মাবলম্বীরাও
তাকওয়াভিত্তিক সমাজ গঠনে শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব
নিজ দেশেই অবাঞ্ছিত নেতানিয়াহু
বিষয়ভিত্তিক কিউএস র‍্যাঙ্কিংয়ে ১৭ ইরানি বিশ্ববিদ্যালয়
আরও
X

আরও পড়ুন

অবসরের ঘোষণা দিলেন জার্মানির বিশ্বকাপজয়ী তারকা

অবসরের ঘোষণা দিলেন জার্মানির বিশ্বকাপজয়ী তারকা

রোনালদোর জোড়া গোলে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আল হিলালকে হারাল নাসের

রোনালদোর জোড়া গোলে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আল হিলালকে হারাল নাসের

প্রয়োজনীয় সংস্কার করে যথাসম্ভব দ্রুত নির্বাচন দিতে হবে: মিয়া গোলাম পরওয়ার

প্রয়োজনীয় সংস্কার করে যথাসম্ভব দ্রুত নির্বাচন দিতে হবে: মিয়া গোলাম পরওয়ার

মুসল্লিদের বাধায় নাটক মঞ্চায়ন বাতিলের সংবাদ বিভ্রান্তিকর

মুসল্লিদের বাধায় নাটক মঞ্চায়ন বাতিলের সংবাদ বিভ্রান্তিকর

মানুষ ফ্যাসিবাদ মুক্ত বাংলাদেশে স্বাচ্ছন্দ্যে ঈদ উদযাপন করেছে: আবদুল হালিম

মানুষ ফ্যাসিবাদ মুক্ত বাংলাদেশে স্বাচ্ছন্দ্যে ঈদ উদযাপন করেছে: আবদুল হালিম

থাইল্যান্ড থেকে দেশের উদ্দেশে রওনা হলেন প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস

থাইল্যান্ড থেকে দেশের উদ্দেশে রওনা হলেন প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস

নারীবান্ধব পাবলিক টয়লেট

নারীবান্ধব পাবলিক টয়লেট

মেডিক্যাল ট্যুরিজম

মেডিক্যাল ট্যুরিজম

প্রেসার গ্রুপের ভালো-মন্দ

প্রেসার গ্রুপের ভালো-মন্দ

রাজধানীতে ট্রাফিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে হবে

রাজধানীতে ট্রাফিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে হবে

ইশার নামাজের সাথে সাথে বিতির নামাজ না পড়া প্রসঙ্গে?

ইশার নামাজের সাথে সাথে বিতির নামাজ না পড়া প্রসঙ্গে?

প্রশ্ন : মরণোত্তর চক্ষুদান বা অন্যান্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দান কি শরীয়ত সমর্থন করে?

প্রশ্ন : মরণোত্তর চক্ষুদান বা অন্যান্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দান কি শরীয়ত সমর্থন করে?

মানুষের শ্রেষ্ঠত্ব হচ্ছে উত্তম চরিত্রে

মানুষের শ্রেষ্ঠত্ব হচ্ছে উত্তম চরিত্রে

খালেস নিয়তে আমল করলে প্রতিদান সুনিশ্চিত

খালেস নিয়তে আমল করলে প্রতিদান সুনিশ্চিত

ঈদ আসে-ঈদ যায়, স্মৃতিটুকু রয়ে যায়

ঈদ আসে-ঈদ যায়, স্মৃতিটুকু রয়ে যায়

ইসলামের দৃষ্টিতে পরোপকারের গুরুত্ব ও ফজিলত

ইসলামের দৃষ্টিতে পরোপকারের গুরুত্ব ও ফজিলত

ভাড়া বৃদ্ধির প্রতিবাদ করায় যাত্রীকে মারধর

ভাড়া বৃদ্ধির প্রতিবাদ করায় যাত্রীকে মারধর

কৃষক জজ মিয়ার মৃত্যু নিয়ে রহস্য

কৃষক জজ মিয়ার মৃত্যু নিয়ে রহস্য

সরিষাবাড়ীতে বিএনপি’র দু’গ্রুপে দফায় দফায় সংঘর্ষ

সরিষাবাড়ীতে বিএনপি’র দু’গ্রুপে দফায় দফায় সংঘর্ষ

কনস্টেবলকে মারধরের অভিযোগ

কনস্টেবলকে মারধরের অভিযোগ