বিতর্কিত বিচারবিভাগীয় সংস্কারের পথে ইসরাইল

সেনাদের গুলিতে ৩ ফিলিস্তিনি নিহত

Daily Inqilab ইনকিলাব ডেস্ক

২৫ জুলাই ২০২৩, ০৮:১২ পিএম | আপডেট: ২৬ জুলাই ২০২৩, ১২:০৪ এএম

অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরাইলি সেনাদের গুলিতে ৩ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। আজ মঙ্গলবার ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এ তথ্য জানিয়েছে। খবর বার্তাসংস্থা এএফপির। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, ‘ইসরাইলিদের ছোঁড়া বুলেটে নাবলুসে ৩ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।’ মন্ত্রণালয় আরও জানায়, নিহত ৩ ব্যক্তির পরিচয় এখনো জানা যায়নি। ইসরাইলি সেনাবাহিনীর মতে, পশ্চিম তীরের উত্তরাঞ্চলীয় শহর নাবলুসের এক মহল্লায় ৩ ‘সশস্ত্র জঙ্গি’ তাদের সেনাদের ওপর গাড়ি থেকে গুলি ছুঁড়ে। এরপর সেনারা তাদেরকে ‘নিষ্ক্রিয়’ করতে পাল্টা গুলি ছুঁড়ে। ইসরাইলি সেনাবাহিনী এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা ঘটনাস্থল থেকে ৩টি এম-১৬ রাইফেল, একটি বন্দুক, কার্তুজ ও অন্যান্য সামরিক উপকরণ উদ্ধার করেছে। গত বছরের শুরু থেকে ইসরাইল-ফিলিস্তিন সংঘাত বেড়েছে। এ বছর সংঘাতে অন্তত ২০১ ফিলিস্তিনি ও ২৭ ইসরাইলি নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে অসংখ্য বেসামরিক ব্যক্তি রয়েছেন। এদিকে, ইসরাইলের পার্লামেন্টে পাস হয়েছে বিচারবিভাগীয় সংস্কারের প্রস্তাব। দেশজুড়ে শুরু হয়েছে প্রতিবাদ। প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর নেতৃত্বে ইসরেইলে এখন অতি দক্ষিণপন্থী এবং রক্ষণশীলদের সরকার চলছে। সম্প্রতি তারা স্থির করেছে, বিচারবিভাগের ক্ষমতা কমাতে হবে এবং সেই মতো পার্লামেন্টে একটি প্রস্তাব পেশ করা হয়েছে। পার্লামেন্টে প্রাথমিকভাবে যে ভোটাভুটি হয়েছে, তাতে আদালতের ক্ষমতা কমবে। কিন্তু নেতানিয়াহু সরকারের এই প্রস্তাবের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে আন্দোলন শুরু হয়েছে। লাখ লাখ মানুষ রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ দেখাচ্ছেন। বস্তুত, সোমবার পার্লামেন্টে এই প্রস্তাব গৃহীত হওয়ার পরেও নতুন করে আন্দোলন শুরু হয়েছে। নেতানিয়াহু ও তার অনুগামীদের বক্তব্য, ইসরাইলের আদালত আইনের ফাঁক দেখিয়ে পার্লামেন্টের সিদ্ধান্তের উপর স্থগিতাদেশ দিতে পারে। জনপ্রতিনিধিদের সেখানেই আপত্তি। তাদের দাবি, পার্লামেন্টের প্রতিনিধি হওয়ার জন্য জনগণের ভোটে নির্বাচিত হতে হয়। অর্থাৎ, তারা জনপ্রতিনিধি। পার্লামেন্টে তারা যে সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন, তা জনগণের কণ্ঠস্বর। অনির্বাচিত বিচারপতিরা সেই সিদ্ধান্তে স্থগিতাদেশ দিতে পারেন না। বস্তুত, ইসরাইলে কোনো সংবিধান নেই। সবটাই প্রথা ও নীতির উপর চলে। সেই প্রথাতেই এবার বদল ঘটানোর কথা বলছে পার্লামেন্ট। সোমবারের প্রাথমিক ভোটাভুটিতে ১২০ জন এমপি-র ৬৪ জন এর পক্ষে ভোট দিয়েছে। ফলে কিছুদিনের মধ্যেই এই সিদ্ধান্ত যে বহাল হবে, তা নিয়ে আর কোনো সন্দেহ নেই। আন্দোলনকারীদের বক্তব্য, ইসরাইলে সরকার চালায় দক্ষিণপন্থী এবং রক্ষণশীলরা। ফলে বহু প্রগতিশীল বিষয় তারা আটকাতে চাইবে। আগে সরকারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আদালতে যাওয়া যেত। এবার সেই রাস্তা বন্ধ হতে চলেছে। এলজিবিটিকিউ-য়ের মতো বিষয় এই সিদ্ধান্তের ফলে সমস্যার মুখে পড়বে বলে মনে করছেন তারা। বস্তুত, নরওয়ে এবং হাঙ্গেরির সাথে এই সিদ্ধান্তকে তুলনা করছেন তারা। সেখানেও রক্ষণশীল সরকার বিচারবিভাগের অধিকার খর্ব করেছে। ইউরোপের ভেতরেও এ বিষয়টি নিয়ে যথেষ্ট সমালোচনা হয়। ইসরাইলও সেই পথে হাঁটছে বলে বিক্ষোভকারীদের দাবি। প্রতিবাদে দেশজুড়ে আরো বড় আন্দোলন গড়ে তোলার কথা বলছেন তারা। ইসরাইলে সমস্ত ব্যক্তিকে পড়াশোনা শেষ করার পর কিছুদিন বাধ্যতামূলকভাবে সেনা বাহিনীতে কাজ করতে হয়। কিন্তু রক্ষণশীল চার্চের কিছু ব্যক্তি এই নিয়ম থেকে অব্যাহতি পান। আদালত এর বিরোধিতা করেছিল। কিন্তু নতুন আইনে ওই ব্যক্তিরা ছাড় পাবেন। এর প্রতিবাদে বিমান বাহিনীর একটি অংশ চিঠি দিয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছেন। প্রায় এক হাজার সেনা সদস্যের ওই চিঠিতে বলা হয়েছে, নতুন নিয়ম বহাল হলে তারা কাজ থেকে ইস্তফা দেবেন। সেনা বাহিনীর অন্য অংশগুলোর মধ্যেও প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। ফলে সব মিলিয়ে পরিস্থিতি ক্রমশ অগ্নিগর্ভ হচ্ছে। নেতানিয়াহু বিষয়টিকে কিভাবে সামলান, সেটাই এখন দেখার। এএফপি, ডয়চে ভেলে।


বিভাগ : ইসলামী বিশ্ব


মন্তব্য করুন

HTML Comment Box is loading comments...

এই বিভাগের আরও

বিশাল ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র শহর উন্মোচন করলো ইরানের আইআরজিসি
প্যাসিফিকা ইনস্টিটিউটের বার্ষিক ইফতারে শরিক অন্য ধর্মাবলম্বীরাও
তাকওয়াভিত্তিক সমাজ গঠনে শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব
নিজ দেশেই অবাঞ্ছিত নেতানিয়াহু
বিষয়ভিত্তিক কিউএস র‍্যাঙ্কিংয়ে ১৭ ইরানি বিশ্ববিদ্যালয়
আরও
X

আরও পড়ুন

অবসরের ঘোষণা দিলেন জার্মানির বিশ্বকাপজয়ী তারকা

অবসরের ঘোষণা দিলেন জার্মানির বিশ্বকাপজয়ী তারকা

রোনালদোর জোড়া গোলে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আল হিলালকে হারাল নাসের

রোনালদোর জোড়া গোলে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আল হিলালকে হারাল নাসের

প্রয়োজনীয় সংস্কার করে যথাসম্ভব দ্রুত নির্বাচন দিতে হবে: মিয়া গোলাম পরওয়ার

প্রয়োজনীয় সংস্কার করে যথাসম্ভব দ্রুত নির্বাচন দিতে হবে: মিয়া গোলাম পরওয়ার

মুসল্লিদের বাধায় নাটক মঞ্চায়ন বাতিলের সংবাদ বিভ্রান্তিকর

মুসল্লিদের বাধায় নাটক মঞ্চায়ন বাতিলের সংবাদ বিভ্রান্তিকর

মানুষ ফ্যাসিবাদ মুক্ত বাংলাদেশে স্বাচ্ছন্দ্যে ঈদ উদযাপন করেছে: আবদুল হালিম

মানুষ ফ্যাসিবাদ মুক্ত বাংলাদেশে স্বাচ্ছন্দ্যে ঈদ উদযাপন করেছে: আবদুল হালিম

থাইল্যান্ড থেকে দেশের উদ্দেশে রওনা হলেন প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস

থাইল্যান্ড থেকে দেশের উদ্দেশে রওনা হলেন প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস

নারীবান্ধব পাবলিক টয়লেট

নারীবান্ধব পাবলিক টয়লেট

মেডিক্যাল ট্যুরিজম

মেডিক্যাল ট্যুরিজম

প্রেসার গ্রুপের ভালো-মন্দ

প্রেসার গ্রুপের ভালো-মন্দ

রাজধানীতে ট্রাফিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে হবে

রাজধানীতে ট্রাফিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে হবে

ইশার নামাজের সাথে সাথে বিতির নামাজ না পড়া প্রসঙ্গে?

ইশার নামাজের সাথে সাথে বিতির নামাজ না পড়া প্রসঙ্গে?

প্রশ্ন : মরণোত্তর চক্ষুদান বা অন্যান্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দান কি শরীয়ত সমর্থন করে?

প্রশ্ন : মরণোত্তর চক্ষুদান বা অন্যান্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দান কি শরীয়ত সমর্থন করে?

মানুষের শ্রেষ্ঠত্ব হচ্ছে উত্তম চরিত্রে

মানুষের শ্রেষ্ঠত্ব হচ্ছে উত্তম চরিত্রে

খালেস নিয়তে আমল করলে প্রতিদান সুনিশ্চিত

খালেস নিয়তে আমল করলে প্রতিদান সুনিশ্চিত

ঈদ আসে-ঈদ যায়, স্মৃতিটুকু রয়ে যায়

ঈদ আসে-ঈদ যায়, স্মৃতিটুকু রয়ে যায়

ইসলামের দৃষ্টিতে পরোপকারের গুরুত্ব ও ফজিলত

ইসলামের দৃষ্টিতে পরোপকারের গুরুত্ব ও ফজিলত

ভাড়া বৃদ্ধির প্রতিবাদ করায় যাত্রীকে মারধর

ভাড়া বৃদ্ধির প্রতিবাদ করায় যাত্রীকে মারধর

কৃষক জজ মিয়ার মৃত্যু নিয়ে রহস্য

কৃষক জজ মিয়ার মৃত্যু নিয়ে রহস্য

সরিষাবাড়ীতে বিএনপি’র দু’গ্রুপে দফায় দফায় সংঘর্ষ

সরিষাবাড়ীতে বিএনপি’র দু’গ্রুপে দফায় দফায় সংঘর্ষ

কনস্টেবলকে মারধরের অভিযোগ

কনস্টেবলকে মারধরের অভিযোগ