বাবা-মা’র কবরের পাশে ব্যারিস্টার মইনুলকে দাফন
১১ ডিসেম্বর ২০২৩, ১২:০১ এএম | আপডেট: ১১ ডিসেম্বর ২০২৩, ১২:০১ এএম
দেশবরেণ্য আইনজ্ঞ, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা এবং সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনের দাফন সম্পন্ন হয়েছে।
গতকাল রোববার দুই দফা জানাজা শেষে রাজধানীর আজিমপুর কবরস্থানে বাবা-মা’র পাশে তাকে দাফন করা হয়। এর আগে সকাল সাড়ে ১০টায় ঢাকার বারিধারাস্থ জামে মসজিদে প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। দ্বিতীয় জানাজা সম্পন্ন হয় দুপুর ২ টায় সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি প্রাঙ্গণে। জানাজায় ইমামতি করেন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি মসজিদের ইমাম মুফতি মুহাম্মদ আবু জাফর।
জানাজার-পূর্বে মরহুমের স্মৃতিচারণে বক্তব্য রাখেন প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান, অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন, সুপিম কোর্ট বার সভাপতি মোমতাজ উদ্দিন ফকির, ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনের ভাই আনোয়ার হোসেন মঞ্জু ও বড় ছেলে জাবেদ হোসাইন।
জানাজায় আপিল ও হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি, সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল, সুপ্রিম কোর্ট আইজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি ব্যারিস্টার এম.আমীর উল ইসলাম, অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন, ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন ও সুপ্রিম কোর্ট বারের সম্পাদক আবদুন নূর দুলালসহ বিপুল সংখ্যক আইনজীবী অংশ নেন। জানাজা শেষে মরহুমের কফিনে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন হয়।
গত শনিবার সন্ধ্যায় ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন (৮৪) ইন্তেকাল করেন। দীর্ঘদিন ধরে তিনি ক্যান্সারে ভুগছিলেন। ক্যান্সার আক্রান্ত মইনুল হোসেনের শারীরীক অবস্থার অবনতি ঘটলে কয়েকদিন আগে তাকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল সন্ধ্যায় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তার মৃত্যুতে আইনাঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে আসে। প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান এক শোকবার্তায় মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন। মরহুমের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে গতকাল অর্ধেক দিন সুপ্রিম কোর্ট এবং হাইকোর্ট বিভাগের বিচারিক কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়।
বর্ষীয়ান এই আইনজীবী একাধারে ছিলেন আইনজীবী নেতা, আইনজ্ঞ, রাজনীতিবিদ,সম্পাদক, লেখক,কলামিস্ট ও সম্পাদক। তিনি দৈনিক ইত্তেফাকের প্রতিষ্ঠাতা ও সম্পাদক মরহুম তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়ার পুত্র। তার আরেক ভাই আনোয়ার হোসেন মঞ্জু একজন রাজনীতিবিদ।
ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন মুক্তিযুদ্ধের চেতনা , গণতন্ত্রকামী, সাচ্চা জাতীয়তাবাদী চিন্তা-চেতনায় সমৃদ্ধ একজন আলোকিত মানুষ। ১৯৭৩ সালে পিরোজপুর থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে তিনি প্রথম এমপি নির্বাচিত হন। তৎকালীন প্রেসিডেন্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৫ সালে সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে ‘বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ’ বিলুপ্ত করে ‘বাকশাল’ প্রতিষ্ঠা করলে এর প্রতিবাদে এমপি পদ থেকে পদত্যাগ করেন। বাংলাদেশের সংবাদপত্র মালিকদের সংগঠন ‘বাংলাদেশ সংবাদপত্র পরিষদ’ (বিএসপি)র সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। তিনি সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি হিসেবে ২০০০-২০০১ মেয়াদে নির্বাচিত হন।
ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন ২০০৭ সালে ড. ফখরুদ্দীন আহমদের নেতৃত্বে গঠিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা হিসেবে তথ্য, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত এবং ভূমি মন্ত্রণালয় এর দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৭ সালে তিনি মাসদার হোসেন মামলা এবং সুপ্রিম কোর্টের রায় অনুসারে নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগকে পৃথকীকরণের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করেন। ২০০৮ সালের ৮ জানুয়ারি তিনি বাংলাদেশের তত্ত্বাবধায়ক সরকার থেকে পদত্যাগ করেন।
ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন ১৯৪০ সালের ৩১ জানুয়ারি জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ১৯৬১ সালে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেন। তারপরে মিডল টেম্পলে আইন বিষয়ে পড়াশুনা করেন। ১৯৬৫ সালে বার এট ল’ সম্পন্ন করেন।
গ্রেফতার ও কারারবরণ : ২০১৪ সালে আওয়ামীলীগ নেতৃত্বাধীন সরকার বিতর্কিত নির্বাচনের মধ্য দিয়ে সরকার গঠন করলে ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন এর সমালোচনায় মুখর হন। সভাসেমিনার বক্তব্য প্রদান, টিভি টক শো এবং বিভিন্ন লেখালেখিতে সরকারের সমালোচনা করেন। এক পর্যায়ে তিনি সরকারের রোষানলে পড়েন। এর ধারাবাহিকতায় ২০১৮ সালের ১৬ অক্টোবর মধ্যরাতে নারী সাংবাদিক মাসুদা ভাট্টির সঙ্গে অনুষ্ঠিত বেসরকারি টেলিভিশন একাত্তর জার্নালে করা একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনের বিরুদ্ধে মানহানির অভিযোগ আনা হয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও বিষয়টি ভাইরাল করা হয়। ফলে সারাদেশের তার বিরুদ্ধে অসংখ্য ‘মানহানি’র মামলা হয়। এ মামলায় ওই বছর ২২ অক্টোবর জাসদ ( জেএসডি) আ স ম আব্দুর রবের উত্তরার বাসা থেকে গ্রেফতার করা হয়। ৩ মাসের বেশি সময় কারাভোগ করে ২০১৯ সালের ২৭ জানুয়ারি তিনি জামিনে মুক্তি পান। পরে উচ্চ আদালতের নির্দেশে ২০১৯ সালের ৩ সেপ্টেম্বর তাকে পুনরায় গ্রেফতার করা হয়। দেশের বিভিন্ন জেলায় দায়েরকৃত মামলায় হাজিরা দিতে গেলে সরকার সমর্থক নারীকর্মীদের দ্বারা তাকে চরমভাবে লাঞ্ছিত করা হয়।
বিভাগ : জাতীয়
মন্তব্য করুন
এই বিভাগের আরও
আরও পড়ুন
সম্মিলিতভাবে কাজ করলে পুলিশের প্রতি জনগণের পূর্ণ আস্থা ফিরে আসবে
অসহায় শীতার্তদের মাঝে রূপালী ব্যাংকের কম্বল বিতরণ
জনগণের সেবক হয়ে কাজ করতে চাই: ফখরুল ইসলাম
মীরসরাইয়ে অবৈধ বেহুন্দি ও মশারি জাল জব্দ
গণঅভ্যুত্থানে সংবাদমাধ্যমের চিত্র প্রদর্শনী করছে তরুণ কলাম লেখক ফোরাম
মারা গেলেন আসামি ধরতে গিয়ে আগুনে দগ্ধ এসআই মেহেদী
নালিতাবাড়ীতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগে ৭ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদন্ড
ফ্যাসিস্ট হাসিনার দোসর ১৩ হত্যার নির্দেশদাতা নাসিমের খুঁটির জোর কোথায়?
মানিকগঞ্জে এলজিইডির উদ্যোগে শীতার্তদের মাঝে কম্বল বিতরণ
বাংলাদেশে কখনো স্বৈরাচারের শাসন জনগণ মেনে নিবেনা: আমিনুল হক
প্রতিনিয়ত মোশাররফ করিমের থেকে শিখি: মম
অবৈধ ৭টি কয়লা তৈরির চুল্লি গুড়িয়ে দিয়েছে বরগুনার জেলা প্রশাসন
ময়মনসিংহে হেরিং বোন বন্ড (এইচবিবি) করণ প্রকল্পের লটারি অনুষ্ঠিত
পাঠ্যবইয়ে শহীদ আবু সাঈদের মৃত্যুর ভুল তারিখ সংশোধন, জড়িতদের শোকজ
টাঙ্গাইল হাসপাতালে চোর সন্দেহে এক ব্যক্তিকে গণপিটুনি দিয়ে হত্যা
স্থানীয় খেলোয়াড়দের পারফরমেন্স এবারের বিপিএলকে জাঁকজমক করেছে: আশরাফুল
কুয়েট ১ম বর্ষ ভর্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ
বিরলে বিরল প্রজাতির লক্ষীপেঁচা উদ্ধার
সাগর-রুনি হত্যা: সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউলকে ২ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ
অবিশ্বাস্য নতুন চুক্তিতে প্রতি মিনিটে রোনালদোর আয় ৪৩ হাজার টাকা!