প্রার্থীদের প্রচার-প্রচারণা শুরু
১৯ ডিসেম্বর ২০২৩, ১২:০৩ এএম | আপডেট: ১৯ ডিসেম্বর ২০২৩, ১২:০৩ এএম
নানা নাটক নানা কৌশলের পর প্রতীক বরাদ্দের মাধ্যমে শুরু হয়েছে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচার-প্রচারণা। গতকাল প্রতীক বরাদ্দ পেয়েই পুরোদমে মাঠে নেমে পড়েছেন চূড়ান্ত এমপি প্রার্থীরা। ভোটের মাঠে এবার নৌকা এবং লাঙ্গল প্রতীকের বাইরে আর তেমন পরিচিতি কোনো প্রতীক নেই। স্বতন্ত্র প্রার্থী যারা তাদের অনেকে ঈগল, ট্রাক, কেটলি এসব মার্কায় নির্বাচন করছেন। টানা ১৯ দিনজুড়ে চলবে এ প্রচার-প্রচারণা। আগামী ৫ জানুয়ারি শেষ হবে এ নির্বাচনী প্রচারণা। গত ১৭ ডিসেম্বর মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন আসন ভাগাভাগির পর যে অবস্থা দাঁড়িয়েছে তাতে এবারের নির্বাচনও যে প্রতিদ্বন্দ্বিতাহীন একতরফা হতে যাচ্ছে এটা অনেকটাই নিশ্চিত। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ আবারও বিপুল সংখ্যা গরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে এটা একেবারেই স্পষ্ট। ডামি প্রার্থী রাখার কৌশলের পরও নির্বাচনকে দৃশ্যত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ করতে পারেনি ক্ষমতাসীনরা। নির্বাচন অনেকটাই একতরফা হতে যাচ্ছে এটি এখন পরিষ্কার। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ অনেক দেন-দরবারের পর জাতীয় পার্টি এবং ১৪ দলীয় জোটের শরীকদেরকে মাত্র ৩২টি আসনে ছাড় দিয়েছে। ৩০০ আসনের মধ্যে আওয়ামী লীগ ২৯৮টিতে মনোনয়নপত্র জমা দেয় আওয়ামী লীগ। এর মধ্যে যাচাই-বাছাইয়ে পাঁচ জনের মনোনয়ন বাতিল হয়। আওয়ামী লীগের ২৯৩টি বৈধ আসনের মধ্যে জাতীয় পার্টিকে ২৬টি এবং ১৪ দলের শরিকদের ৬টি আসন ছেড়ে দেওয়ার পর আওয়ামী লীগ এখন ২৬৩ আসনে নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছে। অন্যদিকে জাতীয় পার্টির (জাপা) প্রার্থীরা ২৮৩ আসনে মনোনয়নপত্র দাখিল করলেও গতকাল অনেক আসন থেকেই প্রার্থিতা প্রত্যাহারের খবর পাওয়া গেছে। সর্বশেষ কতটি আসনে তাদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার হয়েছে, আর কতটি আসনে তারা লাঙ্গল প্রতীকে লড়াই করছেন তা জানাতে পারেনি দলটি। এ ছাড়া ১০১ আসনে আওয়ামী লীগের ডামি প্রার্থী স্বতন্ত্র হিসেবে নির্বাচন করছে। প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত হওয়ার পর সারাদেশের ৩০০ আসনে মোট প্রার্থী সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৮৯৬ জন। এর মধ্যে আওয়ামী লীগের ডামি প্রার্থী রয়েছে ১০১টি আসনে। মূলত এসব আসনে কিছুটা কৌশলী লড়াই হতে পারে। বাকি আসনে একতরফা ভোট হতে যাচ্ছে এমনটাই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বলেন, জাতীয় পার্টির এবং ১৪ দলের শরিকদের সঙ্গে আসন ভাগাভাগির পর এ নির্বাচন যে প্রতিদ্বন্দ্বিতাহীন একতরফা হতে চলেছে তা সবার কাছেই পরিষ্কার। এ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ আবারও একক সংখ্যা গরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে এটা নিশ্চিত। তাই এ নির্বাচনের প্রতি ভোটারদের আর কোনো আগ্রহ নেই। গত ১৭ ডিসেম্বর প্রার্থিতা প্রত্যাহারের পর গতকাল প্রতীক বরাদ্দের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিক প্রচার শুরু করেছেন প্রার্থীরা। বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট এ নির্বাচন বর্জন করছে। এই জোটের বাইরেও কট্টর ডানপন্থি ও কট্টর বামপন্থি হিসেবে পরিচিত একাধিক রাজনৈতিক দল নির্বাচন বর্জন করছে। এতে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ কেন্দ্রে ভোটার উপস্থিতি নিয়ে শঙ্কায় রয়েছে। ভোটার উপস্থিতি বাড়াতেই ডামি হিসেবে স্বতন্ত্র প্রার্থী মাঠে রাখছে তারা।
নির্বাচন কমিশনের (ইসি) তথ্যানুযায়ী ৪৪টি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের মধ্যে ২৭টি দল নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। তবে বাস্তবে ভোটের মাঠের চিত্র ভিন্ন। এর প্রধান কারণ হলো আওয়ামী লীগ ও সংসদের বিরোধী দল খ্যাত জাতীয় পার্টি (জাপা) ইতোমধ্যে সমঝোতার মাধ্যমে আসন ভাগাভাগি করেছে। এ ছাড়া আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটের শরিক দলের মধ্যেও আসন বণ্টন হয়ে গেছে। এতে করে ভোটের মাঠে যতটুকু প্রতিদ্বন্দ্বিতা হওয়ার সম্ভাবনা ছিল তা একেবারেই ঝিমিয়ে পড়েছে। এখন আওয়ামী লীগের ডামি প্রার্থী যারা স্বতন্ত্র হিসেবে লড়ছেন তারা হয়তো কোনো কোনো আসনে কিছুটা প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলতে পারেন। তবে আওয়ামী লীগ যে দুই শতাধিক আসন নিয়ে আবারও সরকার গঠন করতে যাচ্ছে এ বিষয়টি দিবালোকের মতো পরিষ্কার হয়ে যাওয়ায় নির্বাচন নিয়ে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে তেমন আগ্রহ থাকবে না এমনটাই বিশ্লেষকদের অভিমত। এবারের নির্বাচনে ‘কিংস পার্টি’ খ্যাত তৃণমূল বিএনপি, বিএনএম, বিএসপি এবং আরও কয়েকটি ইসলামী দলের নেতারা অনেক আসনে প্রার্থী দিলেও মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এখনও কেউ আসতে পারেনি। প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত হওয়ার পরে হাতেগোনা দু’-একটি আসন ছাড়া তাদের কেউ আলোচনায় নেই। আম-ছালা দু’টোই হারানোর মতো অবস্থা তাদের।
সারাদেশে ৩০০ আসনে ১ হাজার ৮৯৬ জন প্রার্থীর মধ্যে গতকাল প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। প্রতীক বরাদ্দ পেয়েই আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা প্রচারণায় নেমে পড়েছেন। ক্ষমতাসীন এ দলের ঢাকা-৮ আসনের প্রার্থী আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম গতকাল স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ (স্বাচিপ) এবং ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের ডাক্তার, নার্স ও কর্মকর্তা-কর্মচারী আয়োজিত নির্বাচনী প্রচারণার অনুষ্ঠানে অংশ নেন। এ অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, নির্বাচনী ট্রেন বহু আগেই চালু হয়ে গেছে। ট্রেন এখন দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে। প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। নৌকার পালে হাওয়া লেগেছে। এখন থেকে নৌকা চলবে।
ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ঢাকা-১০ আসনের প্রার্থী চিত্র নায়ক ফেরদৌস গতকাল প্রতীক বরাদ্দ পেয়ে সাংবাদিকদের বলেন, এতদিন নায়ক হিসেবে মানুষ আমাকে ভালোবেসেছে। এখন জনপ্রতিনিধি হিসেবে আমি সবার ভালোবাসা পেতে চাই। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী সম্পর্কে ফেরদৌস বলেন, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী তো বলার মতো নেই। প্রতিদ্বন্দ্বী সব সময়ই প্রতিদ্বন্দ্বী। প্রতিদ্বন্দ্বী কখনো দুর্বল ভাবলে চলবে না। কারণ, ভোটকেন্দ্রে বুথের ভেতর গিয়ে কে কাকে ভোট দেবে, তা জানি না। রাজধানী ঢাকা মহানগরের বাইরে ঢাকা জেলার উপজেলাগুলো নিয়ে পাঁচটি আসন গঠিত। সেগুলো হলো ঢাকা-১ (দোহার এবং নবাবগঞ্জ উপজেলা), ঢাকা-২ (কেরানীগঞ্জ মডেল থানা, সাভারের একাংশ ও কামরাঙ্গীরচর থানা), ঢাকা-৩ (কেরানীগঞ্জ উপজেলার জিনজিরা, আগানগর, তেঘরিয়া কোন্ডা ও শুভাঢ্যা ইউনিয়ন), ঢাকা-১৯ (সাভার-আশুলিয়া) ও ঢাকা-২০ (ধামরাই উপজেলা)। এ ৫টি আসনের ৩৪ জন প্রর্থী প্রতীক বরাদ্দ পেয়েছেন। তাদের মধ্যে ঢাকা-১ আসনে আওয়ামী লীগের সালমান ফজলুর রহমান দলীয় প্রতীক নৌকা, জাতীয় পার্টির প্রার্থী সালমা ইসলাম দলীয় প্রতীক লাঙ্গল, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির আ. হাকিম দলীয় প্রতীক আম, বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির (বিএসপি) সামসুজ্জামান চৌধুরীর দলীয় প্রতীক একতারা, গণফ্রন্টের শেখ মো. আলী দলীয় প্রতীক মাছ, বাংলাদেশ ওয়ার্কার্স পার্টির মো. করম আলীর দলীয় প্রতীক কাস্তে এবং তৃণমূল বিএনপির মুফিদ খান দলীয় প্রতীক সোনালী আঁশ বরাদ্দ পেয়েছেন।
ঢাকা-২ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হাবিবুর রহমান ট্রাক, ইসলামী ঐক্যজোটের আশরাফ আলী জিহাদী মিনার, আওয়ামী লীগের কামরুল ইসলাম নৌকা, জাতীয় পার্টির শাকিল আহমেদ লাঙ্গল প্রতীক বরাদ্দ পেয়েছেন। ঢাকা-৩ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী আলী রেজা ট্রাক, বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোটের (মুক্তিজোট) মো. রমজান ছড়ি, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির আবদুস সালাম আম, বাংলাদেশ কংগ্রেসের মোহাম্মদ জাফর ডাব, জাতীয় পার্টির মনির সরকার লাঙ্গল, আওয়ামী লীগের নসরুল হামিদ নৌকা প্রতীক বরাদ্দ পেয়েছেন। ঢাকা-১৯ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী তালুকদার মো. তৌহিদ জং মুরাদ ঈগল ও সাইফুল ইসলাম ট্রাক, গণফ্রন্টের নূরুল আমীন মাছ, তৃণমূল বিএনপির মাহবুবুল হাসান সোনালী আঁশ, বাংলাদেশ কংগ্রেসের মিলন কুমার ভঞ্জ ডাব, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির ইসরাফিল হোসেন সাভারী আম, বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির মো. জুলহাস একতারা, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের মো. সাইফুল ইসলাম নোঙর, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির আইরিন পারভিন কাঁঠাল ও আওয়ামী লীগের প্রার্থী এনামুর রহমান নৌকা প্রতীক বরাদ্দ পেয়েছেন।
ঢাকা-২০ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী এম এ মালেক ট্রাক, মোহাদ্দেছ হোসেন কাঁচি, বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোটের (মুক্তিজোট) আমিনুর রহমান ছড়ি, বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির মিনহাজ উদ্দিন একতারা, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির রেবেকা সুলতানা আম, জাতীয় পার্টি খান মোহাম্মদ ইসরাফিল লাঙ্গল ও আওয়ামী লীগের বেনজীর আহমদ দলীয় প্রতীক নৌকা বরাদ্দ পেয়েছেন।
গতকাল ঢাকা জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে প্রার্থী ও তাদের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে এই প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়। এ সময় জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা আনিসুর রহমান বলেন, প্রতীক বরাদ্দ পাওয়ার পর প্রার্থীরা তাদের ভোটের প্রচারণা শুরু করতে পারবেন। মনোনয়নপত্র দাখিলের সময় প্রার্থীদের আচরণবিধি প্রতিপালনের জন্য নির্দেশনাপত্র সরবরাহ করা হয়েছে। আগামীকাল মঙ্গলবার বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে প্রার্থীদের আচরণবিধি পালন ও মতবিনিময় সভার আয়োজন থাকবে। সেখানে প্রার্থীরা তাদের মতামত তুলে ধরতে পারবেন।
বিভাগ : জাতীয়
মন্তব্য করুন
এই বিভাগের আরও
আরও পড়ুন
খুশদীলের অলরাউন্ড নৈপুণ্যে রংপুরের আটে আট
বন্ধ হয়ে যাচ্ছে অনেক দেশের ভিসা
মেডিকেল কলেজে শিক্ষক বাড়ানোর কথা ভাবছে সরকার
ছাত্রদলের ‘মার্চ ফর জাস্টিস’ কর্মসূচি আজ
গাজার স্বাস্থ্য ব্যবস্থা পুনর্গঠনে ১০ বিলিয়ন ডলার প্রয়োজন
অন্তর্বর্তী সরকার ও রাজনৈতিক দলগুলোর দিকে তাকিয়ে ইইউ
ভারতের উদ্বেগের মধ্যে হাসিনা পরবর্তী বাংলাদেশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হচ্ছে পাকিস্তান
সান্ত¡না খুঁজে পাচ্ছেন না, দুই দেশে কলঙ্কিত টিউলিপ
দুর্নীতির মামলায় ইমরান খান ও বুশরা বিবির কারাদণ্ড
বিদেশে টাকা পাচারের রাজনীতি মানুষ চায় না : পীর সাহেব চরমোনাই
শেখ পরিবারের রক্তের জন্যই দুর্নীতিতে জড়িয়েছেন টিউলিপ -রিজভী
নামাজ মু’মিনের জন্য মেরাজস্বরূপ
ক্রেডিট কার্ডে বিদেশে বাংলাদেশিদের লেনদেন কমেছে
স্বনির্ভর অর্থনীতির পথে দেশ
বগুড়ার বিমানবন্দর দ্রুত চালুর দাবি
আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে বাংলাদেশকে মানবাধিকার লংঘন বন্ধ করতে হবে : হিউম্যান রাইটস ওয়াচ
হাজারীবাগের ট্যানারির গোডাউনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড
জুলাই বিপ্লব ঘোষণাপত্র দেওয়া জরুরি : নুরুল হক নুর
গণঅভ্যুত্থানের ইশতেহারে বিএনপির ভূমিকা লিখতে হবে : জয়নুল আবদিন
নির্বাচনে রাজনৈতিক নেতাদের পরিবেশ রক্ষায় প্রতিশ্রুতি দিতে হবে