ঝুঁকিপূর্ণ ভবন শনাক্তে রাজউক কমিটি গঠন করবে

বিস্ফোরণ ঝুঁকিতে ঢাকা

Daily Inqilab পঞ্চায়েত হাবিব

০৯ মার্চ ২০২৩, ১১:৪৮ পিএম | আপডেট: ২৫ মার্চ ২০২৩, ০৭:০৩ এএম

রাজধানীর ভবনগুলো এখন টাইম বোমায় পরিণত হয়েছে : অধ্যাপক ড. মেহেদী আহমেদ আনসারী
ঝুঁকিপূর্ণ ভবন শনাক্তে রাজউক থেকে একটি কমিটি গঠন করা হচ্ছে : মো. আনিছুর রহমান মিঞা
ভবন নির্মাণে পরিবেশবান্ধব ও টেকসই নির্মাণসামগ্রী নিশ্চিত করতে হবে : মো. আশরাফুল আলম
বিস্ফোরণে কলামগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ভবনের ভার নিতে পারছে না : শামসুদ্দিন আহমেদ
চারশ’ বছরের পুরোনো শহর রাজধানী ঢাকা প্রাকৃতিক দুর্যোগ ভূমিকম্পের ঝুঁকির পাশাপাশি মানবসৃষ্ট ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঝুঁকির মধ্যে পড়ে গেছে। এই বিস্ফোরণ ঝুঁকি কার্যত সরকারের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের অযোগ্যতা, অব্যবস্থাপনা, ঘুষ নিয়ে ভবন নির্মাণে অবৈধ অনুমোদন দেয়া, অপরিকল্পিত ভবন নির্মাণ ইত্যাদির কারণে সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে পুরান ঢাকায় আলো বাতাসহীন ঘিঞ্জি এলাকায় ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। অনুমোদনহীন ভবন নির্মাণ, মার্কেট নির্মাণ, গ্যাস-বিদ্যুৎ, ওয়াসা এবং ফায়ার সার্ভিসের তদারকি না থাকার কারণে রাজধানী ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঝুঁকি বাড়ছে। কোনো অঘটন ঘটলে রাজউক ও সিটি কর্পোরেশনসহ দায়িত্বশীল সংস্থাগুলো সক্রিয় হয়ে উঠে। পরে ‘যেই লাউ সেই কদু’ প্রবাদের মতো অনিয়ম, দুর্নীতি আর অব্যবস্থাপনা।

জানতে চাইলে বুয়েটের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মেহেদী আহমেদ আনসারী ইনকিলাবকে বলেন, রাজধানী ঢাকার ভবনগুলো যেন এখন টাইম বোমায় পরিণত হয়েছে। যেকোনো ধরনের অপঘাত যেকোনো সময় হতে পারে। মাত্র ১০০ ভবনের অকুপেন্সি সার্টিফিকেট আছে। এটা বিশ্বাস করা যায়! সব ধরনের ব্যবস্থা সঠিক থাকলে এই সার্টিফিকেট দেয়া হয়। আর ৫ বছর পরপর তা আবার চেক করে নতুন করে নিতে হয়। আসলে ভবনগুলো যাদের দেখার কথা তারা দেখছেন না। অপরিকল্পিত নগরায়ণ, অবৈধ রাসায়নিকের মজুত বন্ধ এবং অবৈধ গ্যাস-বিদ্যুতের লাইন বন্ধ করা গেলে বিস্ফোরণ ও অগ্নিঝুঁকি কমবে।

বিভিন্ন সংস্থার অনুসন্ধানী তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, রাজধানীর শতকরা ৫৫ ভাগ ভবনই ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। এর মধ্যে ২৯৯টি ঝুঁকিপূর্ণ ভবন শনাক্ত করা হয়েছে। তার মধ্যে ৮টি ভবন অতিঝুঁকিপূর্ণ রয়েছে। আর ১৮৭টি ভবনের ডিজাইনের সক্ষমতা বৃদ্ধি সুপারিশ করেছে রাজউক। রাজধানীর অনেক এলাকায় অপরিকল্পিত নগরায়ণ, অবৈধ রাসায়নিকের মজুত, অবৈধ গ্যাস-বিদ্যুতের লাইন, স্যুয়ারেজের লাইন এবং ওয়াসার পানির লাইনের তদারকি না থাকার কারণে বিস্ফোরণ ও অগ্নিঝুঁকি বাড়ছে। ৫২ বছর পরও রাজউক একটি শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে উঠেনি। প্রতিষ্ঠানটিতে সমস্যার কোনো শেষ নেই। প্রতিষ্ঠানটির স্বয়ং চেয়ারম্যান সেকথা অকপটে মেনেও নিয়েছেন। বিদ্যমান বাস্তবতায় ঝুঁকিপূর্ণ ভবন নিয়ন্ত্রণে আলাদা সেল গঠন করে দিলে তাদের সঙ্গে সবপক্ষ সমন্বয় করে একটি কৌশল ঠিক করতে পারবে। এই পরিস্থিতিতে রাজধানীর ভবনগুলোতে জরিপ চালানো জন্য একটি কমিটি গঠন করছে। এ কমিটি প্রতিমাসে মাসে রাজধানীর প্রতিটি ওয়ার্ডে ঝুঁকিপূর্ণ ভবন পরির্দশন করবেন এবং তালিকা তৈরি করেবন। সেখানে না আছে অগ্নিনিরাপত্তা, না আছে এই ধরনের বিস্ফোরণ ঠেকানোর কোনো ব্যবস্থা। শুধু তিতাসের লাইন কেন ওয়াসার লাইনেও গ্যাস জমে তা লিকেজ হয়ে বিস্ফোরণ ঘটতে পারে। এজন্য রাজউক, তিতাস বা ওয়াসার কোনো দায়িত্ব আছে বলে মনে হয় না। আর নাগরিকরাও উদাসীন। একটি অ্যাপার্টমেন্টের ইলেট্রিক সিস্টেম যা তাতে হয়তো একটি এসি চালানো সম্ভব। কিন্তু চালানো হচ্ছে পাঁচটি। চাপ না নিতে পেরে বিদ্যুতের লাইন জ্বলে যায়, এসি বিস্ফোরণ ঘটে। এছাড়া রাজউকে অনেক পুরোনো ভবনের ফাইল খুঁজে পাচ্ছে না। ১০০ বছরের পুরোনো ভবন ও মার্কেটগুলো নতুন করে নির্মাণ করার সুযোগ দেয়া সিদ্ধান্ত নেয়া হচ্ছে। আবার রাজধানীকে ভয়াবহ বিস্ফোরণ এবং দুর্ঘটনা ঘটলে তখন বিভিন্ন সংস্থা নড়েচড়ে বসে। অথচ ঘটনা ঘটনার আগে কোনো সরকারি সংস্থা এগুলো তদারকি করে করেছে না। তখন তাদের দায়িত্ব এড়িয়ে চলছে। সিদ্দিকবাজারের ভবনটি স্টেবল করার কাজ শুরু করেছে এবং নকশাবহির্ভূত বাড়ি নির্মাণ করায় রাজউকের উচ্ছেদ অভিযানও করছে।

এ বিষয়ে রাজউকের চেয়ারম্যান মো. আনিছুর রহমান মিঞা ইনকিলাবকে বলেন, রাজউক আওতাধীন এলাকার অনুমোদনহীন ভবন নিয়ে আমরা সুপারিশ করছি, যার অংশ হিসেবে অনুমোদনহীন ইমারত নির্মাণে ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ইমারতের ব্যত্যয়ের মাত্রার ওপর ভিত্তি করে কর্তৃপক্ষ নির্ধারিত ক্ষতিপূরণের অর্থ আদায় করতে পারে। এক্ষেত্রে ক্ষেত্র বিশেষে ইমারতে প্রয়োজনীয় কাঠামোগত সংশোধন, অপসারণ-পরিবর্তন সাপেক্ষে অনুমোদনহীন ইমারতের বৈধতা দেয়া যেতে পারে। তিনি বলেন, এখন থেকে রাজউক রাজধানীর সকল এলাকায় ঝুঁকিপূর্ণ ভবন শনাক্ত করার জন্য একটি কমিটি গঠন করা হচ্ছে। এ কমিটি সকল ভবনের তালিকা প্রস্তুত করবে।

চার দিনের ব্যবধানে রাজধানীর গুলিস্তান, সায়েন্স ল্যাবরেটরি এবং চট্টগ্রামে বড় ধরনের বিস্ফোরণসহ অগ্নিকা-ের ঘটনা মানুষকে শঙ্কার মধ্যে ফেলে দিয়েছে। ভাবনায় পড়েছেন সরকারের নীতিনির্ধারক মহল ও দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা। তবে প্রতিটি ঘটনার তদন্ত শেষে দায়িত্বশীলরা জানিয়েছেন, কোনো ঘটনায়ই নাশকতা কিংবা বিস্ফোরক দ্রব্য ব্যবহার করে পরিকল্পিতভাবে ঘটানো হয়নি। কেন নাশকতা বা সন্ত্রাসী ঘটনার শঙ্কা উড়িয়ে দিয়েছেন, এর কারণ হিসাবে তারা বলেছেন, ঘটনাস্থলে কোনো বিস্ফোরক বা কোনো ধরনের টুকরো, আইইডি সার্কিটের পাশাপাশি দুর্গন্ধযুক্ত বা কালো দাগের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। ধোঁয়ার সময় কোনো রঙিন বা কালো ধোঁয়া পাওয়া যায়নি, যা একটি অবিস্ফোরক বিস্ফোরণ নির্দেশ করে। তাছাড়া ভেতর থেকে উদ্ধার করা মৃতদেহ ঝাঁজরার কোনো চিহ্ন নেই, যা গ্যাসীয় বিস্ফোরণকে নির্দেশ করে। আর গুলিস্তানে হতাহতদের কোমর স্তরের ওপরে বার্ন ইনজুরি ইঙ্গিত করে যে গ্যাস সিলিন্ডারটি ৩ থেকে ৫ ফুট উচ্চতায় বিদ্যমান ছিল। এক্ষেত্রে মিথেন গ্যাস বিস্ফোরণেরও নির্দেশ করে।

হাউজিং অ্যান্ড বিল্ডিং রিসার্চ ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক মো. আশরাফুল আলম বলেন, পরিবেশ বাঁচাতে সব ভবন নির্মাণে এসব সামগ্রীর ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। পরিবেশবান্ধব ও টেকসই নির্মাণসামগ্রীর বিষয়ে বিশেষভাবে গুরুত্ব দিচ্ছে। পরিবেশবান্ধব ও টেকসই ভবন নির্মাণের বিষয়েও নির্দেশিকা তৈরি করেছে হাউজিং অ্যান্ড বিল্ডিং রিসার্চ ইনস্টিটিউট। এ নির্দেশিকা মেনে ভবন নির্মাণ করলে প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকেও রক্ষা পাবে ভবন।

রাজধানীতে অনুমোদন ছাড়া বা অনুমোদন নিয়ে বিধিবর্হিভূত ভবন নির্মাণ করা আইনত দ-নীয় অপরাধ। তাই অনুমোদন ছাড়া বা নিয়মের ব্যত্যয় করে নির্মিত ভবন অপসারণ করাই বিধান। কিন্তু রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) আওতাধীন এলাকার অনুমোদনহীন ভবন নিয়ে বিকল্প চিন্তা করতে হচ্ছে সংস্থাটিকে। যার অংশ হিসেবে উচ্চ হারে জরিমানা দিয়ে অনুমোদনহীন ভবন বৈধ করার সুপারিশ এসেছে নতুন বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনা বা ড্যাপের (২০২২-২০৩৫)। এজন্য ড্যাপের আওতায় বিধিমালা প্রণয়নে ১২ সদস্যের একটি কমিটি করা হয়েছে। কমিটি গঠনের বিষয়ে চলতি বছরের ৩১ জানুয়ারি একটি অফিস আদেশ জারি করেছে রাজউক। সেখানে বলা হয়েছে, ড্যাপের নতুন সুপারিশ অনুযায়ী, কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়া বা শর্ত ভেঙে নির্মিত ইমারত বৈধ করার বিষয়ে খসড়া বিধিমালা প্রণয়ন করা হবে। এ লক্ষ্যে ১২ সদস্যের একটি কমিটি গঠনের কথা জানানো হয় অফিস আদেশে। কমিটির আহ্বায়কের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রশাসন অনুবিভাগ-১-এর অতিরিক্ত সচিবকে। সদস্য হিসেবে থাকছেন রাজউকের পরিকল্পনা ও উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে থাকা দুই সদস্য, বাংলাদেশ স্থপতি ইনস্টিটিউটের (আইএবি) সভাপতি বা সাধারণ সম্পাদক, ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশের (আইইবি) সভাপতি বা সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের (বিআইপি) সভাপতি বা সাধারণ সম্পাদক, রাজউকের প্রধান প্রকৌশলী (বাস্তবায়ন), গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনা শাখা-৩-এর উপসচিব, রাজউকের নগর স্থপতি, নগর পরিকল্পনাবিদ (বাস্তবায়ন), অথরাইজড অফিসার (সংশ্লিষ্ট জোন), নগর পরিকল্পনাবিদ (পরিকল্পনা প্রণয়ন)। কমিটির কার্যপরিধিতে বলা হয়েছে, কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়া বা অনুমোদনের সময় শর্ত ভেঙে নির্মিত ইমারতগুলোকে বৈধ করার ক্ষেত্রে আবেদন পদ্ধতি, ফি ও জরিমানা নির্ধারণ পদ্ধতিসংক্রান্ত খসড়া বিধিমালা প্রণয়ন। ঢাকা মহানগর ইমারত (নির্মাণ, উন্নয়ন, সংরক্ষণ ও অপসারণ) বিধিমালা, ২০০৮ (ইমারত বিধিমালা) অনুযায়ী, যেসব স্থাপনা অননুমোদিত অথবা বিধিমালার বা অনুমোদনের শর্ত না মেনে নির্মিত হয়েছে সরেজমিনে পরিদর্শনের মাধ্যমে প্রতিবেদন প্রণয়ন। অবশ্যই সেটি বিদ্যমান ইমারত নির্মাণ বিধিমালা-২০০৮ এবং বিএনবিসি কোড পর্যালোচনা করে তৈরির জন্য বলা হয়েছে। সবশেষে প্রতিবেদনটি চূড়ান্ত করার জন্য ড্যাপ রিভিউ-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটিতে উপস্থাপন করতে হবে।

এ বিষয়ে রাজউকের নগর পরিকল্পনাবিদ ও ড্যাপের প্রকল্প পরিচালক আশরাফুল ইসলাম ইনকিলাবকে বলেন, কোনো ভবন নির্মাণে হয়তো রাজউকের অনুমোদন নেওয়া হয়নি, তবে অবকাঠামোগত নিরাপত্তার ভেরিফিকেশন ঠিক আছে। তাহলে এক্ষেত্রে বিদ্যমান আইনে ১০ গুণ জরিমানার বিধান রয়েছে। বিএনবিসি (বাংলাদেশ জাতীয় বিল্ডিং কোড) অনুযায়ী যদি অবকাঠামোগতভাবে ভবন নিরাপদ হয়, তখন তারা জরিমানা দিয়ে বৈধতা পাবে। এ বিষয়টি ইমারত নির্মাণ আইনেও রয়েছে। তবে ড্যাপের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ এমন কোনো ভবনকে অনুমোদন দেওয়া হবে না।

বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদের (বিসিএসআইআর)-পরিচালক ড. রেজাউল করিম ইনকিলাবকে বলেন, বিস্ফোরণের তীব্রতার কারণ হলো বিস্ফোরণটি বদ্ধ জায়গায় ঘটেছে। খোলামেলা জায়গায় হলে এতটা তীব্র হতো না। আমাদের অনেক মার্কেট এবং ভবন আছে যেগুলো বদ্ধ। ঠিক মতো আলো বাতাস যায় না, ঘিঞ্জি। ফলে মার্কেটগুলো নিয়ে আতঙ্কের কারণ আছে।

এ দিকে গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর মিরপুর-১১ এভিনিউ-৫ নকশাবহির্ভূত বাড়ি নির্মাণ করায় রাজউকের উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। অভিযানের সময় ৬টি বহুতল ভবনের অবৈধ অংশ ভেঙে ফেলা হয়। কয়েকটি বহুতল ভবনে এ অভিযান চালানো হয়।

ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (ডুয়েট) কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. হাসান মোহাম্মদ মোস্তফা আফরোজ বলেন, তিন কারণে সেখানে বিস্ফোরণ হতে পারে। প্রথমত স্যুয়ারেজ লাইন লিক করে গ্যাস যখন ভবনের মধ্যে বদ্ধ জায়গায় জমতে থাকে, তখন সেখান থেকে বিস্ফোরণ ঘটতে পারে। স্যুয়ারেজের গ্যাসের মধ্যে মিথেন ও হাইড্রোজেন সালফায়েড উভয়ই থাকে। এই দুটো গ্যাসে আগুন ধরে যায়। এটা হতে পারে যখন বাসার ওয়াশরুমের কমোড বা বেসিনটা অনেক দিন ধরে ব্যবহার হচ্ছে না, তখন এটা ফ্ল্যাশ না হওয়ায় পাইপের মধ্যে পানি যাচ্ছে না। এর ফলে গ্যাস জমা হতে পারে। এভাবে কোনো ফ্লোরে বা কক্ষে অনেক দিন ধরে গ্যাস জমা হতে থাকলে বিস্ফোরণ হতে পারে। আর তিতাস গ্যাসের লাইনে যদি লিকেজ থাকে তাহলেও গ্যাস জমে আগুন ধরে যেতে পারে বা গ্যাসের পরিমাণ বেশি জমলে বিস্ফোরণ ঘটতে পারে। মোট বাতাসের শতকরা পাঁচ ভাগ গ্যাস হলেই বিস্ফোরণ ঘটবে বা আগুন জ্বলবে। আমার মনে হয় সিদ্দিক বাজারের ভবনটির বেজমেন্টে অনেক বেশি গ্যাস জমেছিল। তাই এত ভয়াবহ আকারে বিস্ফোরণ হয়েছে।

রাজধানীর গুলিস্তানের সিদ্দিকবাজারে বিস্ফোরণে ক্ষতিগ্রস্ত সাততলা ভবনটি স্টেবল (দাঁড় করিয়ে রাখা) করার কাজ শুরু হচ্ছে বলে জানিয়েছেন রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) সদস্য (উন্নয়ন) মেজর (অব.) শামসুদ্দিন আহমেদ চৌধুরী। ভবনটি যাতে পড়ে না যায় আগে সে কাজটি করার ওপর জোর দেন রাজউকের এই কর্মকর্তা। আগামীকাল শনিবারের মধ্যে এই কাজ করা সম্ভব হবে।

গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে এসে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন শামসুদ্দিন আহমেদ। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত ভবনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে রাজউকের গঠিত কারিগরি কমিটির আহ্বায়ক। শামসুদ্দিন আহমেদ বলেন, বিস্ফোরণে কলামগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ভবনের ভার নিতে পারছে না। তাই কলামগুলোকে আলাদা করে ভবনের ভার নেয়ার উপযোগী করতে হবে।


বিভাগ : জাতীয়


আরও পড়ুন