প্রধান উপদেষ্টার চীন সফরে লাভবান হবে বাংলাদেশ !

Daily Inqilab অনলাইন ডেস্ক

২৫ মার্চ ২০২৫, ০১:২৭ পিএম | আপডেট: ২৫ মার্চ ২০২৫, ০১:৩৩ পিএম

ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার আগে সবশেষ যেই দেশ সফর করেছিলেন আওয়ামী লীগ সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সেই দেশেই সরকারপ্রধান হিসেবে প্রথম দ্বিপাক্ষিক সফরে যাচ্ছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস। কাল ২৬শে মার্চ শুরু হচ্ছে তার চার দিনের চীন সফর।

 

আওয়ামী লীগ সরকারের প্রতি ভারত নির্ভরতার অভিযোগ থাকলেও তাদের টানা চার মেয়াদে চীনের সঙ্গে সখ্য বজায় রেখে চলতে দেখা গেছে বাংলাদেশকে।

 

বিশেষ করে বড় অবকাঠামো নির্মাণ প্রকল্পগুলোতে চীনের সম্পৃক্ততা ও বিনিয়োগ ছিল উল্লেখযোগ্য।

 

তবে বাংলাদেশে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের কারণে সেই সম্পর্কের গতিতে 'একটা ছেদ পড়ে' উল্লেখ করে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে "নতুন করে গতি আনা প্রয়োজন" বলে মনে করেন চীনে দায়িত্ব পালন করা বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত মুন্সী ফয়েজ আহমদ।

সফরের তৃতীয় দিন ২৮শে মার্চ বেইজিংয়ে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করার কথা রয়েছে মুহাম্মদ ইউনূসের।

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা বলছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের প্রথম দ্বিপাক্ষিক সফর হওয়াটাই একে বিশেষভাবে তাপর্যপূর্ণ করে তুলেছে।

প্রধান উপদেষ্টার সফরটি ভূ-রাজনীতিতে ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়ক হতে পারে বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা।

আওয়ামী লীগ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে প্রতিবেশী ভারতের সাথে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে টানাপোড়েন চলছে।

আবার যুক্তরাষ্ট্রের বিগত বাইডেন প্রশাসনের সাথে অন্তর্বর্তী সরকারের সৌহার্দ্য দৃশ্যমান হলেও এ ব্যাপারে বর্তমান ট্রাম্প প্রশাসনের নীতি এখনও স্পষ্ট নয়।

একদিকে ভারতের সাথে চীনের আঞ্চলিক আধিপত্যের প্রশ্নে বৈরিতা রয়েছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে চীনের বৈরিতা বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে যা ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর আরও ঘনীভূত হয়েছে।

সে কারণে চীনে মুহাম্মদ ইউনূসের সফর প্রতিবেশী ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কে কী প্রভাব রাখবে তা নিয়েও আলোচনা আছে।

তবে সব আলোচনা ছাপিয়ে এই সফর থেকে অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে বাংলাদেশের লাভবান হওয়ার সম্ভাবনা অধিকতর বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা।

পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন গত রোববার গণমাধ্যমকে জানান, প্রধান উপদেষ্টার আসন্ন চীন সফরে দেশটির সঙ্গে কোনো চুক্তি সই হচ্ছে না। তবে কয়েকটি সমঝোতা স্মারক সই হতে পারে।

সাবেক কূটনীতিক ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা বলছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের 'মেয়াদের সীমাবদ্ধতার' কারণে বড় চুক্তির মতো কোনো পদক্ষেপ না আসাই স্বাভাবিক।

তবে এই সরকারের সময়ে হওয়া সমঝোতা কিংবা প্রাথমিক উদ্যোগকে পরবর্তী সরকারগুলো এগিয়ে নেওয়ার পথ তৈরি হবে।

কূটনৈতিক প্রভাব
বাংলাদেশে গত দেড় দশকে আওয়ামী লীগ সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের প্রথম দ্বিপাক্ষিক সফরের গন্তব্য বরাবরই ছিল নয়া দিল্লি।

কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেনের প্রথম দ্বিপাক্ষিক সফর হয় চীনে, গত জানুয়ারিতে।

১৯৭৫ সালে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দিয়ে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করে চীন। এ বছর দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ বছর পূর্ণ হতে চলেছে।

ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন এর মতে, ৫০ বছর পূর্তিকে সামনে রেখে অধ্যাপক ইউনূসের সফর হবে একটি মাইলফলক।

এদিকে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রত্যাশার কথা জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম সম্প্রতি জানান, এই সফরের মধ্য দিয়ে দুই দেশের সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে।

কূটনৈতিকভাবে প্রধান উপদেষ্টার সফরটি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা।

প্রসঙ্গত, ক্ষমতাচ্যূত হওয়ার ঠিক এক মাস আগে ৮ জুলাই বেইজিং সফরে যান তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ১১ জুলাই সফর শেষ করার কথা থাকলেও একদিন আগে দেশে ফেরেন তিনি। সফরে ২১টি সমঝোতা স্বাক্ষর সই হয়।

ওই সফরের আগে ধারণা করা হচ্ছিল তিস্তা প্রকল্প, রোহিঙ্গা সমস্যা, বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং অর্থনৈতিক সংকট সমাধানের বিষয়ে চীনের ঋণ পেতে আলোচনা হবে।

কিন্তু সফরের শেষে দুই দেশের দিক থেকে যে যৌথ বিবৃতি প্রকাশিত হয় সেখানে তিস্তা মহা-পরিকল্পনা নিয়ে কোনো কথা ছিল না। বাণিজ্য, বিনিয়োগ কিংবা অবকাঠামো উন্নয়নের ক্ষেত্রে চীনের দিক থেকে বড় কোনো প্রতিশ্রুতিও দেখা যায়নি।

চীনের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে সে দেশে দায়িত্ব পালনকারী সাবেক বাংলাদেশি রাষ্ট্রদূত মুন্সী ফয়েজ আহমদ বিবিসি বাংলাকে বলেন, "শুরুটা চীন দিয়ে হয়েছে, ভারত-যুক্তরাষ্ট্র সব দেশের সাথেই সম্পর্ক ঝালিয়ে নিতে হবে। যেহেতু এটা দিয়ে শুরু হয়েছে এর একটা বাড়তি গুরুত্ব দিতেই হবে।"

"নতুন সরকার আসার পর সরকারের জন্য এটা প্রতিষ্ঠা করা গুরুত্বপূর্ণ যে সবার সঙ্গে কাজ চালিয়ে যাচ্ছি," যোগ করেন মি. আহমদ।

বাংলাদেশে তিস্তা নদীকে ঘিরে চীনের অর্থায়নে একটি মহাপরিকল্পনার ব্যাপারে দীর্ঘদিন ধরে নানা কথাবার্তা শোনা গেলেও এ সফরে তেমন বড় কোনো ঘোষণা আসার সম্ভাবনা দেখেন না বিশ্লেষকরা।

"অন্তর্বর্তী সরকারের কিছু সীমাবদ্ধতা আছে। কোনো সহযোগিতার বিষয়ে এগোলে এই কথাটা মাথায় রেখেই এগোতে হবে অন্যপক্ষকে," বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন মুন্সী ফয়েজ আহমদ।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক সৈয়দা রোজানা রশীদ-এর মতে, রাজনৈতিক দিক থেকে এই সফরের একটা 'সিম্বলিক ভ্যালু' (প্রতীকী গুরুত্ব) আছে।

"অন্তর্বর্তী সরকারের যে দায়িত্ব তা যদি তারা পূরণ করতে পারে, নির্বাচিত সরকারও এটা ক্যারি অন (এগিয়ে নিতে) করতে পারবে। আর, দেশের বাইরেও এটা একটা উদাহরণ হয়ে থাকবে।"

ভূ-রাজনৈতিক তাৎপর্য
বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট ও দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতির সমীকরণকে জটিল বলে বর্ণনা করছেন বিশ্লেষকরা।

আঞ্চলিক আধিপত্যের বিচারে সীমান্তসহ বিভিন্ন ইস্যুতে ভারত ও চীনের মধ্যে বৈরিতা আছে। কিন্তু, রাশিয়ার সঙ্গে বন্ধুত্বসহ বিভিন্ন ইস্যুতে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে তাদের মধ্যে মতৈক্যও দেখা যায় বলে মত অধ্যাপক রোজানা রশীদের।

"এমনকি মাল্টিল্যাটারাল (বহুপক্ষীয়) ইস্যুতে ভারত-চীন কখনো কখনো পরস্পরকে সহায়তাও করে," যোগ করেন তিনি।

অন্যদিকে, দক্ষিণ এশিয়ায় নিজেদের আধিপত্য বাড়ানো ও পরস্পরের উপস্থিতি প্রতিহত করতে প্রতিযোগিতা চালিয়ে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও চীন।

তার সঙ্গে যোগ হয়েছে, মিয়ানমার পরিস্থিতি। যেখানে চীনের প্রভাব অন্যদের তুলনায় বেশি।

নিরাপত্তা বিশ্লেষক অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. বায়েজিদ সরোয়ার বিবিসি বাংলাকে বলেন, অধ্যাপক ইউনূসের ব্যক্তিগত গ্লোবাল ইমেজ ও আন্তর্জাতিক যোগাযোগ চীন সফরে নতুন মাত্রা যোগ করবে।

"তবে, চীনের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে নতুন স্নায়ু যুদ্ধের বাস্তবতাও বিবেচনায় রাখা উচিত," বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন মি. সরোয়ার।

"সাম্প্রতিককালে মিয়ানমারের রাখাইনে পরিস্থিতির ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। সেখানে আরাকান আর্মি অধিকাংশ এলাকা দখল করেছে। আঞ্চলিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি নিরাপত্তা ঝুঁকি আসতে পারে এই রাখাইন থেকে," যোগ করেন তিনি।

মুন্সী ফয়েজ আহমদ বলেন, "দ্বিপাক্ষিক সফরের প্রস্তাব অন্য কারও দিক থেকে এলে সরকার সেটা নিশ্চয়ই গ্রহণ করতো। চীন আমন্ত্রণ জানিয়েছে, তাদের প্রস্তাবে সায় দিয়েছে সরকার। সম্পর্কটা এগিয়ে নেয়ার চেষ্টা করছে।"

"তার মানে এই নয় যে আমরা একদিকে ঝুঁকে যাচ্ছি," যোগ করেন মি. আহমদ।

অধ্যাপক রোজানা রশীদ বলছেন, "চীনের রাষ্ট্রদূতের কথায় স্পষ্ট যে তারা সহায়তা করতে চান। বাংলাদেশ অন্যদের সঙ্গে ব্যালান্স করেই তার স্বার্থ বজায় রাখার চেষ্টা করবে।"

"কস্ট-বেনিফিট অ্যানালাইসিস করলে বেনিফিটটাই বেশি হবে বলে আমি মনে করি," বলেন মিজ রশীদ।


বিভাগ : জাতীয়


মন্তব্য করুন

HTML Comment Box is loading comments...

এই বিভাগের আরও

সরকারের বিশেষ ব্যবস্থায় বেতন-বোনাস পেলেন সাড়ে ৩ লাখ শিক্ষক
সমালোচনার মুখে নিয়োগ বাতিল হলো প্রসিকিউটর আফরোজ পারভীন সিলভিয়ার
চীনের কাছে নদী ও পানি ব্যবস্থাপনার ৫০ বছরের মাস্টারপ্ল্যান চাইলো বাংলাদেশ
ঈদের আগে রেকর্ড, আবারও বাড়ল স্বর্ণের দাম
কুরআনের আলোয় এদেশকে আলোকিত করতে হবে : ধর্ম উপদেষ্টা
আরও
X

আরও পড়ুন

ঈদ রাঙাতে ‘ঈদ আনন্দ’

ঈদ রাঙাতে ‘ঈদ আনন্দ’

বিটিভির ঈদের ব্যান্ড শোতে জনপ্রিয় ব্যান্ড দল

বিটিভির ঈদের ব্যান্ড শোতে জনপ্রিয় ব্যান্ড দল

ঈদে বিটিভিতে বিশাল আয়োজনে বর্নাঢ্য ‘ইত্যাদি’

ঈদে বিটিভিতে বিশাল আয়োজনে বর্নাঢ্য ‘ইত্যাদি’

বেফাকের কেন্দ্রীয় পরীক্ষার ফল প্রকাশ : পাসের হার ৮০:৩৮

বেফাকের কেন্দ্রীয় পরীক্ষার ফল প্রকাশ : পাসের হার ৮০:৩৮

বৈষম্যহীন নতুন বাংলা বিনির্মাণে জুলাই যোদ্ধাদের ভুলে গেলে চলবে না -নওগাঁ জেলা প্রশাসক

বৈষম্যহীন নতুন বাংলা বিনির্মাণে জুলাই যোদ্ধাদের ভুলে গেলে চলবে না -নওগাঁ জেলা প্রশাসক

রাজধানীতে গার্মেন্টস শ্রমিকদের ভুখা মিছিল

রাজধানীতে গার্মেন্টস শ্রমিকদের ভুখা মিছিল

আন্দোলনরত শ্রমিকদের বকেয়া অবিলম্বে পরিশোধ করতে হবে : সাইফুল হক

আন্দোলনরত শ্রমিকদের বকেয়া অবিলম্বে পরিশোধ করতে হবে : সাইফুল হক

মানবিক দেশ গঠনের আগ পর্যন্ত দেশবাসীকে আন্দোলন সংগ্রাম চালাতে হবে -জামায়াত আমির

মানবিক দেশ গঠনের আগ পর্যন্ত দেশবাসীকে আন্দোলন সংগ্রাম চালাতে হবে -জামায়াত আমির

ঈদে রাজধানীর নিরাপত্তায় ৪২৬ জনকে ‘অক্সিলারি ফোর্সে’ নিয়োগ

ঈদে রাজধানীর নিরাপত্তায় ৪২৬ জনকে ‘অক্সিলারি ফোর্সে’ নিয়োগ

ভোটে হারেননি, এখন ন্যায়বিচার পেয়েছেন ইশরাক হোসেন

ভোটে হারেননি, এখন ন্যায়বিচার পেয়েছেন ইশরাক হোসেন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে হবে ঈদ র‌্যালি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে হবে ঈদ র‌্যালি

টিভিতে দেখুন

টিভিতে দেখুন

প্রতিশোধের ম্যাচে শীর্ষস্থান মজবুত করলো বার্সা

প্রতিশোধের ম্যাচে শীর্ষস্থান মজবুত করলো বার্সা

পাঁচ উশুকার বিশ্বকাপ আফসোস

পাঁচ উশুকার বিশ্বকাপ আফসোস

টেস্ট ক্যারিয়ার বেঁচে যাচ্ছে রোহিতের!

টেস্ট ক্যারিয়ার বেঁচে যাচ্ছে রোহিতের!

যৌন নিপীড়ন মামলা থেকে অব্যাহতি পেলেন দানি আলভেস

যৌন নিপীড়ন মামলা থেকে অব্যাহতি পেলেন দানি আলভেস

মৃত্যুর আগে ১২ ঘণ্টা যন্ত্রণায় ভুগেন ম্যারাডোনা!

মৃত্যুর আগে ১২ ঘণ্টা যন্ত্রণায় ভুগেন ম্যারাডোনা!

ভুটান লিগে খেলবে আরো ৪ নারী ফুটবলার

ভুটান লিগে খেলবে আরো ৪ নারী ফুটবলার

ঈদের আগে বেতন পাননি নারী ফুটবলার-রেফারিরা!

ঈদের আগে বেতন পাননি নারী ফুটবলার-রেফারিরা!

হাসপাতাল থেকে বাসায় ফিরলেন তামিম

হাসপাতাল থেকে বাসায় ফিরলেন তামিম