এখন মানুষের গণদাবি আ.লীগ নিষিদ্ধ করা: নাহিদ

Daily Inqilab অনলাইন ডেস্ক

৩১ মার্চ ২০২৫, ০৭:১৯ পিএম | আপডেট: ৩১ মার্চ ২০২৫, ০৭:৪৫ পিএম

 

বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের রাজনীতি করার কোনও অধিকার নেই। দলটির কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা এই মুহূর্তে বাংলাদেশের মানুষের গণদাবি।

 

আজ সোমবার দুপুরে জুরাইন কবরস্থানে জুলাই গণঅভ্যূত্থানের শহিদদের কবর জিয়ারত শেষে এ কথা বলেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।

 

নাহিদ বলেন, আওয়ামী লীগের বিষয়ে অবস্থান খুবই স্পষ্ট। আগেও বলেছি, এখনও বারবার করে বলছি, আওয়ামী লীগের এ দেশে রাজনীতি করার কোনও অধিকার নেই। আওয়ামী লীগ বাংলার মাটিতে আর রাজনীতি করতে পারবে না। ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ ও মুজিববাদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের জনগণ রায় দিয়েছে।

 

তিনি আরও বলেন, এখন সেই রায় কোন প্রক্রিয়ায় কার্যকর হবে, সেটা হচ্ছে আলোচনার বিষয়। যেহেতু বিচার চলছে, আমরা বিচারের প্রতি আস্থাশীল। আমরা মনে করি, বিচার এবং রাজনৈতিক ঐকমত্যের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের যে বিষয়টি সেটি সুরাহা হতে পারে।

 

এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, ঈদে আনন্দের মাঝেও আমাদের মধ্যে দুঃখ রয়েছে, কারণ গণঅভ্যুত্থানে আমরা যেসব ভাইবোনকে হারিয়েছি, তাদের ছাড়া অনেকগুলো পরিবার ঈদ পালন করছে। সেই কষ্ট, সেই বেদনার ভাগ নিতেই জুরাইন কবরস্থানে এসেছি। এখানে ১০–১২ জন শহীদের কবর রয়েছে। আমরা কবর জিয়ারত করেছি। পরিবারের সঙ্গে কথা বলেছি, এই ঈদের আনন্দের মাঝে পরিবারগুলো কেমন আছে, সেই শহিদদের স্মরণ করা এবং সেই পরিবারগুলোর কষ্ট ভাগ করা যার জন্য মূলত আজকে এখানে আসা।

 

আওয়ামী লীগের বিচারের বিষয়ে তিনি বলেন, বিষয়টি বরাবরের মতোই বলে আসছি। এই পরিবারগুলোর সামনে তো আমরা দাঁড়াতে পারব না। জাতি হিসেবে আমরা যদি তাদের ন্যায়বিচার দিতে না পারি, প্রত্যেক মা-বাবার কাছে সরকার থেকে সহযোগিতা; এগুলো তাদের কাছে বড় বিষয় না, মূলত ন্যায়বিচারটা তারা যাতে পায়, তাদের সন্তানকে যারা গুলি করেছে, হত্যা করেছে এবং আমাদের দলীয় এজেন্ডার মধ্যে বিচার, সংস্কার, গণপরিষদ নির্বাচন তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের মধ্যে বিচারটাকে আমরা প্রথমে রেখেছি এবং গুরুত্ব দিচ্ছি।

 

নাহিদ ইসলাম বলেন, আপাৎকালীন আমরা বলছি যে, আওয়ামী লীগের নিবন্ধন বাতিল করা উচিত। আওয়ামী লীগ মার্কা আগামী নির্বাচনে থাকবে না। এটাই শহিদ, আহত পরিবারসহ গণদাবি আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা।

 

অভ্যুত্থানে আহত ও নিহতের পরিবারকে সহযোগিতার বিষয়ে তিনি আরও বলেন, আর সরকারের পক্ষ থেকে পাশে দাঁড়ানো ও সহযোগিতার যে কমতি রয়েছে, সেটা আরও বাড়ানো উচিত, আমি যখন দায়িত্বে ছিলাম, আমি আমার জায়গা থেকে চেষ্টা করেছি, যে পরিবারকে যেটা সহযোগিতা মাসিক ভাতার যে ঘোষণা হয়েছিল সেটা ঈদের আগে দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু আমরা যোগাযোগ করেছি, খুব কম পরিমাণ পরিবারের কাছে সেটি পৌঁছাতে পেরেছে। আমরা আশা করব, সরকার এসব বিষয়ে যে প্রতিশ্রুতি বা ঘোষণা দিয়েছে, তা দ্রুতগতিতে বাস্তবায়ন করবে।


বিভাগ : জাতীয়


মন্তব্য করুন

HTML Comment Box is loading comments...

এই বিভাগের আরও

নরেন্দ্র মোদীকে আলোকচিত্র উপহার দিলেন প্রধান উপদেষ্টা
শেখ হাসিনাকে ফেরত চাইলেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস
আল্লামা আতাউল্লাহ ইবনে হাফেজ্জী হুজুরের ইন্তেকাল, রাত ১০টায় জানাযা
কিভাবে বাংলাদেশকে বদলে দিলেন ড. ইউনূস? তার সাফল্য কি!
প্রয়োজনীয় সংস্কার শেষে নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজন করবো: ড. ইউনূস
আরও
X

আরও পড়ুন

হোসেনপুরে দেশের ২য় বৃহত্তম অষ্টমী স্নানোৎসব

হোসেনপুরে দেশের ২য় বৃহত্তম অষ্টমী স্নানোৎসব

'মুক্তচিন্তা ও তারুণ্যে, জাবিসাস চুয়ান্নে'

'মুক্তচিন্তা ও তারুণ্যে, জাবিসাস চুয়ান্নে'

মানিকগঞ্জে রাস্তার পাশে রক্তাক্ত কার্টুন ঘিরে চাঞ্চল্য সৃষ্টি, ঘটনাস্থলে শত শত লোকের ভিড়

মানিকগঞ্জে রাস্তার পাশে রক্তাক্ত কার্টুন ঘিরে চাঞ্চল্য সৃষ্টি, ঘটনাস্থলে শত শত লোকের ভিড়

নরেন্দ্র মোদীকে আলোকচিত্র উপহার দিলেন প্রধান উপদেষ্টা

নরেন্দ্র মোদীকে আলোকচিত্র উপহার দিলেন প্রধান উপদেষ্টা

প্রতিটি লঞ্চে ধারণ ক্ষমতার চেয়ে অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে পাড়ে ভিড়ছে

প্রতিটি লঞ্চে ধারণ ক্ষমতার চেয়ে অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে পাড়ে ভিড়ছে

নেত্রকোণায় চাঞ্চল্যকর মাজেদা হত্যাকাণ্ডঃ ২ যুবক গ্রেফতারঃ মোবাইল-টাকা উদ্ধার

নেত্রকোণায় চাঞ্চল্যকর মাজেদা হত্যাকাণ্ডঃ ২ যুবক গ্রেফতারঃ মোবাইল-টাকা উদ্ধার

শেখ হাসিনাকে ফেরত চাইলেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস

শেখ হাসিনাকে ফেরত চাইলেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস

যুক্তরাষ্ট্রের যানবাহনের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ কানাডার

যুক্তরাষ্ট্রের যানবাহনের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ কানাডার

আল্লামা আতাউল্লাহ ইবনে হাফেজ্জী হুজুরের ইন্তেকাল, রাত ১০টায় জানাযা

আল্লামা আতাউল্লাহ ইবনে হাফেজ্জী হুজুরের ইন্তেকাল, রাত ১০টায় জানাযা

ট্রাম্পের নতুন শুল্ক ব্যবস্থায় জনমানবহীন পেঙ্গুইন-পাখির দ্বীপও অন্তর্ভুক্ত

ট্রাম্পের নতুন শুল্ক ব্যবস্থায় জনমানবহীন পেঙ্গুইন-পাখির দ্বীপও অন্তর্ভুক্ত

শেরপুরে লেবু চাষে ভাগ্য খুলেছে জুলহাস উদ্দিনের

শেরপুরে লেবু চাষে ভাগ্য খুলেছে জুলহাস উদ্দিনের

বিলুপ্তির পথে শেরপুরের তেঁতুল গাছ, মুখরোচক আচারের প্রধান উপকরণ তেঁতুল!

বিলুপ্তির পথে শেরপুরের তেঁতুল গাছ, মুখরোচক আচারের প্রধান উপকরণ তেঁতুল!

মাদারীপুরে কৃষকের হাত কেটে নিল সন্ত্রাসীরা

মাদারীপুরে কৃষকের হাত কেটে নিল সন্ত্রাসীরা

মিয়ানমারে ভূমিকম্পের পরপরই আন্তর্জাতিক সম্মেলনে জান্তা প্রধানের সফর

মিয়ানমারে ভূমিকম্পের পরপরই আন্তর্জাতিক সম্মেলনে জান্তা প্রধানের সফর

মাদারীপুরে ভোররাতে আগুনে পুড়লো ১৯ দোকান, ক্ষতি কয়েক কোটি টাকা

মাদারীপুরে ভোররাতে আগুনে পুড়লো ১৯ দোকান, ক্ষতি কয়েক কোটি টাকা

চালের চেয়েও ছোট পেসমেকার উদ্ভাবন, চিকিৎসায় নতুন সম্ভাবনা

চালের চেয়েও ছোট পেসমেকার উদ্ভাবন, চিকিৎসায় নতুন সম্ভাবনা

কিভাবে বাংলাদেশকে বদলে দিলেন ড. ইউনূস? তার সাফল্য কি!

কিভাবে বাংলাদেশকে বদলে দিলেন ড. ইউনূস? তার সাফল্য কি!

বকশীগঞ্জে ৬ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পুড়ে ছাই

বকশীগঞ্জে ৬ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পুড়ে ছাই

কুয়াকাটা সৈকত দখল করে নির্মাণ হচ্ছে ঝুঁকিপূর্ণ মার্কেট, পাশেই থাকে হাজারো পর্যটকের অবস্থান

কুয়াকাটা সৈকত দখল করে নির্মাণ হচ্ছে ঝুঁকিপূর্ণ মার্কেট, পাশেই থাকে হাজারো পর্যটকের অবস্থান

ফোর্বসের ধনী তালিকায় রেকর্ডসংখ্যক সউদী বিলিয়নিয়ার

ফোর্বসের ধনী তালিকায় রেকর্ডসংখ্যক সউদী বিলিয়নিয়ার