ঢাকা   বৃহস্পতিবার, ০৯ জানুয়ারি ২০২৫ | ২৫ পৌষ ১৪৩১

ডায়রিয়া থেকে লবণ তারতম্য

Daily Inqilab ইনকিলাব

০৯ জানুয়ারি ২০২৫, ১২:১২ এএম | আপডেট: ০৯ জানুয়ারি ২০২৫, ১২:১২ এএম

এই শীতেও বাড়ছে ডায়রিয়া। এই সময়ে ডায়রিয়া বাড়ার বড় কারন হচ্ছে রোটা ভাইরাস আর নরো ভাইরাসের আধিক্য। অনেকটা সময় একসাথে অনেকে মিলে একসাথে থাকে, তাই এটা ছড়িয়ে পরে দ্রুত। আবার এই সময়ে খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তনও এতে ভুমিকা রাখে। শীতের কারনে ধোয়া ধুয়ি কম হওয়াটাও একটা কারন হিসাবে ধরা হয়। ঠান্ডার কারনে ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতায়ও গাফিলতি দেখা দেয়। আবার গবেষণায় দেখা গেছে এই সময়ে ঠান্ডায় শরীরের ইমিউন সিস্টেমও কিছুটা দুর্বল হয়। গরমের সময়টাতে ব্যাকটেরিয়া সংক্রমনের কারনের ডায়রিয়া বেশী হয়, তবে বেড়াতে গিয়ে বা অন্য কোথাও বাইরের খাবার খেয়ে এই শীতেও এটা সংক্রমিত হতে দেখা যাচ্ছে। শীতের এই সময়টাতে স্কুল, কলেজ কিছুটা শিথিল থাকার কারনে অনেকেই বাইরে খাবার খাচ্ছেন, আর আক্রান্ত হচ্ছেন বিভিন্ন রকমের ডায়রিয়ায়।

ডায়রিয়া যেকোনো বয়সের মানুষের জন্য সাধারণ একটি রোগ। তবে শিশুদের ক্ষেত্রে ডায়রিয়া পরবর্তী কিছু সমস্যা প্রায়ই জটিল আকার ধারণ করতে দেখা যায়। বারবার পাতলা পায়খানার সাথে শরীর থেকে প্রচুর পানি, লবণ (এবং অন্যান্য পুষ্টিকণিকা) বের হয়ে যায়। একজন বয়স্ক ব্যাক্তির তুলনায় শিশুদের শরীরে জলীয় অংশের আপেক্ষিক পরিমান অনেক বেশি। তাই এই পানি ও লবণ ঘাটতি খুব প্রকট হতে পারে। এই লেখায় আমি প্রধান কয়েকটি লবণের তারতম্য আলোচনা করব।

১। পটাশিয়াম ঘাটতিঃ আমাদের অন্ত্রের তরলে প্রচুর পটাশিয়াম থাকে। পাতলা পায়খানার ফলে এই লবণ খুব বেশি বের হয়ে যায়। এর অভাবে পেট ফেঁপে ফুলে যাওয়া, মাংসপেশির শিথিলতা, অন্ত্রের স্বাভাবিক সংকোচন-প্রসারণ ব্যাহত হওয়া, হৃৎপিন্ডের গতিতে সমস্যা পর্যন্ত হতে পারে। আবার শিশুর যদি আগে থেকে তীব্র মারাত্মক অপুষ্টি রোগ থাকে, তাহলে মৃত্যু পর্যন্ত হওয়ার নজির আছে। ছয়মাসের অধিক বয়সের সবাইকে আমরা ডায়রিয়া হলে (এবং বৃক্কের অন্য কোন সমস্যা না থাকলে) কলা (কাঁচা, পাকা), ডাবের পানি, ফলের রস খেতে বলি এই পটাশিয়াম ঘাটতি প্রতিরোধের জন্য। মুখে খাওয়ার স্যালাইনেও এই লবণ থাকে। তবে লবণ বেশি কমে গেলে মুখে কিংবা রক্তের শিরায় পটাশিয়াম দেওয়া লাগতে পারে।

২। সোডিয়াম (এবং ক্লোরাইড) ঘাটতিঃ অন্ত্রের তরলে পটাশিয়ামের পাশাপাশি সোডিয়াম এবং ক্লোরাইডও থাকে। এছাড়া সাথে বমি থাকলে আরও বেশি করে সোডিয়াম কমে যায়। খাওয়ার স্যালাইন গ্রহণে এই ঘাটতি পুরন হতে পারে। বেশী কমে গিয়ে কোন লক্ষন দেখা দিলে নরমাল স্যালাইন বা আরও ঘন স্যালাইন দেয়া হয়।

৩। সোডিয়াম আধিক্যঃ এই লেখার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ সোডিয়াম আধিক্যের সমস্যা। খাওয়ার স্যালাইন যদি পরিমাণের চেয়ে কম পানি দিয়ে প্রস্তুত করা হয়, যেমন আধা লিটার পানির পরিবর্তে এক গ্লাস পানিতে এক প্যাকেট স্যালাইন, তাহলে এই সমস্যা হয়। এই সমস্যাটিই আমরা ভর্তি হওয়া রুগীদের মধ্যে বেশি পেয়ে থাকি। এই লবণের মাত্রা রক্তে বাড়ার সাথে সাথে শিশুর তৃষ্ণা বাড়তে থাকে। আবার তাকে দেওয়া হয় সেই একই অতিরিক্ত ঘন স্যালাইন। এই ‘দুষ্টচক্রে’ পড়তে পড়তে মস্তিষ্কের কোষ শুকিয়ে আসতে থাকে আর একসময় খিঁচুনি দেখা যায়। শুধুমাত্র সঠিক নিয়মে স্যালাইন প্রস্তুত করে খাওয়ালেই এই সমস্যা এড়ানো যায়। এই রুগীদেরও হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিতে হয়।

৪। পটাশিয়াম আধিক্যঃ দুর্লভ কিছুক্ষেত্রে ডায়রিয়ার ফলে পানিশূন্যতা হয়ে বৃক্ক অকার্যকর (একিউট রেনাল ফেইলিউর) হতে পারে। ডায়রিয়া পরবর্তী হিমোলাইটিক ইউরেমিক সিনড্রোম নামে আরেকটি জটিলতায় রক্তে লোহিত কণিকা এবং অণুচক্রিকা কমার সাথে সাথে বৃক্ক অকার্যকর হতে পারে। তখনও এই পটাশিয়াম লবণ বেড়ে যায়। পটাশিয়াম জাতীয় খাবার তখন বরং আরও ক্ষতি করতে পারে।

পানি, লবণের তারতম্য ছাড়াও ডায়রিয়ার পরে রক্তে অম্ল-ক্ষার ভারসাম্য বিঘিœত হয়। এর সমাধানও খাওয়ার স্যালাইনে দেওয়া থাকে। ডায়রিয়া রোগীর রক্তে লবণ এবং অম্লের মাত্রা পরীক্ষা করার গুরুত্ত অবহেলা করা যায়না। তাই আশা করি এই লেখাটি কিছুটা হলেও এসব সমস্যা প্রতিরোধে রুগীদের সাহায্য করবে। কখনোই ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া কম বেশী স্যালাইন খাবেন না।

ডা. আহাদ আদনান
শিশু মাতৃ স্বাস্থ্য ইনষ্টিটিউট, মাতুয়াইল, ঢাকা।


বিভাগ : স্বাস্থ্য


মন্তব্য করুন

HTML Comment Box is loading comments...

আরও পড়ুন

নোয়াখালীতে বাসচাপায় শ্রমিকের মৃত্যু,আহত ২

নোয়াখালীতে বাসচাপায় শ্রমিকের মৃত্যু,আহত ২

মৃদু শৈত্যপ্রবাহের কবলে নওগাঁ

মৃদু শৈত্যপ্রবাহের কবলে নওগাঁ

নির্বাচনের রোড ম্যাপ দেন অতিসত্বর : আবুল কালাম আজাদ

নির্বাচনের রোড ম্যাপ দেন অতিসত্বর : আবুল কালাম আজাদ

উত্তর কোরিয়ায় নিষিদ্ধ করা হল ‘হট ডগ’

উত্তর কোরিয়ায় নিষিদ্ধ করা হল ‘হট ডগ’

সিংগাইরে ১ সপ্তাহে আত্মহত্যা-৬

সিংগাইরে ১ সপ্তাহে আত্মহত্যা-৬

মির্জাপুরের অবৈধ সেই ৭ ইটভাটা ভেঙে গুড়িয়ে দেয়া হয়েছে

মির্জাপুরের অবৈধ সেই ৭ ইটভাটা ভেঙে গুড়িয়ে দেয়া হয়েছে

সীমান্তে সাহসী বাংলাদেশিরা, অনুপ্রেরণা যোগাচ্ছে পুরো দেশকে

সীমান্তে সাহসী বাংলাদেশিরা, অনুপ্রেরণা যোগাচ্ছে পুরো দেশকে

দাবানলে পুড়ছে প্যারিস হিলটন, অ্যান্টনি হপকিন্সের কোটি টাকার বাড়ি

দাবানলে পুড়ছে প্যারিস হিলটন, অ্যান্টনি হপকিন্সের কোটি টাকার বাড়ি

‘অতিথি দেবতার মতো’, এই নীতিতে হাসিনার ভিসার মেয়াদ বাড়ালো ভারত

‘অতিথি দেবতার মতো’, এই নীতিতে হাসিনার ভিসার মেয়াদ বাড়ালো ভারত

ভূরুঙ্গামারী মহিলা কলেজের গভর্ণিং বডির সদস্য নির্বাচনে মনোনয়ন পত্রের মূল্য ১০ হাজার টাকা

ভূরুঙ্গামারী মহিলা কলেজের গভর্ণিং বডির সদস্য নির্বাচনে মনোনয়ন পত্রের মূল্য ১০ হাজার টাকা

গোয়ালন্দে পাখিদের নিরাপদ আবাসনে গাছে গাছে মাটির হাঁড়ি বসাচ্ছেন একদল যুবক

গোয়ালন্দে পাখিদের নিরাপদ আবাসনে গাছে গাছে মাটির হাঁড়ি বসাচ্ছেন একদল যুবক

নভোএয়ার এর ১২ বছরের সাফল্য উদযাপন

নভোএয়ার এর ১২ বছরের সাফল্য উদযাপন

ফরিদপুরে বিল্ডিংয়ের দরজার পাশে পড়েছিল কেয়ারটেকারের হাত-পা বাঁধা মরদেহ

ফরিদপুরে বিল্ডিংয়ের দরজার পাশে পড়েছিল কেয়ারটেকারের হাত-পা বাঁধা মরদেহ

ডিএমপির ১২ ডিসিকে বদলি

ডিএমপির ১২ ডিসিকে বদলি

আবারও অস্ট্রেলিয়ার নেতৃত্বে স্মিথ

আবারও অস্ট্রেলিয়ার নেতৃত্বে স্মিথ

‘৪৩তম বিসিএসে বাদ পড়া ২২৭ জনের বেশিরভাগই চাকরিতে যোগ দিতে পারবে’

‘৪৩তম বিসিএসে বাদ পড়া ২২৭ জনের বেশিরভাগই চাকরিতে যোগ দিতে পারবে’

বিএনপির ২২৭৬ নেতাকর্মীকে ক্রসফায়ারে হত্যার অভিযোগ ট্রাইব্যুনালে

বিএনপির ২২৭৬ নেতাকর্মীকে ক্রসফায়ারে হত্যার অভিযোগ ট্রাইব্যুনালে

ভোটার এবার আগের মত ভোট হবে না-মৌলভীবাজারে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ. এম. এম. নাসির উদ্দিন

ভোটার এবার আগের মত ভোট হবে না-মৌলভীবাজারে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ. এম. এম. নাসির উদ্দিন

ইহুদি খ্রিস্টানদের স্বর্গরাজ্য পুড়ে ছাই হচ্ছে!

ইহুদি খ্রিস্টানদের স্বর্গরাজ্য পুড়ে ছাই হচ্ছে!

জালিয়াতির প্রশ্ন তুলে শিরোপা হারালেন মিস ইউনিভার্স

জালিয়াতির প্রশ্ন তুলে শিরোপা হারালেন মিস ইউনিভার্স