নাকের অ্যালার্জি
০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ১২:০৯ এএম | আপডেট: ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ১২:০৯ এএম

এলার্জি বাংলাদেশের লাখ লাখ মানুষের কাছে এক অসহনীয় ব্যাধি। এলার্জি হাঁচি থেকে শুরু করে খাদ্য ও ওষুধের ভীষণ প্রতিক্রিয়া ও শ্বাসকষ্ট হতে পারে। কারো কারো ক্ষেত্রে এটা জীবনকে দুর্বিষহ করে তোলে। হাঁচি হলো এবং নাক দিয়ে পানি পড়লো, এটা কোন রোগ হলো? প্রথম প্রথম কেউই এ লক্ষণগুলোকে রোগ বলে মনে করেন না। সবাই স্বাভাবিক ঘটনা বলে মনে করেন বা কিছুই মনে করেন না। সবাই স্বাভাবিক ঘটনা বলে মনে করেন এবং মনে করেন আপনা-আপনিতেই সেরে যাবে। কিন্তু যখন-তখন হচ্ছে বিশেষ পুরোন জিনিসপত্র পরিষ্কার করতে গেলে বা ফুলের গন্ধ নেয়ার সময় বা ফুলের বা ফুলের বাগানে পায়চারী করার সময় এবং প্রায় সময় যখন অনবরত হাঁচি বা নাক বন্ধ হয়ে যায় তখন এ লক্ষণগুলোকে রোগ হিসেবে ভাবতে শুরু করেন।
এলার্জিক রাইনাইটিস রোগটি হলো এলার্জিজনিত নাকের প্রদাহ। উপসর্গগুলো হচ্ছে অনবরত হাঁচি, নাক চুলকানো, নাক দিয়ে পানি পড়া এবং নাক বন্ধ হয়ে যাওয়া, কারো কারো চোখ দিয়ে পানি পড়া এবং চোখ লাল হয়ে যায়।
প্রকারভেদ ঃ
সারা বছর সার্বক্ষণিক এলার্জি রাইনাইটিস : সারা বছর ধরেই এই রোগের লক্ষণ দেখা দেয়। বিশেষ করে পুরনো ধুলাবালি (যাতে মাইট থাকে), ছত্রাক বা পোষাপ্রাণির লোম সংস্পর্শে এলেই এর লক্ষণ শুরু হয়।
ঋতুনির্ভর এলার্জিক রাইনাইটিস ঃ
কারও কারও শীতের ধুলাবালিতে আবার কারও যখন ফুলের রেণু আধিক্য থাকে এবং ঐ রেণুর সংস্পর্শ আসে তখন রোগের লক্ষণগুলো দেখা দেয়। সাধারণত : গ্রীষ্মের শেষে এবং বর্ষা ও শরতে এ রোগের প্রকোপ বেশি দেখা যায়।
যদিও এ রোগের লক্ষণ যে কোন বয়সেই দেখা দিতে পারে তবে শিশুদেরই এ রোগে আক্রান্ত হতে দেখা যায় বেশি। এ রোগটি বংশানুক্রমিক তথাপি বার বার একই এলারজেনের সংস্পর্শে এলেই রোগের লক্ষণ দেখা দিতে পারে। তাছাড়া নতুন পোষাপ্রাণী অথবা বাসস্থান পরিবর্তনে নতুন পরিবেশে এলার্জিক রাইনাইটিস রোগের লক্ষণ প্রকট আকার ধারণ করতে পারে।
কিভাবে এলার্জি নাকের উপসর্গগুলো ঘটায় ঃ
যেসব রোগীদের বংশানুক্রমিকভাবে এলার্জি হওয়ার প্রবণতা বেশি থাকে।
এ রোগের সম্ভাব্য কারণগুলো হলো : মাইট (যা পুরনো ধুলা বালিতে থাকে) ঘরের ধুলাময়লা, ফুলের রেণু, প্রাণীর পশম বা চুল, প্রসাধন সামগ্রী।
প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা কি? রক্ত পরীক্ষা বিশেষত, ইয়োসিনোফিলের মাত্রা বেশি আছে কি না তা দেখা।
সিরাম আইজিই’র মাত্রা : সাধারণত এলার্জি রোগীদের ক্ষেত্রে আইজিই’র মাত্রা সাধারণত এলার্জি রোগীদের ক্ষেত্রে আইজিই’র মাত্রা বেশি থাকে।
স্কিন প্রিক টেস্ট : এই পরীক্ষায় রোগীর চামড়ার উপর বিভিন্ন এলারজেন দিয়ে পরীক্ষা করা হয় এবং এই পরীক্ষাতে কোন কোন জিনিসে রোগীর এলার্জি আছে তা ধরা পড়ে।
সাইনাসের এক্সরে করে কখনও কখনও তা জীবানু সংক্রমিত অবস্থায় পাওয়া যায়।
সমন্বিতভাবে এ রোগের চিকিৎসা হলো :
এলারজেন পরিহার : যখন এলার্জির সুনির্দিষ্ট কারণ খুঁজে পাওয়া যায় তখন তা পরিহার করে চললেই সহজে উপায়ে এলার্জি নিয়ন্ত্রণ করা যায়।
ওষুধ প্রয়োগ : ওষুধ প্রয়োগ করে সাময়িকভাবে এলার্জির উপশম অনেকটা পাওয়া যায়। এ রোগের প্রধান ঔষধ হলো এন্টিহিস্টামিন ও নেসাল স্টেরয়েড। এন্টিহিস্টামিন, নেসাল স্টেরয়েড ব্যবহারে রোগের লক্ষণ তাৎক্ষণিকভাবে উপশম হয়। যেহেতু স্টেরয়েডের বহুল পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া তাই এ ঔষধ এক নাগাড়ে বেশিদিন ব্যবহার করা যায় না। যতদিন ব্যবহার করা যায় ততদিনই ভালো থাকে এবং ওষুধ বন্ধ করলেই আবার রোগের লক্ষণগুলো দেখা দেয়।
এলার্জি ভ্যাকসিন বা ইমুনোথেরাপী : এলার্জি দ্রব্যাদি থেকে এড়িয়ে চলা ও ওষুধের পাশাপাশি ভ্যাকসিন বা ইমুনোথেরাপী এলার্জিক রাইনাইটিস রোগীদের সুস্থ থাকার অন্যতম চিকিৎসা পদ্ধতি। এলার্জি ভ্যাকসিন বা ইমুনোথেরাপীর মূল উদ্দেশ্য হলো যে মাইট দ্বারা এলার্জিক রাইনাইটিস সমস্যা হচ্ছে সেই মাইট এলারজেন স্বল্প মাত্রায় প্রয়োগ করা হয়। ক্রমান্বয়ে সহনীয় বেশি মাত্রায় দেয়া হয় যাতে শরীরের এলার্জির কোন প্রতিক্রিয়া দেখা না দেয় কিন্তু শরীরের ইমিউন সিস্টেমের পরিবর্তন ঘটায় বা শরীরের এলার্জির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ক্ষমতাপড়ে তুলে অর্থাৎ আইজিইকে-আইজিজিতে পরিণত করে, যাতে দীর্ঘমেয়াদি এলার্জি ওষুধ দ্বারা নিয়ন্ত্রণ করা যায়। যদিও ঔষধ উপসর্গের কিছুটা সহনীয় পর্যায়ে নিয়ে আসে কিন্তু এলার্জির কোন পরিবর্তন করতে পারে না, বিশেষত, স্টেরয়েড জাতীয় ওষুধ এলার্জির জন্য সবচেয়ে বেশি উপকারী এবং এর পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া অনেক। যেহেতু এই ওষুধ বেশিদিন ধরে ব্যবহার করতে হয় তাই এর পার্শ্ব প্রতিক্রিয়ায় জীবনের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়ায়। তাই এ ধরনের এলার্জিক রাইনাইটিসের ক্ষেত্রে ইমুনোথেরাপী বা ভ্যাকসিন বেশি কার্যকর।
বিশ্বের অধিকাংশ দেশ বিশেষ, উন্নত দেশগুলোতে এ পদ্ধতিতে চিকিৎসা দেয়া হয়ে থাকে। বর্তমানে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও এই ভ্যাকসিন পদ্ধতির চিকিৎসাকে এলার্জিক রাইনাইটিস রোগের অন্যতম চিকিৎসা বলে অভিহিত করেন। এটাই এলার্জিক রাইনাইটিস রোগীদের দীর্ঘমেয়াদী সুস্থ থাকার একমাত্র চিকিৎসা-পদ্ধতি।
অনেকের ধারণা এলার্জিজনিত রোগ একবার হলে আর সারে না। কিন্তু বর্তমানে চিকিৎসা ব্যবস্থার যথেষ্ট উন্নতি হয়েছে প্রথমদিকে ধরা পড়লে এলার্জিজনিত রোগ একেবারে সারিয়ে তোলা সম্ভব। অবহেলা করলে এবং রোগ অনেক দিন ধরে চলতে থাকলে নিরাময় করা কঠিন হয়ে পড়ে এবং এলার্জিজনিত রোগের কোন চিকিৎসা বাংলাদেশে নেই। তাই গরীব রোগীরা তাবিজ কবজের দিকে ঝুঁকি পড়েন আর সচ্ছল রোগীরা পার্শ্ববর্তী দেশসহ বিভিন্ন দেশে চিকিৎসা নিতে গিয়ে দেশের মূল্যবান বৈদেশিক মুদ্রা ও সময় দুটোই অপচয় করছেন।
ডা. গোবিন্দ চন্দ্র দাস
এলার্জি ও অ্যাজমা রোগ বিশেষজ্ঞ
মোবাইল : ০১৭২১৮৬৮৬০৬
বিভাগ : স্বাস্থ্য
মন্তব্য করুন
আরও পড়ুন

টাঙ্গাইলে অস্ট্রেলিয়া পাঠানোর কথা বলে ৩ কোটি ১০ লাখ টাকা আত্মসাৎ, প্রতিকার চেয়ে ভুক্তভোগীদের সংবাদ সম্মেলন

মুসলিম দেশগুলো ঐক্যবদ্ধ থাকলে শত্রুরা অত্যাচার চালাতে পারবে না

লাকসামে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার বিরুদ্ধে কনস্টেবলকে মারধরের অভিযোগ

গৃহকর্মী মারধরের ঘটনায় পরীর বিরুদ্ধে জিডি

রাশিয়াকে ফুটবলের মানচিত্রে ফেরার জন্য দোয়া করতে বললেন ফিফা সভাপতি

মুসলমানদের ওয়াকফ সম্পত্তি যেভাবে লুট হচ্ছে ভারতে

বিমসটেকের চেয়ারম্যান হিসেবে আগামী দুই বছরের জন্য বাংলাদেশের দায়িত্ব গ্রহণ

রাজবাড়ীতে ছাত্রদল নেতার অফিসে হামলা - মোটরসাইকেল ভাঙচুর ও স্বেচ্ছাসেবকদল নেতার গাড়িতে আগুন

ভুরুঙ্গামারীতে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতা আটক

পাকিস্তানের বিপক্ষে শেষ ওয়ানডেতেও চ্যাপম্যানকে পাচ্ছে না নিউজিল্যান্ড

নরসিংদীতে ছোট ভাইয়ের শাবলের আঘাতে বড় ভাই নিহত

হারানো বিজ্ঞপ্তি

ড. ইউনূসকে যা বললেন নরেন্দ্র মোদি

বিগত সরকারগুলো রাজনীতিকে লাভজনক ব্যবসায় পরিণত করেছে: ডা. ইরান

প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করলেন ভুটানের প্রধানমন্ত্রী

ওয়াকফ সংশোধনী বিল নিয়ে জনতা দলের দুই নেতার পদত্যাগ

দৌলতপুর সীমান্তে মাদকের টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের সংঘর্ষ ও গুলি : আহত-২

খেলাফত আন্দোলনের আমীরের ইন্তেকালে ইসলামী আন্দোলন ঢাকা মহানগর দক্ষিণের শোক

হিন্দু জাতি ভুয়া, কিন্তু বলিভিয়ায় তাদের জমি দখল বাস্তব

মনোহরগঞ্জে ৪বছরের নাতনিকে ধর্ষণচেষ্টা, অভিযুক্ত মনিরকে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে দিলো এলাকাবাসী