ষড়যন্ত্র সম্পর্কে সরকারকে সচেতন ও সতর্ক থাকতে হবে
১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০৭ এএম | আপডেট: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৫৭ এএম
বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচনে যে দল পরাজিত হয়, সে তা সহজে মেনে নিতে পারে না। হেরে যাওয়ার জ¦ালায় সে ভুগতে থাকে। তার লক্ষ্য হয়ে দাঁড়ায়, কীভাবে কত দ্রুত সরকারি দলকে ক্ষমতা থেকে নামানো যায়। হার মানতে না পেরে, ক্ষমতাসীন দলকে একদিনও স্বস্তিতে থাকতে দেবে না বলে হুংকার দেয়। ইস্যু থাকুক বা না থাকুক আন্দোলন-সংগ্রাম করে অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সৃষ্টি করে। সরকারকে রাজনৈতিকভাবে ব্যতিব্যস্ত রাখে। নির্বাচনে হারাও যে একটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া, সেটি কোনোভাবেই মানতে চায় না। অথচ নিজেদের গণতান্ত্রিক দল মনে করে। যেমন নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থানে এরশাদের পতনের পর একান্নবইয়ের নির্বাচনে সেই সময়ের আওয়ামী লীগ (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) শতভাগ নিশ্চিত ছিল, সে ক্ষমতায় আসছে। দেখা গেল, আওয়ামী লীগের আশা ও স্বপ্ন চুরমার করে বিএনপি বিজয় লাভ করে এবং সরকার গঠন করে। সে সময় আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনা হার মানতে না পেরে উত্তেজিত হয়ে ঘোষণা দিয়েছিলেন, বিএনপি সরকারকে একদিনও স্বস্তিতে থাকতে দেয়া হবে না। তিনি তার কথা রেখেছিলেন। জ¦ালাও-পোড়াও আন্দোলন করে বিএনপি সরকারকে একদিনও স্বস্তিতে থাকতে দেননি। ১৭৩ দিন হরতাল করেছিলেন। ঠিক একইভাবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার পতনের পর বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ভেবেছিল, পরিবর্তিত প্রেক্ষাপটে তারা নিশ্চিতভাবে ক্ষমতায় যাচ্ছে। তারা এই বয়ান তৈরি করা শুরু করে, আওয়ামী লীগ ও বিএনপির শাসনামল দেশের মানুষ দেখেছে। তাদের প্রতি জনগণ বিরক্ত। তাই জনগণ তাকেই ক্ষমতায় বসাবে। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দলটির বিশাল বটবাহিনী ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা চালায়। এর মধ্যে নানা কারসাজির মাধ্যমে ডাকসুসহ বিভিন্ন পাবলিক বিশ^বিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচনে ছাত্রশিবিরের নিরঙ্কুশ বিজয়ে দলটি প্রবল আত্মবিশ^াসী হয়ে উঠে। জাতীয় নির্বাচনে বিজয়কে সুনিশ্চিত করার জন্য গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেয়া সমন্বয়কদের গড়া নতুন দলকে নিয়ে জোট বাঁধে। তখন মনে করা হয়, জামায়াতের নেতৃত্বাধীন এই জোটের ক্ষমতায় যাওয়া শুধু সময়ের ব্যাপার। তাদের প্লাস পয়েন্ট ছিল, অন্তর্বর্তী সরকারের উপর নিরঙ্কুশ প্রাধান্য বিস্তার করতে পারা। তারা অন্তর্বর্তী সরকারের ছায়া সরকারে পরিণত হয়। অন্তর্বর্তী সরকারকেও তাদের সাথে তাল মেলাতে দেখা যায়। তারা যা বলে, সরকারও তাই করে। ওই সময়টা বিএনপির জন্য খুবই ক্রান্তিকাল ছিল। দলটি ধৈর্য্য ধরে নির্বাচন যথাসময়ে আয়োজনের লক্ষ্য নিয়ে এগুতে থাকে। শেষ পর্যন্ত বিএনপির এই কৌশলের কাছে তারা পরাস্ত হয়। অন্তর্বর্তী সরকার নির্বাচন দিতে বাধ্য হয়। জামায়াত-এনসিপি জোটের পরাজয় ঘটে। এই পরাজয়ের জ¦ালা যে তারা মেনে নিতে পারেনি, তা ছয় মাস না যেতেই সরকারকে ফেলে দেয়ার নানা হুমকি-ধমকি দেয়ার মধ্য দিয়ে প্রকাশিত হচ্ছে। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে সরকার ফেলে দেবে বলে জোটের কোনো কোনো প্রভাবশালী নেতা বক্তব্য দিয়েছেন। ইতোমধ্যে বিভিন্ন দাবিতে জামায়াত-এনসিপি জোট ঢাকা-চট্টগ্রামে লং মার্চ করেছে। আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর রংপুর অভিমুখে তারা লং মার্চ করার ঘোষণা দিয়েছে।
দুই.
বিএনপি ক্ষমতার চেয়ারে ঠিকমতো বসতে না বসতেই বিরোধীদলীয় জোটের পক্ষ থেকে যেন বলা হচ্ছে, উঠ। অন্যদিকে, পতিত ও পলাতক ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা ঘোষণা দিয়েছে ডিসেম্বরে দেশে ফিরবে। এ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গণে বেশ আলোচনা চলছে। হাসিনা কি সত্যি সত্যি ফিরবেন, নাকি এটি তার স্ট্যান্টবাজি, নাকি দূরে থেকে দেশে থাকা নেতাকর্মীদের উজ্জীবিত করার কৌশল, এ নিয়ে নানা বিশ্লেষণ চলছে। ইতোমধ্যে মানবতাবিরোধী অপরাধে আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনাল তাকে মৃত্যুদ- দিয়েছে। সরকারও তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য ভারতকে বারবার চিঠি দিয়েছে। ভারত তাতে সাড়া দিচ্ছে না। বুঝতে অসুবিধা হয় না, ভারত হাসিনাকে দিয়ে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের জাল বুনছে। কারণ, গণঅভ্যুত্থানে হাসিনার পতনের সাথে সাথে বাংলাদেশে তার আধিপত্যেরও পতন হয়েছে। এটা তার অন্তর্জ¦ালা হয়ে রয়েছে। এই জ¦ালা তাকে কুঁড়েকুঁড়ে খাচ্ছে। স্বাভাবিকভাবেই সে চাইবে, ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে হাসিনা কার্ড খেলে বিএনপি সরকারকে বিপাকে ফেলে কিংবা উৎখাত করে তার আধিপত্য পুনরুদ্ধার করতে। পাশাপাশি এক হাতে হাসিনাস্ত্র রেখে, আরেক হাতে বন্ধুত্ব করার চাণক্যনীতি অবলম্বন চালিয়ে যাচ্ছে। তার এই দ্বিচারী নীতি বিএনপি সরকার ভালোভাবেই বুঝছে। বুঝতে পেরেই তাকে তার প্রত্যাশা মতো সম্পর্কের দিকে এগুচ্ছে না। বলার অপেক্ষা রাখে না, ডিসেম্বরে দেশে ফেরার ঘোষণা হাসিনা ভারতের পরামর্শেই দিয়েছে। অন্যদিকে, জামায়াত-এনসিপি জোটের কেউ কেউ ডিসেম্বরে সরকার ফেলে দেয়ার যে ঘোষণা দিয়েছে, অনেকে তার সাথে হাসিনার দেশে ফেরার যোগসূত্র রয়েছে কিনা, তা নিয়ে সন্দেহ পোষণ করছেন। কারণ, জামায়াত-এনসিপিকে এখন আর আওয়ামী লীগকে প্রতিহত করার ঘোষণা দিতে দেখা যায় না। বরং লং মার্চে এনসিপির এক নেতাকে আওয়ামী লীগের এক নেতার গাড়ি ব্যবহার করতে দেখা গেছে। বলা যায়, সুযোগ-সুবিধা নিয়ে তাদের সাথে সখ্য গড়তে দেখা যাচ্ছে। ফলে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা ঝটিকা মিছিল করলেও তাদের প্রতিরোধ করা দূরে থাক, একটা বিবৃতি দিতেও দেখা যায় না। এতে রাজনীতি সচেতন যে কারো মনে হতে পারে, জামায়াত-এনসিপি জোটের সাথে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সাথে আন্ডারহ্যান্ড আন্ডারস্ট্যান্ডিং বা পর্দার অন্তরালে বোঝাপড়া রয়েছে। জামায়াতের সাথে আওয়ামী লীগের ঐতিহাসিক সম্পর্ক রয়েছে, এটা সকলেই জানেন। দলটি সেই এরশাদের আমল থেকে শুরু করে ছিয়ান্নব্বইয়ে বিএনপি সরকারের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের সাথে যৌথভাবে আন্দোলন করেছে। চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে হাসিনার পতনের পরপর জামায়াতের আমীর আওয়ামী লীগকে ক্ষমা করে দেয়ার ঘোষণাও দিয়েছিলেন। সাম্প্রতিক সময়ে দলটির কোনো কোনো নেতা আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে ফেরা নিয়ে আপত্তি নেই বলেও মন্তব্য করেছেন। ফলে অনেকেই এই সমীকরণ মেলাচ্ছেন, জামায়াত-এনসিপি আওয়ামী লীগের সাথে তলে তলে সম্পর্ক রেখে আন্দোলনের পথে হাঁটছে কিনা। বিএনপি সরকারকে বিপাকে ফেলতে রাজনৈতিক পরিস্থিতি ঘোলাটে করার পাঁয়তারা করছে কিনা। গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটসহ অন্যান্য ইস্যুতে তারা যে লং মার্চ করছে, এই সংকটের মূলে কি, তা তারা ভালো করেই জানে। এই সংকট সরকার সৃষ্ট নয়, ইরানযুদ্ধে সৃষ্ট। সরকার চেষ্টা করছে সংকট কাটাতে। তাদের অন্য যে দাবি, সেগুলো জাতীয় সংসদে বা রাজনৈতিক সংলাপের মাধ্যমে সমাধান করা অসম্ভব কিছু নয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতীয় সংসদের সদ্যসমাপ্ত অধিবেশনে গ্যাস-বিদ্যুতের সংকট নিয়ে সমাপনী বক্তব্য দিতে গিয়ে অত্যন্ত যুক্তিসঙ্গতভাবেই বলেছেন, লংমার্চ করে যদি এই সংকট কাটানো যেত, তাহলে সবার আগে সরকারই লংমার্চ করত। ফলে বিরোধী জোট এই সরল বিষয়টি না বুঝার ভান করে যে লং মার্চ বা আন্দোলন করছে, তা যে ভিন্ন অর্থ বহন করে, তা সচেতন মহলের বুঝতে বাকি থাকে না। পর্যবেক্ষকদের মতে, বিরোধীজোট হয়ত শেখ হাসিনার মতোই পরাজয়ের জ¦ালা সইতে না পেরে ছয় মাস না যেতেই সরকার পতনের লক্ষ্যে মাঠে নেমে গেছে।
তিন.
ডিসেম্বরে শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে বেশ চাঙাভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাদের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের লেখালেখির ভাষা দেখে তা বোঝা যাচ্ছে। ঝটিকা মিছিলে কত লোক হয়েছে, তার ভিডিও আপলোড করছে। কেউ কেউ সরকারকে হুমকিÑধমকিও দিচ্ছে। যখন আওয়ামী সমর্থক সাংবাদিকদের সাথে কথা বলি, তখন বুঝতে পারি, ৫ আগস্টের পরে তারা যেভাবে চুপসে গিয়েছিলেন, এখন তারা বেশ চাঙা হয়ে উঠেছেন। তাদের কথাবার্তা ও বডি ল্যাংগুয়েজে সতেজতা দেখা যাচ্ছে। তাদের দৃঢ় বিশ^াস, তাদের নেত্রী দেশে ফিরে আসবে। তখন পুরো বাংলাদেশ জেগে উঠে বিএনপি সরকারের পতন ঘটিয়ে দেবে। তবে জুলাই আন্দোলনে যে তাদের সমর্থিত আওয়ামী লীগ সরকার ১৪০০ বা তারও বেশি মানুষকে নির্বিচারে ও নির্মমভাবে হত্যা করেছে, ত্রিশ হাজারের বেশি মানুষকে চিরতরে অন্ধ ও পঙ্গু করে দিয়েছে, এ নিয়ে তাদের মধ্যে কোনো অনুশোচনা দেখা যায় না। তারা এই মানবতাবিরোধী অপরাধের কথা ভুলে তাদের নেত্রীর ফেরার আশায় আছে। আবার ক্ষমতায় যাওয়ার স্বপ্ন দেখছে। যে দল ক্ষমতায় থাকতে দেশের জনগণের উপর গুলি চালায়, হত্যা করে এবং তা নিয়ে কোনো অনুশোচনা থাকে না, সেই দলের কী রাজনীতি করার কোনো অধিকার আছে? নেই। থাকতে নেই। মানবতাবিরোধী অপরাধে রাজনৈতিক দল ও সংগঠন নিষিদ্ধ এবং বিলুপ্ত করার অনেক নজির বিশে^ রয়েছে। আমরা যদি কম্পুচিয়ার (বর্তমানে কম্বোডিয়া) কথা ধরি, তাহলে দেখব, ১৯৭৫ থেকে ১৯৭৮ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত স্বৈরাচার পল পটের নেতৃত্বে খেমার রুজ পার্টি ক্ষমতায় থাকতে দেশটির প্রায় ১৭ থেকে ২০ লাখ মানুষকে হত্যা করেছিল, যা আন্তর্জাতিকভাবে গণহত্যা হিসেবে স্বীকৃত। পরবর্তীতে এই অপরাধে দলটিকে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ও বিলুপ্ত করে দেয়া হয়। দ্বিতীয় বিশ^যুদ্ধ ও হলোকাস্টের সময় গণহত্যার দায়ে যুদ্ধোত্তর জার্মানিতে হিটলারের প্রতাপশালী দল নাৎসী পার্টির কার্যক্রমও চিরতরে নিষিদ্ধ করে দেয়া হয়। ১৯৪৩ সালে ইতালির মুসোলিনির প্রতিষ্ঠিত বিশে^র প্রথম ফ্যাসিবাদী দল ফ্যাসিস্ট পার্টিকে গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণ ও গণহত্যার অপরাধে নিষিদ্ধ করা হয়। ২০০৯ সালে ভারতের কমিউনিস্ট পার্টিকে (মাওবাদী) ‘আভ্যন্তরীণ শত্রু’ ঘোষণা করে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। কাজেই, বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের মতো একটি ফ্যাসিবাদী গণহত্যাকারি দলের রাজনীতি করার অধিকার কি করে থাকে? যদি এমন হতো, দলটি ক্ষমতায় থেকে জুলাই আন্দোলনে যে গণহত্যা চালিয়েছে এবং দেড় দশকের বেশি সময় ধরে দেশের মানুষকে যেভাবে গুম, খুন, নিপীড়ন-নির্যাতন করেছে, তার জন্য ক্ষমা চাইত, তাহলে দেশের মানুষ হয়ত বিবেচনা করত, তাকে রাজনীতি করতে দেয়া যায় কিনা। অথচ আওয়ামী লীগের একজন সাধারণ সমর্থকের মধ্যেও এসব নিয়ে বিন্দুমাত্র অনুশোচনা প্রকাশ করতে দেখা যায় না। যে দল ক্ষমতায় থাকতে দেশের মানুষকে নির্বিচারে হত্যা করে, সেই দল কীভাবে রাজনীতিতে ফিরতে পারে?
চার.
মেয়াদের ছয় মাস না যেতেই বিএনপি সরকারের বিরুদ্ধে চতুর্মুখী ষড়যন্ত্রের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে বিরোধীদলের কোনো কোনো নেতা এমন মন্তব্য করেছেন, ফ্যাসিস্ট হাসিনাকে ফেলতে দেড় দশকের বেশি সময় লাগলেও বিএনপিকে ফেলতে দুই দিনও লাগবে না। বিরোধীদলের কেউ কেউ যখন এমন কথা বলেন, তখন বুঝতে অসুবিধা হয় না, বিএনপি সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের জাল বোনা হচ্ছে। অন্যদিকে, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও ভারত তো ষড়যন্ত্র করছেই। এর সাথে পশ্চিমা বিশে^র কোনো কোনো শক্তির ইন্ধন থাকাও অস্বাভাবিক নয়। প্রশ্ন হচ্ছে, বিএনপি সরকার যদি চলে যায়, তখন দেশের কী হবে? দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব কি থাকবে? থাকবে না। দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব রক্ষা করার মতো হিম্মত কি জামায়াত-এনসিপি জোটের আছে? তারা কি দেশের স্বাধীনতা রক্ষা করতে পারবে? নাকি, আওয়ামী লীগকে সাথে নিয়ে ক্ষমতা ভাগাভাগি করে থাকবে। এ চিত্রটা কি খুব সুখকর? আর আওয়ামী লীগ যে ফরমেটেই হোক, কখনো যদি ক্ষমতায় আসে, তাহলে জামায়াতকে ছাড় দিলেও এনসিপিকে কি ছাড় দেবে? এটা কি স্বপ্নেও ভাবা যায়? এ বিষয়গুলো বিরোধী জোটকে বুঝতে হবে। নির্বাচনে হার-জিৎ গণতন্ত্রের অংশ। হারের জ¦ালা বুকে নিয়ে সরকার পতনের আন্দোলন বা ষড়যন্ত্র করার অর্থ, সেই ৫ আগস্ট পূর্ববর্তী প্রেক্ষাপটে ফিরে যাওয়া। নতুন প্রজন্ম জীবন দিয়ে ফ্যাসিস্ট হাসিনার পতন ঘটিয়েছে ৫ আগস্ট পূর্ববর্তী রাজনৈতিক অপসংস্কৃতিতে ফিরে যাওয়ার জন্য নয়। তারা সেই রাজনীতির অধ্যায় বন্ধ করে সুষ্ঠু রাজনীতির প্রেক্ষাপট রচনা করে দিয়েছে। এই প্রেক্ষাপট ধারণ করেই সরকার এবং বিরোধীদলকে সত্যিকারের গণতান্ত্রিক রাজনীতি চর্চা করতে হবে। এখানে কোনো ফ্যাসিস্ট দল বা ফ্যাসিবাদীদের ঠাঁই নেই। বিএনপি সরকারকেও বুঝতে হবে, এই ধারার রাজনীতি করার সুযোগ জনগণ তাকে দিয়েছে। জনগণ বারবারই দেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে বিএনপির উপর দায়িত্ব দিয়েছে। পঁচাত্তর পরবর্তী সময়ে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানই বাকশাল থেকে বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রবর্তন করেছিলেন। বেগম খালেদা জিয়া স্বৈরাচার এরশাদবিরোধী আন্দোলনে গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করে বিজয়ী হয়েছিলেন। ওয়ান ইলেভেন সরকার থেকে শুরু করে আওয়ামী লীগের দেড় দশকের শাসনামলে বিএনপিরই অসংখ্য নেতাকর্মী গুম, খুন, হামলা-মামলা ও নিপীড়ন-নির্যাতন তুচ্ছ করে গণতন্ত্রের জন্য লড়াই-সংগ্রাম করেছে। এ বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ইতিহাসের সেরা নির্বাচনে জনগণ তাকেই বিজয়ী করে গণতন্ত্র রক্ষার দায়িত্ব দিয়েছে। জনগণের দেয়া এ দায়িত্ব বিএনপিকে অত্যন্ত সতর্ক ও সচেতনভাবে পালন করতে হবে। তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র সম্পর্কেও সচেতন থাকতে হবে। তাকে মনে রাখতে হবে, জন্মলগ্ন থেকেই রাজনীতিতে বিএনপি একা, নিঃসঙ্গ শেরপা। তাকে একাই লড়াই করতে হয়েছে এবং একাই লড়াই করে বিজয়ী হতে হয়েছে। লড়াই করেই তার বিজয় ধরে রাখতে হবে।
বিভাগ : সম্পাদকীয়
মন্তব্য করুন
আরও পড়ুন
‘জাস্ট আস্ক গ্রক!’ এআই ব্যবহার করে নিখুঁত বোমা বানাচ্ছে আইএস!
দ. কোরিয়ার কাছে হেরে হকি অভিযান শুরু বাংলাদেশের
ইনফান্তিনোকে সব নথি প্রকাশ করতে হবে: ইংলিশ এফএ চেয়ারম্যান
বরিশালে আজ প্রথম বিএমপি কমিউনিটি পুলিশ কাবাডি চ্যাম্পিয়নশিপ
উত্তরায় নিষিদ্ধ যুবলীগের সক্রিয় কর্মী গ্রেফতার
বরিশালের জামে এবাদুল্লাহ মছজিদে ইছালে ছওয়াব মাহফিল
হিলিতে বিজিবি-ডিএনসির যৌথ অভিযানে মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার
ছোট পর্দায় জমেছে তৌসিফ-সাদনিমার রসায়ন
পাকিস্তানে পুলিশ লাইনে ভয়াবহ বিস্ফোরণ, নিহত ১৬
মালিবাগে জোড়া ককটেল বিস্ফোরণ
কুষ্টিয়ায় পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় হাসপাতাল ভাংচুর, চিকিৎসক আহত
ফরিদপুরে পাটকাঠিতে সম্ভাবনা, বাড়তি আয় কৃষকরা
মধুমতির ভাঙনে বিলীন ২২৫ আশ্রয়ণ ঘর, হুমকিতে আরও ১০০ পরিবার
পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের তত্ত্বাবধানে ২০২৬-২৭ সেশনের জিএসটি গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা
চীনা দূতাবাসের প্রতিনিধিদলের মাভাবিপ্রবি পরিদর্শন
কুষ্টিয়ায় বিজিবির অভিযানে ভারতীয় মাদকদ্রব্য উদ্ধার
দ্বিতীয় সন্তানের মা হলেন ‘স্ট্রেঞ্জার থিংস’ তারকা মিলি
বুয়েটে স্যানিটারি ন্যাপকিন ভেন্ডিং মেশিন স্থাপন ফ্রেশ অনন্যার
ইংল্যান্ড দলে ফিরলেন পালমার-আলেকজান্ডার-আরনল্ড, বাদ ফোডেন
ফরিদপুরে ডেঙ্গুতে আরও এক নারীর মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ২৫