লেখকের কলমে নয়া স্বাধীনতার পাঠ
০৬ ডিসেম্বর ২০২৪, ১২:১৮ এএম | আপডেট: ০৬ ডিসেম্বর ২০২৪, ১২:১৮ এএম

স্বাধীনতা-শব্দটি আমাদের ইতিহাসের অঙ্গীকার, আমাদের জাতির সংগ্রামের পরিচয়, এবং আমাদের আত্মপরিচয়ের ভিত্তি। তবে স্বাধীনতার ধারণা স্থির বা একগুঁয়ে নয়; এটি সময়ের সাথে সাথে বিকশিত হয়, নতুন আঙ্গিকে রূপ নেয়। আজকের বাংলাদেশে যখন আমরা নতুন ধরনের স্বাধীনতার কথা বলি, তখন তার সাথে লেখকের কলমের সম্পর্ক একটি অমোঘ সমীকরণ হয়ে দাঁড়ায়। স্বাধীনতা শুধু একটি রাজনৈতিক অর্জন নয়, বরং এটি একটি ধারাবাহিক সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও মানসিক গঠন প্রক্রিয়া। এই গঠন প্রক্রিয়ার মধ্যে লেখকরা একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, যাদের কলমে নতুন স্বাধীনতার বুনন ঘটে।
এখনকার স্বাধীনতা পূর্ববর্তী যেকোনো সময়ের চেয়ে বহুমাত্রিক এবং জটিল। স্বাধীনতার সঙ্গী হয়ে আসে নতুন দৃষ্টিকোণ, নতুন প্রশ্ন এবং নতুন চ্যালেঞ্জ। স্বাধীনতা শুধুমাত্র দেশভাগ বা মুক্তিযুদ্ধের বিজয় হিসেবে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি এখন সমাজের বিভিন্ন স্তরে-শিক্ষা, সংস্কৃতি, নারী অধিকার, রাজনৈতিক পরিসর, এবং প্রযুক্তিগত উন্নতির মধ্যে একটি ক্রমাগত প্রক্রিয়া। এই নতুন স্বাধীনতার বুননে লেখকের ভূমিকা অপরিসীম। তাঁরা শুধু যে স্বাধীনতার ইতিহাস রচনা করেন, তা নয়, তাঁরা সেই ইতিহাসের বাকি অংশটুকু তুলে ধরেন যেটি মূলত আমাদের সমাজের অগোচরে থাকে।
বাংলাদেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে, বিশেষ করে ২০২৪ সালের ছাত্র আন্দোলন এবং গণ-অভ্যুত্থানগুলোর পরিপ্রেক্ষিতে নতুন স্বাধীনতার ধারণা অনেকটাই বদলে গেছে। ছাত্ররা যেমন একযোগে এক নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতা তৈরি করেছে, তেমনই লেখকরাও তাঁদের কলমের মাধ্যমে এই পরিবর্তনগুলির অর্থ সন্ধান করছেন। এই স্বাধীনতা শুধুমাত্র একটি বিপ্লব নয়, এটি একটি ধারাবাহিক আন্দোলন, একটি সাংস্কৃতিক পুনর্জাগরণ যা আমাদের চিন্তা-ভাবনাকে নতুন করে ভাবতে উৎসাহিত করছে।
লেখকরা যখন কলমের মাধ্যমে নয়া স্বাধীনতার বুনন করেন, তখন তারা সমাজের নানান স্তরের কণ্ঠস্বরকে তুলে ধরেন। তাঁদের লেখা সমাজের বাস্তবতা, অগ্রগতির চ্যালেঞ্জ, এবং সংকটগুলির প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করে। এটি আমাদের একটি নতুন দৃষ্টিকোণ প্রদান করে যে, স্বাধীনতা একটি নিছক রাজনৈতিক অর্জন নয়, বরং এটি সমাজের সর্বস্তরের মানুষের মুক্তির সংগ্রাম। যে ভাষায়, যে শব্দে, যে কাহিনীতে স্বাধীনতা বোনা হয়, সেই ভাষার মধ্যে থাকে আমাদের জাতির ইতিহাস, সংগ্রাম, আনন্দ, বেদনা এবং আশা।
এই নয়া স্বাধীনতার বুননে লেখকদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হচ্ছে সমাজের অপ্রকাশিত, অব্যক্ত দিকগুলো তুলে ধরা। প্রতিটি লেখা, প্রতিটি কবিতা, প্রতিটি উপন্যাস বা প্রবন্ধে স্বাধীনতার নতুন রূপ খুঁজে পাওয়া যায়। যেমন আধুনিক বাংলা সাহিত্যে লেখকরা একদিকে যেমন রাজনৈতিক স্বাধীনতার জন্য সংগ্রাম করেছেন, তেমনি অন্যদিকে ব্যক্তিগত, মানসিক এবং সাংস্কৃতিক স্বাধীনতার জন্যও লড়াই করেছেন। লেখকদের কলমে এই স্বাধীনতার বুনন এমন এক প্রক্রিয়া যা একদিকে যেমন সমাজের সঠিক চিত্র আঁকতে সহায়তা করে, তেমনি অন্যদিকে এটি পরিবর্তনের অনুপ্রেরণাও প্রদান করে।
কবি, সাহিত্যিক, প্রাবন্ধিকরা তাঁদের লেখনির মাধ্যমে জাতির অদেখা ক্ষতগুলির কথা বলেন, তাঁদের ইতিহাসের অস্পষ্ট দিকগুলো সামনে নিয়ে আসেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের যে ইতিহাস আমরা জানি, তা কেবল মুলত দুই দশক আগে ইতিহাসের পৃষ্ঠা থেকে উঠে এসেছে, কিন্তু যারা এই সংগ্রাম করেছেন তাঁদের আঘাতের গল্প, তাঁদের বেদনার গল্প, এবং তাঁদের প্রত্যাশার গল্প যা সেসময় প্রকাশিত হয়নি, তা লেখকরা নিজেদের ভাষায় তুলে ধরেন। নতুন স্বাধীনতার বুনন হচ্ছে একটি দীর্ঘ, একান্ত সংগ্রাম, যা প্রকাশ পায় লেখকদের কলমে।
লেখকদের কলমে নতুন স্বাধীনতার বুনন শুধু এককভাবে দেশের রাজনৈতিক মুক্তি অর্জনকেই প্রকাশ করে না, বরং এটি একটি ঐক্যবদ্ধ সাংস্কৃতিক মুক্তির প্রয়াস হিসেবেও দেখা যায়। রাজনৈতিক স্বাধীনতার চেয়ে একটি জাতির সাংস্কৃতিক মুক্তি অনেক গভীর ও দীর্ঘমেয়াদি। যখন আমরা স্বাধীনতার কথা বলি, তখন সেই স্বাধীনতা কেবল রাষ্ট্রীয় সীমানার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে না। লেখকের কলমে, সেই স্বাধীনতা বের হয়ে আসে দেশভাগের ইতিহাস, ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ, এবং আরও সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন আন্দোলন ও সংগ্রামগুলির মধ্য দিয়ে।
লেখকরা শুধু নিজেদের চিন্তা প্রকাশ করেন না, তারা যে সমাজের প্রতিনিধিত্ব করেন, সেই সমাজের প্রতিটি স্তরের চিন্তা ও বোধকে তুলে ধরেন। তারা মানুষের স্বাধীনতার কাক্সিক্ষত রূপ বুনন করেন, তারা নতুন সময়ে স্বাধীনতার আদর্শ ও তার বাস্তবতাকে সমাজের সামনে নিয়ে আসেন। লেখকরা সামাজিক অন্ধকারের ভিতরে আলোর ঝলকানির মতো, সমাজকে তাদের কলমের মাধ্যমে সচেতন করেন, পরিবর্তনের ডাক দেন এবং নতুন স্বাধীনতার কথা বলেন।
স্বাধীনতা একটি শক্তিশালী ধারণা, যা এককভাবে একটি রাজনৈতিক অর্জন হতে পারে, কিন্তু যখন আমরা তাকে বৃহত্তর দৃষ্টিকোণ থেকে দেখি, তখন তার আকাশে আরও অনেক রঙের চিত্র দেখা যায়। স্বাধীনতা শুধু রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বাধীন হওয়ার বিষয় নয়; এটি একটি মানবিক, সাংস্কৃতিক ও মানসিক মুক্তির ধারাও বয়ে আনে। লেখকের কলমে এই নতুন স্বাধীনতার বুনন একটি গভীর ও বহুমাত্রিক প্রক্রিয়া। ২০২৪ সালের প্রেক্ষাপটে, বিশেষ করে ছাত্র আন্দোলন এবং গণ-অভ্যুত্থানের ফলে যে নতুন স্বাধীনতার ধারণা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, তা একটি নতুন যুগের সূচনা।
বাংলাদেশের বর্তমান সমাজে যখন নতুন ধরনের রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক স্বাধীনতার প্রয়োজনীয়তা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে, তখন লেখকদের ভূমিকা কেবল আংশিক নয়, বরং তারা এই স্বাধীনতার সেতু নির্মাণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। লেখকরা সমাজের বাস্তবতায় প্রবেশ করে এবং তার জটিলতার মাঝ থেকে নতুন স্বাধীনতার একটি রূপরেখা সৃষ্টি করেন। তাঁদের কলমে তাই প্রতিনিয়ত এক নতুন সংগ্রাম, এক নতুন পরিচয়ের জন্ম হয়। যতটা আমরা স্বাধীনতার ঐতিহাসিক পথচলা জানি, লেখকদের এই পথচলার ভিন্ন একটি দিক আছে। স্বাধীনতা যখন আসল অর্থে জনগণের হাতে চলে আসে, তখন সঠিক স্বাধীনতা কেমন হতে পারে, তা নিয়ে চিন্তা করা প্রয়োজন। পূর্বে যা ছিল দেশের সীমান্তের অক্ষরবোধক স্বাধীনতা, তা এখন ব্যক্তির অভ্যন্তরীণ স্বাধীনতায় রূপ নিতে শুরু করেছে। এবং এই পরিবর্তনেই লেখকদের কাজ গুরুত্বপূর্ন হয়ে উঠেছে। তারা কেবল রাজনীতি ও আন্দোলনের খবর প্রকাশ করে না, বরং তারা সেই খবরের আড়ালে থাকা অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা, মানসিক সংগ্রাম এবং মানবাধিকার ইস্যুগুলোকেও চিহ্নিত করে।
বৈষম্য, নানান ধরনের সামাজিক শ্রেণী, বা পুরনো পদ্ধতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার প্রয়োজনীয়তা লেখকদের কলমে স্বাধীনতার একটি অংশ। লেখকরা এই স্বাধীনতা, যেমন স্বাধীন দেশের সীমান্তে, তেমনি তাদের নিজস্ব চিন্তাভাবনা ও সৃষ্টির ক্ষেত্রেও আঘাত করতে সক্ষম। সাহিত্যের মাধ্যমে সমাজের ভুল বা অবহেলিত বিষয়গুলোর প্রতি তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করা সম্ভব। কেবলমাত্র বাহ্যিক স্বাধীনতার নয়, বরং ভেতরের মুক্তির জন্যও সংগ্রাম চালানো প্রয়োজন।
এই ধরনের স্বাধীনতার মধ্য দিয়ে লেখকরা একটি নতুন ভাষা তৈরি করেন, একটি নতুন বাস্তবতা তুলে ধরেন, যেখানে স্বাধীনতার সংজ্ঞা শুধুমাত্র রাষ্ট্রীয় অধিকার নয়, বরং ব্যক্তি, সমাজ ও সংস্কৃতির অধিকারও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এর মাধ্যমে তারা রাজনৈতিক মুক্তির পাশাপাশি মানসিক ও সামাজিক মুক্তির ধারণা প্রতিষ্ঠিত করেন। বাংলাদেশের লেখকরা যে স্বাধীনতার বুনন করছেন, তা কেবল দেশভাগ বা মুক্তিযুদ্ধের ঘটনাকে প্রকাশ করে না, তারা লেখার মাধ্যমে সমাজের সকল স্তরের মানুষের স্বাধীনতার কথা বলেন, যা স্বাধীনতা সংগ্রামের একটি নতুন দিক।
মনে রাখতে হবে, স্বাধীনতা একটি একক ঘটনা নয়, এটি একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া যা সময়ের সাথে সাথে পাল্টায়। ২০২৪ সালের ছাত্র আন্দোলন তার স্পষ্ট উদাহরণ। এখানে আমরা দেখতে পাচ্ছি, ছাত্র সমাজ স্বাধীনতার নতুন চিত্র গড়ে তুলছে, যা পূর্ববর্তী স্বাধীনতার চেয়ে ভিন্ন এবং আরো অর্থবহ। লেখকরা এই সামাজিক পরিবর্তনগুলোর সাথে যুক্ত থাকেন এবং নতুন স্বাধীনতার ভাষা সৃষ্টি করেন। তারা শুধুমাত্র এক সংগ্রামী সমাজের প্রতিনিধি নন, বরং তারা সেই সমাজের একাধিক দিকগুলোকে ব্যক্ত করেন, যার মধ্যে রয়েছে সাংস্কৃতিক মুক্তি, সামাজিক ন্যায় ও নতুন যুগের আশা।
লেখকের কলমে স্বাধীনতার বুনন শুধুমাত্র একটি সামগ্রিক রাজনৈতিক কাহিনির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। এটি একটি সামাজিক কর্মযজ্ঞের ফলাফল, যা সমাজের অন্যান্য সব দিকেও পরিবর্তন আনার চেষ্টা করে। লেখকরা এই নতুন স্বাধীনতার ধারণাকে একটি সাংস্কৃতিক পুনর্জাগরণের সঙ্গে যুক্ত করেন, যেখানে ভাষা, সাহিত্য, চলচ্চিত্র, সংগীত, এবং অন্যান্য শিল্পধারা স্বাধীনতার নতুন বুননে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সাহিত্যের মধ্যে এই স্বাধীনতা বোনা হয়, যার মাধ্যমে সমাজের অগোচরে থাকা বিষয়গুলোকেও চোখে আঙুল দেওয়া হয়।
নতুন স্বাধীনতার যে কল্পনা, তা শুধুমাত্র রাজনৈতিক ভাবনার নয়, এটি একটি মানসিক এবং সাংস্কৃতিক চেতনার সৃষ্টি। লেখকের কলমে নতুন স্বাধীনতার বুনন হচ্ছে সেই স্বাধীনতা যেখানে প্রতিটি মানুষ নিজের অস্তিত্ব ও চেতনাকে মুক্তির দৃষ্টিতে দেখতে পারে। এই স্বাধীনতা কেবল প্রাতিষ্ঠানিক নয়, বরং ব্যক্তিগত, মানসিক এবং সামাজিক। লেখকদের কলমে এটি ধীরে ধীরে একটি আদর্শ হয়ে ওঠে, যা সমাজের প্রতিটি স্তরে ছড়িয়ে পড়ে।
লেখকদের কলমে স্বাধীনতার বুনন শুধুমাত্র এক রাজনৈতিক বা রাষ্ট্রীয় অর্জন নয়, বরং এটি একটি সাংস্কৃতিক, মানসিক, ও সামাজিক প্রক্রিয়া, যা সময়ের সাথে সাথে আরও গভীর হয়। ২০২৪ সালের ছাত্র আন্দোলন এবং গণ-অভ্যুত্থান আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে, স্বাধীনতা শুধুমাত্র ভূখ- বা সীমান্তের মধ্যে আবদ্ধ নয়, বরং এটি এক সামাজিক ধারণা, এক সাংস্কৃতিক দাবি। এটি জাতির মানসিকতা, তার চেতনা, তার সংস্কৃতি ও ইতিহাসের প্রভাব। এই প্রেক্ষাপটে, লেখকদের ভূমিকা হয়ে ওঠে অপরিসীম-তারা সেই স্বাধীনতার নতুন চিত্রকল্প সৃষ্টি করেন, যা কেবল প্রাতিষ্ঠানিক নয়, বরং ব্যক্তিগত ও মানসিক মুক্তির দিকে ধাবিত।
বিশ্বব্যাপী যে প্রক্রিয়ায় নতুন স্বাধীনতা ও সাংস্কৃতিক চিন্তাধারা প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে, বাংলাদেশ তাতে এক বিশেষ স্থান অধিকার করে আছে। স্বাধীনতার নতুন ধারণা তৈরি করা, যেখানে জনগণের মৌলিক অধিকার, ন্যায়, সমতা এবং ঐক্যের কথা ওঠে, সেটি লেখকদের কলমে ফুটে ওঠে। ২০২৪ সালের আন্দোলনে আমরা দেখেছি, কীভাবে ছাত্র সমাজ তাদের ভোটাধিকার, সাংস্কৃতিক স্বাতন্ত্র্য, সামাজিক ন্যায়বিচার ও রাজনৈতিক স্বাধীনতার জন্য সংগ্রাম করছে। তাদের দাবি কেবল শাসন-প্রশাসন বা রাজনৈতিক অধিকারকে কেন্দ্র করে নয়, বরং তাদের স্বপ্নে তারা এক নতুন সাংস্কৃতিক স্বাধীনতা চায়, যেখানে গণতন্ত্র, ন্যায় এবং মানবিক অধিকার সম্মানের সঙ্গে প্রতিষ্ঠিত হবে।
এই নতুন স্বাধীনতা, যা সাহিত্যের মাধ্যমে আত্মপ্রকাশ করে, এটি এক বৈশিষ্ট্যপূর্ণ পরিভাষা-এটি গতানুগতিক রাজনৈতিক মুক্তির অঙ্গীকারের বাইরে গিয়ে এক প্রগতি ও মুক্তির ধারণা সৃষ্টি করে। লেখকদের কলম সেই নতুন সমাজের কাঠামো তৈরি করতে সহায়ক হয়ে ওঠে। তারা শুধুমাত্র সমাজের অন্ধকার দিকগুলো প্রকাশ করে না, বরং একটি উন্নত, মানবিক এবং স্বতন্ত্র সংস্কৃতির খোঁজও দেয়। সাহিত্য ও শিল্পকর্মের মাধ্যমে তারা প্রতিদিনের সংগ্রাম, মানবিক চাহিদা ও মুক্তির আকাক্সক্ষাকে এক নতুন রূপে উপস্থাপন করে।
এই প্রক্রিয়া শেষ হলে, আমরা দেখতে পাই যে, লেখকরা তাদের কাজের মাধ্যমে শুধুমাত্র একটি স্বাধীন দেশের স্বপ্নই দেখেন না, বরং তারা এমন একটি সমাজ নির্মাণের পথে এগিয়ে চলেন যেখানে মানবাধিকার, শান্তি, ন্যায়, এবং সমাজের মধ্যে সমতা প্রতিষ্ঠিত হবে। এই সাহিত্যের মাধ্যমে আমাদের চেতনা বিকশিত হয়, আমাদের নতুন স্বাধীনতা মানে শুধুমাত্র ভূখ- বা রাষ্ট্র নয়, বরং এটি এক নতুন সভ্যতার সূচনা।
নতুন স্বাধীন বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ন্যারেটিভ প্রতিষ্ঠা করা জরুরি, কারণ স্বাধীনতা একবার অর্জিত হলে, তার পরবর্তী পদক্ষেপ হলো সেই স্বাধীনতার সাংস্কৃতিক ভিত্তি স্থাপন। মুক্তিযুদ্ধের পর দেশের রাজনৈতিক স্বাধীনতা অর্জন হলেও, সাংস্কৃতিক মুক্তি এখনও প্রকৃতভাবে সম্পূর্ণ হয়নি। আমাদের সাংস্কৃতিক পরিচয়, ইতিহাস, ঐতিহ্য ও ভাষার মধ্যে যে নানা প্রতিবন্ধকতা ছিল, তা এখনও অনেকাংশে আমাদের জাতীয় চেতনা ও সংস্কৃতির মধ্যে সীমাবদ্ধ।
যতটা আমরা রাজনৈতিক স্বাধীনতার কথা বলেছি, ততটা আমাদের সংস্কৃতি, ভাষা, ইতিহাস এবং শিল্পকলা মুক্ত হতে পারে না যদি না আমরা সেই সাংস্কৃতিক স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠা করি। আমাদের সাহিত্য, চলচ্চিত্র, সংগীত, নাটক, কবিতা, এবং অন্যান্য সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রের মাধ্যমে এক নতুন সাংস্কৃতিক বাস্তবতা তৈরি করতে হবে, যা পরবর্তী প্রজন্মের জন্য একটি অনুপ্রেরণা হয়ে উঠবে। সবশেষে বলা যায়, লেখকের কলমে নয়া স্বাধীনতার বুনন হচ্ছে একটি ক্রমাগত প্রক্রিয়া, যা আমাদের সমাজের প্রতিটি ক্ষেত্রে স্বাধীনতার নতুন রূপ প্রতিষ্ঠা করে। পাশাপাশি আমাদের এক নতুন চেতনা, নতুন সংস্কৃতি এবং এক নতুন সম্ভাবনার দিগন্ত দেখাবে, যেখানে ব্যক্তি, সমাজ এবং জাতি স্বাধীনতার আসল মানে খুঁজে পাবে। এটি একটি গঠনমূলক কাজ, যেখানে শুধুমাত্র পূর্ববর্তী প্রজন্মের সংগ্রাম নয়, বরং বর্তমান ও ভবিষ্যতের সংগ্রামের মূল ভিত্তি তৈরি হয়। স্বাধীনতা এখন শুধুমাত্র একটি রাজনৈতিক বা ভূ-রাজনৈতিক ধারণা নয়; এটি একটি সাংস্কৃতিক, মানসিক এবং সৃজনশীল ধারণা, যা লেখকের কলমে প্রতিনিয়ত বোনা হচ্ছে।
বিভাগ : সাহিত্য
মন্তব্য করুন
আরও পড়ুন

প্রয়োজনীয় সংস্কার করে যথাসম্ভব দ্রুত নির্বাচন দিতে হবে: মিয়া গোলাম পরওয়ার

মুসল্লিদের বাধায় নাটক মঞ্চায়ন বাতিলের সংবাদ বিভ্রান্তিকর

মানুষ ফ্যাসিবাদ মুক্ত বাংলাদেশে স্বাচ্ছন্দ্যে ঈদ উদযাপন করেছে: আবদুল হালিম

থাইল্যান্ড থেকে দেশের উদ্দেশে রওনা হলেন প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস

নারীবান্ধব পাবলিক টয়লেট

মেডিক্যাল ট্যুরিজম

প্রেসার গ্রুপের ভালো-মন্দ

রাজধানীতে ট্রাফিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে হবে

ইশার নামাজের সাথে সাথে বিতির নামাজ না পড়া প্রসঙ্গে?

প্রশ্ন : মরণোত্তর চক্ষুদান বা অন্যান্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দান কি শরীয়ত সমর্থন করে?

মানুষের শ্রেষ্ঠত্ব হচ্ছে উত্তম চরিত্রে

খালেস নিয়তে আমল করলে প্রতিদান সুনিশ্চিত

ঈদ আসে-ঈদ যায়, স্মৃতিটুকু রয়ে যায়

ইসলামের দৃষ্টিতে পরোপকারের গুরুত্ব ও ফজিলত

ভাড়া বৃদ্ধির প্রতিবাদ করায় যাত্রীকে মারধর

কৃষক জজ মিয়ার মৃত্যু নিয়ে রহস্য

সরিষাবাড়ীতে বিএনপি’র দু’গ্রুপে দফায় দফায় সংঘর্ষ

কনস্টেবলকে মারধরের অভিযোগ

ছাত্রদল নেতার অফিসে হামলা-ভাংচুর স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার গাড়িতে আগুন

মাদারীপুরে কৃষকের হাত কেটে নিল সন্ত্রাসীরা