রঙ্গীন মাছের শহরে
২৭ ডিসেম্বর ২০২৪, ১২:১৩ এএম | আপডেট: ২৭ ডিসেম্বর ২০২৪, ১২:১৩ এএম

ডুবুরি সময়ে গভীর জলে ডুব দিয়ে
ভেসে ওঠে মাছ, রঙ্গীন মাছের শহরে।
এ শহরে ছিল এক ভয়ংকর ডাইনির শাসন।
ভাতের সহজলভ্যতার দাবীর মুখে
সে লেলিয়ে দিত উর্দির বহর
হেলমেট আবৃত মস্তক,পাষ- হাতুড়ি
হৃদয়হীন ট্রিগার।
অধিকারের সিম,টমেটো,করোল্লার মিছিলেও আঙুল চেপে বসতো ট্রিগারে।
রঙিন মাছের শহর,একুরিয়ামে বর্ণিল পাথরে ঘষে ঘষে ঠোঁট সময় অতিক্রম করে।
সীমানা পাড় হয়ে প্রবেশ করে পাষ- ষড়যন্ত্র।
রাজপথ রক্তাক্ত হয়,একুরিয়ামের মাছেরা নির্বিকার।
রঙিন মাছের শহর,মাছেদের মাথা থেকে খোলে ফেলা হয়েছে স্মৃতির এপস।
গতকাল ভুলে থাকা তাদের কাছে ডালভাত তুল্য।
একুরিয়ামের মাছ, বন্দি পানিতেই সমস্ত সুখ তার।
দ্রুত ভুলে গেছে জুলাই আগস্ট
সে এখন রঙ্গীন মাছের শহরে আনন্দে কাটছে সাঁতার।
মধ্যবিত্তনামা
মাজহারুল ইসলাম
তোমাকে লিখবো লিখবো করে
কত দিন কেটে যায় আমার!
সকাল দুপুর বিকেল গড়িয়ে
রাতের আঁধার সবকিছু কেমন গ্রাস করে নেয়
মোটা ভাত মোটা কাপড়ের অধিকারটুকু ও।
বেঁচে থাকার জন্য এই যা -
একমাত্র ‘মধ্যবিত্ত’ তকমাটা ছাড়া
আর কিছুই যে থাকে না !
তাইতো আগ-পিছ ভেবে-চিন্তে
তোমাকে আর লেখা হয় না!
জানো তো -
মধ্যবিত্তের জমি-জিরাত ঘর-দোর সবই থাকে
বাড়ির দক্ষিণকোণে শান বাঁধানো পুকুর থাকে
সুখ দুঃখ হাসি-কান্নার রক্ষণশীল গল্প থাকে
উন্মুখ প্রাপক থাকে শুধু প্রেরক থাকে মধ্যবিত্ত মননের !
সময়ের পালাবদল
মিয়া ইব্রাহিম
এখন আর বৃষ্টি জলে ভেজা হয় না
খেলা হয় না জলডুব বহুকাল ;
কে বলবে এখানে খরস্রোতা নদী ছিলো
বটতলা, মাঠজুড়ে, নদীতীরে বসতো
শনিবারে জমজমাট হাট
খলিল, তারেক, মিল্টন, সেলিম,লতিফ
স্কুলের আরো বন্ধুরা কে কোথায় আজ
বিরানভূমির মতো নিস্তেজ সিকদার বাড়ির
খেয়া ঘাট,
দপ্তরী নঈমুদ্দিন, নাইট গার্ড কালু ভাই
কেমন আছেন তারা!
আমার শ্রদ্ধেয় অতি প্রিয় শিক্ষকবৃন্দ
অনেকেই গত হয়েছেন সবুজ
পৃথিবী থেকে।
বাহিত সময় এতো দ্রুত চলে যাচ্ছে,নিয়ত
বদলে যাচ্ছে মায়াবী প্রকৃতি, প্রকৃতির মানুষজন,
সে এখন রীতিমতো শকুনের থাবা;
শতায়ু গাছের বাকলের মতো কষ্টের
স্মৃতি চিহ্ন ভিড় করে হৃদয় জুড়ে।
দুই তীরে মানুষের বসতি বেড়ে
বংশী নদী হয়েছে খাল,
ক্রমশ অদৃশ্য বনে যাচ্ছে বৃক্ষরাজি
যে বৃক্ষ ছায়া দিয়ে আগলে
রেখেছে প্রাণীকুল, সে বৃক্ষ এখন
আতঙ্ক ছড়ায় প্রকৃতির উজান
বাতাসে, বিক্ষিপ্তভাবে ভুলে যাই
আপন অস্তিত্ব। নিরালায় বসে শুধু ভাবী
কী দ্রুত সময়ের পালাবদল!
সাহসের মাহফিল
মোমিন মেহেদী
সাহসের মাহফিলে লোভ-মোহহীন ছিলো অগ্নিশপথ
আরশের চিন্তায় মগ্ন নিনাদ। তুমি মেঘ ধুয়ে ধুয়ে আমায়
সাদরে নিও অমোঘ গ্রহে। পল্লবে বিনয় রেখো মেখো
কিছু নীল গায়ে হেসে। সোহাগের কথা ভুলে লোভকেও
জানিও বিদায়। শ^াপদের রাত থেকে কষ্টকে বিদায়ের
মোসাফায় আবেগও রাখতে পারো কিছুটা মিশিয়ে।
নীতির জিকির করে দুর্নীতি ইতির পথে রাখো।
মনে যেন থাকে- কাউকে কখনো দিও না কো কালোর দাওয়াত
আলোতেই থাকে জেনো- নিগুড় বিজয়...
শীত
পঞ্চানন মল্লিক
চন্দনদ্বীপের রাজকন্যার জন্য
আবার মুঠোভরে নিয়ে এলো শীত,
আমাদের উত্তরের হাওয়া মিয়া।
উহুহু উহুহু দাঁড়াও সোয়েটারটা
পরে নিই গায়ে।
রাজকন্যার পাশে দাঁড়িয়ে-
হামান দিস্তায় বেটে ঘামিয়ে নিই শরীর।
এটা পরম সৌভাগ্যের ব্যপার এক।
নচেৎ ওলট পালট হয়ে যেতে পারে
ঠাকুরমার খসখসে দু’টি হাত।
জাতপাত বয়স কিছুই দেখার সময়
হয়তো দেবেনা-কোমল শীত।
তাই প্রাণে প্রাণে আলিঙ্গন করে
এসো বরণ করে নিই সাদরে।
সেলুকাস! আমার সমস্ত শরীর-
এসে জুড়ে নিচ্ছে শীত।
ক্রমান্বয়ে ঠক ঠক শব্দ পাচ্ছি বাতাসে ।
আসছে ফাগুনে ফুল হয়ে ফুটব
মমতা মজুমদার
আমাকে ভালো রাখতে গিয়ে,
আমি প্রতিবারই পরাস্ত হয়েছি নিজের কাছে।
ভাগ্যের সাথে আমার আজন্মকাল শত্রুতা;
যেন এক অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক আকাশ আর জমিনের।
বয়ে চলা নদীটার বুকে, ফেনার মতোই নিদারুণ
ভেসে চলেছি একা নিস্তব্ধে;
জীবন সমুদ্রে যখন ভেসে আসে অযাচিত বিরহ ব্যথা
ভালো থাকার রোজকার খাদ্যাভাসের সাথে,
তখনো আমি গুলিয়ে ফেলছি নিজেকে।
এ জন্মে আর শখের নেশায় মাতাল হব না!
সুনসান বিকেলে, ঝরে যাব একদিন পাতার মতো।
অঘোষিত যুদ্ধে বিধ্বস্ত করব, এক একটা ভাঙা পাঁজর।
হৃদয় মন্দিরে জমানো যত খুচরো স্মৃতি, মুছে
দেবো ঠিক আপন হাতে।
আমাকে ভালো রাখার আর কোনো সুযোগ দেবো
না এই নিজেকে।
বৃথাই একটা জীবন, কাটিয়ে দেওয়া যায় খুব অনায়াসেই;
পৃথিবীর সৌন্দর্য উপলব্ধি করে করে।
এই যদি হয় ভালো থাকা; তবে তাই হোক
আসছে ফাগুনে না হয়, ফুল হয়ে ফুটব।
বিভাগ : সাহিত্য
মন্তব্য করুন
আরও পড়ুন

প্রয়োজনীয় সংস্কার করে যথাসম্ভব দ্রুত নির্বাচন দিতে হবে: মিয়া গোলাম পরওয়ার

মুসল্লিদের বাধায় নাটক মঞ্চায়ন বাতিলের সংবাদ বিভ্রান্তিকর

মানুষ ফ্যাসিবাদ মুক্ত বাংলাদেশে স্বাচ্ছন্দ্যে ঈদ উদযাপন করেছে: আবদুল হালিম

থাইল্যান্ড থেকে দেশের উদ্দেশে রওনা হলেন প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস

নারীবান্ধব পাবলিক টয়লেট

মেডিক্যাল ট্যুরিজম

প্রেসার গ্রুপের ভালো-মন্দ

রাজধানীতে ট্রাফিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে হবে

ইশার নামাজের সাথে সাথে বিতির নামাজ না পড়া প্রসঙ্গে?

প্রশ্ন : মরণোত্তর চক্ষুদান বা অন্যান্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দান কি শরীয়ত সমর্থন করে?

মানুষের শ্রেষ্ঠত্ব হচ্ছে উত্তম চরিত্রে

খালেস নিয়তে আমল করলে প্রতিদান সুনিশ্চিত

ঈদ আসে-ঈদ যায়, স্মৃতিটুকু রয়ে যায়

ইসলামের দৃষ্টিতে পরোপকারের গুরুত্ব ও ফজিলত

ভাড়া বৃদ্ধির প্রতিবাদ করায় যাত্রীকে মারধর

কৃষক জজ মিয়ার মৃত্যু নিয়ে রহস্য

সরিষাবাড়ীতে বিএনপি’র দু’গ্রুপে দফায় দফায় সংঘর্ষ

কনস্টেবলকে মারধরের অভিযোগ

ছাত্রদল নেতার অফিসে হামলা-ভাংচুর স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার গাড়িতে আগুন

মাদারীপুরে কৃষকের হাত কেটে নিল সন্ত্রাসীরা