২৪ এর গণঅভ্যুত্থানে ফ্যাসিস্ট হাসিনা নির্বিচারে ছাত্র জনতার ওপর ঝাপিয়ে পড়েছিলো সেসময় তার পোষা পুলিশ বাহিনী থেকে শুরু করে অন্যন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিয়ে। হাসিনা যেভাবে নির্মমতার সাথে গণহত্যা চালিয়েছিলো তা দেখে অবাক হয়েছিলো পুুরো বিশ্ব। এক মাসেরও বেশি সময়ের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে দেড় হাজার মানুষকে হত্যার পরও হাসিনা চুপ ছিলো না। চেয়েছিলো সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপ। সেনাবাহিনী হাসিনার দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিলে ৫ আগষ্ট প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করে ভারতে পালিয়ে যেতে বাধ্য হোন হাসিনা। আমরা এমন ইতিহাসই জানি। তবে এবার নতুন করে বোমা ফাটিয়েছেন জাতিসংঘের মানবাধিকার হাই কমিশনার জনাব ফলকার তুর্ক।
সম্প্রতি তুর্ক মিডিয়ার সামনে বাংলাদেশের প্রসঙ্গ টেনে এনে বলেছেন, ২৪ এর জুলাই আগষ্টে বাংলাদেশে যে গণঅভ্যুত্থান সংঘটিত হয় সেখানে জাতিসংঘ প্রায় ব্যর্থই হয়েছিলো তবে, তারা কেবল বাংলাদেশের সেনাবাহিনীকে সতর্ক করেছিলো যে তারা যদি হাসিনার কথা মত ছাত্র জনতার ওপর গুলি চালায় তবে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষি মিশনে আর তাদের সৈন্য পাঠাতে পারবে না।জাতিসংঘের মানবাধিকার হাই কমিশনারের এই বক্তব্যের পর চারিদিকে শুরু হয় আলোচনা সমালোচনা। তুর্ক এর করা এমন মন্তব্যের পর তার এই বক্তব্যকে টেনে এনে রাজনৈতিক বিশ্লেষক ডা. জাহেদ উর রহমান প্রশ্ন তুলেছেন সত্যিই কি সেনাবাহিনী জনগণের পক্ষে ছিলো আন্দোলনের সময়? তিনি ওয়ান এলেভেন এর সময়ের একটি উদাহরণও টেনে নিয়ে আসেন এসময়। তিনি মনে করিয়ে দেন সেসময়ও জাতিসংঘ এভাবে হুমকি দিয়েছিলো তৎকালীন সরকারকে। যদিও তখনকার সেই চিঠিটি নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। তবে কাজ হয়েছিলো ঠিকই।
ডা. জাহেদ উর রহামান তার আলোচনায় গণঅভ্যুত্থানের সময় জাতিসংঘের স্টিকার লাগানো গাড়ি ব্যবহার করার কথাও মনে করিয়ে দেন। সেনাবাহিনী কি তবে সত্যিই হাসিনার কথা মত ছাত্র-জনতার বিপক্ষে দাঁড়াতে চেয়েছিলো? এই রাজনৈতিক বিশ্লেষকের মতে এমনটি হলেও হতে পারে কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেছেন বাংলাদেশের সেনাবাহিনীর সদস্যরা জাতিসংঘের শান্তিরক্ষি মিশনে অংশ নিয়ে বড় একটা অংকের এমাউন্ট আর্ন করে। যদি তাদের জাতিসংঘের সবধরণের সহায়তা বন্ধ হয়ে যায় আবার শান্তিরক্ষি মিশনেও অংশ নিতে না পারে তাহলে সেনাবাহিনীর পাশাপাশি দেশের জন্য একটি বড় ক্ষতির কারণ হবে এটি। এসব ভেবেই হয়তো সেনাবাহিনী তখন হাসিনার কথা শোনেনি।ড. জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘হাসিনা জাস্ট খুঁজে খুঁজে তার অতি অনুগত লোকজনকেই প্রমোশন দিয়ে তুলেছেন আমাদের সেনাবাহিনীকেও ধ্বংস করে ফেলা হয়েছে।
মনে আছে, অভ্যুত্থানের সময় সেনাপ্রধান বিভিন্ন পর্যায়ের সেনা সদস্যদেরকে নিয়ে একটা বড় সভা করেছিলেন এবং সেখানে রাইটলি ওখানে প্রেজেন্ট থাকা অনেকে জানিয়েছেন সেখানে সেনাবাহিনী এজ এ হোল শেখ হাসিনার পক্ষে আসলে আর ওভাবে দাঁড়িয়ে জনগণকে হত্যার জায়গায় যেতে চায়নি। এই চাপটা তীব্র ছিল সুতরাং সেনাপ্রধান চাইলেও শেখ হাসিনার পক্ষে দাঁড়াতে পারতেন আমার মনে হয় না বা শেখ হাসিনা তাত্ত্বিকভাবে ধরে নিচ্ছি মুহূর্তে জনাব ওয়াকারুজ্জামানকে সরিয়ে আরেকজন জেনারেলকে যদি সেনাপ্রধান বানিয়েও দিতেন তার আরো অনুগত হোক তার সেনাবাহিনীর উপর সেই কমান্ড রাখা এবং তাদেরকে দিয়ে জনগণকে গুলি করে শত শত হাজার হাজার মানুষ হত্যা করানো সম্ভব ছিল বলে আমার মনে হয় না।
আর যদি সেটা কেউ করতেও যেত আমি মনে করি হাসিনার আসলে পতন ঠেকানো যেত না এটা রাইটলি আমাদের সেনাবাহিনীর বিভিন্ন পর্যায়ের লোকজন বুঝেছিল হত্যার সংখ্যা বাড়ানো যেতে পারে মানুষ খুনের সংখ্যা বাড়ানো যেতে পারে সো রাইটলি সেনাবাহিনী এই ক্রান্তি লগ্নে শেষ পর্যন্ত তারা শেখ হাসিনার পক্ষে না দাঁড়িয়ে সরে এসেছেন এবং আমি বিশ্বাস করি জাতিসংঘের এই পদক্ষেপ ঘোষণা না হলেও এই ঘটনাটা ঘটতো এটা ঠেকানোর আসলে কোন সুযোগ ছিল না।
আর গণঅভ্যুত্থান আমরা বাঙ্গালী জাতি হাসিনার বিরুদ্ধে ঘটিয়েছি। এখানে বাইরের কোন শক্তি বা অর্থ কোন কিছুই কাজ করেনি বলেও মনে করিয়ে দেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক ডা. জাহেদ উর রহমান।