ইসলামিক ব্যাংকিংয়ে অনন্য উচ্চতায় আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংক
০৯ অক্টোবর ২০২৪, ১২:০২ এএম | আপডেট: ০৯ অক্টোবর ২০২৪, ১২:০২ এএম

প্রতিষ্ঠার পর থেকে গত তিন দশক ধরে বাংলাদেশের ইসলামিক ব্যাংকিং সেক্টরে গুরুত্বপূর্ণ ও অনবদ্য অবদান রেখে চলেছে আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংক পিএলসি। ‘সর্বদাই শরীয়াহ্’ সেøাগানটি মনে প্রাণে ধারণ এবং কর্মক্ষেত্রে তার যথাযথ পরিপালন করাই হচ্ছে এ ব্যাংকের প্রধান লক্ষ্য। ইসলামিক ব্যাংকিং অর্থনৈতিক মতাদর্শের একটি দিক, যা ইসলামী শরীয়াহ্ থেকে আবির্ভূত। নৈতিক ও কল্যাণমুখী ব্যাংকিং এ ব্যবস্থার মূল আদর্শ। তাই মানুষের আস্থা, আদর্শ ও ইসলামের নীতি আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংকের প্রধান চালিকা শক্তি। আর এ কারণেই প্রতিনিয়ত বৃদ্ধি পাচ্ছে এ ব্যাংকের পরিধি ও দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়ছে শক্ত নেটওয়ার্ক। সার্বক্ষণিক ব্যাংকের শরীয়াহ সুপারভাইজরি কমিটি সকল ব্যবসায়িক কার্যক্রম ইসলামী শরীয়াহ্ মোতাবেক পরিচালনা নিশ্চিত করার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে যাচ্ছেন।
এ বছর আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংক উদ্যাপন করেছে তার ৩০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। এই দীর্ঘ পথচলায় গ্রাহকদের অবিচল সমর্থন ও আস্থার জন্য গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। প্রতিশ্রুতি, উন্নয়ন এবং সেবা প্রদানের ঐতিহ্য নিয়ে ভবিষ্যতে আরও উদ্ভাবনামূলক ও প্রযুক্তিনির্ভর ব্যাংকিং সেবা প্রদানে অঙ্গীকারাবদ্ধ। এই সাফল্যের যাত্রা সম্ভব হয়েছে অগণিত গ্রাহকের ভালোবাসা ও আস্থার কারণে যা ব্যাংকটির প্রতিটি অর্জনের অনুপ্রেরণা। ফলে প্রতিবছরই নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে বিভিন্ন সাফল্যের সূচকে আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংক এগিয়ে চলছে দুর্বার গতিতে।
বর্তমানে ৩৬ লাখেরও বেশি গ্রাহকের সাথে সাড়ে ৫১ হাজার কোটি টাকার আমানত ও সাড়ে ৪৬ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ নিয়ে আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংক দেশের আর্থিক খাতে নিজের দৃঢ় অবস্থান প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে। ২০২৩ সালে ব্যাংকটির পরিচালন মুনাফা দাঁড়িয়েছে ৮২২ কোটি টাকায়, যা দেশের ইসলামী ব্যাংকগুলোর মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংক বৈদেশিক বাণিজ্যেও উল্লেখযোগ্য অবদান রেখে চলেছে। ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত আমদানি ব্যবসায় ১৬ হাজার ৯৩৯ কোটি টাকা এবং রপ্তানিতে ১২ হাজার ৪৮ কোটি টাকার সেবা দিয়েছে।
ব্যাংকের পল্লী উন্নয়ন প্রকল্পে (এআরডিপি) মোট আমানত ও বিনিয়োগের পরিমাণ যথাক্রমে ৪৯১ দশমিক ৬৫ কোটি ও ৪২৬ দশমিক ৮১ কোটি টাকা। এ প্রকল্পের আওতায় দেশব্যাপী ২ হাজার ৭৫০ টি গ্রামের ৬১ হাজার ৫৮ জন নারী বিনিয়োগ সুবিধা নিয়ে স্বাবলম্বী হয়ে উঠেছেন, যা দেশের নারী ক্ষমতায়নে এক উল্লেখযোগ্য মাইলফলক। মোট ৮১ হাজার ৪১১ জন সদস্যের প্রায় ৭৫ শতাংশ নারী সদস্য। এছাড়া মোট সদস্যের প্রায় ৫ শতাংশ অ-মুসলিম বিনিয়োগ সুবিধা গ্রহণ করেছেন।
সারাদেশে আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংকের ২২৬টি শাখা, ৭২টি উপশাখা, ৭৪৫টি এজেন্ট আউটলেট এবং ২২৫টি এটিএম বুথের মাধ্যমে গ্রাহকদের সহজ ও দ্রুততম সেবা প্রদান করে আসছে। শরীয়াহ্, আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর ব্যাংকিং সেবা প্রদান করে আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংক প্রতিনিয়তই মানুষের জীবনকে করছে আরো সহজ ও স্বাচ্ছন্দ্যময়।
জাতীয় অর্থনীতির অন্যতম প্রাণশক্তি বৈদেশিক রেমিট্যান্স আহরণে দেশের সেরা ব্যাংকগুলোর একটি এআইবি পিএলসি। ২০২৩ সালে এ ব্যাংকের মাধ্যমে ১১ হাজার ৩৮০ কোটি টাকার বৈদেশিক রেমিট্যান্স এসেছে, যেখানে ২০২২ সালে ছিল ৮ হাজার ৮৫৩ কোটি টাকা। সামাজিক দায়বদ্ধতার ক্ষেত্রেও অপরিসীম ভূমিকা পালন করে চলেছে আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংক পিএলসি। গত এক বছরে বিভিন্ন সমাজকল্যাণমূলক প্রকল্পে ৫২ কোটি টাকা ব্যয় করে সমাজের উন্নয়নে অবদান রেখেছে।
দেশের প্রধান রপ্তানি শিল্প-তৈরি পোশাক ও টেক্সটাইল খাতে এ ব্যাংকের উল্লেখযোগ্য অবদান রয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন শিল্প-কারখানা, কৃষিভিত্তিক শিল্প প্রতিষ্ঠান, পাটকল, নৌ পরিবহন, সড়ক পরিবহন, যানবাহন, কোল্ড স্টোরেজ, অটো রাইস মিল ইত্যাদি অসংখ্য সফল প্রতিষ্ঠান আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংকের অর্থায়নে পরিচালিত হচ্ছে। প্রায় ৩৬ লাখ গ্রাহকের এই ব্যাংক দেশের একটি বৃহৎ জনগোষ্ঠীর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে। যেখানে বর্তমানে প্রায় ২ লাখ ৫ হাজার বিনিয়োগ গ্রাহক আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংকের বিনিয়োগ সুবিধা নিয়ে অর্থনৈতিক মুক্তির পথে ছুটে চলেছেন। বিশেষ করে, দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য কাজ করে যাচ্ছে ব্যাংকটি। বৃহৎ শিল্প বিনিয়োগ থেকে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে উপশাখা ও এজেন্ট আউটলেটের মাধ্যমে জামানতবিহীন বিনিয়োগ প্রদান করা হচ্ছে।
আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও ফরমান আর চৌধুরী বলেন, দেশের স্বনামধন্য কয়েকজন ইসলামিক স্কলার ও ধর্মপ্রাণ শিল্পপতি ও ব্যবসায়ী ১৯৯৫ সালে এই ব্যাংক শুরু করেছিলেন। একটি শরীয়াহ্ভিত্তিক ব্যাংক প্রতিষ্ঠার জন্য আমি সেসকল উদ্যোক্তাদের সকলকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই। তাঁদের মহৎ উদ্যোগের ফলেই জাতি একটি আধুনিক মানসম্মত ইসলামী ব্যাংক পেয়েছে। এই ব্যাংকটি দ্বিতীয় প্রজন্মের একটি ব্যাংক। তবে নেতৃত্ব আর সেবার মানে আমরা অনেকের তুলনায় অন্যতম সেরা অবস্থানে রয়েছি। ব্যাংকটির প্রতিষ্ঠাকালীন মূল লক্ষ্য ছিলো শরীয়াহ্ভিত্তিক কার্যক্রমের মাধ্যমে সবার জন্য সর্বাধুনিক ব্যাংকিং সেবা নিশ্চিত করা। আলহামদুলিল্লাহ, আমরা সেই লক্ষ্যে কাজ করছি এবং অনেকটা পথ এগিয়েছি। শরীয়াহ্ ব্যাংকিংয়ে গ্রাহকদের জন্য প্রধান সুবিধা হলো এখানে বাড়তি ও হিডেন কোন চার্জ থাকে না, তাই ব্যবসায় খরচও কমে আসে। কাজেই সকল ধর্ম, বর্ণ গোত্রের ব্যবসায়ীগণ আমাদের সেবা গ্রহণ করে ব্যবসায়িকভাবে লাভবান হতে পারেন।
বিভাগ : বিশেষ সংখ্যা
মন্তব্য করুন
আরও পড়ুন

জকিগঞ্জে অটোরিকশা চালককে মারধর করে টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন

বিএনপি কারো উপর নির্যাতন করতে চায় না' : শামা ওবায়েদ

ইশার নামাজের সাথে সাথে বিতির নামাজ না পড়া প্রসঙ্গে?

থাইল্যান্ড থেকে দেশের উদ্দেশে রওনা হলেন প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস

মানুষ ফ্যাসিবাদ মুক্ত বাংলাদেশে স্বাচ্ছন্দ্যে ঈদ উদযাপন করেছে: আবদুল হালিম

মুসল্লিদের বাধায় নাটক মঞ্চায়ন বাতিলের সংবাদ বিভ্রান্তিকর

প্রয়োজনীয় সংস্কার করে যথাসম্ভব দ্রুত নির্বাচন দিতে হবে: মিয়া গোলাম পরওয়ার

কারো চোখ রাঙানী আর মেনে নেয়া হবে না-সারজিস আলম

মাদক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে গ্রেপ্তার কানাডার অধিনায়ক

অবিলম্বে নির্বাচনের রোডম্যাপ দিতে হবে -আমান উল্লাহ আমান

ফটিকছড়িতে ভাইয়ের হাতে ভাই খুন, লাইফ সাপোর্টে মা

ট্রাম্পকে ৭ লাখ ৪১ হাজার ডলার জরিমানা করলেন লন্ডনের হাইকোর্ট

ড. ইউনূসের সঙ্গে বৈঠক শেষে ফেসবুক পোস্টে যা বললেন মোদি

শেষ হচ্ছে ম্যান সিটিতে ডে ব্রইনে অধ্যায়

মাগুরায় মাদক ও জুয়া প্রতিরোধে মানববন্ধন

ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করতে থাইল্যান্ডকে আহ্বান ড. ইউনূসের

যারা ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে তারা আ.লীগের দোসর

বিমসটেকের আগামী সম্মেলন নিয়ে যে প্রস্তাব দিলেন ড. ইউনূস

ইংল্যান্ড দলে আরেক ধাক্কা

ট্রাম্পকে তৃতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হিসাবে চান না বেশিরভাগ আমেরিকান