হজযাত্রীদের বিমান ভাড়া ২৭ হাজার টাকা কমলো বায়তুল মোকাররমের মিনার নির্মাণ আজো শুরু হয়নি

সংস্কারের ছোঁয়া লাগেনি ধর্ম মন্ত্রণালয়ে

Daily Inqilab স্টাফ রিপোর্টার :

০৮ নভেম্বর ২০২৪, ১২:০১ এএম | আপডেট: ০৮ নভেম্বর ২০২৪, ১২:০১ এএম

বৈষম্যবিরোধী গণঅভ্যুত্থানের তিন মাস পরও সংস্কারের ছোঁয়া লাগেনি ধর্ম মন্ত্রণালয়ে। পতিত হাসিনার অনেক দোসরই ধর্ম মন্ত্রণালয়ে ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনে এখনো বহাল। বিভিন্ন ইসলামিক রাজনৈতিক দল ও সচেতন মহল থেকে স্বৈরাচার হাসিনার দোসরদের ধর্ম মন্ত্রণায়, বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ এবং ইসলামিক ফাউন্ডেশন থেকে অপসারণের একাধিকবার দাবি তোলা হলেও এ ব্যাপারে এখনো কার্যকরী উদ্যোগ চোখে পড়েনি। পতিত হাসিনার আস্থাভাজন মরহুম সাবেক ধর্মমন্ত্রীর ভাগ্নেসহ আওয়ামী শাসনামলে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে নিয়োগপ্রাপ্ত একাধিক পেশ ইমাম এখনো বহাল তবিয়তে। বিতর্কিত এসব পেশ ইমামের মাদরাসার সার্টিফিকেট ও বয়স জালিয়াতির ঘটনা একাধিক তদন্ত রিপোর্টে প্রকাশিত হলেও ধর্ম মন্ত্রণালয়ের একশ্রেণির সুবিধাবাদীদের নেক নজরের কারণে এসব বিতর্কিত পেশ ইমাম এখনো বহাল। এতে সাধারণ মুসল্লিরা চরমভাবে ক্ষুব্ধ। স্বৈরাচারী হাসিনার দোসর সাবেক মন্ত্রী উবায়দুল মোক্তাদিরের নিকটাত্মীয়কে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রধান কার্যালয় থেকে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ মার্কেট শাখায় বদলি করে পুরস্কৃত করা হয়েছে। বিগত ১৫ বছরে পতিত হাসিনার দোসরদের নির্যাতন-নিপীড়নের শিকার হয়ে যেসব ইসলামিক ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীকে ঢাকার বাইরে শাস্তিমূলক বদলি করে স্টিমরোলার চালানো হয়েছে। তাদের তালিকা তৈরি করে সংস্কারমূলক কর্মসূচির আওতায় ঢাকায় বা যোগ্য স্থানে পদায়নের কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি। আওয়ামী লীগের দালাল এবং বঙ্গবন্ধু পরিষদের হোমড়াচোমড়া এখনো ইফার প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব খাটিয়ে চলছে। সারাদেশে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের অধীনে ৫শ’ মডেল মসজিদ নির্মাণে আওয়ামী দোসররা যেসব মহা চুরি ও দুর্নীতি অনিয়ম করেছে তার কোনো তদন্ত এবং সুুষ্ঠু বিচারের উদ্যোগ নেয়া হয়নি। এসব মডেল মসজিদে আওয়ামী লীগের নিয়োগপ্রাপ্ত অযোগ্য অথর্ব ইমাম-খতিবরা খুনি হাসিনার পতনের পর কর্মস্থল থেকে পালিয়েছেন। এসব পলাতক ইমাম-খতিবদের স্থলে যোগ্য অভিজ্ঞ ইমাম-খতিব নিয়োগের উদ্যোগও চোখে পড়েনি। এ ব্যাপারে ইফার বিগত ডিজিদের সময়ে বার বার তাগিদ দেয়ার পড়ও পলাতক ইমাম- খতিবদের ব্যাপারে নতুন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি। ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেনের স্বউদ্যোগে এবার হজ প্যাকেজে হাজীদের বিমান ভাড়া গত বছরের চেয়ে ২৭ হাজার টাকা কমিয়েছেন। স্বৈরাচারী হাসিনার শাসনামলে হজ প্যাকেজের মূল্য অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পেয়েছিল। এ জন্য গত হজে প্রায় ৪৫ হাজার হজ কোটা খালি ছিল। ধর্ম উপদেষ্টা এবার চুলচেরা বিশ্লেষণ করে হজ প্যাকেজের মূল্য খাবার ও কোরবানি বাদে কমিয়ে এনেছেন। গত ৩০ অক্টোবর ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন সরকারিভাবে দু’টি হজের প্যাকেজ ঘোষণা করেন। সরকার ঘোষিত প্যাকেজ অনুযায়ী খরচ ধরা হয়েছে ৪ লাখ ৭৮ হাজার ২৪২ টাকা, যা গত হজের চেয়ে এক লাখ ৫৯৮ টাকা কম। অন্য প্যাকেজে খরচ ধরা হয়েছে ৫ লাখ ৭৫ হাজার ৬৮০ টাকা। এ প্যাকেজে খাবারের ৪০ হাজার টাকা এবং কোরবানির সাড়ে ৭শ’ সউদী রিয়াল ধরা হয়নি। গত হজে সরকারিভাবে হজে যেতে সাধারণ প্যাকেজে ৫ লাখ ৭৮ হাজার ৮৪০ টাকা খরচ হয়েছিল। বিশেষ হজ প্যাকেজের মূল্য ছিল ৯ লাখ ৩৬ হাজার ৩২০ টাকা। উল্লেখ্য, চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী বছরের জুন মাসের প্রথম সপ্তাহে পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হবে। এবার বাংলাদেশ থেকে এক লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ জন হজ পালন করতে পারবেন।
বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় সাধারণ হজ প্যাকেজের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ লাখ ২৩ হাজার টাকা (কোরবানি বাদে)। আর বিশেষ হজ প্যাকেজের মূল্য ৬ লাখ ৯৯ হাজার টাকা। গত বুধবার জাতীয় প্রেসক্লাবে সাধারণ হজ এজেন্সির মালিকবৃন্দের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখিত দু’টি বেসরকারি হজ প্যাকেজ ঘোষণা করেন হাবের সাবেক সভাপতি ফারুক আহমেদ সরদার। এক প্রশ্নের জবাবে হাবের সাবেক মহাসচিব ফরিদ বলেন, সরকারি হজ ব্যবস্থাপনায় হজ প্যাকেজের খরচ কমেনি। হাজীদের সেবার মান কমিয়ে সরকারি হজ প্যাকেজের মূল্য কম দেখানো হয়েছে। সরকারি ব্যবস্থাপনায় হারাম শরীফ থেকে হাজীদের বাড়ি ৩ কিলোমিটার দূরে করা হয়েছে। বাংলাদেশি বয়োবৃদ্ধ হাজীরা এত দূর থেকে বাসযোগে কাবা ঘরে নামাজ ইবাদত করতে কষ্টের শিকার হবেন।
সরকারি হজ প্যাকেজ ঘোষণায় হজযাত্রীদের বিভ্রান্ত করা হয়েছে বলেও হাবের সাবেক মহাসচিব ফরিদ দাবি করেন। হাব নেতা ফরিদ বলেন, ফ্যাসিস্ট পতিত হাসিনা সরকারের সময়ে অতিরিক্ত হজ প্যাকেজের মূল্যবৃদ্ধির দরুন গত হজে ৪০ হাজার হজ কোটা খালি ছিল। তিনি বর্তমানে ওমরাযাত্রীরা সউদীতে যাওয়া-আসায় ৭৩ হাজার টাকা থেকে ৮০ হাজার টাকায় বিমানের টিকিট পাচ্ছেন। সেক্ষেত্রে হজযাত্রীদের বিমান ভাড়া জনপ্রতি ১ লাখ ৪০ হাজার টাকাই নির্ধারণ করা যুক্তিযুক্ত ছিল। এদিকে, দেরিতে হলেও বৈষম্যবিরোধী হজ এজেন্সির মালিকবৃন্দ গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি কার্যালয়ের বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হজযাত্রীদের তিনটি হজ প্যাকেজ ঘোষণা করে অন্য প্যাকেজ থেকে ৫ হাজার টাকা কম নির্ধারণ করে হজযাত্রীদের তাক লাগিয়ে দিয়েছেন। বৈষম্যবিরোধী হজ এজেন্সির মালিকদের পক্ষে সদস্য সচিব মোহাম্মদ আলী সাধারণ হজ প্যাকেজ-১ এর মূল্য ৫ লাখ ১৮ হাজার টাকা খাওয়াসহ (কোরবানি বাদে) ঘোষণা করেন। সাধারণ হজ প্যাকেজ-২ এর মূল্য ৫ লাখ ৮৫ হাজার টাকা, বিশেষ হজ প্যাকেজ মূল্য ৬ লাখ ৭৫ হাজার টাকা ঘোষণা করেন। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের সৌন্দর্যবর্ধিত ও পূর্ব পাশে মিনার নির্মাণকাজ কয়েক যুগেও শুরু করা সম্ভব হয়নি। ফলে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের পূর্বাংশে ভূতড়ে অবস্থা বিরাজ করছে। নির্মাণাধীন মিনারস্থল এলাকায় মাদক, ছিনতাইকারী ও পতিতাদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। এ ব্যাপারে ইফা কর্তৃপক্ষ কোনো ভ্রƒক্ষেপ নেই। এছাড়া বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের মুসল্লিদের যাতায়াতের জন্য পূর্বদিকের রাস্তা নির্মাণের জন্য প্রায় ৫ কোটি টাকার প্রকল্প হাতে নেয়া হলেও তা অদ্যাবধি সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি। কেউ সেদিকে চোখ ফিরিয়ে তাকান না বলে মুসল্লিদের অভিযোগ। বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের হাজার হাজার মুসল্লির আগমন হলেও অজুখানা এবং টয়লেটের অবস্থা অত্যন্ত শোচনীয়। টয়লেটগুলোর দুর্গন্ধে মুসল্লিরা নাকে রুমাল দিয়ে আসা-যাওয়া করতে বাধ্য হচ্ছেন। নেই প্রয়োজনীয় সুইপার, ব্লিচিং পাউডার সাবান। জাতীয় মসজিদের দীর্ঘ ত্রিশ বছর যাবত কোনো খাদেম নিয়োগ বন্ধ। যেসব খাদেম অবসরে যাচ্ছেন তাদের স্থলে নতুন খাদেম নিয়োগ না দেয়ায় মসজিদের পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে চরমভাবে। টয়লেট ও অজুখানার ব্লিচিং পাউডার, সাবান চুরি করে বিক্রি করে দেয়ারও একাধিক অভিযোগ কোনো আমলে নেয়া হয়নি। গতকাল বৃহস্পতিবার ইসলামিক ফাউন্ডেশনের নতুন মহাপরিচালক হিসেবে সরকারের অতিরিক্ত সচিব মো. রেজানুর রহমানকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তিনি বিদায়ী মহাপরিচালক ড. মুহাম্মদ বশিরুল আলমের স্থলাভিষিক্ত হবেন। একজন মুসল্লি জানান, দেখা যাক ইফার নতুন ডিজি ইসলামিক ফাউন্ডেশনে কতটুকু সংস্কারের ছোঁয়া আনেন। কারণ অনেক ইফার ডিজি বায়তুল মোকাররমে আসতেনই না।


বিভাগ : বিশেষ সংখ্যা


মন্তব্য করুন

HTML Comment Box is loading comments...

এই বিভাগের আরও

জাগ্রত ভয় মনের মাঝে
আর কেউ বেঁচে নেই
সময়
মার্চের পদাবলি
অপসৃয়মাণ রেলগাড়ি
আরও
X

আরও পড়ুন

খালেস নিয়তে আমল করলে প্রতিদান সুনিশ্চিত

খালেস নিয়তে আমল করলে প্রতিদান সুনিশ্চিত

ইশার নামাজের সাথে সাথে বিতির নামাজ না পড়া প্রসঙ্গে?

ইশার নামাজের সাথে সাথে বিতির নামাজ না পড়া প্রসঙ্গে?

মানুষ ফ্যাসিবাদ মুক্ত বাংলাদেশে স্বাচ্ছন্দ্যে ঈদ উদযাপন করেছে: আবদুল হালিম

মানুষ ফ্যাসিবাদ মুক্ত বাংলাদেশে স্বাচ্ছন্দ্যে ঈদ উদযাপন করেছে: আবদুল হালিম

মুসল্লিদের বাধায় নাটক মঞ্চায়ন বাতিলের সংবাদ বিভ্রান্তিকর

মুসল্লিদের বাধায় নাটক মঞ্চায়ন বাতিলের সংবাদ বিভ্রান্তিকর

প্রয়োজনীয় সংস্কার করে যথাসম্ভব দ্রুত নির্বাচন দিতে হবে: মিয়া গোলাম পরওয়ার

প্রয়োজনীয় সংস্কার করে যথাসম্ভব দ্রুত নির্বাচন দিতে হবে: মিয়া গোলাম পরওয়ার

কারো চোখ রাঙানী আর মেনে নেয়া হবে না-সারজিস আলম

কারো চোখ রাঙানী আর মেনে নেয়া হবে না-সারজিস আলম

মাদক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে গ্রেপ্তার কানাডার অধিনায়ক

মাদক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে গ্রেপ্তার কানাডার অধিনায়ক

অবিলম্বে নির্বাচনের রোডম্যাপ দিতে হবে -আমান উল্লাহ আমান

অবিলম্বে নির্বাচনের রোডম্যাপ দিতে হবে -আমান উল্লাহ আমান

ফটিকছড়িতে ভাইয়ের হাতে ভাই খুন, লাইফ সাপোর্টে মা

ফটিকছড়িতে ভাইয়ের হাতে ভাই খুন, লাইফ সাপোর্টে মা

ট্রাম্পকে ৭ লাখ ৪১ হাজার ডলার জরিমানা করলেন লন্ডনের হাইকোর্ট

ট্রাম্পকে ৭ লাখ ৪১ হাজার ডলার জরিমানা করলেন লন্ডনের হাইকোর্ট

ড. ইউনূসের সঙ্গে বৈঠক শেষে ফেসবুক পোস্টে যা বললেন মোদি

ড. ইউনূসের সঙ্গে বৈঠক শেষে ফেসবুক পোস্টে যা বললেন মোদি

শেষ হচ্ছে ম্যান সিটিতে ডে ব্রইনে অধ্যায়

শেষ হচ্ছে ম্যান সিটিতে ডে ব্রইনে অধ্যায়

মাগুরায় মাদক ও জুয়া প্রতিরোধে মানববন্ধন

মাগুরায় মাদক ও জুয়া প্রতিরোধে মানববন্ধন

ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করতে থাইল্যান্ডকে আহ্বান ড. ইউনূসের

ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করতে থাইল্যান্ডকে আহ্বান ড. ইউনূসের

যারা ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে তারা আ.লীগের দোসর

যারা ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে তারা আ.লীগের দোসর

বিমসটেকের আগামী সম্মেলন নিয়ে যে প্রস্তাব দিলেন ড. ইউনূস

বিমসটেকের আগামী সম্মেলন নিয়ে যে প্রস্তাব দিলেন ড. ইউনূস

ইংল্যান্ড দলে আরেক ধাক্কা

ইংল্যান্ড দলে আরেক ধাক্কা

ট্রাম্পকে তৃতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হিসাবে চান না বেশিরভাগ আমেরিকান

ট্রাম্পকে তৃতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হিসাবে চান না বেশিরভাগ আমেরিকান

নাব্যতা হারিয়ে দখলদারদের কবলে পড়ে মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাচ্ছে একের পর এক নদী

নাব্যতা হারিয়ে দখলদারদের কবলে পড়ে মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাচ্ছে একের পর এক নদী

চুরি হওয়া অর্থ ফেরত আনতে শ্রীলঙ্কার সহায়তা চাইলো বাংলাদেশ

চুরি হওয়া অর্থ ফেরত আনতে শ্রীলঙ্কার সহায়তা চাইলো বাংলাদেশ