ভারতকে যেভাবে চাপে রাখা যায়
২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ১২:১৫ এএম | আপডেট: ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ১২:১৫ এএম

৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার পতনের পর আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা বেশ আশায় ছিলেন, ২০ জানুয়ারি ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় এলে অন্তর্বর্তী সরকারের অবস্থা খারাপ হয়ে যাবে। ট্রাম্প ভারতের মাধ্যমে সরকারকে ফেলে দেবে এবং শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগ ফিরে আসবে। প্রেসক্লাবে ও রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আওয়ামী ঘরানার সাংবাদিকদের কথাবার্তায় এ আশা ও উচ্ছ্বাস প্রকাশ হতে দেখেছি। তারা বলতেন, ২০ জানুয়ারি, দেখেন না কি হয়? অপেক্ষা করেন। ট্রাম্পের বিজয়ের পর তারা এটাও মনে করতেন, অন্তর্বর্তী সরকারের পতন সময়ের ব্যাপার মাত্র। এমনকি তাদের বলতে শুনেছি, ডিসেম্বরের মধ্যে সরকারের পতন হয়ে যাবে। সে সময় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা সোস্যাল মিডিয়ায় ট্রাম্পকে নিয়ে বেশ সরব ছিলেন। কোনো কোনো নেতা ট্রাম্পকে অভিনন্দিত করে রাজধানীতে পোস্টার সাঁটিয়েছিলেন। পলাতক শেখ হাসিনা ভারত থেকে নেতাকর্মীদের নির্দেশ দিয়েছিলেন ট্রাম্পের ব্যানার নিয়ে মিছিল করার জন্য এবং নিজেরাই সেই ব্যানার পদদলিত ও ছিঁড়ে ভিডিও করে যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসনে পাঠাতে। এতে ট্রাম্প ক্রুদ্ধ হয়ে সরকারের বিরুদ্ধে হয়তো কোনো পদক্ষেপ নেবেন। মোদি ও হাসিনার এই ষড়যন্ত্র ও চক্রান্ত ছাত্র-জনতা ভেস্তে দিয়েছিল। এই ষড়যন্ত্র ব্যর্থ হওয়ায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা আশায় বুক বাঁধেন ২০ জানুয়ারি ট্রাম্পের শপথ নেয়ার অপেক্ষায়। তারা এতটাই আশাবাদী হয়েছিলেন যে, ট্রাম্প শপথ নিয়েই যেন অন্তর্বর্তী সরকারকে ফেলে দেবেন এবং হাসিনা ও আওয়ামী লীগ আবার বুক চিতিয়ে ফিরে আসবে। ২০ জানুয়ারি পার হওয়ার পর কিছু না হওয়ায় তাদের হতাশ হতে হয়েছে। তারপর আশায় বুক বাঁধেন, ট্রাম্পের সাথে মোদির বৈঠক নিয়ে। ভারতের মিডিয়া, হাসিনা, মোদি এবং আওয়ামী লীগ বিপুল উৎসাহ ও আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করেছে, মোদি বাংলাদেশ নিয়ে ট্রাম্পের সাথে আলাপ করবেন এবং ট্রাম্প রেগে আগুন হয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের বিরুদ্ধে বক্তব্য ও ব্যবস্থা নেবেন। দেখা গেল, মোদি বাংলাদেশ প্রসঙ্গ ট্রাম্পের কাছে তুলেছেন বটে, তাতে ট্রাম্প তাদের প্রত্যাশা অনুযায়ী কিছুই বলেননি। সংবাদ সম্মেলনে মোদিকে বিরস বদনে বসে থাকতে দেখা গেছে। তবে আওয়ামী লীগের দেশি-বিদেশি নেতাকর্মী ও সমর্থকরা ট্রাম্পের একটি বক্তব্য ‘মিস ইন্টারপ্রেট’ বা বুঝতে অক্ষমতার পরিচয় দিয়ে সোরগোল তোলে এই বলে, ট্রাম্প বাংলাদেশের দায়িত্ব মোদিকে দিয়েছেন। এ নিয়ে সোস্যাল মিডিয়ায় তারা ব্যাপক ঢোল বাজায়। তাতেও কোনো কাজ হয়নি। লজ্জার বিষয় ছিল, যুক্তরাষ্ট্রে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ব্যানার নিয়ে স্বাগত জানিয়ে ‘মোদিজী’, ‘মোদিজী’ শ্লোগান দেয়া। আওয়ামী লীগ যে ভারতেরই একটি দলে পরিণত হয়েছে, তা এ থেকে বোঝা যায়। অবশ্য ভারতের একজন সাংবাদিক বলেছেন, আওয়ামী লীগ আর বিজেপি একই।
দুই.
এটা পরিস্কার, মোদি ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনাকে আশ্রয় দিয়ে রেখেছেন, বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের ঘুঁটি হিসেবে ব্যবহার করার জন্য। অন্তর্বর্তী সরকারকে ব্যর্থ করে দিতে তাদের যৌথ প্রযোজনার অনেক ষড়যন্ত্র ও চক্রান্ত হয়েছে। হাসিনা যতদিন বেঁচে থাকবেন, ভারত তাকে দিয়ে ষড়যন্ত্র যে করে যাবে, তা নিশ্চিত। এ ষড়যন্ত্র থেকে যেমন অন্তর্বর্তী সরকারকে সতর্ক থাকতে হবে, তেমনি আগামী জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে যে রাজনৈতিক দল ক্ষমতায় আসবে, তাকেও বিষয়টি মাথায় রাখতে হবে। যদি তা করা না হয়, তাহলে সেই দল ছয় মাস ক্ষমতায় থাকতে পারবে কিনা, সন্দেহ করা অমূলক হবে না। তখন আওয়ামী লীগ ও হাসিনা ফিরে আসবে এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব বলে কিছু থাকবে না। ভারত ও আওয়ামী লীগ নিশ্চয়ই চাইবে না, দ্বিতীয়বার সুযোগ হাতছাড়া করতে। দেশকে আওয়ামী লীগ ও ভারতের খপ্পর থেকে বাঁচিয়ে রাখতে হলে কী করতে হবে? প্রথম কাজ হবে, ভারত যে আওয়ামী লীগকে দিয়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব কুক্ষিগত করতে চায়, সেই আওয়ামী লীগকে অকার্যকর করা। তার সাংগঠনিক কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়া। ইতোমধ্যে আওয়ামী লীগ কোনো রাজনৈতিক দল নয়, এটি সন্ত্রাসীদল হিসেবে আখ্যায়িত করে নিষিদ্ধ করার দাবি উঠেছে। দাবিটি বেশ জোরালো হয়ে উঠেছে। অন্তত নির্বাচন কমিশন থেকে দলটির নিবন্ধন বাতিল করার কথাও কেউ কেউ বলেছেন, যাতে আগামী নির্বাচনে দল হিসেবে দলীয় প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করতে না পারে। এ কাজ করলে ভারতের পক্ষে সংগঠন হিসেবে আওয়ামী লীগকে ব্যবহার করতে পারবে না। অস্বীকার কারার উপায় নেই, আওয়ামী লীগের অসংখ্য নেতাকর্মী ও সমর্থক রয়েছে। প্রশ্ন আসতে পারে, তারা তখন কি করবে? এর উত্তরে বলা যায়, তারা তখন অন্তত আওয়ামী লীগের ব্যানারে মিছিল-মিটিং করতে পারবে না। এতে তাদের দলীয় যে স্পিরিট, তা নষ্ট হয়ে যাবে। আত্মপরিচয় হারিয়ে ফেলবে। অন্যদিকে, মানবতাবিরোধী অপরাধসহ গুরুতর অপরাধে শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের বিচার দ্রুত করে শাস্তি নিশ্চিত করতে পারলে, দলটির অস্তিত্ব প্রান্তিক পর্যায়ে চলে যাবে। এর সাথে সাথে ভারতেরও এদেশে কার্যকর কোনো সংগঠিত দল থাকবে না, যাকে দিয়ে সে তার স্বার্থ হাসিল করতে পারবে। এতে ভারতকে বাংলাদেশের প্রতি তার দৃষ্টিভঙ্গি বদলাতে হবে। সে তখন হয়ত অন্য কোনো দল, গোষ্ঠী ও তার দোসরদের উপর আছর করবে। পাশাপাশি আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসন করবে। এ কাজ সে করবেই। তবে তাকে যদি বিভিন্ন উপায়ে চাপে বা ধমকের উপর রাখা যায়, তাহলে সে এ সুযোগ পাবে না।
তিন.
প্রশ্ন হচ্ছে, ভারতকে কীভাবে চাপে রাখা যায়? তার উপায় কি? এর জবাবে বলা যায়, ভারতের চারপাশে এখন বন্ধু রাষ্ট্র বলতে কিছু নেই। সবাই তাকে ‘হোস্টাইল এনিমি’ হিসেবে বিবেচনা করে। চীন ও পাকিস্তান তাকে ক্রমাগত ধমক ও চাপের মধ্যে রেখেছে। দেশ দুটি সীমান্তে ভারতকে রীতিমতো তটস্থ ও ব্যতিব্যস্ত রেখেছে। ভারত সেখানে সীমান্ত রক্ষায় হিমশিম খাচ্ছে। একদিকে পাকিস্তান গুঁতা দিলে, আরেক দিকে চীন গুঁতা দিচ্ছে। গত বছরের ১০ সেপ্টেম্বর কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, লাদাখে দিল্লির সমপরিমাণ ভূমি দখল করে নিয়েছে চীন। এছাড়া অরুণাচল প্রদেশের অন্তত ৬০ কিলোমিটার ভেতরে ঢুকে পড়েছে চীনের সেনারা। অঞ্চলটিতে নিজেদের ঘাঁটিও গেড়েছে তারা। সেভেন সিস্টার্সেও নাকি চীনা সেনারার প্রবেশ করেছে। এদিকে, চীন ভারতের লাদাখকে চীনের অংশ বলে বরাবরই দাবি করে আসছে। তার দাবি এটি অতীতে চীনা সাম্রাজ্যের নিয়ন্ত্রণে ছিল। ভারত এই অঞ্চল দাবি করে, অতীতে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের নিয়ন্ত্রণে ছিল বলে। ফলে সীমান্তে চীনকে সামাল দিতে ভারতকে সবসময় তটস্থ থাকতে হচ্ছে। পাকিস্তান তো জম্মু ও কাশ্মির নিয়ে ভারতকে অনেকটা দৌড়ের উপর রেখেছে। এই দুই দেশ যেমন ভারতকে চাপের মধ্যে রেখেছে, তেমনি অন্যদেশগুলোও ভারতকে এখন খুব একটা আমলে নিচ্ছে না। ফলে সে বাংলাদেশে তার হারানো আধিপত্য ফিরে পেতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। হাসিনা ও যুক্তরাষ্ট্রকে ব্যবহার করার চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। এমন অবস্থায়, তাকে চাপে রাখতে সরকারকে বেশ কয়েকটি বিষয়ের ওপর জোর দিতে হবে। প্রথমত ভারতের প্রতি হোস্টাইল দেশগুলোর সাথে সম্পর্ক গভীর করতে হবে। এক্ষেত্রে চীন হচ্ছে সবচেয়ে কার্যকর অস্ত্র। ভারতের অন্যায্য আচরণের বিরুদ্ধে এখন যেমন অন্তর্বর্তী সরকার তার চোখে চোখ রেখে কথা বলছে, তেমনি চীনের সাথে গভীর সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে। মালদ্বীপ, নেপাল, ভুটান ও পাকিস্তানের সাথে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদার করতে হবে। এতে ভারত বাংলাদেশের কাছে একঘরে হয়ে পড়বে এবং তাকে নমনীয় হতে বাধ্য করবে। ভারতকে কাবু করতে বাংলাদেশের হাতে গুরুত্বপূর্ণ কৌশল রয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশের ভৌগলিক অবস্থান এমন এক জায়গায় যে, এ অঞ্চলের সব দেশের জন্য তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফলে বাংলাদেশকে এখন বলা হচ্ছে, ‘প্যারাডাইস অফ কানেক্টিভিটি’। প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস গত ১৬ ফেব্রুয়ারি ডিসি সম্মেলনে বক্তব্য দিতে গিয়ে বলেছেন, বাংলাদেশ যোগাযোগ ও অর্থনীতির ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভৌগলিক অবস্থানে রয়েছে। নেপাল ও ভূটানে সমুদ্র নেই, ভারতের সেভেন সিস্টার্সেও সমুদ্র নেই। দেশ দুটি ও ভারতের সেভেন সিস্টার্স পারস্পরিক স্বার্থে বাংলাদেশের সমুদ্রবন্দর ব্যবহার করতে পারে। অন্যদিকে, নেপাল ও ভুটান বাংলাদেশকে হিমালয়ের হাইড্রো পাওয়ার বা বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহার করতে দিতে পারে। তিনি বলেছেন, আমাদের সামনে বিশাল সুমুদ্র রয়েছে, যার মাধ্যমে সমুদ্র বন্দর ব্যবহার করে সারাবিশ্বের সাথে যোগাযোগ ও ব্যবসা-বাণিজ্যের অমিত সম্ভাবনা রয়েছে। আমাদের শুধু প্রয়োজন, চিন্তা ও উদ্যোগ। এই উদ্যোগ শুরু হয়েছে বলে তিনি জানান। অন্যদিকে, বাংলাদেশ হয়ে পূর্ব এশিয়ার দেশসহ এ অঞ্চলের অনেকে দেশের সাথে যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলা যায়। চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোট ইনেসিয়েটিভ (বিআরআই) তার অন্যতম। এর মাধ্যমে চীন, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়াসহ সুদূর ইউরোপ পর্যন্ত যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলা যায়। আর ভারতের জন্য বাংলাদেশ আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, তাকে সেভেন সিস্টার্সের সাথে সহজ যোগাযোগ রাখতে হলে, বাংলাদেশ ছাড়া গতি নেই। ভারত বেশি বাড়াবাড়ি করলে, তার জবাবে বাংলাদেশ যদি যোগাযোগের এ পথ বন্ধ করে দেয়, তাহলে সে অথৈ সাগরে পড়ে যাবে। সে সেভেন সিস্টার্স বিচ্ছিন্ন হওয়ার শঙ্কায় থাকবে। ফলে ভারতকে চাপে রাখতে বাংলাদেশকে এদিকে নজর দিতে হবে। কেউ কেউ বলে থাকেন, ভারত যদি বাংলাদেশে সামরিক হামলা বা যুদ্ধ বাঁধায়, তাহলে বাংলাদেশে নাকি এক মিনিটও টিকে থাকতে পারবে না। যারা এ কথা বলেন, তাদের জ্ঞানের সীমাবদ্ধতা রয়েছে। ভারত বাংলাদেশের সাথে যুদ্ধ বাঁধালে সে কোনোভাবেই জয়ী হতে পারবে না। পরাজয় সুনিশ্চিত। এর প্রথম কারণ হচ্ছে, যুদ্ধে জয়ী হতে হলে, হামলার শিকার দেশের মানুষের সমর্থন ও সহযোগিতা প্রয়োজন। ভারত বাংলাদেশে হামলা করলে বাংলাদেশের মানুষ কখনোই সমর্থন দেবে না। যেমনটি হয়েছিল, মুক্তিযুদ্ধে জনগণের সমর্থন পাকিস্তানের না পাওয়া। পাকিস্তান টিকে থাকতে পারেনি। যুদ্ধে পরাজিত হয়েছে। আর যে দেশে হামলা করা হবে, সে দেশের স্থলপথ ও জলপথ সম্পর্কে হামলাকারি দেশের সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের ধারণা থাকতে হয়। বাংলাদেশের স্থল ও জলপথ সম্পর্কে ভারতের সেনাসদস্যদের চেনাজানা নেই। ফলে তারা ঢুকলেও সুবিধা করতে পারবে না। বরং চরমভাবে মার খাবে। শুষ্ক মৌসুমে আমাদের সশস্ত্র বাহিনী যে শীতকালীন মহড়া দেয়, তার অন্যতম কারণ হচ্ছে, হোস্টাইল এনিমি ভারত যাতে এ সময় আক্রমণ করতে না পারে। বর্ষাকালে মহড়া না হওয়ার কারণ হচ্ছে, এ সময়ে আবহাওয়াগত কারণে ভারত হামলা করবে না। এটা একটা সামরিক কৌশল। তাছাড়া, ভারত যদি হামলা করে, তাহলে তাকে চীন বা পাকিস্তান বর্ডার থেকে সৈন্যসামন্ত বাংলাদেশের সীমান্তে আনতে হবে। এতে ঐসব সীমান্ত অরক্ষিত হয়ে পড়বে। পাকিস্তান ও চীনের জন্য সুবিধা হয়ে যাবে। ফলে ভারত কখনোই এ বোকামি করবে না। যারা বলেন, ভারত হামলা করলে বাংলাদেশ টিকে থাকতে পারবে না, তা তাদের অজ্ঞতা ছাড়া কিছুই নয়। এটা জুজুর ভয় দেখানো। কাজেই ভারত বাংলাদেশে যুদ্ধ চালিয়ে কিছুই করতে পারবে না। ফলে ভারতকে তোয়াক্কা করার কিছুই নেই। উল্টো ভারতকে চাপে ফেলার অনেক কৌশল বাংলাদেশের রয়েছে। তাকে চাপে ফেলার সবচেয়ে বড় অস্ত্র এখন সরকারের হাতে রয়েছে। সেটি হচ্ছে, বিডিআর হত্যাকা-ের বিচার করা। এটা এখন স্পষ্ট, এই হত্যাকা-ের সাথে আওয়ামী লীগের নেতারা যেমন জড়িত ছিলেন, তেমনি ভারতের গোয়েন্দা সংস্থাও জড়িত ছিল। গত ১৬ ফেব্রুয়ারি একটি অনুষ্ঠানে অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় টিকিয়ে রাখতে পিলখানা হত্যাকা- আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের অংশ ছিল। এটি কোনো বিদ্রোহ ছিল না, ছিল পরিকল্পিত হত্যাকা-। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্বকে বিপন্ন করে দেশকে চোরাবালির সন্ধিক্ষণে দাঁড় করানো হয়েছিল। তিনি যে আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের কথা বলেছেন, তা যে ভারতেরই ছিল, তা পরিস্কার। এ কথা এখন অনেকেই বলছেন। ফলে বিডিআর হত্যাকা-ের বিচার করে প্রকৃত অপরাধীদের যদি সাজা দেয়া হয়, তাহলে তা ভারতের জন্য বড় ধরনের আঘাত হবে। সারা দুনিয়া জানবে, ভারত একটি স্বাধীন দেশে সামরিক বাহিনীর কর্মকর্তাদের হত্যাকা-ের সাথে জড়িত ছিল। এর ফলে, বাংলাদেশের আভ্যন্তরীণ বিষয়ে ভারত ভবিষ্যতে হস্তক্ষেপ করার সাহস পাবে না।
চার.
ভারতকে সোজা করতে হলে, তার দুর্বল জায়গাগুলোতে হাত দিতে হবে। তার কোথায় কোথায় দুর্বলতা রয়েছে, তা সরকারের চেয়ে বেশি কেউ জানে না। শুধু প্রয়োজন, এমন সরকার, যে ভারতকে চাপে রেখে সোজা হয়ে চলতে বাধ্য করতে পারবে। আগামীতে যে সরকারই আসুক না কেন, তাকে এ চরিত্র ধারন করতে হবে। ভারতের সাথে ব্যবসা-বাণিজ্য ও পারস্পরিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে ন্যায্যতার ভিত্তিতে সম্পর্ক থাকবে, তবে সে যাতে দাদাগিরি করতে না পারে কিংবা এদেশে তার বশংবদ কোনো দল বা সরকার করতে না পারে, এদিকে খেয়াল রাখতে হবে। যারা ভারততোষণ নীতি অবলম্বন করবে, তাদের পরিণতি আওয়ামী লীগের মতোই হবে। তাদের বুঝতে হবে, এখন আমাদের ভারতের প্রয়োজন নেই। ভারতকেই তার স্বার্থে আমাদেরকে নমনম করতে হবে। কারণ, বিশ্ব রাজনীতিতে ভারত এখন তার অবস্থান হারিয়ে ফেলেছে। সর্বশেষ, যুক্তরাষ্ট্রে ট্রাম্পের সাথে মোদির বৈঠকে সে ব্যর্থতা ফুটে উঠেছে। মোদি ট্রাম্পের কাছে তেমন একটা পাত্তা পায়নি। উল্টো ট্রাম্প তার বাণিজ্য ভারতের কাছ থেকে আদায় করে নিয়েছে, বিনিময়ে ভারতের পণ্যের উপর সম্পূরক শুল্ক বাড়িয়ে দিয়েছে। আবার যুক্তরাষ্ট্রে ভারতের অবৈধ অভিবাসীদের পাঠিয়ে দিচ্ছে। আমাদের জন্য ভারতকে চাপে রাখার সুযোগ তৈরি হয়েছে। আমাদের সরকারকে বুঝতে হবে, ভারতীয়রা জাতিগতভাবেই ভীতু। সে হম্বিতম্বি করবে, কিছু করতে পারবে না।
darpan.journalist@gmail.com
বিভাগ : সম্পাদকীয়
মন্তব্য করুন
আরও পড়ুন

মীরসরাইয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় এসএসসি পরীক্ষার্থী মৃত্যু

ড. ইউনূস-মোদির বৈঠকে ‘আশার আলো’ দেখছেন মির্জা ফখরুল

মেহেরপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এম এ খালেক গ্রেফতার

তারেক রহমানের মানবিক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার বার্তা নিয়ে সাধারণ মানুষের কাছে কেন্দ্রীয় যুবদল নেতা

ড. ইউনূসকে ‘বস’ ডেকে যা বললেন উপদেষ্টা আসিফ

গণপিটুনিতে নিহত খুনে অভিযুক্ত, বাঁচাতে যেয়ে আহত ৬ পুলিশ

চিকেন’স নেক নিয়ে আতঙ্কে ভারত, নিরাপত্তা জোরদার

মরহুম আতাহার হোসেন স্মৃতি আন্তঃব্যাচ ক্রিকেট টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলা

ড. ইউনূসের সঙ্গে মোদির বৈঠক প্রয়োজন ছিল : মির্জা আব্বাস

জকিগঞ্জে অটোরিকশা চালককে মারধর করে টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন

বিএনপি কারো উপর নির্যাতন করতে চায় না' : শামা ওবায়েদ

ইশার নামাজের সাথে সাথে বিতির নামাজ না পড়া প্রসঙ্গে?

থাইল্যান্ড থেকে দেশের উদ্দেশে রওনা হলেন প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস

মানুষ ফ্যাসিবাদ মুক্ত বাংলাদেশে স্বাচ্ছন্দ্যে ঈদ উদযাপন করেছে: আবদুল হালিম

মুসল্লিদের বাধায় নাটক মঞ্চায়ন বাতিলের সংবাদ বিভ্রান্তিকর

প্রয়োজনীয় সংস্কার করে যথাসম্ভব দ্রুত নির্বাচন দিতে হবে: মিয়া গোলাম পরওয়ার

কারো চোখ রাঙানী আর মেনে নেয়া হবে না-সারজিস আলম

মাদক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে গ্রেপ্তার কানাডার অধিনায়ক

অবিলম্বে নির্বাচনের রোডম্যাপ দিতে হবে -আমান উল্লাহ আমান

ফটিকছড়িতে ভাইয়ের হাতে ভাই খুন, লাইফ সাপোর্টে মা