আগামী জাতীয় নির্বাচনে ক্ষমতায় যাওয়ার দৌড়ে কে এগিয়ে
২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ১২:০২ এএম | আপডেট: ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ১২:০২ এএম

জাতীয় রাজনীতিতে এখন নানা মেরুকরণ চলছে। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার পতন ও পলায়নের পর নতুন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এই মেরুকরণ শুরু হয়েছে। এর মূল লক্ষ্য আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন। পত্র-পত্রিকার খবর অনুযায়ী, অন্তর্বর্তী সরকার আগামী ডিসেম্বরে নির্বাচন করার চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিচ্ছে। কোনো কারণে ডিসেম্বরে সম্ভব না হলে আগামী বছরের জানুয়ারিতে নির্বাচন হবে। জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে বিএনপি, জামায়াতসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দল যেমন প্রস্তুতি নিচ্ছে, তেমনি ছাত্র-জনতার আন্দোলনে নেতৃত্ব দেয়া সমন্বয়কদের নিয়ে নতুন রাজনৈতিক দল আজ আত্মপ্রকাশ করবে। সমন্বয়কদের নেতৃত্বে নতুন ছাত্র সংগঠনও গঠিত হয়েছে। এই মেরুকরণের মধ্যে পতিত স্বৈরাচারী দল আওয়ামী লীগ অবাঞ্চিত হয়ে আছে। হাসিনাসহ দলটির মূল নেতৃত্বের বড় অংশ দেশের বাইরে পালিয়ে গেছে। কেউ জেলে আছেন, কেউ আত্মগোপণে। ইতোমধ্যে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে আওয়ামী লীগের ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বৈষম্যবিরোধী প্ল্যাটফর্ম ও অন্যান্য মহল থেকে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার দাবিও উঠেছে। উপদেষ্টাদের কেউ কেউ দলটিকে নিষিদ্ধ করার কথা বলেছেন। নির্বাচন কমিশন থেকে নিবন্ধন বাতিলের দাবিও উঠেছে। তবে আওয়ামী লীগ প্রকাশ্য রাজনীতিতে উপস্থিত না থাকলেও দেশের বাইরে থাকা হাসিনাসহ দলটির অন্য নেতারা দেশের বিরুদ্ধে নানা ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছেন। ফলে আগামী নির্বাচনে দলটি অংশগ্রহণ করতে পারবে কিনা, করলেও কীভাবে অংশগ্রহণ করবে, তা নিশ্চিত নয়। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে নির্বাচনকেন্দ্রিক যে মেরুকরণ চলছে, তাতে আওয়ামী লীগ দৃশ্যমান নয়। এমন প্রেক্ষাপটে, বিচার বিশ্লেষণে যে হিসাবটি আসে তা হচ্ছে, আগামী নির্বাচনে জয়ী হওয়ার রেসে বিএনপি এগিয়ে। এ বাস্তবতা দলটির ঘোর বিরোধীরাও স্বীকার করবেন। বলা যায়, নতুন রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এবং নির্বাচন নিয়ে বড় ধরনের গড়বড় না হলে দেশের সবচেয়ে বড়, সুসংগঠিত এবং রাষ্ট্র পরিচালনার অভিজ্ঞতাসম্পন্ন দল হিসেবে এ মুহূর্তে বিএনপির ক্ষমতায় যাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।
দুই.
ইতোমধ্যে নির্বাচনকে গড়বড় করা এবং নানা উসিলায় পিছিয়ে দেয়া নিয়ে একধরনের রাজনৈতিক কূটকৌশল চলছে। বর্তমানে কার্যকর রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে একটি ইসলামি রাজনৈতিক দলের মধ্যে সংস্কারের কথা বলে নির্বাচন পিছিয়ে দেয়ার প্রবণতা রয়েছে। দলটির হাবভাব এমন যে, আগামী নির্বাচনে সে-ই ক্ষমতায় আসবে। এজন্য গুছিয়ে উঠতে তার সময় প্রয়োজন। এ সময় নেয়ার উসিলা হিসেবে দলটি বলছে, আগে সংস্কার, পরে নির্বাচন। সংস্কার করতে যতদিন লাগবে, ততদিন তারা সময় দেবে। এর অন্তর্নিহিত অর্থ হচ্ছে, এর মধ্যে দলটি গুছিয়ে উঠতে চায়। ইতোমধ্যে বিএনপির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, দলটি প্রশাসনের সর্বত্র তার লোকজন বসিয়ে দিয়েছে। বিএনপির এই অভিযোগ যে একেবারে অসত্য, তা নয়। বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় এ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। প্রশাসন থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয়, মাদরাসায় দলটির ভাবধারার লোকজন সেট করা হয়েছে। আরও সময় পেলে দলটি গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে নিজের লোকজন বসাতে পারবে। এর মধ্যে নির্বাচনে সুবিধা পাওয়ার বিষয়টি লুকিয়ে আছে। তবে আগামী নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য করতে অন্তর্বর্তী সরকার দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস অনেক আগেই বলেছেন, আগামী নির্বাচন অবাধ ও গ্রহণযোগ্য করে বিশ্বের কাছে ইতিহাস সৃষ্টি করতে চান। দেখার বিষয়, ভোটের হিসাবে ইসলামি রাজনৈতিক দলটির ক্ষমতায় যাওয়ার সুযোগ ও সম্ভাবনা আছে কিনা। বলা যায়, আপাতত নেই। এর কারণ হচ্ছে, মুক্তিযুদ্ধে দলটির প্রশ্নবিদ্ধ ভূমিকা এবং তার আদর্শের সাথে বাংলাদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমানের মতদ্বৈততা। পর্যবেক্ষকরা মনে করেন, যে দলটি এ দেশের স্বাধীনতা চায়নি এবং মুক্তিযুদ্ধে তার ভূমিকা নিয়ে স্পষ্ট কোনো উত্তর দিচ্ছে না, সে দলের প্রতি দেশের মানুষের খুব বেশি আগ্রহ থাকবে, তা হলফ করে বলা যায় না। যদি তাই থাকত, তাহলে স্বাধীনতার প্রায় ৫৫ বছরে দলটি ক্ষমতায় যাওয়া দূরে থাক, জাতীয় নির্বাচনে বিশটি আসন পাওয়ার সক্ষমতা দেখাতে পারেনি। দলটি ১৯৯১ সালের নির্বাচনে সর্বোচ্চ ১৮টি আসন পেয়েছিল। ১৯৯৬ সালে পেয়েছিল ৩টি, ২০০১ সালে বিএনপির সাথে জোট করে পেয়েছিল ১৭টি, ২০০৮ সালে পেয়েছিল ২টি। ২০১৩ সালে হাসিনার অধীনে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেনি। ২০১৮ সালে জাতীয় ঐক্য ফোরামের অধীনে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীক নিয়েও কোনো আসন পায়নি। ২০২৪ সালের আমি-ডামির নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেনি। স্বাধীনতার প্রায় ৫৫ বছরের জাতীয় নির্বাচনে দলটির অর্জন এটুকুই। এ ধারাবাহিকতায় ধরে নেয়া যায়, জাতীয় নির্বাচনে ৫০ আসন পেতে দলটির আরও ৫০ বছর লাগবে, আর সরকার গঠন করার মতো ১৫১ আসন পেতে কত বছর লাগবে, তা সহজে অনুমেয়। সংবিধান সংস্কার কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী, দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট সংসদ গঠন করা হলেও তাতে সরকার গঠন করার মতো আসন পাবে, কিংবা দলটির দাবি অনুযায়ী আনুপাতিক হারে ভোট হলে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে, এ আশা খুবই ক্ষীণ। এমনকি, দলটি যদি রাজনৈতিক কূটকৌশল হিসেব ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য পতিত আওয়ামী লীগের সাথে জোটও করে, তাতেও আগামী নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে বলে মনে হয় না। বাংলাদেশের রাজনীতি মূলত দ্বিদলীয়। স্বাধীনতার পর আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশভাবে একদলে পরিণত হলেও শেখ মুজিবের পতনের পর জিয়াউর রহমানের ক্যারিশম্যাটিক নেতৃত্বে বিএনপি জনগ্রহণযোগ্যতা অর্জন করে আওয়ামী লীগের প্রধান প্রতিপক্ষ হয়ে ওঠে এবং বারবার রাষ্ট্র ক্ষমতায় আসে। বাকি দলগুলো দুই দলের সাথে জোট ও যুগপৎ ভূমিকায় ছিল। দলগুলোর মধ্যে ক্ষমতায় যাওয়ার মতো ক্যারিশম্যাটিক নেতৃত্বের অভাব এবং তাদের রাজনৈতিক আদর্শের গ্রহণযোগ্যতা জনগণের কাছে অর্জিত হয়নি। ফলে দলগুলোকে বড় দুই দলের সাথে জোটবদ্ধ হয়ে ক্ষমতার অংশীদার হতে হয়েছে। এককভাবে ক্ষমতায় যাওয়ার মতো অবস্থান গড়ে উঠেনি। দ্বিদলীয় রাজনৈতিক ব্যবস্থা শুধু বাংলাদেশে নয়, ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডাসহ গণতান্ত্রিক ধারার দেশগুলোতে সবসময়ই বহাল রয়েছে। বাংলাদেশে এখন ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের পতনের পর মূলত দ্বিদলীয় রাজনৈতিক এই সংস্কৃতি অনেকটা একদলীয় হয়ে পড়েছে। অন্য দলগুলোর সাথে তার ব্যবধান যোজন যোজন দূর হয়ে পড়েছে। আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে ইসলামী দলটি যতই ক্ষমতাকামী হোক না কেন, এই ব্যবধান ঘুছিয়ে ক্ষমতায় যাওয়া প্রায় অসম্ভব।
দুই.
ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে নেতৃত্বদানকারী সমন্বয়করা নতুন দল গঠন করেছে। গণতান্ত্রিক ধারায় বহুমত, বহুপথ ও বহুদল থাকবে, এটাই স্বাভাবিক। সমন্বয়করা যে নতুন দল গঠন করছে, তাকে ফ্যাসিবাদবিরোধী সকল রাজনৈতিক দল স্বাগত জানিয়েছে। দেশে তরুণদের নেতৃত্বে নতুন দলের আবির্ভাব ঘটুক, এ নিয়ে কারো দ্বিমত নেই। তবে বাস্তবতা হচ্ছে, নতুন রাজনৈতিক দল গঠন করার পর তার জনভিত্তি অর্জিত হতে বহু সময় অতিক্রম করতে হয়। রাতারাতি জনভিত্তি অর্জিত হয় না। দলের নীতি-আদর্শ, লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য কি, তা জনগণের সামনে তুলে ধরতে হয়। জনগণ আশ্বস্ত হলে, সেই দলের গ্রহণযোগ্যতা বাড়তে থাকে। এক্ষেত্রে, দলের নেতৃত্বে দক্ষ, অভিজ্ঞ ও অভিভাবকতুল্য ব্যক্তিত্বদের প্রয়োজন। দলের প্রধান যদি ক্যারিশম্যাটিক নেতৃত্বের গুণাবলীর অধিকারী হয়, তাহলে তার প্রতি যেমন জনগণের আস্থা অর্জিত হয়, তেমনি দলও এগিয়ে যায়। সমন্বয়করা গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দিয়েছেন। তাতে ফ্যাসিবাদবিরোধী সকল রাজনৈতিক দল ও শ্রেণী নির্বিশেষে সাধারণ মানুষের অকুণ্ঠ সমর্থন ছিল। লক্ষ্য ছিল একটাই, তা হচ্ছে, ফ্যাসিস্ট হাসিনার পতন। এ কারণেই তাদের নেতৃত্ব সকলে মেনে নিয়েছে। তবে গণঅভ্যুত্থানে তারা কোনো রাজনৈতিক দলের নেতৃত্ব দেননি। অরাজনৈতিক বা সাধারণ শিক্ষার্থী ও মানুষের হয়ে নেতৃত্ব দেয়ায় তারা অকুণ্ঠ সমর্থন পেয়েছেন। কোনো রাজনৈতিক দলের হয়ে নেতৃত্ব দিলে, সেই প্রেক্ষাপটে সাধারণ মানুষের সমর্থন পাওয়া কঠিন ছিল। কারণ, ফ্যাসিস্ট হাসিনার প্রায় সাড়ে ১৫ বছরে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর অনেক নেতাকর্মী জীবন দিয়ে সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার, হামলা-মামলা, গুম, জেল-জুলুম ও সীমাহীন নিপীড়ন-নির্যাতনের শিকার হয়েও সফল হতে পারেনি। ফলে রাজনৈতিক দলের বাইরে থেকে হাসিনার পতনের লক্ষ্যে সকল শ্রেণী-পেশার নেতৃত্ব দেয়া, আর রাজনৈতিক দলের মাধ্যমে নেতৃত্ব দেয়ার মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। সমন্বয়কদের মধ্যে নতুন রাজনৈতিক দলের নেতৃত্বে কারা থাকবেন, এ নিয়ে বিভক্তি ও মতপার্থক্য পরিলক্ষিত হয়েছে। এসব দূর করে দল গঠন হলেও মতপার্থক্য একেবারে দূর হয়ে যাবে, তা মনে করার কারণ নেই। দল গঠনের আগেই দলের শীর্ষ সারির নেতৃত্বে শিবির এবং এক্স-শিবিরের নেতৃত্ব আসা নিয়ে যথেষ্ট টানাপড়েনের সৃষ্টি হয়েছে। এতে নতুন দল একেবারে ফ্রেশ নেতৃত্ব নিয়ে যাত্রা শুরু করেছে, তা বলা যায় না। অনেকে, এ মতও ব্যক্ত করেছেন, নতুন দল না আবার একটি ইসলামি দলের লেজে পরিণত হয়। ফলে নতুন দলকে আগামীতে এই ‘ট্যাগ’মুক্ত থেকে রাজনীতি করার চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হবে। অবশ্য নতুন দলের নেতৃবৃন্দ ইতোমধ্যে বলেছেন, তাদের দল মধ্যপন্থী। অস্বীকার করার উপায় নেই, নতুন এই রাজনৈতিক দল দেশে নতুন এক শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হবে। তাদের লক্ষ্য, আগামী নির্বাচনে ১০০ আসনে বিজয়ী হওয়া এবং পরের নির্বাচনে ক্ষমতায় যাওয়া। এটা সম্ভব হতে পারে, তাদের দলের নেতাকর্মীদের পরিচ্ছন্ন ও সৎ রাজনীতির মাধ্যমে দেশের মানুষের মন জয় করার মধ্য দিয়ে। যদি দেশের প্রথাগত রাজনৈতিক অপসংস্কৃতির কবলে পড়ে এবং সেভাবে পরিচালিত হয়, তাহলে মানুষের আস্থা অর্জন করা সম্ভব হবে না।
চার.
প্রশ্ন হচ্ছে, বিএনপির ক্ষমতায় যাওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও তা বাস্তবায়িত হবে কিনা? নতুন রাজনৈতিক মেরুকরণ এবং নানা সমীকরণের সাথে দলটি তাল মিলিয়ে চলতে পারছে কিনা? দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ফ্যাসিস্ট হাসিনার পতনের পরপরই বলেছিলেন, আগামী নির্বাচন বিএনপির জন্য অত্যন্ত কঠিন হবে। অনেক দুস্তর পথ পাড়ি দিতে হবে। তার এ কথার মধ্যে দূরদর্শিতা ছিল। পরিবর্তিত রাজনৈতিক মেরুকরণে তা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। একদিকে, নির্বাচন দ্রুত না হওয়া নিয়ে নানামুখী তৎপরতা যেমন রয়েছে, অন্যদিকে তৃতীয় শক্তির আর্বিভাবের শঙ্কার কথাও বলা হচ্ছে। এতে ক্ষতি হলে একমাত্র বিএনপিরই হবে। তার ক্ষমতায় যাওয়ার পথ ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠবে। ইতোমধ্যে বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ নিয়ে প্রতিপক্ষ রাজনীতি শুরু করে দিয়েছে। সাড়ে ১৫ বছরে দলটির নিপীড়িত-নির্যাতিত নেতাকর্মীদের ত্যাগকে অস্বীকার করার প্রবণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। দেশি-বিদেশি শক্তি বিএনপিকে নেতিবাচকভাবে তুলে ধরার চেষ্টা করছে। এটা বিএনপির জন্য ক্ষতিকর। অন্যদিকে, সমন্বয়কদের নতুন রাজনৈতিক দল বিএনপির জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। মানুষের সামনে প্রথাগত রাজনৈতিক দলের বাইরে নতুন অপশন তৈরি করেছে। নতুন দলের কারো বিরুদ্ধে এলাকায় তেমন বদনাম নেই। তারা অনভিজ্ঞ হতে পারে, তবে মানুষ যদি চিন্তা করে, বহু বছর ধরে পুরনো রাজনৈতিক দলগুলোকে দেখেছি। এবার নতুন একটি দল কী করতে পারে, একবার বিজয়ী করে দেখি। তাহলে, বিএনপির ক্ষমতায় যাওয়ার পাশা উল্টে গেলেও অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। এর উদাহরণ বিএনপি নিজে। গণঅভ্যুত্থানে এরশাদের পতনের পর ’৯১ সালের নির্বাচনে সব আসনে অভিজ্ঞ প্রার্থী দিতে পারেনি। অনেক অচেনা ও এলাকায় বদনাম নেই এমন প্রার্থী দিতে হয়েছে। সেই তারাই কিন্তু সে সময় ক্ষমতার দ্বারপ্রান্তে থাকা আওয়ামী লীগের বাঘা বাঘা প্রার্থীকে পরাজিত করেছে এবং বিএনপিকে ক্ষমতায় যেতে সহায়তা করেছে। এর মূল কারণ ছিল, এলাকায় সেসব প্রার্থীর ভালো ইমেজ ছিল। একইভাবে গণঅভ্যুত্থানে ফ্যাসিস্ট হাসিনার পতনের পর যে নতুন রাজনৈতিক দল গঠিত হয়েছে, তারা অনভিজ্ঞ হলেও যখন সব আসনে ফ্রেশ প্রার্থী দেবে, তখন বিএনপি ও অন্য রাজনৈতিক দলের প্রার্থীর সাথে ভোটাররা মিলিয়ে দেখবে। তখন যদি তাদের কাছে মনে হয়, বিএনপির প্রার্থীর চেয়ে নতুন দলের প্রার্থী ভালো, তাহলে তারা তাকেই বেছে নেবে, যেমনটি বিএনপির বেলায় ’৯১ সালে ঘটেছিল। ফলে বিএনপিকে এবার সৎ ও এলাকায় ভালো ইমেজ রয়েছে, এমন প্রার্থী দেয়া ছাড়া বিকল্প নেই।
darpan.journalist@gmail.com
বিভাগ : সম্পাদকীয়
মন্তব্য করুন
আরও পড়ুন

মীরসরাইয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় এসএসসি পরীক্ষার্থী মৃত্যু

ড. ইউনূস-মোদির বৈঠকে ‘আশার আলো’ দেখছেন মির্জা ফখরুল

মেহেরপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এম এ খালেক গ্রেফতার

তারেক রহমানের মানবিক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার বার্তা নিয়ে সাধারণ মানুষের কাছে কেন্দ্রীয় যুবদল নেতা

ড. ইউনূসকে ‘বস’ ডেকে যা বললেন উপদেষ্টা আসিফ

গণপিটুনিতে নিহত খুনে অভিযুক্ত, বাঁচাতে যেয়ে আহত ৬ পুলিশ

চিকেন’স নেক নিয়ে আতঙ্কে ভারত, নিরাপত্তা জোরদার

মরহুম আতাহার হোসেন স্মৃতি আন্তঃব্যাচ ক্রিকেট টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলা

ড. ইউনূসের সঙ্গে মোদির বৈঠক প্রয়োজন ছিল : মির্জা আব্বাস

জকিগঞ্জে অটোরিকশা চালককে মারধর করে টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন

বিএনপি কারো উপর নির্যাতন করতে চায় না' : শামা ওবায়েদ

ইশার নামাজের সাথে সাথে বিতির নামাজ না পড়া প্রসঙ্গে?

থাইল্যান্ড থেকে দেশের উদ্দেশে রওনা হলেন প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস

মানুষ ফ্যাসিবাদ মুক্ত বাংলাদেশে স্বাচ্ছন্দ্যে ঈদ উদযাপন করেছে: আবদুল হালিম

মুসল্লিদের বাধায় নাটক মঞ্চায়ন বাতিলের সংবাদ বিভ্রান্তিকর

প্রয়োজনীয় সংস্কার করে যথাসম্ভব দ্রুত নির্বাচন দিতে হবে: মিয়া গোলাম পরওয়ার

কারো চোখ রাঙানী আর মেনে নেয়া হবে না-সারজিস আলম

মাদক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে গ্রেপ্তার কানাডার অধিনায়ক

অবিলম্বে নির্বাচনের রোডম্যাপ দিতে হবে -আমান উল্লাহ আমান

ফটিকছড়িতে ভাইয়ের হাতে ভাই খুন, লাইফ সাপোর্টে মা