ভারত এবং আওয়ামী লীগকে মোকাবেলা করার কঠিন শপথ নিয়ে আত্মপ্রকাশ করলো এনসিপি
০৪ মার্চ ২০২৫, ১২:০১ এএম | আপডেট: ০৪ মার্চ ২০২৫, ১২:০১ এএম

All eyes are focused on the newly floated political party, অর্থাৎ নবগঠিত জাতীয় নাগরিক পার্টির ওপর সকলের দৃষ্টি নিবদ্ধ। এর বহুবিধ কারণ রয়েছে। বস্তুত গত ৮ আগস্ট ইন্টারিম সরকার গঠিত হওয়ার প্রায় মাস দুই পর থেকে অভিজ্ঞ রাজনৈতিক মহলে একটি প্রশ্ন ঘোরাফেরা করছিল। সেটি হলো, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের তিন নেতা তো উপদেষ্টা পরিষদে জয়েন করলেন। অন্যেরা কী করবেন? তারপর দিন যতই গড়াতে থাকে ততই ফ্যাসিবাদবিরোধী গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী রাজনৈতিক দল ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্রনেতাদের মধ্যে ধীরে ধীরে দূরত্ব বাড়তে থাকে। এটিকে কোনো অস্বাভাবিক বিষয় মনে হয় না। কারণ, গণবিপ্লবের আগে বিপ্লবের অংশীজনদের সকলের সামনে কমন শত্রু ছিল আওয়ামী লীগ এবং আওয়ামী ঘরানা। আরেকটি কমন শত্রু ছিল ভারতীয় প্রভূত্ব। অবশ্য ভারতীয় প্রভূত্বের বিরুদ্ধে সকলেই সমান উচ্চকণ্ঠ ছিলেন না। ফ্যাসিস্ট হাসিনার স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে আন্দোলনের অংশীজনদের মধ্যে ইসলামী, মধ্যপন্থী এবং বামপন্থীÑ সব মত ও পথের দলই ছিল। আগস্ট বিপ্লবের পর শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগ যেমন উৎখাত হয়, তেমনি দৃশ্যমানভাবে অবসান ঘটে ভারতীয় প্রভূত্বের (তবে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী, প্রশাসন এবং জনগণের মধ্যে ভারতীয় দালালরা ঘাপটি মেরে থাকে এবং এখনও আছে)।
যাই হোক, শেখ হাসিনার পালিয়ে যাওয়ার আগে রাজনীতি ছিল প্রধানত দ্বিদলীয়। একদিকে আওয়ামী লীগ এবং তাদের জোট। অন্যদিকে বিএনপি এবং তাদের জোট। আওয়ামী লীগ বিতাড়িত হওয়ার পর রাজনীতি প্রথম দিকে এককেন্দ্রিক হয়ে ওঠে। অর্থাৎ বিএনপিকেন্দ্রিক। কিন্তু এর ফলে যে শূন্যতার সৃষ্টি হয় সেটি তো আর অনন্তকাল শূন্য থাকতে পারে না। জামায়াতে ইসলামী বিপ্লব পরবর্তী সময়ে দৃশ্যমানভাবে দ্বিতীয় বৃহত্তম পার্টি হলেও এই দেশের ঐতিহ্য অনুযায়ী জনগণ যে ধরনের রাজনৈতিক দল চান জামায়াত ঠিক সেই স্থানে ঐ মুহূর্তে অবস্থান করতে পারেনি। সেজন্যই জনগণের মনে চাহিদা ছিল, তাদের আকাঙ্খাধারণকারী একটি বিকল্প শক্তির। এরমধ্যে কতগুলি ঘটনা ঘটে।
আওয়ামী লীগ যতগুলি অপকর্ম করে সেগুলি করতো শেখ মুজিবের নাম ভাঙ্গিয়ে, তাকে পুঁজি করে। শেখ মুজিবের ওপর তার কন্যা শেখ হাসিনা রীতিমত দেবত্ব আরোপ করেন। ফ্যাসিবাদ, নাৎসিবাদ বা কর্তৃত্ববাদ গড়ে তুলতে হলে প্রয়োজন Personality cult গড়ে তোলা। সেটিই করা হয়েছিল শেখ হাসিনার আমলে। শেখ হাসিনার পালিয়ে যাওয়ার সাথে সাথেই আন্দোলনকারীরা ঢাকাসহ সারা দেশে শেখ মুজিবের মুর্তি ভেঙ্গে ফেলেন এবং তার ছবি পদতলে পিষ্ট করেন। এটি ছিল একটি অসাধ্য কাজ। তারপরেও দেখা যায় গত বছরের ১৫ আগস্ট এক ধরনের মুজিবপ্রেমী ধানমন্ডি ৩২ নাম্বারে গিয়ে অনেকটা পূজা করার মতো নৈবদ্য অর্পণ করে। অবশ্য ওদের সংখ্যা ছিল হাতে গোনার মতো। তখন আন্দোলনের প্রধান শক্তি মনে করে যে, শেখ মুজিবের ইমেজ পুরোপুরি ধ্বংস হয়নি। সুতরাং তারা ৫ ফেব্রুয়ারি ধানমন্ডি ৩২ নাম্বারের বাড়ি গুড়িয়ে দেয় এবং সারা দেশে শেখ মুজিব, শেখ হাসিনা এবং শেখ পরিবারের সাথে যুক্ত সকলের সব রকম চিহ্ন মুছে ফেলে। এই কাজটির বিরুদ্ধে ছদ্মবেশী কিছু আওয়ামী লীগার মৃদু প্রতিবাদ করলেও জনগণ তাতে কান দেয়নি। কারণ, হিটলারের জন্ম হয় অস্ট্রিয়াতে। কিন্তু তিনি হন জার্মানির ডিক্টেটর। হিটলারের পতনের পর জার্মানিসহ সমগ্র ইউরোপের যেখানে যেখানে হিটলারের স্মৃতি বা চিহ্ন অবশিষ্ট ছিল সেগুলি সব নিশ্চিহ্ন করা হয়। এমনকি হিটলারের পোশাক পরিচ্ছদও জ¦ালিয়ে দেওয়া হয়।
হিটলারের পতনের পর সেই যে নাৎসি দল এবং নাৎসিবাদকে নিষিদ্ধ করা হয়, আজ ৭৬ বছর হলো নাৎসিবাদ ও নাৎসি দল এখনো সেখানে নিষিদ্ধ রয়েছে। এই তো কিছুদিন আগে নাৎসিবাদের তৃতীয় প্রজন্মের কতিপয় অনুসারী নিও নাৎসিবাদ বা নব্য নাৎসিবাদ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু সরকার তৎক্ষণাৎ সেই প্রচেষ্টা কঠোর হাতে দমন করে।
॥দুই॥
বাংলাদেশের ৫৪ বছরের ইতিহাসে এটি প্রশ্নাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে যে, আওয়ামী লীগ কোনো রাজনৈতিক দল নয়। এটি হলো সন্ত্রাসীদের একটি দল। শেখ মুজিবের আমল থেকেই আওয়ামী লীগের প্রধান শক্তি ছিল পুরানা ঢাকার লাঠিয়াল বাহিনী। পাকিস্তান আমলে পুরানা ঢাকার রূপমহল সিনেমা হলে তারা মওলানা ভাসানীর সম্মেলন হামলা করে পন্ড করে দিয়েছে। পল্টন ময়দানে মওলানা ভাসানী, ওয়ালী সাবেক পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের নেতারা উপস্থিত থাকা সত্ত্বেও চতুর্মুখী আক্রমণ করে আওয়ামী লীগের ঠ্যাঙ্গাড়ে বাহিনী ঐ বিশাল জনসভা পন্ড করে দেয়। সেই সময়কার চৌকস আইনবিদ এবং শেখ মুজিবের আগরতলা মামলায় মুজিবের পক্ষের প্রধান উকিল এ্যাডভোকেট আব্দুস সালামের জনসভা ভেঙ্গে দেয়। এই ধরনের গুন্ডামির ইতিহাস আওয়ামী ইতিহাসের পাতায় পাতায় বিধৃত।
বিএনপি ৪০ বছরের অভিজ্ঞ রাজনৈতিক দল। কিন্তু দলটি এই ৪০ বছরে একবারও আওয়ামী পেশী শক্তির মোকাবেলা করতে পারেনি। ছাত্রলীগ নামক হেলমেট বাহিনীর উদ্যত ডান্ডা এবং দেশীয় অস্ত্রের মুখে প্রতিবার বিএনপি এবং ছাত্রদল পিছু হটেছে। জনগণ সব সময় অনুভব করেছে যে, যে দেবতা যে ফুলে তুষ্ট তেমন ফুল দিয়েই তাকে তুষ্ট করতে হবে। আর অন্যক্ষেত্রে যেমন কুকুর তেমনি মুগুর হতে হবে।
ছাত্রদের বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে তারা তেমনি মুগুর হয়ে উঠেছিলেন। গত জুলাই মাসের মধ্যভাগে ছাত্রলীগ যখন কোটা আন্দোলনের ওপর সশস্ত্র হামলা করে এবং ফলে যখন কয়েকজন ছাত্র শহীদ হন তখনই বৈষম্যবিরোধী ছাত্রনেতারা ঘুরে দাঁড়ান। যে রাজাকার শব্দটি প্রয়োগ করে এতদিন আওয়ামী লীগ জাতীয়তাবাদী এবং ইসলামী ঘরানার রাজনীতিকে ডান্ডা মেরে ঠান্ডা করে আসছিল সেই রাজাকার শব্দটি নিয়েই প্রতিবাদী ছাত্ররা ঘুরে দাঁড়ান। তাদের ছিল বুকের পাটা। সেই রাত্রেই ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের সমস্ত ছাত্র হল একটি বজ্র নির্ঘোষ শ্লোগানে প্রকম্পিত হয়ে ওঠে। সেটি হলো, ‘তুমি কে আমি কে/রাজাকার রাজাকার, কে বলেছে কে বলেছে/স্বৈরাচার স্বৈরাচার’। অতঃপর রজনীর গভীর অন্ধকারে সমস্ত ছাত্র প্রতিটি হল থেকে সমস্ত ছাত্রলীগ নেতা ও কর্মীকে বিতাড়িত করেন। তার পরদিন থেকেই শুধুমাত্র ঢাকা নয়, সারা দেশেই ছাত্রলীগ ভ্যানিসড হয়ে যায়। অবশ্য তারা পুলিশের পোশাক পরে, পুলিশের হেলমেট পরে, পুলিশের ছত্রছায়ায় ছাত্র-জনতার ওপর গুলিবর্ষণ করে।
॥তিন॥
ফিরে আসছি বর্তমানে। শেখ হাসিনা নরেন্দ্র মোদির ছায়াতলে বসে ৫ ফেব্রুয়ারি যখন তার নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে ভাষণ দেওয়ার খায়েশ প্রকাশ করেন, তখন সেই রাতে বাংলাদেশের দামাল ছেলেরা ধানমন্ডি ৩২ নাম্বারের বাসভবনটি গুড়িয়ে দেয়। আমি ব্যক্তিগতভাবে ৬ ফেব্রুয়ারি বেলা ১১টার দিকে অকুস্থলে যাই। দেখি, কোনো ছাত্রনেতা নাই। কিন্তু হাজার হাজার মানুষ মহা উল্লাসে শেখ মুজিবের বাড়ির শেষ চিহ্ন মুছে ফেলে দেওয়ার কাজে লিপ্ত। আমার আগেই ধারণা ছিল, শেখ মুজিব এবং আওয়ামী যুগের অবসান হয়েছে। সেদিন আমার ধারণা আরো দৃঢ়বদ্ধ হলো।
এইসব জীবন বাজি রাখা দুঃসাহসিক ছাত্রনেতারা যে একটি রাজনৈতিক দল করবেন সেটি বেশ কিছুদিন ধরেই শোনা যাচ্ছিল। সেই রাজনীতির আদর্শ ও লক্ষ্য কী হবে, সে সম্পর্কেও একটি ধারণা পাওয়া যাচ্ছিল। সেই সব ধারণাই শব্দগুচ্ছ হয়ে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মানিক মিয়া এ্যাভিনিয়ের বিশাল ছাত্র-জনতার সমাবেশে মানুষের কর্ণ কুহরে প্রবেশ করেছে। ইতিহাস সাক্ষী দেয় যে, গণআন্দোলন বা গণঅভ্যুত্থানে যারা নেতৃত্ব দেন, পরবর্তীতে রাজনীতিতে প্রবেশ করলে ওরা অনেককেই ছাপিয়ে যান। ৯০ এ এরশাদ বিরোধী গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ এবং জামায়াতও ছিল। কিন্তু বিএনপি সেই অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়ায় ৯১ সালের নির্বাচনে সকলকে স্তম্ভিত করে দিয়ে বেগম জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি জয়লাভ করে।
২৪ এর গণঅভ্যুত্থান যেসব ছাত্রনেতা লক্ষ লক্ষ জনতার মিছিলের পুরো ভাগে ছিলেন তারাই গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মানিক মিয়া এ্যাভিনিউতে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছেন। এর মানে আমি এটা বলছি না যে তারা প্রতিষ্ঠিত অন্যান্য দলকে ছাপিয়ে যাবে। তবে তারা যে বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে সিরিয়াসলি গণনা করার মতো একটি ফ্যাক্টর হবে সেটি সম্পর্কে কারো আর দ্বিমত নাই। নবগঠিত রাজনৈতিক দলের যেসব লক্ষ্য রয়েছে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
(১) ২৪ এর বিপ্লবকে দ্বিতীয় স্বাধীনতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা। (২) বাংলাদেশকে সেকেন্ড রিপাবলিক বা দ্বিতীয় প্রজাতন্ত্র হিসেবে বিনির্মাণ করা। (৩) বর্তমানের ৭২ এর সংবিধান, যেটি মুজিববাদী সংবিধান হিসেবে বহুল পরিচিত, সেই সংবিধান বাতিল করে নতুন সংবিধান রচনা। (৪) সংবিধান রচনার জন্য প্রথমে পার্লামেন্ট বা জাতীয় সংসদ নয়, একটি সংবিধান সভা বা গণপরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠান করা। (৫) বজ্রের ধ্বনি কেড়ে নিয়ে আওয়াজ তোলা- ইনকিলাব জিন্দাবাদ। (৬) চিরদিনের জন্য ফ্যাসিবাদি স্বৈরতন্ত্র এবং একটি সংঘবদ্ধ আওয়ামী ক্ল্যানের মাধ্যমে রাষ্ট্রের লক্ষ লক্ষ কোটি টাকা লুন্ঠন করে চোরতন্ত্র বা Kleptocracy এর অবসানের জন্য বুলন্দ আওয়াজ তোলা- দিল্লি না ঢাকা/ঢাকা ঢাকা। (৭) পরিবার তন্ত্রের অবসান ঘটিয়ে মেধা ও যোগ্যতা সম্পন্ন ব্যক্তিদের নিয়ে সরকার গঠন।
এসবের মধ্যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলো নতুন সংবিধান রচনা, সংবিধান সভা বা গণপরিষদের নির্বাচন, সেকেন্ড প্রোক্লামেশন বা দ্বিতীয় ফরমান জারি, সেকেন্ড রিপাবলিক বা দ্বিতীয় প্রজানতন্ত্র বিনির্মাণ। নবগঠিত দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের সাথে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে আলাপ-আলোচনা করে ধারণা হয়েছে যে, ওরা ফাঁকা আওয়াজ দেননি। ওরা যে বিপ্লবী সেটি অনুসন্ধানী কলামিস্ট এবং সাংবাদিকরা জানতে পারেন গত বছরের ১৯ জুলাই। তখন আগস্ট বিপ্লব বীর দর্পে এগিয়ে চলেছে। এর মাঝে ঐদিন একটি ইংরেজি দৈনিকে ১৯ জুলাই একটি খবর বের হয় যে, বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইট হ্যাকড হয়েছে। হ্যাকাররা বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইটে ইংরেজিতে লিখেছেন, Operation Hunt Down. Stop killing students. It is not a protest any more, It’s a war now. Attention Law Enforcement, Political Groups and Citizens. (ইংরেজি ডেইলি নিউ এজ, ১৯ জুলাই ২০২৪)। অনুবাদ: অপারেশন হান্ট ডাউন। ছাত্রহত্যা বন্ধ করো। এটা আর কোনো প্রতিবাদ নয়, এখন এটি একটি যুদ্ধ। আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, রাজনৈতিক গ্রুপসমূহ এবং দেশের নাগরিকদের দৃষ্টি আকর্ষণ।
যুদ্ধ শেষ হয়েছে। জনগণ দেশের সশস্ত্র পুলিশ, র্যাব, বিজিবি, আনসার প্রমুখ বাহিনীর বিরুদ্ধে খালি হাতে বা নিরস্ত্র অবস্থায় যুদ্ধ করেছেন এবং বিজয়ী হয়েছেন। লক্ষ কোটি জনগণ এই নিরস্ত্র যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছেন। তাই এটি শুধুমাত্র গণঅভ্যুত্থান নয়, এটি একটি গণবিপ্লব।
এই গণবিপ্লব অনুপ্রেরণা পেয়েছে ফরাসি বিপ্লব থেকে। ফরাসি বিপ্লব অনুপ্রেরণা পেয়েছে মার্কিন বিপ্লব থেকে। আর রুশ বিপ্লব অনুপ্রেরণা পেয়েছে ফরাসি বিপ্লব থেকে। ফরাসি বিপ্লব অনুপ্রেরণা পেয়েছে ক্ষণজন্মা কয়েকজন দার্শনিক ও চিন্তাবিদের লেখা থেকে। এরা হলেন, জন লক, জঁ জ্যাক রুসো, ভলতেয়ার এবং মন্টেস্কো থেকে। বিপ্লব শুরুর সময় ফ্রান্সে অবস্থান করছিলেন মার্কিন বিপ্লবী টমাস জেফারসন (তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্টও নির্বাচিত হয়েছিলেন)। তার চিন্তাধারাও উদ্বুদ্ধ করেছে ফরাসি বিপ্লবীদের। এই বিপ্লবের মূল মন্ত্র ছিল (১) সাম্য (২) স্বাধীনতা (৩) ভ্রাতৃত্ব (৪) গণতন্ত্র (৫) সার্বভৌমত্ব এবং (৬) কল্যাণ রাষ্ট্র। যারা দ্বিতীয় স্বাধীনতার ধারণাকে কটাক্ষ করেন তাদের জানা উচিত, আমেরিকাও ঘোষণা করেছিল তাদের দ্বিতীয় স্বাধীনতা। তাদের প্রথম স্বাধীনতা এসেছিল ১৭৭৬ সালের ৪ জুলাই। আর দ্বিতীয় স্বাধীনতা আসে ১৮১২ সালের যুদ্ধের পর।
মার্কিন বিপ্লব, বিপ্লবকালীন মার্কিন গৃহযুদ্ধ এবং ফরাসি বিপ্লবের মূল মন্ত্র বাংলাদেশের আগস্ট বিপ্লবের বিপ্লবীরা কতদিন ধারণ করতে পারবেন সেটি দেখার জন্য জনগণ গভীর আগ্রহে প্রতীক্ষা করছেন।
Email: journalist15@gmail.com
বিভাগ : সম্পাদকীয়
মন্তব্য করুন
আরও পড়ুন

মীরসরাইয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় এসএসসি পরীক্ষার্থী মৃত্যু

ড. ইউনূস-মোদির বৈঠকে ‘আশার আলো’ দেখছেন মির্জা ফখরুল

মেহেরপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এম এ খালেক গ্রেফতার

তারেক রহমানের মানবিক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার বার্তা নিয়ে সাধারণ মানুষের কাছে কেন্দ্রীয় যুবদল নেতা

ড. ইউনূসকে ‘বস’ ডেকে যা বললেন উপদেষ্টা আসিফ

গণপিটুনিতে নিহত খুনে অভিযুক্ত, বাঁচাতে যেয়ে আহত ৬ পুলিশ

চিকেন’স নেক নিয়ে আতঙ্কে ভারত, নিরাপত্তা জোরদার

মরহুম আতাহার হোসেন স্মৃতি আন্তঃব্যাচ ক্রিকেট টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলা

ড. ইউনূসের সঙ্গে মোদির বৈঠক প্রয়োজন ছিল : মির্জা আব্বাস

জকিগঞ্জে অটোরিকশা চালককে মারধর করে টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন

বিএনপি কারো উপর নির্যাতন করতে চায় না' : শামা ওবায়েদ

ইশার নামাজের সাথে সাথে বিতির নামাজ না পড়া প্রসঙ্গে?

থাইল্যান্ড থেকে দেশের উদ্দেশে রওনা হলেন প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস

মানুষ ফ্যাসিবাদ মুক্ত বাংলাদেশে স্বাচ্ছন্দ্যে ঈদ উদযাপন করেছে: আবদুল হালিম

মুসল্লিদের বাধায় নাটক মঞ্চায়ন বাতিলের সংবাদ বিভ্রান্তিকর

প্রয়োজনীয় সংস্কার করে যথাসম্ভব দ্রুত নির্বাচন দিতে হবে: মিয়া গোলাম পরওয়ার

কারো চোখ রাঙানী আর মেনে নেয়া হবে না-সারজিস আলম

মাদক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে গ্রেপ্তার কানাডার অধিনায়ক

অবিলম্বে নির্বাচনের রোডম্যাপ দিতে হবে -আমান উল্লাহ আমান

ফটিকছড়িতে ভাইয়ের হাতে ভাই খুন, লাইফ সাপোর্টে মা