রোহিঙ্গাদের খাদ্য সহায়তা হ্রাস কাম্য নয়
০৭ মার্চ ২০২৫, ১২:২৮ এএম | আপডেট: ০৭ মার্চ ২০২৫, ১২:২৮ এএম

বিশ্বখাদ্য সংস্থা কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে খাদ্য সহায়তা অর্ধেকেরও বেশি কমিয়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে বলে গতকাল পত্রিকান্তরে প্রকাশিত এক খবরে জানা যায়। খবরে বলা হয়েছে, আগামি এপ্রিল মাস থেকে রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে জাতিসংঘের খাদ্য সহায়তা সংস্থার তরফ থেকে দেয়া সহায়তা জনপ্রতি মাসে সাড়ে ১২ ডলার থেকে কমিয়ে ৬ ডলারে নামিয়ে আনার সিদ্ধান্ত ডাব্লিউএফপি’র পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশকে জানানো হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক সহায়তা তহবিল(ইউএসএআইডি) বাতিলের প্রতিক্রিয়া হিসেবে রোহিঙ্গাদের এই খাদ্য সহায়তা কমানোর কথা বলা হলেও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র রোহিঙ্গাদের সহায়তা কার্যক্রম বন্ধ করেনি। বিশ্ব খাদ্য সংস্থার চলমান রোহিঙ্গা খাদ্য সহায়তা ন্যুনতম চাহিদা অনুসরণ করেই নির্ধারিত হয়েছে। মাসে মাত্র সাড়ে ১২ ডলার থেকে কমিয়ে ৬ ডলার নির্ধারণ করা হলে রোহিঙ্গা জনগোষ্টির পুষ্টি ও স্বাস্থ্যের উপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিলে বিশ্ব খাদ্য সংস্থাকে এ ধরণের সিদ্ধান্ত থেকে এখনো নিবৃত্ত করা সম্ভব বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন। মূলত আর্ন্তজাতিক সম্প্রদায় ও সংস্থাগুলোর আহ্বানে সাড়া দিয়েই মানবিক কারণে বাংলাদেশ দশ লক্ষাধিক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়েছিল। মিয়ানমার পরিস্থিতি অনিশ্চিত হওয়ায় এখনো প্রতিদিন অবৈধ পথে রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে আসছে। উচ্চ জন্মহারের কারণে এমনিতেও ক্যাম্পগুলোতে রোহিঙ্গা জনসংখ্যা বেড়ে চলেছে। রোহিঙ্গা শরনার্থী শিশুদের মানবিক সহায়তা জোরদারে সম্প্রতি ইউনিসেফ ও জাপান সরকারের মধ্যে সম্প্রতি ৩৩ লাখ ডলারের একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। বিশ্বখাদ্য সংস্থার বরাদ্দ অর্ধেকের বেশি কমে গেলে তা সেখানকার সামগ্রিক জীবনযাত্রায় বিরূপ প্রভাব সৃষ্টি করবে।
বিগত সরকারের কূটনৈতিক ব্যর্থতা ও অদূরদর্শিতার কারণে এক দশকেও রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান তথা রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু করা যায়নি। এমনকি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উদ্যোগগুলোর সাথেও তাল মেলাতে পারেনি সরকার। আফ্রিকার দেশ গাম্বিয়া রোহিঙ্গা গণহত্যা নিয়ে আর্ন্তজাতিক আদালতে(আইসিজে) যে মামলা করেছিল সেখানেও বাংলাদেশের যথাযথ অংশগ্রহণ ও সহযোগিতা নিশ্চিত করতে পারেনি হাসিনা সরকার। বল্গাহীন অর্থ পাচারের মধ্য দিয়ে দেশকে অর্থনৈতিকভাবে দেউলিয়াত্বের দ্বারপ্রান্তে রেখে শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার পর অর্থনীতিকে গতিশীল রাখা অর্ন্তবর্তী সরকারের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। ক্রমবর্ধমান রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠি দেশের অর্থনীতি, সামাজিক পরিবেশ, কক্সবাজার অঞ্চলের প্রাকৃতিক পরিবেশ এবং আইনশৃঙ্খলার উপর বিরূপ প্রভাব ফেলছে। রোহিঙ্গা সংকট একটি আর্ন্তজাতিক মানবিক সংকট। বিশ্বসম্প্রদায়কে এর দায়ভার বহন করতে হবে। শুধুমাত্র খাদ্য কিংবা মানবিক সহায়তা দিয়ে বাংলাদেশের ক্ষতিপুরণ কিংবা ভার লাঘব করা সম্ভব নয়। রোহিঙ্গাদের খাদ্য সহায়তা, মানবিক সহায়তা, কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির পাশাপাশি প্রায় দেড় মিলিয়ন রোহিঙ্গা অভিবাসির চাপে কক্সবাজারের পরিবেশগত ও সামগ্রিক প্রভাব বা ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগের সাথে সাথে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া জোরদার করতে বর্তমান অর্šÍবর্তী সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। দেশে দেশে যুদ্ধব্যয় বাড়িয়ে পরাশক্তিগুলো আন্তর্জাতিক মানবিক সহায়তা কমিয়ে দেয়ার প্রবণতা সম্পর্কে বাংলাদেশের মত ভুক্তভোগি দেশগুলোকে আরো জোরালো ও উচ্চকণ্ঠ ভূমিকা গ্রহণ করতে হবে।
রাখাইনের বিদ্রোহী গ্রুপগুলোর কাছে মিয়ানমার জান্তা সরকারের অনুগত বাহিনীর পতনের মধ্য দিয়ে সেখানে একটি নতুন বাস্তবতা সৃষ্টি হচ্ছে। এ সময়ে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া ও রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী রাজনৈতিক সমাধানের প্রচেষ্টা জোরদার করতে হবে।বাংলাদেশের দক্ষ আমলা ও কূটনীতিক ড. খলিলুর রহমানকে রোহিঙ্গা সমস্যা ও অগ্রাধিকার সম্পর্কিত বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টার হাই রিপ্রেজেন্টেটিভ নিয়োগ এ ক্ষেত্রে একটি সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত। ড. ইউনূসের ব্যক্তিগত ইমেজ এবং ড. খলিলুর রহমানের দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা রোহিঙ্গা সংকটসহ আঞ্চলিক ও দ্বিপাক্ষিক সমস্যা নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মানুষের প্রত্যাশা। অতীতের শৈথিল্য ও ব্যর্থতা কাটিয়ে রোহিঙ্গা সংকটসহ বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও বিনিয়োগের প্রতিবন্ধকতা দূর করতে বর্তমান সরকারকে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করতে হবে। রোহিঙ্গাদের জন্য বিশ্বখাদ্য সংস্থার খাদ্য সহায়তা অর্ধেকের বেশি কমিয়ে দেয়ার সিদ্ধান্তে রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। এ ধরণের পদক্ষেপ সেখানকার জীবনমানের অবনতির সাথে সাথে অপরাধ প্রবণতা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিরও অবনতি ঘটাতে পারে। অসময়ে জাতিসংঘের খাদ্য সংস্থার এমন সিদ্ধান্ত অযৌক্তিক। যেখানে পরাশক্তি দেশগুলো যুদ্ধের পেছনে প্রতি মাসে শত শত কোটি ডলারের অস্ত্র ও অন্যান্য সহায়তা দিচ্ছে, সেখানে গণহত্যা ও মানবিক বিপর্যয়ের শিকার রোহিঙ্গা শরনার্থীদের জন্য মাত্র সাড়ে ১২ ডলারের খাদ্য সহায়তা ৬ ডলারে নামিয়ে আনা অবাস্তব ও দুঃখজনক। এ বিষয়ে বাংলাদেশকে তার অবস্থান তুলে ধরতে হবে।
বিভাগ : সম্পাদকীয়
মন্তব্য করুন
আরও পড়ুন

মীরসরাইয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় এসএসসি পরীক্ষার্থী মৃত্যু

ড. ইউনূস-মোদির বৈঠকে ‘আশার আলো’ দেখছেন মির্জা ফখরুল

মেহেরপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এম এ খালেক গ্রেফতার

তারেক রহমানের মানবিক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার বার্তা নিয়ে সাধারণ মানুষের কাছে কেন্দ্রীয় যুবদল নেতা

ড. ইউনূসকে ‘বস’ ডেকে যা বললেন উপদেষ্টা আসিফ

গণপিটুনিতে নিহত খুনে অভিযুক্ত, বাঁচাতে যেয়ে আহত ৬ পুলিশ

চিকেন’স নেক নিয়ে আতঙ্কে ভারত, নিরাপত্তা জোরদার

মরহুম আতাহার হোসেন স্মৃতি আন্তঃব্যাচ ক্রিকেট টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলা

ড. ইউনূসের সঙ্গে মোদির বৈঠক প্রয়োজন ছিল : মির্জা আব্বাস

জকিগঞ্জে অটোরিকশা চালককে মারধর করে টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন

বিএনপি কারো উপর নির্যাতন করতে চায় না' : শামা ওবায়েদ

ইশার নামাজের সাথে সাথে বিতির নামাজ না পড়া প্রসঙ্গে?

থাইল্যান্ড থেকে দেশের উদ্দেশে রওনা হলেন প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস

মানুষ ফ্যাসিবাদ মুক্ত বাংলাদেশে স্বাচ্ছন্দ্যে ঈদ উদযাপন করেছে: আবদুল হালিম

মুসল্লিদের বাধায় নাটক মঞ্চায়ন বাতিলের সংবাদ বিভ্রান্তিকর

প্রয়োজনীয় সংস্কার করে যথাসম্ভব দ্রুত নির্বাচন দিতে হবে: মিয়া গোলাম পরওয়ার

কারো চোখ রাঙানী আর মেনে নেয়া হবে না-সারজিস আলম

মাদক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে গ্রেপ্তার কানাডার অধিনায়ক

অবিলম্বে নির্বাচনের রোডম্যাপ দিতে হবে -আমান উল্লাহ আমান

ফটিকছড়িতে ভাইয়ের হাতে ভাই খুন, লাইফ সাপোর্টে মা