এআই ক্যামেরা ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ কেন?
১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:১৫ এএম | আপডেট: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:১৫ এএম
সম্প্রতি এক ভোরে প্রাতঃভ্রমণে বের হয়েছি। নজরে এলো রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড়ের যানবাহনগুলো বেশ শৃঙ্খলিতভাবেই ট্রাফিক আইন মেনে চলছে। নির্দিষ্ট বিরতিতে ট্রাফিক লাইটের বিভিন্ন রঙের সংকেতের উপর ভিত্তি করে সকল যানবাহন তার নিয়মনীতি মেনেই চলাচল করছে। একই প্রতিচ্ছবি চোখে পড়ল রাজধানীর কাকরাইল, মৎস্য ভবন, বাংলামোটর, কারওয়ান বাজার সংলগ্ন রোডসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে। সাধারণত দিনের প্রথমার্ধে রাস্তায় যানবাহনের চাপ বেশ কম থাকে। এজন্য ট্রাফিক সিগন্যালগুলোতে ট্রাফিক পুলিশ খুব একটা চোখে পড়ে না। আবার ট্রাফিক পুলিশ থাকলেও তাদের তেমন ব্যস্ততা চোখে পড়ে না। কিন্তু ঐদিন সাত সকালে কোনো ট্রাফিক পুলিশ ছাড়াই যানবাহনের ট্রাফিক সিগন্যাল মেনে চলা অন্ততপক্ষে আমাদের দেশের জন্য একটু বেমানান মনে হলো। এজন্য একটু অবাক হলাম। কিন্তু পরক্ষণেই জানতে পারলাম, অসহনীয় যানজট ও গণপরিবহনের বিশৃঙ্খল রাজধানী ঢাকা শহরে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি সড়ক ও মোড়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ক্যামেরা বসানো হয়েছে। এতে এসব সড়ক ও মোড়ে পুরোনো চিত্রে পরিবর্তন এসেছে। সিগন্যাল অমান্য করা, স্টপলাইন অতিক্রম, উল্টো পথে চলাচল, লেন ভঙ্গ, অবৈধ পার্কিংসহ বিভিন্ন ধরনের ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন শনাক্ত করছে এসব ক্যামেরা। এআই ক্যামেরার আইন লঙ্ঘনের তথ্যের ভিত্তিতে স্বয়ংক্রিয়ভাবে মামলা দেয়া হচ্ছে। ফলে ঐসকল সড়কে চলাচলকারী চালকদের মধ্যে আইন মানার প্রবণতা সৃষ্টি হয়েছে। এআই ক্যামেরা বসানোয় চালকদের সিগন্যাল অমান্য করার সেই প্রবণতা একেবারেই কমে গেছে বলা যায়। চালকরা মামলার ভয়ে সিগন্যাল মানতে বাধ্য হচ্ছে। ফলে সড়কের যেসব মোড় ও এলাকায় এআই ক্যামেরা বসানো হয়েছে সেখানে যানবাহন সুশৃঙ্খলভাবে চলাচল করছে।
যাইহোক দেশের প্রযুক্তিগত এই উন্নয়ন দেখে বেশ ভালোই লাগল। যদিও উন্নত দেশে এই প্রযুক্তি বহু আগে থেকেই আছে। তারপরেও আমাদের দেশে এ ধরনের সংযোজন দেখে কিছুটা আশার সঞ্চার হলো এই ভেবে যে, আমরা প্রযুক্তিগত সেবায় আস্তে ধীরে হলেও এগিয়ে যাচ্ছি। তবে এআই প্রযুক্তির দৃশ্যগত পরিবর্তনের মধ্যে এটি অন্যতম উদাহরণ বললেও ভুল হবে না। আগে ঢাকার সড়কের লাল বাতি আর সবুজ বাতি জ্বলার কোনো গুরুত্বই ছিলো না। পরিবহনগুলো এগুলো মেনে চলত না। ট্র্যাফিক নিয়ন্ত্রণে ট্র্যাফিক পুলিশের খুবই শক্ত অবস্থান করা লাগত। এখন ক্যামেরার নজরদারির কারণে ওই সমস্ত সড়কে যানবাহনের নিয়মতান্ত্রিক চলাচল দেখা যাচ্ছে। চালকরা থামছেন নির্ধারিত স্থানে। এআই ক্যামেরা স্থাপন করা মোড়গুলোতে মোটরসাইকেল, ব্যক্তিগত গাড়ি ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালকদেরও আগের তুলনায় বেশি নিয়ম মানতে দেখা যাচ্ছে। এই প্রযুক্তিটির সবচেয়ে বড় সাফল্য ঢাকার চালকের আচরণে পরিবর্তন আনা। প্রতিটি মোড়ে সারাক্ষণ ট্রাফিক পুলিশ সদস্য দাঁড়িয়ে থেকে চালককে থামিয়ে আইন মানাতে হতো। এখন ক্যামেরা, সফটওয়্যার ও কেন্দ্রীয় নজরদারি ব্যবস্থার সমন্বয়ে আইন লঙ্ঘনের তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। চালকদের মধ্যে পুলিশের উপস্থিতির চেয়ে আইন ভাঙলে ধরা পড়ব, এটি কার্যকর হচ্ছে।
সরকারের পক্ষ হতে বলা হচ্ছে, রাজধানীর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে এআই ক্যামেরার ব্যবহার শুরু হলেও অল্প সময়ের মধ্যেই এর পরিধি বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই উদ্যোগের জন্য সরকারকে সাধুবাদ জানাই। তবে যে বিষয়টি না বললেই নয়, প্রযুক্তির এই সাফল্যের মধ্যেই সবচেয়ে বড় সমস্যা সৃষ্টি করছে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, ইজিবাইকসহ নিবন্ধনহীন যানবাহন। এই ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার কোনো নিবন্ধন নম্বর নেই, চালকদের কোনো লাইসেন্স নেই, রিকশাগুলোর ফিটনেস পরীক্ষণের কোনো মানদণ্ড নেই। এর ফলে হরহামেশা এসকল ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা সকল সিগন্যাল অমান্য করে দেদারছে ট্রাফিক আইন অমান্য করে সিগন্যাল পার হচ্ছে। সরেজমিনে এআই চালুকৃত সিগন্যালেও এমন চিরচেনা দৃশ্য নজরে এসেছে। সকল যানবাহন ট্রাফিক সিগন্যাল মেনে স্থির থাকলেও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাগুলো ফাঁকফোকর দিয়ে সকল কিছু অমান্য করে ছুটে চলেছে। এখন প্রশ্ন হতে পারে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা কি এই এআই ক্যামেরার আওতামুক্ত? নাকি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাকে এআই ক্যামেরা দিয়ে আটকানো যাচ্ছে না? সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ক্যামেরায় এসব যানবাহনের আইন লঙ্ঘনের ঘটনা হরহামেশা ধরা পড়লেও তথ্যভাণ্ডারে যানবাহনের নিবন্ধনের তথ্য না থাকায় কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া যাচ্ছে না। অন্যান্য যানবাহনের ক্ষেত্রে ক্যামেরায় ধরা পড়া আইন লঙ্ঘন করলে যানবাহনের নিবন্ধন ও মালিকের তথ্য যুক্ত করা যায়। কিন্তু ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার ক্ষেত্রে এই ব্যবস্থা কার্যকর করা যায় না। এসব যানবাহনের বৈধ নম্বরপ্লেট-নিবন্ধন না থাকায় ক্যামেরায় শনাক্ত হওয়ার পরও স্বয়ংক্রিয়ভাবে মামলা করা যাচ্ছে না। ফলে ক্যামেরার আওতাধীন সড়কে এই যানবাহনগুলোকে বড় ঝামেলা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তবে একথা জোর দিয়ে বলা যায় যে, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার এই সমস্যার সমাধান না করা গেলে এআই ক্যামেরার সুফল জনগণ অন্তত পাবে না। এজন্য এটার সমাধান অত্যন্ত জরুরি। এআই ক্যামেরার তথ্যভাণ্ডারে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার যাবতীয় তথ্য থাকাটা বাঞ্ছনীয়। তার আগে একটু জেনে নেওয়া যাক এআই ক্যামেরা কীভাবে কাজ করে। একটি আধুনিক এআই ক্যামেরা সাধারণত কয়েকটি ধাপে কাজ করে। প্রথমে রাস্তা দিয়ে চলাচলকারী যানবাহনের ছবি বা ভিডিও ক্যামেরায় ধারণ করে। এরপর ধারণকৃত ছবির মধ্যে কোনটি গাড়ি, কোনটি বাস, মোটরসাইকেল, রিকশা বা অটোরিকশা তা শনাক্ত করে। পরবর্তীতে শনাক্ত করা যানটি কী ধরনের, যেমন ব্যক্তিগত গাড়ি, বাস, ট্রাক, মোটরসাইকেল, সিএনজি বা ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা তা নির্ধারণ করে। একাধিক ভিডিও ফ্রেমে একই যানবাহনকে অনুসরণ করে তার চলাচলের গতিপথ নির্ধারণ করে। ক্যামেরা যদি নম্বর প্লেট পরিষ্কারভাবে দেখতে পারে, তাহলে বিশেষ সফটওয়্যারের মাধ্যমে প্লেটের অক্ষর ও সংখ্যা পড়ে নম্বরটি সরকারি তথ্যভান্ডারের সঙ্গে মিলিয়ে গাড়িটির মালিক, নিবন্ধন, অনুমোদন বা অন্যান্য তথ্য যাচাই করে। গাড়িটি লাল বাতি অমান্য করেছে কি না, ভুল পথে চলছে কি না, নিষিদ্ধ এলাকায় প্রবেশ করেছে কি না বা অন্য কোনো ট্রাফিক আইন ভঙ্গ করেছে কি না এআই তা নির্ধারণ করে। চূড়ান্ত পর্যায়ে এআই ক্যামেরার তথ্যভাণ্ডারে সব তথ্য ও প্রমাণ সঠিকভাবে পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট গাড়ির বিরুদ্ধে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বা কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে আইনগত ব্যবস্থা নেয়। এই পুরো ঘটনা বেশ দ্রুততার সাথেই সম্পন্ন হয়। এজন্য তথ্যভাণ্ডারে সকল পরিবহনের তথ্য থাকাটা অতীব জরুরি।
চীনে থাকার অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি, একটি দেশের স্বয়ংক্রিয় ট্রাফিক ব্যবস্থা সেদেশের জনমনে স্বস্তি এনে দেয়। রাস্তায় শৃঙ্খলিত গতি পেতে দেশের জনগণকে ট্রাফিক আইন মেনে চলতে উদ্বুদ্ধ করা হয়। ট্রাফিক আইন অমান্যকারীর তাৎক্ষণিক দৃশ্যমান শাস্তির আওতায় আনা হয়। সকলকে ট্রাফিক আইন মেনে চলা সম্পর্কে যথেষ্ট সচেতন করা হয়। ট্রাফিক সিগন্যাল শুরু হওয়ার সাথে সাথে নির্দিষ্ট দিকে গাড়ি থেমে গিয়ে পথচারী পারাপারের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয় এবং পথচারীরা সুশৃঙ্খলভাবে রাস্তা পার হয়। এগুলো চীনের প্রতিটি রাস্তার চিরচেনা দৃশ্য। চীনের বেইজিং, চেংদু ও সাংহাইয়ের মতো বড় শহরগুলোতে এআই অ্যালগরিদম রিয়েল-টাইমে নির্দিষ্ট সড়কে গাড়ির চাপ বিশ্লেষণ করে সিগন্যালের সময় স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরিবর্তন করে। যে লেনে গাড়ির চাপ বেশি থাকে, সেখানে সবুজ আলোর সময় বাড়িয়ে দেওয়া হয় এবং ফাঁকা লেনে সময় কমিয়ে দেওয়া হয়। এর ফলে চালকদের অপেক্ষার সময় ও সামগ্রিক যানজট উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। চীনের অধিকাংশ শহরে বাস ও অন্যান্য গণপরিবহন সরাসরি ট্রাফিক পরিকাঠামোর সাথে যোগাযোগ করে গতি ঠিক রাখে, যা মেট্রো রেলের মতো নিখুঁত গতি নিশ্চিত করে। এআই ক্যামেরা ও মাল্টি-ক্যামেরা সিস্টেম স্বয়ংক্রিয়ভাবে হেলমেট না পরা, জেব্রাক্রসিং নিয়ম ভাঙা বা ভুল পথে গাড়ি চালানোর মতো বিষয়গুলো রিয়েল-টাইমে ধরে ফেলে। বর্তমানে চীনের অনেক ব্যস্ত শহরে এআই-চালিত হিউম্যানয়েড রোবট ট্রাফিক পরিচালনা করছে, যা মানুষের মতো হাত দিয়ে ইশারা করা ছাড়াও স্বয়ংক্রিয়ভাবে আইন লঙ্ঘন রেকর্ড করে। অনেক জনাকীর্ণ শহরের পুলিশ ড্রোন এবং আইডিপিএস (Intelligent Digital Policing System) ব্যবস্থার মাধ্যমে দুর্ঘটনার তথ্য ও গাড়ির লাইসেন্স প্লেট স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংগ্রহ করে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেয়। চীনের ট্র্যাফিক ব্যবস্থা এতটা সুশৃঙ্খল হওয়ার পেছনে প্রধান কারণ হচ্ছে সেদেশের প্রতিটি যানবাহন ডিজিটাল তদারকির অন্তর্ভুক্ত। এজন্য সরকার চাইলেই আইন অমান্যকারী যেকোনো বাহনকে মুহূর্তের মধ্যেই আইনের আওতায় আনতে পারে।
সবকথার মদ্দাকথা হচ্ছে, একটি কার্যকর স্বয়ংক্রিয় ট্রাফিক আইন প্রয়োগ ব্যবস্থা এর জন্য প্রত্যেকটি যানবাহনের একটি ইউনিক ডিজিটাল নম্বর থাকা বাঞ্ছনীয়। যে ডিজিটাল নম্বরের ঐ বাহনের যাবতীয় তথ্য অন্তর্ভুক্ত থাকে। কোন এক ক্যাটাগরির যানবাহনে যদি এই ব্যবস্থা না থাকে তাহলে এআই ক্যামেরা যতই উন্নত হোক, স্বয়ংক্রিয় ট্রাফিক আইন ব্যবস্থা আটকে যাবে। ঠিক যেমনটি ঘটেছে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার ক্ষেত্রে। যদিও সম্প্রতি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাকে কিউআর কোড দেওয়ার বিষয়টিও সামনে এসেছে। কিন্তু সকল ব্যাটারিচালিত রিকশার ক্ষেত্রে এই কিউআর কোড দেওয়ার বিষয়টি বেশ চ্যালেঞ্জিং হবে। এই ধরনের প্রযুক্তি বাস্তবায়নে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো চালকদের সচেতনতা এবং বিশাল সংখ্যক রিকশাকে একটি কেন্দ্রীয় ডেটাবেজের আওতায় আনা। কেননা, দেশে বর্তমানে ৫০ থেকে ৮০ লাখের মতো ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চলাচল করছে বলে বিভিন্ন হিসাবে উঠে এসেছে। এত সংখ্যক নিবন্ধনহীন যানকে একসাথে নিবন্ধন দেয়ার বিষয়টি একটু হলেও জটিল।
রিকশাকে ডিজিটাল ট্রাফিক এবং এআই প্রযুক্তির আওতায় আনা একটি অত্যন্ত যুগোপযোগী এবং দূরদর্শী ভাবনা। ঢাকার মতো মেগাসিটিতে ট্রাফিক জট নিরসন এবং গণপরিবহন ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফেরাতে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। প্রতিটি বৈধ রিকশায় একটি ইউনিক কিউআর কোড এবং আরএফআইডি (Radio Frequency Identification) ট্যাগ দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। এই কিউআর কোড এবং আরএফআইডির মাধ্যমে রিকশার মালিক, চালকের পরিচয় এবং রিকশাটি কোন অঞ্চলের তা সহজেই এআই ট্রাফিক ক্যামেরা শনাক্ত করতে পারবে। ঢাকার সব রাস্তায় রিকশা চলাচল না করিয়ে নির্দিষ্ট জোন ভাগ করে দিতে হবে। প্রধান সড়কগুলোতে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করে সেটি যথাযথভাবে বাস্তবায়নে পদক্ষেপ নিতে হবে। কোনো ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা তার নির্ধারিত জোনের বাইরে চলে যাচ্ছে কি না তা এআই সিস্টেম স্বয়ংক্রিয়ভাবে নজরদারির ব্যবস্থা করে আইনি পদক্ষেপ নিতে হবে। রাস্তার ওপর এলোমেলো রিকশা দাঁড় করিয়ে রাখা যানজটের অন্যতম প্রধান কারণ। এআই-চালিত সেন্সরের মাধ্যমে রিকশার জন্য ডিজিটাল স্ট্যান্ড তৈরি করা যেতে পারে, যেখানে ধারণক্ষমতা পূর্ণ হলে চালকরা আগে থেকেই নোটিফিকেশন পাওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। রাইড শেয়ারিং অ্যাপের মতো রিকশার জন্যও একটি কেন্দ্রীয় বা জোনাল অ্যাপ চালু করা যেতে পারে। এতে যাত্রীরা সহজেই রিকশা পাবেন এবং চালকদেরও রাস্তায় খালি রিকশা নিয়ে ঘুরে জট তৈরি করতে হবে না। আইন অমান্য করলে ডিজিটাল পদ্ধতিতে তাদের লাইসেন্স বা আইডি কার্ডের ওপর জরিমানা বা নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার ব্যবস্থা করতে হবে। তাছাড়া শুধু নির্দিষ্ট কয়েকটি মোড়ে এআই ক্যামেরা স্থাপন করে রাজধানীর যানজট স্থায়ীভাবে কমানো সম্ভব নয়। প্রযুক্তির সঙ্গে সড়ক ব্যবস্থাপনা, যানবাহনের নিবন্ধন, চালকের লাইসেন্স, লেন ব্যবস্থাপনা ও আইন প্রয়োগকে একই কাঠামোর মধ্যে আনতে হবে। পর্যায়ক্রমে ঢাকার সড়কে এআই প্রযুক্তির ক্যামেরা বাড়ানোর যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া আবশ্যক। কার্যকারিতা নির্ভর করে রাজধানীর পুরো সড়ক ব্যবস্থাকে এই প্রযুক্তির নিয়ন্ত্রণে আনা হলে ঢাকার যানজট কমে আসবে বলে ধারণা করা যায়।
লেখক: গবেষক ও কলামিস্ট
ইমেইল: [email protected]
বিভাগ : সম্পাদকীয়
মন্তব্য করুন
আরও পড়ুন
রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ ৪ স্থানে ককটেল বিস্ফোরণ
জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে ডাকসু নেতাদের সাক্ষাৎ
ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার নিয়ে দায়িত্ব পালনের আহ্বান অ্যাটর্নি জেনারেলের
গুম আইন সংসদে সমাধান না হলে রাজপথে ফয়সালা হবে: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী
গফরগাঁওয়ে সন্তানকে বেঁধে প্রবাসীর স্ত্রীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ, আটক ১
বট বাহিনীর গুজব রুখতে ভুমিকা রাখবে বগুড়া জিয়া সাইবার ফোর্স : বাদশা
ইরান যুদ্ধ বন্ধে কূটনৈতিক তৎপরতা চীনের
লৌহজংয়ে অবৈধ বালুর গদিতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান দেড় কিলোমিটার পাইপ বিনষ্ট, ড্রেজার বিকল
ধানমন্ডিতে শিশুদের খেলাধুলায় বাড়ল নতুন সুযোগ, চালু হলো ইনডোর প্লে-গ্রাউন্ড বাবুল্যান্ড
ইরান যুদ্ধে ট্রাম্পের কোনো স্পষ্ট কৌশল নেই, মনে করেন ৭১% মার্কিন ভোটার
তেজগাঁওয়ে সন্দেহজনক ২৩ জন আটক
লালমাইয়ে বাকবিতণ্ডার জেরে ট্রাক্টর চালককে পিটিয়ে হত্যা, গ্রেফতার ৩
আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথ রক্ষায় জেদ্দায় ৪১ দেশের সামরিক শীর্ষ নেতাদের বৈঠক
দৈনন্দিন জীবনে ইসলাম
সিরাতচর্চা : পরিশীলিত জীবন গঠনের সূতিকাগার
সউদী ঘাঁটিতে হুতি হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত ইতালির ইউরোফাইটার যুদ্ধবিমান
মালিবাগের পর ঢাকার আরও দুই জায়গায় ককটেল বিস্ফোরণ
সউদীর প্রতিরক্ষায় ‘যে কোনো সীমা পর্যন্ত’ যেতে প্রস্তুত পাকিস্তান: সামরিক বাহিনী
সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে নবী জীবনের শিক্ষা
নিজস্ব এজেন্ডা বাস্তবায়নে হামাসকে হামলার সুযোগ করে দিয়েছিল ইসরায়েল: হান্টার বাইডেন