গুপ্তচরবৃত্তির যেসব ঘটনা আলোড়ন তুলেছে জার্মানিতে

Daily Inqilab ইনকিলাব ডেস্ক :

১৩ আগস্ট ২০২৩, ০৯:৪৭ পিএম | আপডেট: ১৪ আগস্ট ২০২৩, ১২:০১ এএম

রাশিয়ার গোয়েন্দাদের তথ্য দেওয়ার অভিযোগে গত বুধবার জার্মান সেনাবাহিনীর সদস্য টোমাস এইচ.-কে গ্রেপ্তার করা হয়। চরম ডানপন্থি এএফডি দলের প্রতি তার সহানুভূতির কথা আগে থেকেই জানতেন তার সহকর্মীরা। এ দলের একটি অংশ আবার ইউক্রেনকে ন্যাটোর সহায়তার বিষয়ে কট্টর সমালোচক হিসেবে পরিচিত।

এর আগে ২০২২ সালের শেষদিকে টোমাস এইচ-এর মতোই আরেকটি ঘটনা আলোড়ন তুলেছিল। জার্মানির বিদেশবিষয়ক গোয়েন্দা সংস্থা বিএনডির একটি ইউনিটের প্রধান কার্স্টেন এল.-কে রুশ গোয়েন্দা সংস্থা এফএসবির হয়ে ডাবল এজেন্ট হিসেবে কাজ করার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। পশ্চিমা বিশ্ব ইউক্রেনকে যে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দিয়েছে সেগুলো কোথায় বসানো হয়েছে সে তথ্য জানতে আগ্রহী ছিল এফএসবি। তবে কার্স্টেন এল. এর এমন তথ্য জানার সুযোগ ছিল কিনা তা নিশ্চিত নয়। বিশ্বাসঘাতকতার অভিযোগে এখন তার বিচার চলছে।

মিস্টার অ্যান্ড মিসেস আনশ্লাগ : ১৯৮০-এর দশকে রাশিয়ার দু’জন এজেন্ট আন্দ্রেয়াস ও হাইড্রুন আনশ্লাগ নাম নিয়ে জার্মানিতে মধ্যবিত্ত জীবনযাপন করেন। এর মধ্যে স্বামী প্রকৌশলী ও স্ত্রী গৃহিনীর পরিচয় ধারণ করে ছিলেন। তারা প্রথম সোভিয়েত ইউনিয়ন ও পরে রাশিয়ার কাছে ন্যাটো ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন সম্পর্কে তথ্য পাঠান। এনক্রিপ্টেড রেডিও মেসেজের মাধ্যমে তারা নির্দেশনা পেতেন। ২০১১ সালে তাদের পরিচয় প্রকাশ হয়ে যায়। সম্ভবত যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য তাদের ধরতে সহায়তা করে। ২০১৩ সালে তাদের কয়েক বছরের জেল দেওয়া হয়। পরে তাদের রাশিয়া পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

গাব্রিয়েল গাস্ট : পূর্ব জার্মানির গোয়ন্দা সংস্থা স্টাসি পশ্চিম জার্মানিতে সম্ভবত ১২ হাজার এজেন্ট নিয়োগ দিয়েছিল। এদের একজন গাব্রিয়েল গাস্ট। পশ্চিম জার্মানির বাসিন্দা গাস্ট পূর্ব জার্মানিতে গবেষণা করতে গেলে ১৯৬৮ সালে তাকে এজেন্ট হিসেবে নিয়োগ দেন স্টাসির এক কর্মকর্তা।

সেই থেকে তিনি পূর্ব জার্মানির গোয়েন্দাদের তথ্য দিয়ে এসেছেন। একইসঙ্গে তিনি ভুয়া নাম নিয়ে পশ্চিম জার্মানির গোয়েন্দা সংস্থা বিএনডিতেও কাজ করেন। ১৯৮৯ সালে দুই জার্মানির পুনরেকত্রীকরণের কিছুদিন আগে তিনি ধরা পড়েছিলেন।

হাইনৎস ফেলফে : বিএনডির ‘কাউন্টারইন্টেলিজেন্স সোভিয়েত ইউনিয়ন’ ইউনিটের প্রধান হিসেবে অনেকদিন কাজ করেছেন ফেলফে। তিনিও একজন ডাবল এজেন্ট ছিলেন। তিনি হিটলারের পুলিশ বাহিনী এসএস-এরও সদস্য ছিলেন। তিনি কেজিবি, ব্রিটিশ এমআইসিক্স ছাড়াও আরও কয়েকটি গোয়েন্দা সংস্থার হয়ে কাজ করেছেন বলে ধারণা করা হয়।

গ্যুন্টার গিওম : শীতল যুদ্ধ চলার সময় জার্মানির সবচেয়ে আলোচিত গুপ্তচরবৃত্তির ঘটনা ছিল সম্ভবত গ্যুন্টার গিওমের মামলা। পূর্ব জার্মানির শরণার্থীর বেশ ধরে ১৯৫৬ সালে পশ্চিম জার্মানিতে গিয়েছিলেন তিনি ও তার স্ত্রী ক্রিস্টেল। তার দায়িত্ব ছিল এসপিডি দলের ভেতরের খবর স্টাসিকে দেওয়া। একপর্যায়ে এসপিডি ক্ষমতায় গেলে গিওম চ্যান্সেলর ভিলি ব্রান্টের ব্যক্তিগত উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ পেয়েছিলেন। এরপর গিওমের পরিচয় প্রকাশ পেয়ে গেলে ১৯৭৪ সালের ৬ মে পদত্যাগ করতে বাধ্য হন ব্রান্ট। গিওমকে ১৩ বছরের ও তার স্ত্রীকে আট বছরের কারাদ- দেওয়া হয়েছিল। তবে ১৯৮১ সালে এজেন্ট বিনিময়ের আওতায় তারা ছাড়া পেয়েছিলেন।

এলি বারকসাটিস ও কার্ল লাওরেনৎস : বার্লিন প্রাচীর পতনের পর স্টাসির অনেক গোয়েন্দার খবর জানা যায়। তবে পূর্ব জার্মানিতে কাজ করা পশ্চিম জার্মানির এজেন্টদের কথা খুব বেশি জানা যায়নি। তবে এর মধ্যে ব্যতিক্রম বারকসাটিস ও লাওরেনৎস। ১৯৫০ এর দশকে পূর্ব জার্মানির প্রধানমন্ত্রী অটো গ্রোটেভলের চিফ সেক্রেটারি হিসেবে কাজ করেন বারকসাটিস। সেই সময় তিনি সরকারের কিছু নথি তার ভালোবাসার মানুষ লাওরেনৎসকে দিয়েছিলেন। লাওরেনৎস সেসব নথি পশ্চিম জার্মানির কর্তৃপক্ষকে দিয়েছিলেন। ধরা পড়ার পর বারকসাটিস ও লাওরেনৎসকে মৃত্যুদ- দেওয়া হয়। ১৯৫৫ সালে গিলোটিনে তাদের মৃত্যুদ- কার্যকর করা হয়। সূত্র : ডয়েচে ভেলে।


বিভাগ : আন্তর্জাতিক


মন্তব্য করুন

HTML Comment Box is loading comments...

আরও পড়ুন

খুশদীলের অলরাউন্ড নৈপুণ্যে রংপুরের আটে আট

খুশদীলের অলরাউন্ড নৈপুণ্যে রংপুরের আটে আট

বন্ধ হয়ে যাচ্ছে অনেক দেশের ভিসা

বন্ধ হয়ে যাচ্ছে অনেক দেশের ভিসা

মেডিকেল কলেজে শিক্ষক বাড়ানোর কথা ভাবছে সরকার

মেডিকেল কলেজে শিক্ষক বাড়ানোর কথা ভাবছে সরকার

ছাত্রদলের ‘মার্চ ফর জাস্টিস’ কর্মসূচি আজ

ছাত্রদলের ‘মার্চ ফর জাস্টিস’ কর্মসূচি আজ

গাজার স্বাস্থ্য ব্যবস্থা পুনর্গঠনে ১০ বিলিয়ন ডলার প্রয়োজন

গাজার স্বাস্থ্য ব্যবস্থা পুনর্গঠনে ১০ বিলিয়ন ডলার প্রয়োজন

অন্তর্বর্তী সরকার ও রাজনৈতিক দলগুলোর দিকে তাকিয়ে ইইউ

অন্তর্বর্তী সরকার ও রাজনৈতিক দলগুলোর দিকে তাকিয়ে ইইউ

ভারতের উদ্বেগের মধ্যে হাসিনা পরবর্তী বাংলাদেশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হচ্ছে পাকিস্তান

ভারতের উদ্বেগের মধ্যে হাসিনা পরবর্তী বাংলাদেশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হচ্ছে পাকিস্তান

সান্ত¡না খুঁজে পাচ্ছেন না, দুই দেশে কলঙ্কিত টিউলিপ

সান্ত¡না খুঁজে পাচ্ছেন না, দুই দেশে কলঙ্কিত টিউলিপ

দুর্নীতির মামলায় ইমরান খান ও বুশরা বিবির কারাদণ্ড

দুর্নীতির মামলায় ইমরান খান ও বুশরা বিবির কারাদণ্ড

বিদেশে টাকা পাচারের রাজনীতি মানুষ চায় না : পীর সাহেব চরমোনাই

বিদেশে টাকা পাচারের রাজনীতি মানুষ চায় না : পীর সাহেব চরমোনাই

শেখ পরিবারের রক্তের জন্যই দুর্নীতিতে জড়িয়েছেন টিউলিপ -রিজভী

শেখ পরিবারের রক্তের জন্যই দুর্নীতিতে জড়িয়েছেন টিউলিপ -রিজভী

নামাজ মু’মিনের জন্য মেরাজস্বরূপ

নামাজ মু’মিনের জন্য মেরাজস্বরূপ

ক্রেডিট কার্ডে বিদেশে বাংলাদেশিদের লেনদেন কমেছে

ক্রেডিট কার্ডে বিদেশে বাংলাদেশিদের লেনদেন কমেছে

স্বনির্ভর অর্থনীতির পথে দেশ

স্বনির্ভর অর্থনীতির পথে দেশ

বগুড়ার বিমানবন্দর দ্রুত চালুর দাবি

বগুড়ার বিমানবন্দর দ্রুত চালুর দাবি

আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে বাংলাদেশকে মানবাধিকার লংঘন বন্ধ করতে হবে : হিউম্যান রাইটস ওয়াচ

আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে বাংলাদেশকে মানবাধিকার লংঘন বন্ধ করতে হবে : হিউম্যান রাইটস ওয়াচ

হাজারীবাগের ট্যানারির গোডাউনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড

হাজারীবাগের ট্যানারির গোডাউনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড

জুলাই বিপ্লব ঘোষণাপত্র দেওয়া জরুরি : নুরুল হক নুর

জুলাই বিপ্লব ঘোষণাপত্র দেওয়া জরুরি : নুরুল হক নুর

গণঅভ্যুত্থানের ইশতেহারে বিএনপির ভূমিকা লিখতে হবে : জয়নুল আবদিন

গণঅভ্যুত্থানের ইশতেহারে বিএনপির ভূমিকা লিখতে হবে : জয়নুল আবদিন

নির্বাচনে রাজনৈতিক নেতাদের পরিবেশ রক্ষায় প্রতিশ্রুতি দিতে হবে

নির্বাচনে রাজনৈতিক নেতাদের পরিবেশ রক্ষায় প্রতিশ্রুতি দিতে হবে