কুল চাষে ভাগ্য বদল মুরাদনগরে প্রবাসফেরত ইউনুস ভুইয়ার
৩০ মার্চ ২০২৩, ১০:২২ পিএম | আপডেট: ২৮ এপ্রিল ২০২৩, ০৬:৩৬ এএম

বলসুন্দরী কুল চাষ করে নিজের ভাগ্যের চাকা ঘুরিয়েছেন কুমিল্লার মুরাদনগরের প্রবাসফেরত ইউনূস ভ‚ঁইয়া। ইতোমধ্যে তিনি ৬৫ বিঘা জমিতে বলসুন্দরী কুল চাষের পাশাপাশি মিশ্র ফল চাষ শুরু করেছেন। প্রবাস ফেরত এ কৃষি উদ্যোক্তার ফল চাষে এমন সাফল্য দেখে এলাকার বিভিন্ন শ্রেনিপেশার মানুষ ছুটে আসছেন তার বাগান দেখতে। ইউনূস ভ‚ঁইয়া উপজেলার দারোরা ইউনিয়নের কাজিয়াতল গ্রামের মোসলেম ভ‚ঁইয়ার ছেলে। তাছাড়া ইউনূসের বাগানে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হয়েছে ১৫ জন শ্রমিকের। যারা এখানে নিয়মিত কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন।
বলসুন্দরী কুলের একটি গাছ ৪-৫ ফুট লম্বা। গাছের প্রতিটি ডালে ঝুলছে থোকায় থোকায় বলসুন্দরী কুল। কুলের ওপরের অংশে হালকা লালচে রং রয়েছে। আকারে বাজারের কুলের তুলনায় বেশ বড়, খেতেও বেশ সুস্বাদু। মুরাদনগর উপজেলায় বাণিজ্যিকভাবে এ অস্ট্রেলিয়া জাতের বলসুন্দরী চাষ শুরু হয়েছে প্রথমবারের মতো। পতিত জমিতে এ কুল চাষ করে বেশ সফলতা পেয়েছেন কৃষি উদ্যোক্তা ইউনূস ভ‚ঁইয়া।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিলের মাঝখানে বিশাল জায়গা জুড়ে চারপাশে বাঁধ দিয়ে লাগানো হয়েছে বলসুন্দরী কুলের গাছ। প্রতিটি গাছেই থোকায় থোকায় ঝুলছে কুল। ফলের ভারে নুয়ে পড়েছে অনেক গাছের ডাল। পাখির কলরবে মনোমুগ্ধকর এক পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে এ বাগানে। প্রায় ৬৫ বিঘা জমিতে কুলের পাশাপাশি তিনি এখন আম, লিচু, মাল্টা, কলা ও লেবুর মিশ্রচাষ করছেন। বর্তমানে তার বাগানে রয়েছে ৩ হাজার বলসুন্দরী কুলের গাছ, আম গাছ ৬শ’, লিচুর গাছ ২শ’, মাল্টার গাছ ২শ’ কলা গাছ ৮শ’, লেবু গাছ ৬শ’।
ইউনূস বলেন, দীর্ঘ ১৪ বছর আমি সউদী আরবে ছিলাম। ২০১৮ সালে দেশে চলে আসি। সউদী আরবে থাকাকালীন কৃষি খামারে কাজ করেছি। দেশে আসার পর বেকার হয়ে পড়ি, কী করব ভেবে পাচ্ছিলাম না। নিজের ১৬ বিঘা জমি রয়েছে মাঝ বিলে তা নিয়েই স্বপ্ন দেখছিলাম আর ফলের বাগান করার পরিককল্পনা নিয়েছিলাম। তাই নিজের জমির পাশে ৪৭ বিঘা জমি লিজ নেই। দেশে ফল চাষের অভিজ্ঞতা না থাকায় ওই জমিগুলোতে মাছ চাষের পরিকল্পনা করি। কিন্তু জমিগুলো বেশ উঁচু হওয়ার কারণে পানি সঙ্কট থাকায় মাছ চাষে সফলতা আসেনি। পরে ইউটিউব দেখে বলসুন্দরী কুল চাষ পদ্ধতি শিখে নেই এবং এই কুলের চারা নাটোর থেকে সংগ্রহ করি।
চারা রোপণের আট মাস পর ২০২১ সালের শেষের দিকে গাছে ফল আসে। বাজারে এ কুলের বেশ চাহিদা রয়েছে। এ কুল খুচরা বিক্রি হয় ১০০ টাকা কেজি ও পাইকারী বিক্রি হয় ৮০ টাকা কেজি দরে। প্রথমবার কুল বিক্রি করি প্রায় ৩০ লাখ টাকার। এবছরও গাছগুলো একটু পুরাতন হওয়ায় ১৫-১৮ লাখ টাকার কুল বিক্রির সম্ভাবনা রয়েছে। একটি গাছ থেকে ৩ বার ফল ওঠানো যায়। ৩ বার ফল ওঠানোর পর কুলের সাইজ ছোট হয়ে যায়। তাই ৩ বার কুল সংগ্রহ করার পর আবার নতুন করে চারা রোপণ করব।
ইউনূস ভ‚ঁইয়া আরো বলেন, জমি লিজ নিয়ে এ বাগান গড়ে তুলতে ৫০ লাখ টাকার মতো খরচ হয়েছে। আশা করছি চলতি বছর এ বাগানের পুঁজি উঠে আসবে। ৩য় বছর পর্যন্ত ফলের সাইজ ঠিক থাকবে। তাই আগামীতে কুলসহ অন্যান্য ফসল থেকে বেশ লাভের সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি সরকারের কাছ থেকে সুদবিহীন ঋণ পেলে এ বাগান আরো বড় করতে পারবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ পাবেল খাঁন পাপ্পু বলেন, শুধু এ উপজেলায় নয়, কুমিল্লার মধ্যে তার কুলবাগান সবচেয়ে বড়। বলসুন্দরী কুল চাষে তিনি ব্যাপক সাফল্য পেয়েছেন। আমরা নিয়মিত তার বাগানটি পরিদর্শন করছি এবং সরকারি সকল সহায়তা ও কৃষি উপকরণ তার কাছে পৌঁছে দিচ্ছি। তার বাগান দেখে অনেক যুবক ফল বাগান করতে আগ্রহী হয়েছেন। যারা নতুন করে বাগান করতে ইচ্ছুক তাদের পাশে সর্বদায় রয়েছি। তাছাড়া এ উপজেলার কৃষিতে আধুনিক পরির্বতন আনতে কৃষকের পাশে থেকে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।
বিভাগ : জাতীয়
মন্তব্য করুন
এই বিভাগের আরও






আরও পড়ুন

মাদারীপুরে কৃষকের হাত কেটে নিল সন্ত্রাসীরা

মিয়ানমারে ভূমিকম্পের পরপরই আন্তর্জাতিক সম্মেলনে জান্তা প্রধানের সফর

মাদারীপুরে ভোররাতে আগুনে পুড়লো ১৯ দোকান, ক্ষতি কয়েক কোটি টাকা

চালের চেয়েও ছোট পেসমেকার উদ্ভাবন, চিকিৎসায় নতুন সম্ভাবনা

কিভাবে বাংলাদেশকে বদলে দিলেন ড. ইউনূস? তার সাফল্য কি!

বকশীগঞ্জে ৬ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পুড়ে ছাই

কুয়াকাটা সৈকত দখল করে নির্মাণ হচ্ছে ঝুঁকিপূর্ণ মার্কেট, পাশেই থাকে হাজারো পর্যটকের অবস্থান

ফোর্বসের ধনী তালিকায় রেকর্ডসংখ্যক সউদী বিলিয়নিয়ার

ইউক্রেন যুদ্ধে নিহত ময়মনসিংহের ইয়াসিন

গাজায় ইসরায়েলি অপরাধের তদন্তের দাবি ফিলিস্তিন রেড ক্রিসেন্টের

ব্যাঙ্ককে ড. মুহাম্মদ ইউনূস-নরেন্দ্র মোদির বৈঠক অনুষ্ঠিত

সৈয়দপুরে রংধনু ও পাতাকুঁড়ি পার্কে দর্শনার্থীদের ভিড় বাড়ছে

মাস্কের পদত্যাগের গুঞ্জন উড়িয়ে দিল হোয়াইট হাউস

প্রয়োজনীয় সংস্কার শেষে নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজন করবো: ড. ইউনূস

দেশ ও জাতির জন্য তানিফার অবদানের কথা ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে: সেলিম উদ্দিন

ভারতে ওয়াকফ বিল পাসের প্রতিবাদে হেফাজতে ইসলামের বিবৃতি

চৌদ্দগ্রামে দুই লক্ষ যৌতুকের দাবিতে গৃহবধূকে নির্যাতন, থানায় অভিযোগ

মার্কিন কৃষি কি চীনের সাথে বাণিজ্য যুদ্ধ সামলাতে পারবে?

সুনামগঞ্জ সীমান্তে ভারতীয় ৯ গরু আটক

যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্কনীতির প্রভাব মোকাবিলায় আমদানি নীতিতে পরিবর্তন আনছে সরকার