কার্ড লেনদেনে বড় উল্লম্ফন, পাঁচ বছরে ব্যবহার বেড়েছে ১০৮ শতাংশ
১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:০৩ পিএম | আপডেট: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:০৩ পিএম
দেশে নগদ টাকার পাশাপাশি কার্ডভিত্তিক লেনদেনের ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। গত পাঁচ বছরে দেশে ডেবিট, ক্রেডিট ও প্রিপেইড কার্ডের সংখ্যা বেড়েছে ৯৭ শতাংশ। একই সময়ে এসব কার্ডের মাধ্যমে লেনদেনের পরিমাণ বেড়েছে ১০৮ শতাংশ। বিশেষ করে প্রিপেইড কার্ডের বিস্তার হয়েছে সবচেয়ে দ্রুত। ২০২২ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত প্রিপেইড কার্ডের সংখ্যা বেড়েছে ১৬৮ শতাংশ।
অন্যদিকে দেশের বাইরে বাংলাদেশি কার্ডধারীদের ব্যবহারও উল্লেখযোগ্য পর্যায়ে রয়েছে। ২০২৬ সালের জুলাইয়ে বাংলাদেশি নাগরিকদের ক্রেডিট, ডেবিট ও প্রিপেইড কার্ডে বিদেশে মোট ১৭ লাখ ৪৪ হাজার ৩০টি লেনদেন হয়েছে, যার আর্থিক পরিমাণ ৯৮৪ কোটি ৭০ লাখ টাকা। একই সময়ে বিদেশে ইস্যু করা কার্ড ব্যবহার করে বাংলাদেশে বিদেশি নাগরিকেরা ৩ লাখ ২১ হাজার ১৭৪টি লেনদেন করেছেন, যার পরিমাণ ২৩৪ কোটি ৩০ লাখ টাকা। অর্থাৎ লেনদেনের সংখ্যার হিসাবে বিদেশে বাংলাদেশিদের কার্ড ব্যবহার বিদেশিদের বাংলাদেশে ব্যবহারের তুলনায় প্রায় ৪ দশমিক ২০ গুণ।বাংলাদেশ ব্যাংকের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদনে দেশের কার্ড ব্যবহারের পাঁচ বছরের প্রবণতা, দেশীয় লেনদেন, বিদেশে বাংলাদেশিদের লেনদেন এবং বাংলাদেশে বিদেশি নাগরিকদের কার্ড ব্যবহারের খাত ও দেশভিত্তিক চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালের আগস্টে দেশে ডেবিট কার্ড ছিল ২ কোটি ৩৮ লাখ ৬৫ হাজার ৫৫৮টি। ক্রেডিট কার্ড ছিল ১৭ লাখ ৪৬ হাজার ৭৬৩টি এবং প্রিপেইড কার্ড ছিল ৯ লাখ ৮১ হাজার ১৫৮টি। সব মিলিয়ে কার্ডের সংখ্যা ছিল ২ কোটি ৬৫ লাখ ৯৩ হাজার ৪৭৯টি।
২০২৬ সালের জুলাইয়ে ডেবিট কার্ড বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪ কোটি ৬ লাখ ৩০ হাজার ৪৭৫টিতে। ক্রেডিট কার্ড ২৭ লাখ ২ হাজার ৬৯৩টি এবং প্রিপেইড কার্ড ৯০ লাখ ৮১ হাজার ৩২৯টিতে উন্নীত হয়েছে। মোট কার্ডের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫ কোটি ২৪ লাখ ১৪ হাজার ৪৯৭টি। অর্থাৎ পাঁচ বছরে মোট কার্ডের সংখ্যা বেড়েছে ৯৭ শতাংশ।একই সময়ে কার্ডের মাধ্যমে লেনদেনের পরিমাণও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ২০২১ সালের আগস্টে ডেবিট, ক্রেডিট ও প্রিপেইড কার্ডে মোট লেনদেনের পরিমাণ ছিল ২ লাখ ২৭ হাজার ৮৮৭ মিলিয়ন টাকা, অর্থাৎ ২২ হাজার ৭৮৮ কোটি ৭০ লাখ টাকা। ২০২৬ সালের জুলাইয়ে তা বেড়ে হয়েছে ৪ লাখ ৭৪ হাজার ৮০৪ মিলিয়ন টাকা বা ৪৭ হাজার ৪৮০ কোটি ৪০ লাখ টাকা। ফলে পাঁচ বছরে কার্ড লেনদেনের পরিমাণ বেড়েছে ১০৮ শতাংশ।
কার্ডের ধরনভেদে প্রবৃদ্ধির চিত্রও আলাদা। ২০২২ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত ডেবিট কার্ডের সংখ্যা বেড়েছে ৩৬ শতাংশ এবং ক্রেডিট কার্ড ২৮ শতাংশ। বিপরীতে প্রিপেইড কার্ড বেড়েছে ১৬৮ শতাংশ। ফলে কার্ড ব্যবহারের বিস্তারে প্রিপেইড কার্ড দ্রুত সম্প্রসারিত হয়েছে।বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে বর্তমানে ৬১টি তফসিলি ব্যাংক ও ৩৫টি ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এর মধ্যে ৫৬টি ব্যাংক ও একটি ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান কার্ড সেবা দিচ্ছে। আবার ৪৮টি ব্যাংক ও একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান ক্রেডিট কার্ড, দ্বৈত মুদ্রার ডেবিট কার্ড এবং বৈদেশিক মুদ্রার প্রিপেইড কার্ড সেবা দিচ্ছে।
জুলাই দেশে ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে মোট লেনদেন হয়েছে ৪৩ হাজার ২৪৮ মিলিয়ন টাকা, অর্থাৎ ৪ হাজার ৩২৪ কোটি ৮০ লাখ টাকা। জুনে এ পরিমাণ ছিল ৪৪ হাজার ৬১০ মিলিয়ন টাকা বা ৪ হাজার ৪৬১ কোটি টাকা। এক মাসে লেনদেন কমেছে ৩ দশমিক ০৫ শতাংশ। তবে লেনদেন কমলেও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ খাতে ব্যবহার বেড়েছে।
জুলাইয়ে দেশীয় ক্রেডিট কার্ড লেনদেনের সবচেয়ে বড় অংশ হয়েছে ডিপার্টমেন্টাল স্টোরে। এ খাতে লেনদেন হয়েছে ২ হাজার ১৭৬ কোটি টাকা, যা মোটের ৫০ দশমিক ৩১ শতাংশ। খুচরা বিক্রয়কেন্দ্রে হয়েছে ৪৮৭ কোটি ৯০ লাখ টাকা বা ১১ দশমিক ২৮ শতাংশ। ইউটিলিটি বিল পরিশোধে ৩৭৭ কোটি ১০ লাখ টাকা বা ৮ দশমিক ৭২ শতাংশ এবং নগদ উত্তোলনে ৩৩৪ কোটি ১০ লাখ টাকা বা ৭ দশমিক ৭৩ শতাংশ লেনদেন হয়েছে।
ওষুধ ও ফার্মেসিতে ২৬৬ কোটি ৮০ লাখ টাকা, পোশাকের দোকানে ১৭৭ কোটি ৭০ লাখ টাকা, সরকারি সেবায় ১৫৪ কোটি ৪০ লাখ টাকা, ব্যবসায়িক সেবায় ১২৪ কোটি ৯০ লাখ টাকা, পরিবহনে ১১২ কোটি ৮০ লাখ টাকা, অর্থ স্থানান্তরে ৬৮ কোটি ৫০ লাখ টাকা এবং পেশাগত সেবায় ৪৪ কোটি ৫০ লাখ টাকা লেনদেন হয়েছে।লেনদেনের ধরন বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, জুলাইয়ে দেশীয় ক্রেডিট কার্ডের ৯০ দশমিক ৬৯ শতাংশ লেনদেন হয়েছে পণ্য ও সেবা কেনাকাটায়। নগদ উত্তোলনের অংশ ছিল ৭ দশমিক ৭৩ শতাংশ এবং অর্থ স্থানান্তরের অংশ ১ দশমিক ৫৮ শতাংশ।
কার্ডের ধরন অনুযায়ী দেশীয় ক্রেডিট কার্ড লেনদেনেও ভিসা সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয়েছে। জুলাইয়ে ভিসা কার্ডে লেনদেন হয়েছে ৩ হাজার ২৯৭ কোটি ৭০ লাখ টাকা, যা মোট দেশীয় ক্রেডিট কার্ড লেনদেনের ৭৬ দশমিক ২৫ শতাংশ। মাস্টারকার্ডে হয়েছে ৬৬৫ কোটি ৯০ লাখ টাকা বা ১৫ দশমিক ৪০ শতাংশ এবং অ্যামেক্সে ৩৪৫ কোটি ৯০ লাখ টাকা বা ৮ শতাংশ। ডাইনার্স, ইউনিয়নপে, কিউক্যাশ ও জেসিবির অংশ ছিল ১ শতাংশেরও কম।
জুলাইয়ে দেশের বাইরে বাংলাদেশি কার্ডধারীদের ক্রেডিট কার্ডে ৫২৫ কোটি ৯০ লাখ টাকা, ডেবিট কার্ডে ৪০১ কোটি ১০ লাখ টাকা এবং প্রিপেইড কার্ডে ৫৭ কোটি ৮০ লাখ টাকা লেনদেন হয়েছে। সব মিলিয়ে বিদেশে বাংলাদেশিদের কার্ডে লেনদেন হয়েছে ৯৮৪ কোটি ৭০ লাখ টাকা। জুনে এ পরিমাণ ছিল ১ হাজার ৩৭ কোটি টাকা। ফলে এক মাসে বহির্মুখী কার্ড লেনদেন কমেছে ৫ দশমিক ০৫ শতাংশ।এর মধ্যে ক্রেডিট কার্ডে ৮ লাখ ৩০ হাজার ৮৬টি লেনদেন হয়েছে। ডেবিট কার্ডে হয়েছে ৭ লাখ ৯০ হাজার ১২৩টি এবং প্রিপেইড কার্ডে ১ লাখ ২৩ হাজার ৮২১টি লেনদেন।
বিদেশে বাংলাদেশিদের ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারের ক্ষেত্রে ডিপার্টমেন্টাল স্টোরে সবচেয়ে বেশি ব্যয় হয়েছে।
এ খাতে ১৬৪ কোটি ৭০ লাখ টাকা বা ৩১ দশমিক ৩৩ শতাংশ লেনদেন হয়েছে। খুচরা বিক্রয়কেন্দ্রে ৯০ কোটি ৩০ লাখ টাকা, পরিবহনে ৬৫ কোটি ৭০ লাখ টাকা, ওষুধ ও ফার্মেসিতে ৬০ কোটি ২০ লাখ টাকা, পোশাকের দোকানে ৪১ কোটি ৯০ লাখ টাকা এবং ব্যবসায়িক সেবায় ৩৮ কোটি ৪০ লাখ টাকা লেনদেন হয়েছে।
দেশভিত্তিক হিসাবে জুলাইয়ে বিদেশে বাংলাদেশি ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারের সবচেয়ে বড় গন্তব্য যুক্তরাষ্ট্র। মোট লেনদেনের ১৭ দশমিক ৭১ শতাংশ হয়েছে সেখানে, যার পরিমাণ ৯৩ কোটি ১০ লাখ টাকা। এরপর থাইল্যান্ডে ৬১ কোটি ৪০ লাখ টাকা বা ১১ দশমিক ৬৮ শতাংশ, যুক্তরাজ্যে ৫৪ কোটি ৪০ লাখ টাকা বা ১০ দশমিক ৩৫ শতাংশ এবং সিঙ্গাপুরে ৩৯ কোটি ৬০ লাখ টাকা বা ৭ দশমিক ৫৪ শতাংশ লেনদেন হয়েছে।ভারতে হয়েছে ৩৫ কোটি ২০ লাখ টাকা, মালয়েশিয়ায় ৩৪ কোটি ৫০ লাখ, কানাডায় ২৪ কোটি ৯০ লাখ, নেদারল্যান্ডসে ২১ কোটি ৯০ লাখ এবং চীনে ২১ কোটি ১০ লাখ টাকা।
জুলাইয়ে বিদেশে বাংলাদেশি ডেবিট কার্ডে ৪০১ কোটি ১০ লাখ টাকা লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে ডিপার্টমেন্টাল স্টোরে ৮৩ কোটি ৮০ লাখ টাকা বা ২০ দশমিক ৮৯ শতাংশ, সরকারি সেবায় ৭৩ কোটি ৪০ লাখ টাকা বা ১৮ দশমিক ৩০ শতাংশ এবং ব্যবসায়িক সেবায় ৫৪ কোটি ৯০ লাখ টাকা বা ১৩ দশমিক ৬৯ শতাংশ লেনদেন হয়েছে।
নগদ উত্তোলনে ৪৯ কোটি ৯০ লাখ টাকা, খুচরা বিক্রয়কেন্দ্রে ৩৯ কোটি ২০ লাখ টাকা, ওষুধ ও ফার্মেসিতে ৩৯ কোটি ২০ লাখ টাকা এবং পরিবহনে ২৯ কোটি ৬০ লাখ টাকা লেনদেন হয়েছে।ডেবিট কার্ডে বিদেশে ব্যবহারের ক্ষেত্রেও যুক্তরাষ্ট্র শীর্ষে। জুলাইয়ে সেখানে লেনদেন হয়েছে ৫৩ কোটি ১০ লাখ টাকা বা মোটের ১৩ দশমিক ২৫ শতাংশ। যুক্তরাজ্যে ৫১ কোটি ৬০ লাখ, ভারতে ৩৭ কোটি ৫০ লাখ, চীনে ৩৫ কোটি ৯০ লাখ এবং আয়ারল্যান্ডে ৩৫ কোটি ১০ লাখ টাকা লেনদেন হয়েছে।
জুলাইয়ে বিদেশে বাংলাদেশি প্রিপেইড কার্ডে লেনদেন হয়েছে ৫৭ কোটি ৮০ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারি সেবায় ১৩ কোটি ৯০ লাখ টাকা বা ২৪ দশমিক ০৯ শতাংশ, ডিপার্টমেন্টাল স্টোরে ৮ কোটি ৮০ লাখ টাকা বা ১৫ দশমিক ৩১ শতাংশ এবং নগদ উত্তোলনে ৮ কোটি ৬০ লাখ টাকা বা ১৪ দশমিক ৮৫ শতাংশ লেনদেন হয়েছে।ব্যবসায়িক সেবায় ৮ কোটি ২০ লাখ টাকা, খুচরা বিক্রয়কেন্দ্রে ৬ কোটি টাকা এবং ওষুধ ও ফার্মেসিতে ৫ কোটি ২০ লাখ টাকা লেনদেন হয়েছে।
জুলাইয়ে বিদেশি নাগরিকেরা বিদেশে ইস্যু করা কার্ড বাংলাদেশে ব্যবহার করে ২৩৪ কোটি ৩০ লাখ টাকার লেনদেন করেছেন। জুনে এ পরিমাণ ছিল ২৪১ কোটি ৫০ লাখ টাকা। জুলাইয়ে মোট ৩ লাখ ২১ হাজার ১৭৪টি লেনদেন হয়েছে।
বিদেশিদের বাংলাদেশে কার্ড ব্যবহারের সবচেয়ে বড় অংশও ডিপার্টমেন্টাল স্টোরে। জুলাইয়ে এ খাতে ৮২ কোটি ৩০ লাখ টাকা বা ৩৫ দশমিক ১৫ শতাংশ লেনদেন হয়েছে। নগদ উত্তোলনে ৫৬ কোটি ৩০ লাখ টাকা বা ২৪ দশমিক ০৪ শতাংশ, পরিবহনে ৩২ কোটি ৩০ লাখ টাকা বা ১৩ দশমিক ৭৭ শতাংশ এবং পোশাকের দোকানে ২০ কোটি ৯০ লাখ টাকা বা ৮ দশমিক ৯২ শতাংশ লেনদেন হয়েছে।
দেশভিত্তিক হিসাবে বাংলাদেশে বিদেশিদের কার্ড ব্যবহারে যুক্তরাষ্ট্রের কার্ডধারীরা সবচেয়ে বেশি। জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্রে ইস্যু করা কার্ডে ৫১ কোটি ৬০ লাখ টাকা বা মোটের ২২ দশমিক ০১ শতাংশ লেনদেন হয়েছে। ভারতে ইস্যু করা কার্ডে ২১ কোটি ৪০ লাখ, যুক্তরাজ্যে ২১ কোটি, কানাডায় ১১ কোটি ৩০ লাখ এবং সিঙ্গাপুরে ৯ কোটি ৮০ লাখ টাকা লেনদেন হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের জুলাই সময়কালে দেশে ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারের পরিমাণ ৪০ দশমিক ২৪ শতাংশ বেড়েছে। একই সময়ে দেশের বাইরে ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে লেনদেন বেড়েছে ৯ দশমিক ৭১ শতাংশ। আর বাংলাদেশে বিদেশি নাগরিকদের কার্ড ব্যবহারের মাধ্যমে ব্যয় বেড়েছে ২৪ দশমিক ১৪ শতাংশ।
গত ১২ মাসের তথ্যেও দেশীয় ক্রেডিট কার্ড লেনদেনে ওঠানামার মধ্য দিয়ে সামগ্রিক ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যায়। ২০২৫ সালের আগস্টে দেশীয় ক্রেডিট কার্ড লেনদেন ছিল ৩ হাজার ১৪৪ কোটি ৮০ লাখ টাকা। সেপ্টেম্বর, অক্টোবর ও নভেম্বরে তা বাড়ে। ডিসেম্বরে দাঁড়ায় ৩ হাজার ৯৩০ কোটি ৪০ লাখ টাকা। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে কমে ৩ হাজার ৪২২ কোটি ৩০ লাখ টাকায় নামলেও মার্চে আবার বেড়ে হয় ৪ হাজার ৩৪২ কোটি টাকা। জুনে সর্বোচ্চ ৪ হাজার ৪৬১ কোটি টাকা হওয়ার পর জুলাইয়ে তা কিছুটা কমে ৪ হাজার ৩২৪ কোটি ৮০ লাখ টাকায় দাঁড়ায়।
দেশের বাইরে কার্ড লেনদেনও গত এক বছরে বিভিন্ন সময় ওঠানামা করেছে। ২০২৫ সালের আগস্টে বহির্মুখী লেনদেন ছিল ৮৫৭ কোটি ৬০ লাখ টাকা। অক্টোবর নাগাদ তা বেড়ে ৯৫৫ কোটি ২০ লাখ টাকা হয়। ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এ কমে ৬৯৬ কোটি ৯০ লাখ টাকায় নেমে যায়। জুনে সর্বোচ্চ ১ হাজার ৩৭ কোটি টাকা হওয়ার পর জুলাইয়ে কমে ৯৮৪ কোটি ৭০ লাখ টাকা হয়েছে।
ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে দেওয়া ঋণের পরিমাণও উল্লেখযোগ্য। ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত ৪৮টি তফসিলি ব্যাংক ও একটি ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ক্রেডিট কার্ডে অনুমোদিত মোট ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪৩ হাজার ৩২৯ কোটি টাকা। এর বিপরীতে মোট বকেয়া বা স্থিতি রয়েছে ১৪ হাজার ৫৮৮ কোটি টাকা।
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে কার্ড ব্যবহারের প্রবৃদ্ধিকে আর্থিক অন্তর্ভুক্তি ও ডিজিটাল অর্থনীতির বিকাশের গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে দেখা হয়েছে। কার্ডের বিস্তারের ফলে নগদের বিকল্প হিসেবে ডিজিটাল লেনদেনের সুযোগ বাড়ছে। একই সঙ্গে ভোক্তাদের কেনাকাটা, বিল পরিশোধ, পরিবহন, সরকারি সেবা ও আন্তর্জাতিক লেনদেনে কার্ডের ব্যবহার বিস্তৃত হচ্ছে।তবে এই প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি কয়েকটি চ্যালেঞ্জও রয়েছে। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে সীমিত ডিজিটাল অবকাঠামো, আর্থিক জ্ঞানের ঘাটতি, সাইবার নিরাপত্তা ও প্রতারণা নিয়ে উদ্বেগ, ডিজিটাল ব্যবস্থার ওপর আস্থার ঘাটতি, নগদনির্ভর সংস্কৃতি ও অনানুষ্ঠানিক অর্থনীতি, তুলনামূলক বেশি লেনদেন ব্যয় এবং স্মার্টফোন ব্যবহারের সীমিত সুযোগকে বড় বাধা হিসেবে চিহ্নিত করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।কার্ড ব্যবহারের বিস্তার অব্যাহত রাখতে নিরাপত্তা ও প্রতারণা প্রতিরোধ ব্যবস্থা জোরদার করার পাশাপাশি গ্রাহকদের সচেতনতা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ডিজিটাল লেনদেনের সঙ্গে মানুষের আস্থা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা গেলে নগদনির্ভরতা কমানোর প্রক্রিয়া আরও বিস্তৃত হতে পারে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, আর্থিক অন্তর্ভুক্তি, ডিজিটাল অর্থনীতির সম্প্রসারণ এবং নিরাপদ নগদবিহীন লেনদেন নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে কার্ডভিত্তিক ব্যবস্থা আগামী দিনে আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
বিভাগ : অর্থনীতি
মন্তব্য করুন
আরও পড়ুন
সরলথ-আলভারেজকে ছাড়াই ডার্বির আগে দুর্দান্ত প্রস্ততি আতলেতিকোর
মতিঝিলে ফুটপাত দখলমুক্ত করতে ডিএসসিসির উচ্ছেদ অভিযান
গণতন্ত্র পুনর্গঠনের আশ্বাস
গুলশানে ককটেল বিস্ফোরণের মামলায় আরো দুই আসামির ৭ দিনের রিমান্ডে
পলাতক সাজাপ্রাপ্ত আসামিদের ফেরাতে কূটনৈতিক তৎপরতা চলবে : শামা ওবায়েদ
এখনো বহাল চট্টগ্রাম বন্দর চেয়ারম্যান
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কর্মসংস্থানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে হবে : শিক্ষামন্ত্রী
মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় উন্মুক্ত করতে কাজ করছে সরকার -প্রবাসী কল্যাণ সচিব
জুনায়েদ গুলজার চেয়ারম্যান শামসুল আলম মহাসচিব নির্বাচিত
আদালত অবমাননার অভিযোগে অ্যাডভোকেট তুষার ও হাসানকে তলব
পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে অডিট আপত্তি শূন্যে নামিয়ে আনার নির্দেশনা ইউজিসির
ব্যাক-টু-ব্যাক এলসির স্থানীয় সরবরাহে ২৭০ দিনের সীমা নির্ধারণ
৫ দিন পর ক্লোজড ডিসি-ওসি
র্যাবের হাতে গ্রেফতাররা জড়িত নন, আসল দুজন গ্রেফতার : ডিবি
বন্ধুকে ঘুরতে নিয়ে গিয়ে ৬ টুকরো
সিরাজগঞ্জে ভুয়া ডাক্তার মিঠুর ফের সাজা
বিশ্বনাথে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আ.লীগের ৩ নেতা গ্রেফতার
শেরপুরে জেলা প্রশাসকের গণশুনানি
রাজশাহীতে অনুমোদনহীন খাবার পানি উৎপাদনকারীকে জরিমানা
অবশেষে দুই বছর পর কুষ্টিয়া কোর্ট রেল স্টেশনের সংস্কার শুরু সাড়ে ৩ কোটি টাকা ব্যয়ে উঁচু ও প্রসারিত হচ্ছে প্ল্যাটফর্ম