পশ্চিমে সূর্য ওঠার আলামত! সতর্কবার্তা বিজ্ঞানীদের
১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১২:৪৬ পিএম | আপডেট: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১২:৪৬ পিএম
পূর্ব আকাশে সূর্যের সোনালি কিরণ, এই চিত্র মানবজাতির কাছে হাজার বছর ধরে পরিচিত। প্রভাত মানেই পূর্ব দিগন্তে আলোর আবির্ভাব, আর দিনের অবসান মানেই সূর্যের পশ্চিমে অন্তর্ধান। কিন্তু বিজ্ঞান ও বিশ্বাসের সাম্প্রতিক মেলবন্ধন বলছে, একদিন এই দৃশ্যও বদলে যেতে পারে!
বিজ্ঞানীরা আজ যে সতর্কবার্তা দিচ্ছেন, তা ইসলামের দীর্ঘদিনের কেয়ামতের আলামতের প্রতিধ্বনি। হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর বাণীর সাথে আজ মিলে যাচ্ছে বিজ্ঞান।
পৃথিবী ঘুরছে এক বিশাল চৌম্বক বলয় বুকে নিয়ে, যার উৎপত্তি পৃথিবীর অভ্যন্তরে থাকা গলিত লোহার প্রবাহ থেকে। এই চৌম্বক ক্ষেত্র শুধুই প্রযুক্তি বা দিক নির্দেশনায় কাজ করে না, এটি পৃথিবীর নিরাপত্তা ঢাল হিসেবেও কাজ করে।
বিজ্ঞান বলছে, প্রতি কয়েক লাখ বছর অন্তর এই চৌম্বক মেরু উল্টে যায়। সর্বশেষ এমন ঘটনা ঘটেছিল প্রায় ৭ লাখ ৮০ হাজার বছর আগে, যা পরিচিত "ব্রুনস-মাতোয়ামা বিপরীতকরণ" নামে। এখন, গবেষকদের মতে, সেই রূপান্তরের ইঙ্গিত আবার স্পষ্ট হতে শুরু করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞানী ড্যান লেথ্রপ সম্প্রতি জানিয়েছেন, উত্তর ও দক্ষিণ চৌম্বক মেরু ইতিহাসে বহুবার স্থান বদল করেছে। এমনকি পৃথিবীর কেন্দ্রস্থলের ঘূর্ণন সাময়িকভাবে থেমে গিয়ে উল্টো দিকে ঘুরতে শুরু করেছে, এমন ইঙ্গিতও মিলেছে সাম্প্রতিক গবেষণায়।
এর অর্থ, মেরু পরিবর্তনের গতি বেড়ে যেতে পারে। ফলে এমন এক সময় আসতে পারে, যখন সূর্য পশ্চিম আকাশে উদিত হবে, যা ছিল এতদিন শুধুই ধর্মীয় বিশ্বাসের অংশ।
চৌম্বক মেরু উল্টানোর প্রক্রিয়ায় পৃথিবীর চৌম্বক বলয় দুর্বল হয়ে পড়ে, যার পরিণতিতে ঘটতে পারে মারাত্মক ক্ষয়ক্ষতি। বিজ্ঞানীরা বলছেন, সূর্যের রেডিয়েশন সরাসরি পৃথিবীতে পৌঁছাতে পারে, স্যাটেলাইট ও জিপিএস ব্যবস্থা ভেঙে পড়তে পারে, বিদ্যুৎ সরবরাহ ও নেটওয়ার্ক ব্যবস্থায় মারাত্মক সমস্যা দেখা দিতে পারে এমনকি পাখি, কচ্ছপসহ অভিবাসী প্রাণীদের দিক নির্ধারণের ক্ষমতা নষ্ট হয়ে যেতে পারে এর ফলে।
এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের প্রভাব শুধু প্রযুক্তি নয়, মানব সভ্যতার বিশ্বাস ও সংস্কৃতির ওপরও পড়তে পারে। বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) বহু পূর্বেই সতর্ক করে দিয়েছিলেন সূর্য পশ্চিমে ওঠার বিষয়ে। তিনি বলেছেন, “যতদিন না পশ্চিম দিক থেকে সূর্য উদিত হবে, ততদিন কেয়ামত হবে না। আর যখন তা ঘটবে, তখন সকলেই ঈমান আনবে; কিন্তু সেই ঈমান তখন আর গ্রহণযোগ্য হবে না।"
(সহিহ বুখারি)
এই হাদিসে বর্ণিত সেই কেয়ামতের আলামত, আজ যেন বিজ্ঞানের আলোতেও প্রতিধ্বনিত হচ্ছে। যদিও এখনই পৃথিবীর ঘূর্ণন হঠাৎ উল্টে যাবে—এমন কোনও জরুরি আশঙ্কা বিজ্ঞানীরা করছেন না, তবে তাঁরা বলছেন, চৌম্বক মেরুর পরিবর্তন একটি চলমান প্রক্রিয়া, যার প্রস্তুতি না থাকলে মানবজাতি হঠাৎ এক ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখোমুখি হতে পারে।
বিজ্ঞানের সর্বশেষ পর্যবেক্ষণ আর ইসলামের ভবিষ্যদ্বাণী, দুটিই আজ এক বিন্দুতে এসে মিলছে।
বিভাগ : আন্তর্জাতিক
মন্তব্য করুন
এই বিভাগের আরও
আরও পড়ুন
সরলথ-আলভারেজকে ছাড়াই ডার্বির আগে দুর্দান্ত প্রস্ততি আতলেতিকোর
মতিঝিলে ফুটপাত দখলমুক্ত করতে ডিএসসিসির উচ্ছেদ অভিযান
গণতন্ত্র পুনর্গঠনের আশ্বাস
গুলশানে ককটেল বিস্ফোরণের মামলায় আরো দুই আসামির ৭ দিনের রিমান্ডে
পলাতক সাজাপ্রাপ্ত আসামিদের ফেরাতে কূটনৈতিক তৎপরতা চলবে : শামা ওবায়েদ
এখনো বহাল চট্টগ্রাম বন্দর চেয়ারম্যান
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কর্মসংস্থানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে হবে : শিক্ষামন্ত্রী
মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় উন্মুক্ত করতে কাজ করছে সরকার -প্রবাসী কল্যাণ সচিব
জুনায়েদ গুলজার চেয়ারম্যান শামসুল আলম মহাসচিব নির্বাচিত
আদালত অবমাননার অভিযোগে অ্যাডভোকেট তুষার ও হাসানকে তলব
পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে অডিট আপত্তি শূন্যে নামিয়ে আনার নির্দেশনা ইউজিসির
ব্যাক-টু-ব্যাক এলসির স্থানীয় সরবরাহে ২৭০ দিনের সীমা নির্ধারণ
৫ দিন পর ক্লোজড ডিসি-ওসি
র্যাবের হাতে গ্রেফতাররা জড়িত নন, আসল দুজন গ্রেফতার : ডিবি
বন্ধুকে ঘুরতে নিয়ে গিয়ে ৬ টুকরো
সিরাজগঞ্জে ভুয়া ডাক্তার মিঠুর ফের সাজা
বিশ্বনাথে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আ.লীগের ৩ নেতা গ্রেফতার
শেরপুরে জেলা প্রশাসকের গণশুনানি
রাজশাহীতে অনুমোদনহীন খাবার পানি উৎপাদনকারীকে জরিমানা
অবশেষে দুই বছর পর কুষ্টিয়া কোর্ট রেল স্টেশনের সংস্কার শুরু সাড়ে ৩ কোটি টাকা ব্যয়ে উঁচু ও প্রসারিত হচ্ছে প্ল্যাটফর্ম