ভারতের লাভ চার গুণ
২০ মে ২০২৩, ১১:২২ পিএম | আপডেট: ২১ মে ২০২৩, ১২:০১ এএম
ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সাতটি রাজ্যে বাংলাদেশের ওপর দিয়ে মালামাল পরিবহনের টার্গেট, প্রত্যাশা, আবদার-অভিলাষ প্রতিবেশী দেশটির দীর্ঘদিনের। আর এ নিয়ে এপিঠ-ওপিঠ আলোচনা-সমালোচনা, বিতর্ক, অতীতে রাজনীতির মাঠ গরমও হয়েছে বিস্তর। ‘দি সেভেন সিস্টার্স’ হিসেবে পরিচিত ভারতের ৭টি রাজ্য হচ্ছেÑ আসাম, মেঘালয়, ত্রিপুরা, মিজোরাম, অরুণাচল, নাগাল্যান্ড ও মণিপুর। এর সঙ্গে ও পাশাপাশি অবস্থানে আছে সিকিম এবং শিলিগুড়ি অঞ্চলসহ পশ্চিমবঙ্গের একাংশ। ভারতের বিরাট এ অঞ্চলটি দেশটির প্রধান ভূখ- থেকে প্রায় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন, দুর্গম, বন্দর-সুবিধা বঞ্চিত ও ভূমি-পরিবেষ্টিত (ল্যান্ড লক্ড)। এককালে কোন কোন রাজ্য ছিল সশস্ত্র বিদ্রোহী ও বিচ্ছিন্নতাবাদী কবলিত। তাছাড়া জনসাধারণে জীবনমান অনেক ক্ষেত্রেই তুলনামূলক অনুন্নত।
ভারতের আশু লক্ষ্য হল, দেশটির মূল অংশের সাথে সহজ যোগাযোগ স্থাপন এবং ওইসব অঞ্চলে মালামাল আনা-নেয়া দ্রুতায়িত ও সহজতর করা। সেই সাথে প্রতিবেশী কোন দেশকে রফতানি বাজার সুবিধা ও প্রবেশের সুযোগ না দিয়েই, ভারতের পণ্যসামগ্রী ওই অঞ্চলে সহজলভ্য করা। এর মাধ্যমে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের জনগণের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন। সব মিলিয়ে, গুছিয়ে ও সমন্বিতভাবে পরিকল্পনা নিয়েই এ বিষয়ে অগ্রসর হচ্ছে ভারত।
এদিকে ভারতের মূল শহর-নগর-বন্দরগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ এবং পণ্যসামগ্রী পরিবহনের জন্য বর্তমানে দীর্ঘ ঘুরপথে এক হাজার ৭ শ’ কিলোমিটার দূরত্ব পাড়ি দিতে হয়। তাতে ৫ থেকে ৮ দিন সময় লাগছে। এ ছাড়াও আছে নানা ধরনের বাধা-বিপত্তি। যেমনÑ ত্রিপুরার রাজধানী আগরতলার সাথে কলকাতার দূরত্ব এক হাজার ৬৮০ কি.মি। অথচ চট্টগ্রাম বন্দর থেকে আগরতলার দূরত্ব মাত্র ২৪৮ কি.মি.। ট্রানজিটের প্রক্রিয়াধীন রামগড় স্থলবন্দর চালু হলে ত্রিপুরার দূরত্ব হবে মাত্র ৮০ কি.মি.।
মেঘালয়ের রাজধানী শিলংয়ের সঙ্গে কলকাতার দূরত্ব এক হাজার ১৫০ কি.মি. হলেও মাত্র ৫৭০ কি.মি. দূরত্বে অবস্থিত চট্টগ্রাম বন্দর। মিজোরামের রাজধানী আইজল ও চট্টগ্রাম বন্দরের দূরত্ব ৬৫৫ কি.মি.। কিন্তু কলকাতার দূরত্ব এক হাজার ৫৫০ কি.মি.। নাগাল্যান্ডের রাজধানী কোহিমার সঙ্গে চট্টগ্রাম বন্দরের দূরত্ব ৮৮০ কি.মি. কলকাতার দূরত্ব এক হাজার ৪৫০ কি.মি.।
কলকাতা থেকে উত্তর-পূর্ব ভারতের অন্যান্য রাজ্যের দূরত্বও চট্টগ্রাম বন্দরের তুলনায় গড়ে চার গুণেরও বেশি। উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় সাত রাজ্যে এখন কলকাতা কিংবা চেন্নাই সমুদ্রবন্দর থেকে ফিডার জাহাজে করে ভারতকে পণ্য পরিবহন করতে হয়। এতে করে ভারত সরকার ও ব্যবসায়ীদের সময় ও অর্থ ব্যয় উভয়ই বেশিই হচ্ছে। ওই অঞ্চলের জনগণকে বাড়তি দামে জিনিসপত্র কিনতে হয়।
অন্যদিকে বাংলাদেশের ওপর দিয়ে ৭টি রাজ্যের প্রত্যন্ত এলাকায় পণ্য পরিবহনে ট্রানজিট-করিডোর সুবিধা কাজে লাগিয়ে আগের তুলনায় ভারতের খরচ কমে যাবে চার গুণ পর্যন্ত। খরচ নেমে আসবে মাত্র ১৫ থেকে ৩০ শতাংশের মধ্যে। ভারতের সাথে বাংলাদেশের ট্রানজিট চুক্তিটি ১৩ বছর পর পূর্ণাঙ্গ কার্যকর করে গত ২৪ এপ্রিল জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) মাধ্যমে সরকার জারি করেছে স্থায়ী আদেশ (এসআরও)।
সেই অনুযায়ী চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর ও মোংলা বন্দর ব্যবহার করে ভারতের পণ্য আনা-নেয়ার জন্য বাংলাদেশ ও ভারতের চারটি স্থলবন্দর হয়ে ১৬টি রুট বা ট্রানজিটের করিডোর নির্ধারণ করা হয়েছে। এসব রুট ব্যবহার করে উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় ৭টি রাজ্যে পণ্য পরিবহন করলে ভারতের ব্যয় ও সময় বেঁচে যাবে রুট বা করিডোর-ভেদে সর্বোচ্চ ৪০০ শতাংশ বা চার গুণ পর্যন্ত। এই সুবাদে ভারতের ব্যাপক সময় ও অর্থ সাশ্রয় হবে। মোটের উপর ভারতের বাম্পার লাভের লাভ হবে চার গুণ!
ইতোপূর্বে ট্যারিফ কমিশনের কোর কমিটি ট্রানজিটের জন্য ১৩টি সম্ভাব্য রুট বা করিডোর চিহ্নিত করে। এসব রুট দিয়ে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে পণ্য আনা-নেয়ায় ভারতের ব্যয় কমবে অর্ধেকেরও বেশি। কোর কমিটি ট্রানজিট-করিডোর ব্যবস্থায় কোন রুট দিয়ে ভারতের পণ্য আনা-নেয়ায় কত সাশ্রয় হবে এ ব্যাপারে ধারণা দিয়েছে। এতে তামাবিল-চট্টগ্রাম দিয়ে ১২ শতাংশ, আখাউড়া-চট্টগ্রামে ৭০ শতাংশ, আখাউড়া-বেনাপোলে ৪৮ শতাংশ, সুতারকান্দি-বেনাপোলে ৩৩ শতাংশ, সুতারকান্দি-চট্টগ্রামে ৫৩ শতাংশ, বাংলাবান্ধা-মোংলা ২৯ শতাংশ, বুড়িমারী-মোংলা ১২ শতাংশ, শাহবাজপুর-চট্টগ্রামে ৬৭ শতাংশ, আখাউড়া-দর্শনা ৭০ শতাংশ, রায়মঙ্গল-আশুগঞ্জে ৫০ শতাংশ, শাহবাজপুর-দর্শনা রুটে ট্রানজিট-করিডোর সুবিধা পেলে ভারতের সাশ্রয় হবে ৫৭ শতাংশ খরচ।
অবশেষে চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর ও মোংলা বন্দর, বাংলাদেশ ও ভারতের ৪টি স্থলবন্দর হয়ে ১৬টি রুট (করিডোর) দিয়ে ট্রানজিটের কার্য-সম্পাদন প্রক্রিয়া চূড়ান্ত অনুমোদন ও তা কার্যকর হয়েছে। সে অনুযায়ী ভারতের বৈধ যে কোন পণ্যের চালান সমুদ্রপথে মোংলা এবং চট্টগ্রাম বন্দরে খালাস হবে। সেসব পণ্য বাংলাদেশের সড়কপথ ও পরিবহন যান ব্যবহার করে চারটি স্থলবন্দর হয়ে ভারতে যাবে অথবা ভারত থেকে আসবে। এই ৪টি স্থলবন্দর রুট বা করিডোর হলো, সিলেটে তামাবিল-ডাউকি ও শেওলা-সুতারকান্দি, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া-আগরতলা এবং কুমিল্লার বিবিরবাজার-শ্রীমন্তপুর।
এনবিআরের সাম্প্রতিক স্থায়ী আদেশ অনুযায়ী ভারতীয় মালামালের চালান বাংলাদেশের ভেতর দিয়ে চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দর ব্যবহার করে ৮টি রুট বা পথে (অর্থাৎ করিডোর সুবিধায়) বাংলাদেশের ভেতর দিয়ে স্থলবন্দর হয়ে ভারতে আনা-নেয়া করা যাবে। এই ৮টি রুট হচ্ছেÑ চট্টগ্রাম বন্দর-আখাউড়া-আগরতলা, মোংলা বন্দর-আখাউড়া-আগরতলা, চট্টগ্রাম বন্দর-তামাবিল ডাউকি, মোংলা বন্দর-তামাবিল-ডাউকি, চট্টগ্রাম বন্দর-শেওলা-সুতারকান্দি, মোংলা বন্দর-শেওলা-সুতারকান্দি, চট্টগ্রাম বন্দর-বিবিরবাজার-শ্রীমন্তপুর এবং মোংলা বন্দর-বিবিরবাজার-শ্রীমন্তপুর। আবার বিপরীত দিক থেকেও বাংলাদেশের ভেতর দিয়ে করিডোর বা রুটগুলো (আটটি) হয়ে ভারতের পণ্য যাবে ভারতেই। #
বিভাগ : জাতীয়
মন্তব্য করুন
আরও পড়ুন
তেঁতুলিয়া সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ
ফরিদপুরে সাংবাদিকের 'বাবা-মা' সহ তিনজনকে কুঁপিয়ে জখম
সেনা নয়, পিটিআই শুধুমাত্র সরকারের সাথে কথা বলছে: ব্যারিস্টার গহর
প্রায় ১৪ লাখ টন খাদ্য উদ্বৃত্ত বরিশালের দিগন্ত বিস্তৃত ফসলের মাঠে মাঠে আমন কাটার ধুম চলছে
ফেনীতে হত্যা মামলার আসামী তাঁতীলীগ নেতার বিরুদ্ধে বালু লুটের অভিযোগ
মির্জাপুর উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারির মায়ের ইন্তেকাল
সিরিয়ার নেতার সঙ্গে ফরাসি ও জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠক
মতলবে ২শতাধিক দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীর মাঝে মজুমদার ফাউন্ডেশনের বৃত্তি প্রদান
ভৈরবে মধু সংগ্রহে ব্যস্ত খামারি মৌয়ালরা
নোয়াখালীতে টানা ৪০ দিন জামাতে নামাজ পড়ে সাইকেল পেল ২৫ শিশু-কিশোর
আদমদীঘিতে সবজির বাজারে ধস কৃষকের কপালে পরেছে দুশ্চিন্তার ভাঁজ
সরে দাঁড়ানো মানে অবসর নয়: রোহিত
জাতীয় সমবায় ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক জসিম উদ্দিন শেখ
চট্টগ্রামে মাসব্যাপী ফুল উৎসব শুরু
স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে ১৮০ বিদেশিসহ ছয় হাজার বন্দীকে মুক্তি দিচ্ছে মিয়ানমার
শ্রীপুরে মাদক ব্যবসায়ী মায়ের সাথে জেলে গেল ৭ মাসের শিশু সাওদা
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের মূল ভবন মঙ্গলবার উদ্বোধন করবেন প্রধান বিচারপতি
রূপপুরে ভবন থেকে লাফিয়ে রুশ নারীর মৃত্যু
সিডনিতে বোলারদের দিনে বুমরাহকে নিয়ে শঙ্কা
নববর্ষের আকাশে চাঁদ ও শুক্রগ্রহের মুগ্ধকর দৃশ্য