বিতর্কিত শিক্ষা সিলেবাস বাতিলে ৮ দফা দাবি জাতীয় ওলামা মাশায়েখ আইম্মা পরিষদ

বিদ্যমান পাঠ্যক্রম প্রজন্মকে মেধাহীন ও চরিত্রহীন করে তুলছে

Daily Inqilab স্টাফ রিপোর্টার

১১ জুলাই ২০২৪, ১২:০২ এএম | আপডেট: ১১ জুলাই ২০২৪, ১২:০২ এএম

জাতীয় ওলামা মাশায়েখ আইম্মা পরিষদের উদ্যোগে গতকার অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে নেতৃবৃন্দ বলেছেন, বিদ্যমান পাঠ্যক্রম প্রজন্মকে মেধাহীন ও চরিত্রহীন করে তুলছে। দেশের বিদ্যমান রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক ও ধর্মীয় অবস্থা কতোটা ভয়াবহ ও নৈরাজ্য তা’সচেতন মহল অবগত। যে শিক্ষার মাধ্যমে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম শিক্ষিত, মার্জিত, দেশপ্রেমিক ও ধার্মিক একজন সচেতন নাগরিক হিসাবে গড়ে ওঠার কথা, সে শিক্ষাব্যবস্থায় ভাষাগত, নীতিগত ও চরিত্রগত এমন সামগ্রিক ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হয়েছে, যা দেশের অধিকাংশ জনগোষ্ঠির চিন্তা ও মননের সাথে সাংঘর্ষিক এক শিক্ষা ব্যবস্থায় রূপ নিয়েছে। শিক্ষা একজন নাগরিককে ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক, রাষ্ট্রীয় ও পেশাগত জীবনে সৎ, দায়িত্ববান, ধর্মপরায়ন ও দেশপ্রেমী হতে সাহায্য করে। আর এটা নিশ্চিত করা হয় দেশের জনগণের বোধ-বিশ্বাস, সংস্কৃতি ও মূল্যবোধের সাথে সংগতি রেখেই। কিন্তু বিদ্যমান শিক্ষাব্যবস্থায় তা উপেক্ষিত থেকে গেছে। বরং বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থা হতে ধর্ম ও নৈতিকতাকে সরিয়ে ফেলে, মৌলিক দর্শন হিসাবে ব্রাহ্মণ্যবাদ, সেক্যুলারিজমকে ও ধর্মহীনতাকে প্রতিষ্ঠিত করার অপচেষ্টা পরিলক্ষিত হচ্ছে।

গতকাল বুধবার রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি হলে “বিতর্কিত জাতীয় পাঠ্যক্রম; দেশপ্রেমিক সচেতন নাগরিকদের করণীয়” শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জাতীয় ওলামা মাশায়েখ আইম্মা পরিষদ নেতৃবৃন্দ এসব কথা বলেন। জাতীয় ওলামা মাশায়েখ আইম্মা পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতি মাওলানা নূরুল হুদা ফয়েজীর উপস্থিতিতে সাধারণ সম্পাদক মুফতী রেজাউল করীম আবরারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন, সংগঠনের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি প্রফেসর ড. আ.ফ.ম খালিদ হোসাইন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন, সংগঠনের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য মাওলানা ইয়াহইয়া মাহমুদ, মুফতি মোহাম্মদ আলী কাসেমী, মুফতী হেমায়েতুল্লাহ কাসেমী, মুফতী কেফায়েতুল্লাহ কাশফী, মাওলানা শামসুদ্দোহা আশরাফী, মাওলানা মুফতি ইসমাঈল সিরাজী আল মাদানী, হাফেজ মাওলানা কামাল উদ্দিন সিরাজ, মুফতি রফিকুন্নাবী হক্কানী, মুফতী আব্দুল আজিজ।

সংবাদ সম্মেলনে ৮ দফা দাবি এবং ৩ দফা কমসূচি ঘোষণা করা হয়।
দাবিগুলো হচ্ছে, বিতর্কিত জাতীয় পাঠ্যক্রম বাতিল করতে হবে, বিদেশের অন্ধ অনুসরণ নয়; বরং যুগোপযোগী শিক্ষা কারিকুলাম প্রণয়নে অভিজ্ঞ, দেশপ্রেমিক শিক্ষাবিদ ও ধর্মীয় বিশেষজ্ঞ ওলামায়ে কিরামের সমন্বয়ে শিক্ষা কমিশন গঠন করা, পাঠ্যপুস্তক হতে বিতর্কিত ও ইসলামী আকিদাবিরোধী বিষয়সমূহ বাদ দেয়া। স্কুল ও মাদরাসার সকল পাঠ্যপুস্তকে বিজাতীয় সংস্কৃতি, অনৈসলামিক শব্দ এবং অশ্লীল চিত্র মুক্ত রাখা,মাদরাসা শিক্ষা কারিকুলাম মাদরাসা সংশ্লিষ্ট আলেম, ইসলামিক স্কলার ও শিক্ষকদের দ্বারা পরিমার্জন করা ও আলিয়া মাদরাসার স্বকীয়তা বজায় রেখে স্বতন্ত্র কারিকুলাম প্রণয়ন করা,দশম শ্রেণি পর্যন্ত স্ব-স্ব ধর্মীয় শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা,প্রকৃতি বিরুদ্ধ ও দেশীয় সংস্কৃতি বিরোধী ট্রান্সজেন্ডার মতবাদ পাঠ্যপুস্তক থেকে বাতিল এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তির ক্ষেত্রে ট্রান্সজেন্ডার কোটা বাতিল করা, সমাজে অবহেলিত হিজড়া জনগোষ্ঠীর সুশিক্ষা নিশ্চিত করনের লক্ষ্যে সুস্পষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন করা,“কৃষি শিক্ষা” ও “গার্হস্থ্য বিজ্ঞান” শিক্ষা পাঠ্যসুচিতে বাধ্যতামূলক।

কর্মসূচি : মাসব্যাপী জেলায়-জেলায় বিতর্কিত পাঠ্যক্রম ইস্যুতে ওলামা, শিক্ষাবিদ ও সূধি সম্মেলন, আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসে থানায় থানায় ওলামা ও সূধি সম্মেলন, সেপ্টেম্বর মাসের শেষ সপ্তাহে বিতর্কিত পাঠ্যক্রম বাতিলের দাবিতে ঢাকায় জাতীয় সম্মেলন।

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, শিক্ষাই জাতির মেরুদণ্ড। সেই শিক্ষার ভীত যদি দুর্বল, জাতিস্বত্তা বিরোধী ও নৈতিকতাহীন নিরেট বস্তুবাদী হয়Ñ তাহলে জাতি ভুল পথে পরিচালিত হবেই। আদর্শ শিক্ষা ও শিক্ষাব্যবস্থার মাধ্যমে একটি সুখী, সমৃদ্ধশালী বাংলাদেশ গড়তে যেভাবে দেশের মানুষের বোধ-বিশ^াস, ধর্মীয় আদর্শের প্রতি লক্ষ্য রেখে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার আলোকে ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার দরকার ছিল, দুঃখজনক বাস্তবতা হলো, স্বাধীনতার অর্ধশতক পরও শিক্ষা নিয়ে কর্তৃপক্ষের সুচিন্তিত দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা কখনোই সেভাবে লক্ষ্য করা যায়নি। শিক্ষাখাতে বার্ষিক বাজেট প্রয়োজনের তুলনায় খুবই কম। শিক্ষকদের মর্যাদা ভূলণ্ঠিত। অবকাঠামোগত ব্যবস্থাপনা কতটা নাজুক তা শিক্ষকদের বেতন কাঠামোর দিকে তাকালে সুস্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায়। তাছাড়া বর্তমানে শিক্ষার্থীদের মধ্যে নীতি-নৈতিকতা বিকশিত হবার পরিবর্তে অনেকেই নানা অপরাধমূলক কর্মকান্ডে জড়িয়ে পড়ছে, বাড়ছে সামাজিক বিশৃঙ্খলা। এমতাবস্থায় নীতি-নৈতিকতার প্রধান চালিকাশক্তি ধর্মীয় শিক্ষাকে পরিকল্পিতভাবে সংকুচিত করাসহ নানারূপ অসঙ্গতিপূর্ণ বিতর্কিত কারিকুলাম প্রণয়ন করা হয়েছে। সংসদে পাশ হওয়া “জাতীয় শিক্ষানীতি-২০১০” এ ধর্মশিক্ষাকে যেভাবে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে “জাতীয় শিক্ষাক্রম ২০২১” এ তার প্রতিফলন ঘটেনি। বরং সুকৌশলে ধর্ম তথা ইসলাম শিক্ষাকে প্রকারান্তরে বাদ দেয়ার গভীর ষড়যন্ত্র বাস্তবায়ন করা হয়েছে।

বর্তমানে প্রশ্নফাঁস মহামারী আকার ধারণ করেছে। একে নতুন কারিকুলামে পরীক্ষা ও মূল্যায়নকে পুরো মাত্রায় সংকুচিত করা হয়েছে। তার উপর যুক্ত হয়েছে এই প্রশ্নফাঁস। শিক্ষানবীস শেষ করার পর ছাত্ররা চাকরির বাজারে যাবে, নিজের মেধা ও যোগ্যতার স্বাক্ষর রাখবে, নিজের পরিবারের মুখে হাসি ফোটাবে; কিন্তু বিভিন্ন দলীয় ছত্রছায়ায় গড়ে ওঠা কিছু চক্র প্রশ্নফাঁসের মাধ্যমে প্রকৃত মেধাকে গলা টিপে হত্যা করে যাচ্ছে। চক্রে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি। সারাদেশের শিক্ষার্থী ও তরুণরা চাকরিতে কোটা বাতিলের আন্দোলনে সরব রয়েছে। আমরা মনে করি ‘কোটা পদ্ধতি’ দেশকে মেধাশূণ্য ও অকার্যকর অচলাবস্থার দিকে নিয়ে যাবে। তাই আজকের সংবাদ সম্মেলন থেকে আমরা আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের প্রতিটি দাবী ও শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের সাথে সংহতি প্রকাশ করছি।

নতুন কারিকুলামে সুক্ষ্মভাবে বিজাতীয় সাংস্কৃতিক আগ্রাসন, ইসলাম ও জাতীয় স্বার্থ-বিরোধী যে সকল বিষয় রয়েছে, মৌলিকভাবে তার সংক্ষিপ্ত বিবরণ নিম্নরুপ: শিল্প ও সংস্কৃতির নামে ইসলামি সংস্কৃতি মুছে ফেলা। একমুখী শিক্ষার নামে মাদ্রাসা শিক্ষাকে ধ্বংস করার সূক্ষ্ম পরিকল্পনা। বিজ্ঞান শিক্ষা সংকোচনের মাধ্যমে ভবিষ্যত প্রজন্মের মেধাকে ধ্বংস করে জাতিকে পরনির্ভরশীল করা। কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে কোন ধর্মীয় পরিচয় যাতে না থাকে, এভাবে তাদের মস্তিষ্ককে প্রস্তুত করা। মানব সভ্যতা বিধ্বংসী ও প্রকৃতি বিরুদ্ধ ট্রান্সজেন্ডার মতবাদ ও যৌনাচারকে প্রমোট করা হয়েছে। পৌত্তলিক ও ব্রাহ্মণ্যবাদী আগ্রাসন। “কৃর্ষি র্শিক্ষা” বাদ দিয়ে বাংলাদেশের অর্থনীতির মূল ভিত্তিকেই অস্বীকার করা। “গার্হস্থ্য বিজ্ঞানে” আগে মেয়েদেরকে অর্থনৈতিকভাবে সফল হওয়ার কৌশল শিখানো হতো। কিন্তু এই শিক্ষাকে বাদ দিয়ে আমাদের কোমলমতি মেয়েদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে বাধ্যতামূলকভাবে তাদেরকে ড্যান্সার, নায়িকা, গায়িকা, অভিনেত্রী ইত্যাদি বানানোর প্রচেষ্টা করা হচ্ছে। পশ্চিমা মতবাদ ও ডারউইনিজমকে জোরপূর্বক চাপিয়ে দেয়া হয়েছে। ২০২৪ শিক্ষাবর্ষে নবম শ্রেণির “ইতিহাস ও সামাজিক বিজ্ঞান” বইয়ের ১২০ পৃষ্ঠায় স্বাধীনতা আন্দোলনের ইতিহাসে শুধুমাত্র সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উল্লেখ করার মাধ্যমে মুসলিমনদের স্বাধীনতা আন্দোলনে আত্মত্যাগের ইতিহাসকে চরমভাবে উপেক্ষা করা হয়েছে। যা মূলতঃ ইতিহাস বিকৃতি ও মুসলিমদের অবদান গোপনের মারাত্মক অপচেষ্টা। ২০২৪ সালের পাঠ্যপুস্তকগুলোতে এমন কিছু পরিবর্তন দেখা গেছে, যা ইতোপূর্বে ছিলো না। এর ব্যাপকতা অনেক। সেখান থেকে কিছু তথ্য উদ্বৃত করা হল, ২০২২ শিক্ষাবর্ষে ইবতেদায়ী প্রথম শ্রেণির ইংলিশ ফর টু-ডে বইয়ের ২য় পৃষ্ঠায় শিক্ষার্থীদের পরস্পর কথোপকথনের সময় সালাম বিনিময়ের সচিত্র শিক্ষা ছিল। কিন্তু ২০২৩ সালে সালাম মুছে ফেলে সেখানে “গুড মর্নিং” শব্দ দেয়া হয়েছিল এবং ২০২৪ শিক্ষাবর্ষেও তা অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। ২০২৪ শিক্ষাবর্ষের তৃতীয় শ্রেণির “বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয়” বইয়ের ৩৯ পৃষ্ঠায় দেশীয় সংস্কৃতির নামে মঙ্গল শোভাযাত্রা আর ঢোল-তবলা উপস্থাপন করা হয়েছে। ৭ম শ্রেণির ইতিহাস ও সামাজিক বিজ্ঞান বইয়ের ১৮, ৯৫ ও ৯৬ পৃষ্ঠা, চতুর্থ শ্রেণির বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয়; ৮৪ পৃষ্ঠাসহ অনেক ক্ষেত্রেই ডি-ইসলামাইজেশন করা হয়েছে। ৬ষ্ঠ শ্রেণির স্বাস্থ্য সুরক্ষা বইয়ের ৯৭ পৃষ্ঠায় লেখা হয়েছে যে, “আমার মা কপালে চুমু দিলেও, আমি হয়ত আমার বন্ধুকে চুমু দিতে দিব না। তবে সে একই বন্ধুর সাথে হাত ধরে ঘুরতে আমার অস্বস্তি লাগবে না।” এখানে মেয়ে নাকি ছেলে বন্ধু তা উল্লেখ করা হয়নি। আবার চুমু খেতে হয়ত না দিলেও হাত ধরে ঘুরতে- বের হতে তেমন বাঁধা নেই। আজকে সমাজে অসংখ্য কিশোর-কিশোরীরা পিতা-মাতার অজান্তে বন্ধুর হাত ধরে নিখোঁজ হচ্ছে এবং ধর্ষণের শিকার হচ্ছে। এটা বাংলাদেশের সভ্য সমাজকে অসভ্য অবাধ যৌনতার সমাজে পরিণত করার কুটকৌশল বৈ কিছুই নয়। সপ্তম শ্রেণির ইতিহাস ও সামাজিক বিজ্ঞান বইয়ের ৩৯ থেকে ৪৫ পৃষ্ঠা পর্যন্ত শরিফ ও শরিফার গল্প আলোচনা করা হয়েছে। ২০২৩ সালে উক্ত বইয়ে যে বিষয়টি নিয়ে সারা দেশব্যাপী প্রকৃতি বিরুদ্ধ ও দেশীয় সংস্কৃতি বিরোধী ট্রান্সজেন্ডার প্রমোট করায় প্রতিবাদের ঝড় উঠেছিল। কর্তৃপক্ষ বিষয়টি আমলে না নিয়ে ২০২৪ সালেও ট্রান্সজেন্ডার বিষয়টি বইয়ে উল্লেখ রয়েছে। তৃতীয় লিঙ্গ বা হিজড়া জনগোষ্ঠীর সাথে ট্রান্সজেন্ডারকে তালগোল পাকিয়ে পাশ্চাত্য থেকে আমদানীকৃত সমকামিতাকে ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করা হয়েছে। এই কারিকুলাম একমুখী হওয়ায় জেনারেল সাবজেক্টগুলি হুবহু স্কুল শিক্ষার সিলেবাস থেকে মাদরাসা শিক্ষার পাঠ্যবই হিসেবে অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে। পাঠ্য বইগুলোতে এমন অনেক বিষয় রয়েছে, যা মাদরাসা শিক্ষার বোধ-বিশ্বাসের বিপরীত। ষষ্ঠ শ্রেণির স্বাস্থ্যসুরক্ষা বইয়ের ৪৭ থেকে ৪৯ পৃষ্ঠায় বয়ঃসন্ধিকালে নারী পুরুষের দেহের পরিবর্তন, নারী-পুরুষের শরীর থেকে কী নির্গত হয়, কোন অঙ্গের আকার কেমন হয় এবং বিপরীত লিঙ্গের প্রতি কেমন আকর্ষণ হয় তা খোলামেলাভাবে বর্ণনা করা হয়েছে, যা ষষ্ঠ শ্রেণির কোমলমনা ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য যেমন অনুপযোগী তেমনি বিষয়টি পাঠদানে শিক্ষকরাও হচ্ছেন চরমভাবে বিব্রত।

পাঠ্যবইয়ের বিষয় নিয়ে ছাত্র-ছাত্রীদের গ্রুপ ডিসকাশন করতে হয়, গ্রুপ এসাইনমেন্ট করতে হয়। শিক্ষার্থীদের এ বিষয় ইন্টারনেটে অনুসন্ধান করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এগুলো ইন্টারনেটে অনুসন্ধান করতে গেলে সে পর্ণোগ্রাফির মুখোমুখি হবে। এভাবে স্পর্শকাতর বিষয়গুলো প্রকাশ্যে আলোচনার মাধ্যমে লজ্জার বাঁধন উঠে যাবে এবং যে কোন অনৈতিক কাজে তাদের অনায়াসে জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।


বিভাগ : জাতীয়


মন্তব্য করুন

HTML Comment Box is loading comments...

আরও পড়ুন

প্রেসক্লাব, সেগুনবাগিচায় পুলিশের সঙ্গে বিএনপি নেতা কর্মীদের সংঘর্ষ

প্রেসক্লাব, সেগুনবাগিচায় পুলিশের সঙ্গে বিএনপি নেতা কর্মীদের সংঘর্ষ

সারা দেশে ট্রেন চলাচল বন্ধ রেখেছে কর্তৃপক্ষ

সারা দেশে ট্রেন চলাচল বন্ধ রেখেছে কর্তৃপক্ষ

গুলিবিদ্ধ হয়ে ঢাকা টাইমসের সাংবাদিক নিহত

গুলিবিদ্ধ হয়ে ঢাকা টাইমসের সাংবাদিক নিহত

রুহুল কবির রিজভী আটকের দাবি

রুহুল কবির রিজভী আটকের দাবি

আন্দোলন নিয়ে বিতর্কিত স্ট্যাটাস দিলেন ঢাকাই সিনেমার চিত্রনায়িকা শিরিন শিলা

আন্দোলন নিয়ে বিতর্কিত স্ট্যাটাস দিলেন ঢাকাই সিনেমার চিত্রনায়িকা শিরিন শিলা

ভৈরবে থানা ঘেরাও করলেন আন্দোলনকারীরা, গুলি, আহত শতাধিক

ভৈরবে থানা ঘেরাও করলেন আন্দোলনকারীরা, গুলি, আহত শতাধিক

রাজধানীতে সব ধরনের সভা-সমাবেশ ও মিছিল নিষিদ্ধ করেছে ডিএমপি

রাজধানীতে সব ধরনের সভা-সমাবেশ ও মিছিল নিষিদ্ধ করেছে ডিএমপি

মেধার ভিত্তিতে ৮০ শতাংশ কোটার প্রস্তাব দেবে সরকার: ওবায়দুল কাদের

মেধার ভিত্তিতে ৮০ শতাংশ কোটার প্রস্তাব দেবে সরকার: ওবায়দুল কাদের

শুক্রবারও ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ চলবে

শুক্রবারও ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ চলবে

ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কের যাত্রাবাড়ী, শনির আখড়া এলাকায় আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আজ শুক্রবারও পুলিশের সংঘর্ষ চলছে

ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কের যাত্রাবাড়ী, শনির আখড়া এলাকায় আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আজ শুক্রবারও পুলিশের সংঘর্ষ চলছে

কোটা নিয়ে আপিল শুনানি রোববার

কোটা নিয়ে আপিল শুনানি রোববার

দেশজুড়ে বিক্ষোভ, সংঘর্ষ–গুলি, নিহত ২৭

দেশজুড়ে বিক্ষোভ, সংঘর্ষ–গুলি, নিহত ২৭

অস্ত্র জমা দিয়েছি কিন্তু ট্রেনিং জমা দিইনি : মুক্তিযুদ্ধমন্ত্রী

অস্ত্র জমা দিয়েছি কিন্তু ট্রেনিং জমা দিইনি : মুক্তিযুদ্ধমন্ত্রী

সংঘর্ষের সময় যাত্রাবাড়ীতে গুলিবিদ্ধ হয়ে সাংবাদিক নিহত

সংঘর্ষের সময় যাত্রাবাড়ীতে গুলিবিদ্ধ হয়ে সাংবাদিক নিহত

রক্ত মাড়িয়ে কোনো সংলাপ নয় : বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন

রক্ত মাড়িয়ে কোনো সংলাপ নয় : বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন

বিটিভির সম্প্রচার বন্ধ

বিটিভির সম্প্রচার বন্ধ

শিক্ষার্থীদের উপর বর্বরোচিত হামলা ও হত্যাকাণ্ডে ইত্তেফাকুল উলামার উদ্বেগ

শিক্ষার্থীদের উপর বর্বরোচিত হামলা ও হত্যাকাণ্ডে ইত্তেফাকুল উলামার উদ্বেগ

সৈয়দপুর কোটা বিরোধী আন্দোলন পুলিশ বক্সে আগুন

সৈয়দপুর কোটা বিরোধী আন্দোলন পুলিশ বক্সে আগুন

সিলেটে বিএনপি নেতা কয়েছ লোদীকে আটক করেছে পুলিশ

সিলেটে বিএনপি নেতা কয়েছ লোদীকে আটক করেছে পুলিশ

রংপুরে আ.লীগ-ছাত্রলীগের অফিসে ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগ

রংপুরে আ.লীগ-ছাত্রলীগের অফিসে ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগ