উস্তাযুল হুফ্ফাজ হাফেজ হাফিজুল্লাহ (রহ.)-এর বর্ণাঢ্য জীবন
০৮ মার্চ ২০২৩, ১০:০২ পিএম | আপডেট: ৩০ এপ্রিল ২০২৩, ১০:৪৪ পিএম

পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ : স্বাধীনতার পরবর্তী বছর ১৯৭২ সালে মরহুম হাফেজ আবুল কাসেম (রহ.) গ্রামের বাড়ি চৈতন্যা চলে আসেন। মাদরাসা পরিচালনার দায়িত্বভার তাঁরই সুযোগ্য সন্তান হাফেজ হাফিজুল্লাহ-এর হাতে বুঝিয়ে দেন। সেই থেকে মৃত্যু অবধি দীর্ঘ পঞ্চাশ বছরেরও বেশি সময় তারই হাতে মাদরাসা পরিচালিত হয়ে আসছিল। সেই পুরোন টিনের ঘর থেকে উন্নত হতে হতে মাদরাসার ক্যাম্পাস আজ সুদৃশ্য প্রাসাদে সুসজ্জিত। মাদরাসার দক্ষিণ পাশে সুরম্য তিন তলা ও পশ্চিমে দু’তলা হিফজ বিভাগের ভবনসহ দৃষ্টিনন্দন একটি মসজিদ নির্মাণ করেছেন। নতুন বিভাগ চালু, ছাত্র সংখ্যা বৃদ্ধি ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন ঈর্ষণীয় পর্যায় পৌঁছে। এ সময় তিনি দক্ষিণ মির্জানগর মাদরাসার নিষ্ঠাপূর্ণ সুষ্ঠু পরিচালনার পাশাপাশি আরও বহু মাদরাসার পৃষ্ঠপোষকতার দায়িত্ব পালন করেন। মির্জানগর মাদরাসার প্রতিটি ধূলিকণা ও ইট-বালির সাথে মিশে আছে তাঁর ত্যাগ, শ্রম ও ঘামঝরা মেহনত।
নির্জন রাতের রোনাযারি : হুজুর রাতের শেষ প্রহরে ওঠে তাহাজ্জুদ নামাজ পড়ে আল্লাহর দরবারে রোনাযারি করতেন। এ সময় চোখের অশ্রুতে গন্ডদেশ ভিজে যেত। আল্লাহর ‘গাইবি খাজানা’ থেকে মাদরাসার প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র ব্যবস্থাপনার জন্য দোয়া করতেন। দোয়ার মধ্যে ছাত্রদের নাম ধরে ধরে বলতেন হে আল্লাহ! ‘ওমুককে হাফেজ, আলেম, মুহাদ্দিস ও শাইখুল হাদিস বানিয়ে দিন।’ যাদের নাম ধরে তিনি দোয়া করেছেন, তারা আজ দেশে-বিদেশে অত্যন্ত সুনামের সাথে দ্বীনের খেদমত আঞ্জাম দিয়ে যাচ্ছেন; ইমাম, খতিব, মুফতি, মুহাদ্দিস ও শাইখুল হাদিসের পদ অলংকৃত করে আছেন। মাওলা এহসানুল্লাহ সন্দ্বীপি (রহ.)-এর হাতে বায়আত হয়েছিলেন। শেষ জীবনে তিনি অধ্যক্ষ মিজানুর রহমান (পীর সাহেব দেওনা)-এর কাছে বায়াত হন। বিভিন্ন দ্বীনি বিষয়ে তাঁর সাথে পরামর্শ করতেন।
কোরআনী কারামত : নিঃসন্দেহে তিনি ছিলেন কোরআনী অর্থাৎ কোরআনের মানুষ। কোরআন মিশে ছিল তাঁর রক্ত-কণিকায়, অস্তিমজ্জায়। কোরআন ছিল তাঁর শক্তি সঞ্চয়ের কেন্দ্র। কোরআনের প্রতিই ছিল তাঁর সকল আস্থা ও ভরসা। কোরআনই ছিল তার সকল অনুরাগের ঠিকানা ও সারা জীবনের সাধনা। ঐন্দ্রজালিক পৃথিবীর চাকচিক্য ও রূপ-রস-গন্ধ তিনি অবজ্ঞাভরে পাশ কাটিয়ে চলেছেন। দুনিয়ার ভোগ-বিলাস ও শোভা-সৌন্দর্য তার কাছে ছিল মূল্যহীন। হাফিজুল্লাহ রহ.-এর যবান কখনো বন্ধ থাকত না। সবসময় তার ঠোঁট নড়ত। নড়ছে তো নড়ছেই! হয় তিলাওয়াত, নয় জিকির এভাবে কোনো না কোনো আমল চলমান থাকত। ঠোঁট বন্ধ থাকা অবস্থায় মানুষ তাকে খুব কমই দেখেছে। হুজুরের দীর্ঘ দিনের খাদেম হাফেজ খুরশেদ আলম বলেন, ‘শরমিতা হাসপাতালে ২৪ দিন অজ্ঞান থাকা অবস্থায় এবং মৃত্যুর পূর্বে যখন অজ্ঞান হয়ে যেতেন তখনও মুখে কোরাআনের তেলাওয়াত জারি থাকত। এক মূহূর্তের জন্যও তেলাওয়াত বন্ধ হত না। একবার হুজুরের মেয়ে পাশে বসে কোরআন তেলাওয়াত করছিলেন। এমন সময় ইচ্ছা করে এক জায়গায় ভুল পড়লেন। হুজুর অজ্ঞান অবস্থায় থেকেও হাতের ইশারায় ভুল ধরে দিলেন। হাফিজুল্লাহ রাহ.-এর ছোট ভাই আহসানুল্লাহ সাহেব বলেন, ‘একবার শরমিতা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দায়িত্বরত ডাক্তার চেকাপ করার জন্য আসেন। ডাক্তার চেকাপ না করে দুই হাত গুটিয়ে চুপচাপ দাঁড়িয়ে আছেন। হাফেজ খুরশেদ বললেন, ‘কী ব্যাপার চেকাপ করছেন না যে? ডাক্তার বললেন, ‘টেস্টপিস যেখানেই ধরি সেখান থেকে স্টেথোস্কোপে জিকিরের আওয়াজ শুনতে পাচ্ছি।’ রাসূল সাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর মজলিশে ! রায়পুরা বাঁশগাড়ী গ্রামের তাবলীগের একজন প্রবীণ মুরব্বী মাওলানা তাজুল ইসলাম। যিনি আবুধাবিতে থাকেন। তিনি বলেন, ‘২০০০ সালের পূর্বের একটি ঘটনা। একবার আমি স্বপ্নযুগে দেখলাম, একই মজলিশে হুজুর সাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম -এর পাশে হাফিজুল্লাহ হুজুর বসে আছেন। উপস্থিতিদের মধ্যে একজকে বলা হল কোরআনের তেলাওয়াত করার জন্য’ তিনি একাধিক বার এরকম স্বপ্ন দেখেছেন।
বাংলাদেশ বেতারে কোরআন তেলাওয়াত : ১৯৬১ সালে তিনি রেডিওতে কোরআন তেলাওয়াতের জন্য নির্বাচিত হন। নির্দিষ্ট সময়ের কিছুপূর্বে স্টুডিওতে উপস্থিত হলেন। যেখান থেকে কোরআন তেলাওয়াত রেকর্ড করা হবে, দেখলেন তার পাশে গানের শিল্পীরা বাদ্যযন্ত্র নিয়ে অনুশীলন করছে। হুজুর চিন্তা করলেন এখানে আল্লাহর কালাম পাঠ করলে কোরআনের বেহুরমতি হবে। তাই তেলাওয়াত রেকর্ড না দিয়েই সেখান থেকে চলে আসলেন। কত বড় ত্যাগী মনোভাব থাকলে রেডিওতে এমন সুবর্ণ সুযোগ হাতছাড়া করা যায়। কোরআনের বেলায় তিনি ছিলেন আকাশচুম্বী আত্মমর্যাদাবোধের অধিকারী। (চলবে)
বিভাগ : ধর্ম দর্শন
মন্তব্য করুন
আরও পড়ুন

ঈশ্বরগঞ্জে ব্রহ্মপুত্র নদে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অষ্টমীস্নান

পাঁচবিবিতে বাস ভাড়া আদায় রোধে প্রশাসনের অভিযান

গাজার ভয়াবহ চিত্র, জীবন বাজি রেখে ক্যামেরাবন্দী করছেন ফটোসাংবাদিকরা

ধবলধোলাই হয়ে রিজওয়ান বললেন, ‘হতাশার সিরিজ’

মাগুরায় সন্ত্রাসী হামলা ও মিথ্যা মামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন

রংপুরে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিতকরণ ও দক্ষতা বৃদ্ধিতে করণীয় শীর্ষক সেমিনার

জুলাই বিপ্লবে শহীদ রাকিবুলের কবর জিয়ারত করলেন এনসিপি’র কেন্দ্রীয় নেতা তারেক রেজা

সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি কোথাও নেই বাংলাদেশের মত, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

নগরকান্দায় বিয়ের ১ মাস হতেই ডাকাতের হাতে প্রান গেল প্রবাসীর

বায়ার্নের সঙ্গে ২৫ বছরের সম্পর্কের ইতি টানছেন মুলার

নিকলীর হাওরে দুলছে কৃষকের স্বপ্ন উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ৯৭ হাজার ৬০০ মেট্রিক টন

মার্কিন শুল্ক ইস্যুতে জরুরি সভা ডাকলেন প্রধান উপদেষ্টা

ভারতে মুসলিমদের সম্পত্তি দখল এবং সংখ্যালঘু নিধনের গভীর ষড়যন্ত্র–ওয়াকফ বিল

বুড়িচং উপজেলা বিএনপির আহবায়ক মিজান, সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক কামাল ও সদস্য সচিব কবির

আওয়ামী সন্ত্রাসীদের হামলায় আহত বিএনপি নেতা জাকিরকে দেখতে হাসপাতালে ব্যারিস্টার সায়েম

দুমকিতে মাইক্রোবাসের চাপায় এক নারীর মৃত্যু

কলাপাড়ায় দুই সন্তানের জননীকে একাধিকবার ধর্ষণের অভিযোগ

সিউলে অভিশংসিত প্রেসিডেন্ট ইউনের পক্ষে হাজারো মানুষের বিক্ষোভ

মোদির প্রশংসায় পঞ্চমুখ বিএনপি! নেক্কারজনক ভূমিকায় হতবাক-বিক্ষুব্ধ নেটিজেনরা

সুরমার ভাঙনে ভিটেমাটি হারানোর শঙ্কায় কয়েক শত শত পরিবার